Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

লতিফ সিদ্দীকির জেলে ডক্টর মোহম্মদ ইউনূস

 photo 19_zps97977488.jpg

লেখায় কোন চরিত্রকে প্রাধান্য দেব ঠিক বুঝতে পারছিনা। একদিকে সাংসদ আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, অন্যদিকে প্রফেসর ডক্টর মোহম্মদ ইউনূস। দুজনই স্ব স্ব ক্ষেত্রে ’মহিরুহ’। সিদ্দিকী সাহেবের শিক্ষাগত যোগ্যতা কি জানা নেই। ইউনূস স্যