Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

শেখ হাসিনার শান্তির মডেলে সমর্থন দিলো রাশিয়া; সহস্রাব্দের সেরা জোক!

শেখ হাসিনার শান্তির মডেলে সমর্থন দিলো রাশিয়া

শনি, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১১, ২ আশ্বিন ১৪১৮

জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শান্তির মডেলে সমর্থন দিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমর্থনের ঘোষণা দেয়া হয়। ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানা গেছে। আওয়ামী যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরীর নেতৃত্বে যুবলীগের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকে রাশিয়া এই ঘোষণা দেয়।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও হুইপ মির্জা আজম এমপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আবুল বারাকাত প্রমুখ।

প্রতিনিধি দল রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি মেদভেদের পক্ষে তার উপদেষ্টা ড. আসলাম বেগ আসালনভের কাছে এবং প্রধানমন্ত্রী পুতিনের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক সহকারী ইউবি ভি উসকাভের কাছে শেখ হাসিনার শান্তির মডেলের প্রস্তাবনা হস্তান্তর করে।

জাতিসংঘে ‘জনগণের মতায়ন’ শীর্ষক শেখ হাসিনার শান্তির মডেলের উপর আলোচনার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের একদিন পরই নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম স্থায়ী সদস্য রাশিয়া নিরঙ্কুশ সমর্থন এই প্রস্তাবের গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দিলো।

প্রস্তাবের সমর্থন দিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি উপদেষ্টা আসলাম বেগ বলেন ‘শেখ হাসিনার এই মডেলের ভিত্তিতে আমাদের সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একযোগে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, এটা কেবল একটি দর্শন নয়, এটি হলো মানবতার মুক্তির সনদ। শেখ হাসিনাকে এসময়ের বিশ্বের অন্যতম ‘সফল রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা বলেন, ‘তার কর্মউদ্দীপনা সারা বিশ্বের জন্য উদাহরণ।’

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক, জাতিসংঘে উপস্থাপিত প্রস্তাবে রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘এজন্য বাংলাদেশের সঙ্গে আমরা একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত।’

এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তির মডেলের প্রস্তাবনা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির অফিসে হস্তান্তর করে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন ‘সন্ত্রাস সঙ্কুল বিশ্বে শান্তি আনতে পারে এই মডেল।’

জাতিসংঘ এজেন্ডায় শেখ হাসিনার শান্তির মডেল অন্তর্ভুক্ত

এনা, জাতিসংঘ থেকে ॥ জাতিসংঘের ৬৬তম বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনেই বাংলাদেশের একটি প্রস্তাবকে সর্বসম্মতভাবে এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর বুধবার জাতিসংঘের নতুন প্রেসিডেন্ট নাসের আব্দুল আজিজ আল নাসেরের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী ভাষণে নাসের আব্দুল আজিজ বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সমস্যার সমাধানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে বিচক্ষণতা, অসীম সাহস, সীমাহীন ধৈর্য এবং প্রজ্ঞার সঙ্গে একযোগে কাজের আহ্বান জানানোর পরই বিশ্বশানত্মি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সদয় সম্মতির জন্য।

বাংলাদেশের প্রস্তাবটি ছিল 'পিপলস এম্পাওয়ারমেন্ট এ্যান্ড পিচ সেন্ট্রিক ডেভেলপমেন্ট মডেল' (জনগণের ক্ষমতায়ন এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা)। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শান্তির মডেলের আলোকে এ প্রস্তাব পেশ করা হয় সাধারণ অধিবেশনের মূল আলোচনায় তা এজেন্ডা হিসেবে পরিণত করতে। বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে এ মোমেন শেখ হাসিনার শান্তির মডেলের সমর্থনে ৬টি ডকু্যমেন্ট উপস্থাপন করেছিলেন সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিগণের কাছে। সেগুলোর ওপর আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে সকলেই সম্মত হয়েছেন 'পিপলস এম্পাওয়ারমেন্ট এ্যান্ড পীচ সেন্ট্রিক ডেভেলপমেন্ট মডেল'কে চলতি অধিবেশনের এজেন্ডা হিসেবে অনত্মর্ভুক্তির ব্যাপারে। এটি প্রেরণ করা হয়েছে জাতিসংঘের সেকেন্ড কমিটিতে। উলেস্নখ্য, সেকেন্ড কমিটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত ড. এ কে এ মোমেন। তাই সেকেন্ড কমিটির চূড়ানত্ম অনুমোদন পেতে খুব একটা কঠিন কাজ হবে বলে কূটনীতিকরা মনে করেন না। অর্থাৎ সেকেন্ড কমিটির বৈঠকে তা অনুমোদিত হলেই সাধারণ অধিবেশনে উপস্থাপিত হবে।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত ড. মোমেন বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এনাকে বলেন, সেকেন্ড কমিটির মাধ্যমে যে এজেন্ডা সাধারণ অধিবেশনে সাবমিট হয় তা পাস হবেই। এটি এখন সময়ের ব্যাপার। ড. মোমেন বলেন, শেখ হাসিনার শানত্মির মডেলের ব্যাপারে ইতোমধ্যেই অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রসঙ্গত কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারম্নক চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক সরকার দলীয় হুইপ মির্জা আজম এমপির নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল জাতিসংঘের উপ-মহাসচিব ড. আশা রোজি মিগিরোর সঙ্গে একানত্ম বৈঠকে মিলিত হয়ে শেখ হাসিনার শানত্মির মডেল সম্পর্কে অবহিত করেন। সে সময় মিস আশা তাদের অত্যনত্ম উৎফুলস্নচিত্তে জানান যে, এ ধরনের একটি প্রক্রিয়াতেই আমরা বিশ্বশানত্মির পথ ত্বরান্বিত করতে পারব।
যুবলীগের ঐ প্রতিনিধি দলটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসসহ আনত্মর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী সকল মহলের সঙ্গে সাক্ষাত করে শেখ হাসিনার শানত্মির মডেলের কপি হসত্মানত্মর করেছেন। ঐ প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাত এবং সাংবাদিক সৈয়দ বোরহান কবীর। তারা হার্ভার্ড, অঙ্ফোর্ডসহ বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এ নিয়ে সেমিনার করেছেন।
জাতিসংঘের শানত্মিরক্ষা মিশনে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সৈন্য সরবরাহকারী রাষ্ট্র হচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বশানত্মি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের এ ভূমিকার পাশাপাশি অভ্যনত্মরীণ নিরাপত্তা ও শানত্মি, আঞ্চলিক সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে শানত্মির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে শেখ হাসিনার বেশ কিছু পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই আনত্মর্জাতিক মহলের দৃষ্টি কেড়েছে বলে কূটনীতিকরা মনে করছেন। বিশেষ করে পার্বত্য শানত্মি চুক্তি, গঙ্গার পানি বন্টন, আনত্মর্জাতিক সন্ত্রাস নির্মূলে শেখ হাসিনার ভূমিকা গুরম্নত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। সামনের সপ্তাহে জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের এসব বিষয় প্রাধান্য পাবে বলে সংশিস্নষ্টরা আশা করছেন।
********************************************************************************
শান্তির মডেলঃ

নমুনা ১:
বাংলাদেশের রাজনীতি আগামীতে কোন দিকে মোড় নেবে তা নিশ্চিত হওয়ার আগেই বিরোধী দলকে আরো কাবু করে ফেলতে চাইছে সরকার। বর্তমানে অর্থনৈতিক টানাপড়েন, বেকারত্ব, বিদ্যুৎ, পানি সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ বিভিন্ন কারণে জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। সংসদ, প্রশাসন, বিচার বিভাগসহ কোথাও ক্ষমতার ভারসাম্য নেই। সরকারের ভেতরে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষমতার একাধিক বলয়। এক পক্ষের ভাবনার সাথে অপর পক্ষের কোনো মিল নেই। প্রশাসনে সাবেক বামপন্থীদের দাপটে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও এখন কোণঠাসা। কাজের মধ্যেও নেই ন্যূনতম সমন্বয়। এ অবস্খায় জনগণ ক্ষুব্ধ ও হতাশ।
সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বিরোধী দল এ অবস্খায় কার্যকর কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে চাইলে জনগণ তাতে সাড়া দেয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কাজেই বিরোধী দলকে কিছুতেই সে সুযোগ দেয়া যাবে না। আন্দোলন ঠেকানোর মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো কাজে লাগানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিই সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে।

নমুনা২:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ১শ’ জনের এক বিশাল বহর নিয়ে জাতিসংঘের ৬৬তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামীকাল শনিবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। সফরসঙ্গী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত ১২ জনের মধ্যে ৭ জন আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা। ৪ জন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মী এবং অন্যজন গোপালগঞ্জের এক স্কুলশিক্ষক।

নমুনা৩:

দুর্নীতি ও নানা ধরনের কেলেঙ্কারির মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ৩৩ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটে জড়িতদের ছেড়ে দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম ধস সৃষ্টি করে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাত্কারী দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ করে রিপোর্ট তৈরি করেছে দুদকের অনুসন্ধানী টিম। টিমের প্রতিবেদনে রাঘব-বোয়ালদের বাদ দিয়ে শুধু সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের দুই কর্মকর্তাসহ তাদের ৫ আত্মীয়ের সম্পদের হিসাব নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ সুপারিশ পেশের মধ্য দিয়েই শেয়ার কেলেঙ্কারির মূল হোতাদের ধরতে দুদক পরিচালিত সাঁড়াশি অভিযান শেষ হয়েছে। দুদক সূত্র এ তথ্য জানায়। এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনা অনুসন্ধানে দুদক টিম যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে। আইন ও বিধি-বিধানের ভেতরে থেকে দুদকের পক্ষে যতটা সম্ভব, তা পরিপূর্ণভাবে করা হয়েছে। আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে দুদক কিছু করতে চায় না।

 

Comments

শিরশ্ছেদ: সরকারের চেষ্টার কথা

শিরশ্ছেদ: সরকারের চেষ্টার কথা জানালেন মিজারুল

Sat, Oct 15th, 2011 9:25 pm BdST

Dial 2000 from your GP mobile for latest news
ঢাকা, অক্টোবর ১৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন, সৌদি আরবে শিরশ্ছেদ হওয়া আট বাংলাদেশিকে তিন ধাপে সহায়তার চেষ্টা করেছিল সরকার।

সচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "যখন বিচার চলছিল তখন আমরা তাদের সহায়তা দিয়েছি। পরে যাকে হত্যার কারণে এ বিচার হচ্ছিল তার পরিবারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি 'ব্লাড মানি' দেওয়ার জন্য।"

এক মিশরীয়কে হত্যার দায়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আল হাকাম প্যালেসের কাছে গত ৭ অক্টোবর আট বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মিশরীয়কে হত্যার ঘটনা ঘটে ২০০৭ সালের এপ্রিলে।

বাংলাদেশিদের ক্ষমা করতে সৌদি বাদশাহকে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি চিঠি লিখেছিলেন বলেও জানান পররাষ্ট্র সচিব। তবে এক্ষেত্রে তিনি নিরুপায় বলে রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছিলেন।

মিজারুল কায়েস বলেন, "বাংলাদেশসহ অনেক দেশে মৃত্যুদণ্ড বৈধ শাস্তি এবং আইনের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত।"

"সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো বাংলাদেশিকে খুন করেনি। বরং দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো বাংলাদেশিরা অন্য আরেক দেশের নাগরিককে সৌদি আরবে হত্যা করেছে।"

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি সম্পর্কে মিজারুল কায়েস বলেন, "একেক দেশ একেকভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।"

বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, "আমরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে। কিছু কিছু দেশ করে বিষাক্ত ইনজেকশন বা ইলেক্ট্রিক চেয়ারের মাধ্যমে।"

সৌদি আরবে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে যে আট বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় তারা হলেন- মামুন আব্দুল মান্নান, ফারুক জামাল, সুমন মিয়া, মোহাম্মদ সুমন, শফিক আল-ইসলাম, মাসুদ শামসুল হক, আবু আল-হোসেন আহমেদ ও মতিউর আল-রহমান।

মিশরীয়কে হত্যার ওই ঘটনায় আরো তিন বাংলাদেশির কারাদণ্ড হয়।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ শিরশ্ছেদের নিন্দা জানিয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএসজেড/পিডি/১৮৩৬ ঘ.

মানবাধিকারের স'ান আল্লাহর বিধানের ওপর নয় : সৌদি রাষ্ট্রদূত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

সৌদি আরবে নিহত মিসরীয় নাগরিকের পরিবার ক্ষমা করে দিলে আট বাংলাদেশীর শিরশ্ছেদ করা হতো না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ নাসের আল-বুসাইরি বলেন, বাংলাদেশীদের হাতে নিহত পরিবার রক্তমূল্য বা ব্লাডমানি নিতে রাজি হয়নি বলেই পবিত্র কুরআনের বিধান অনুযায়ী আট বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তিনি জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশের দূতাবাস এ ব্যাপারে মিসরের দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করেছিল। আল্লাহর বিধান কার্যকর করা সৌদি সরকারের কাজ। হত্যার বদলে হত্যা (কেসাস) বান্দার অধিকার।
প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ করে মানুষ হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস'াগুলোর সমালোচনার জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, আল্লাহর বিধানের ওপর মানবাধিকার স'ান পেতে পারে না। শরিয়া আইনের ভিত্তিতে বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার সুযোগ সৌদি সরকারের নেই। তিনি জানান, যেদিন (গত শুক্রবার) বাংলাদেশী নাগরিকদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, একই দিন আফগান নাগরিককে হত্যার দায়ে একজন সৌদি নাগরিকেরও শিরশ্ছেদ করা হয়। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত দেয়ার সুযোগ থাকলে সৌদি সরকার ক্ষমতা প্রয়োগ করে তার নাগরিককে বাঁচাতে পারত; কিন' তা সম্ভব হয়নি। এর আগে মানুষ হত্যার দায়ে অভিযুক্ত রাজপরিবারের সদস্যও (প্রিন্স) প্রাণে রক্ষা পাননি।
গতকাল গুলশানে সৌদি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আবদুল্লাহ নাসের আল-বুসাইরি উত্তরে এসব কথা বলেন। আসন্ন হজ উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নে মূলত আট বাংলাদেশীর শিরশ্ছেদের ঘটনা প্রাধান্য পায়।
বাংলাদেশীরা আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ পায়নি- এমন অভিযোগ খণ্ডন করে রাষ্ট্‌্রদূত বলেন, ২০০৭ সাল থেকে এই বিচার প্রক্রিয়া চলছিল। মোট ১১ জন বাংলাদেশীকে এ জন্য আটক করা হয়েছিল। এর মধ্যে আটজন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে; বিধান অনুযায়ী তাদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। বাকি তিনজন হত্যার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকায় বিভিন্ন মেয়াদে তাদের সাজা হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালে আরবি ভাষা বোঝার জন্য আটককৃতরা ব্যক্তিগতভাবে এবং বাংলাদেশ দূতাবাসও দোভাষি নিয়োগ করে। এসব দোভাষি বিচারের পুরো সময়ে উপসি'ত ছিলেন। অভিযুক্তদের বক্তব্য উত্থাপনের যথেষ্ট সুযোগ আদালত দিয়েছেন।
একজনকে হত্যার জন্য আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো কেন- জানতে চাওয়া হলে রাষ্ট্রদূত বলেন, সৌদি আইন অনুযায়ী একজন মানুষকে হত্যার জন্য একটি গ্রামের সব লোক সরাসরি জড়িত থাকলে তাদের সবারই শিরশ্ছেদ করা হবে। সৌদি আরবে বাংলাদেশীরা ৩০-৪০ বছর ধরে আছেন, সৌদি আইন সম্পর্কে তাদের অবগত থাকা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সৌদি বাদশাহর কাছে অভিযুক্তদের প্রাণভিক্ষা চাইলেও সে অনুরোধ রক্ষা হলো না কেন- প্রশ্ন করা হলে আল বুসাইরি বলেন, নিহত ব্যক্তির অধিকারের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী বা অন্য কারো করার কিছু নেই। নিহতের পরিবার ক্ষমা না করলে শিরশ্ছেদ থেকে পরিত্রাণের উপায় নেই। এটা সব দেশের নাগরিকদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। সৌদি আরবে এমনও ঘটনা ঘটেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির শিরশ্ছেদ করার প্রস'তির মুহূর্তে নিহতের পরিবার ক্ষমা করে দেয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। কিন' বাংলাদেশীদের ক্ষমা করার জন্য মিসরীয় পরিবারটিকে কোনোভাবে রাজি করানো সম্ভব হয়নি।
শিরশ্ছেদের এ ঘটনায় বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না- জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সাথে সৌদি আরবের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও ঐতিহাসিক। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং আল্লাহর আইন বাস্তবায়নের জন্য তা ব্যাহত হবে বলে আমি মনে করি না।’ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশীদের শিরশ্ছেদ করে আমরা মোটেই খুশি নই। কিন' আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করতে এ ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না।’
ব্রিটেনে একজন সৌদি প্রিন্স তার সহকারীকে হত্যা করলেও তিনি শিরশ্ছেদের আওতায় পড়লেন না কেন- জানতে চাওয়া হলে বুসাইরি বলেন, ঘটনাটি ব্রিটেনে ঘটেছে বলে সেটি ব্রিটিশ আইনেই বিচার্য।
শিরশ্ছেদ করে লাশ দাফনের পর বাংলাদেশ দূতাবাসকে অবহিত করা হয়েছে- বিবিসিকে দেয়া বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তার এই বক্তব্য সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত এ সংবাদের যথার্থতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো চাইলে বাংলাদেশীদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারে।
অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশের ৩৩টি হজ অ্যাজেন্সিকে কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত আল বুসাইরি বলেন, বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয় সৌদি সরকারকে চিঠি দিয়ে এসব অ্যাজেন্সিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। পরবর্তী সময়ে তদন্ত করে আবারো একটি চিঠি দিয়ে অ্যাজেন্সিগুলোকে হাজী পাঠানোর অনুমোদন দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার হাজীকে দূতাবাস বিশেষ ব্যবস'ায় সৌদি আরব যাওয়ার ব্যবস'া করে দিয়েছে। বর্তমানে কোনো অ্যাজেন্সি হজ ভিসা পাচ্ছে না- এমন তথ্য দূতাবাসের জানা নেই।
তিনি জানান, হাজীদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য বাংলাদেশের স্বাস'্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিকিৎসক দল থাকে। এ ছাড়া হাজীদের সেবায় সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সুব্যবস'া করা হয়।

সৌদি আরবে ৮ বাংলাদেশির শিরিচ্ছেদ।

[URL=http://www.4shared.com/video/--TrBIzM/___.html][IMG]http://dc226.4shared.com/img/--TrBIzM/___.3gp[/IMG][/URL]

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla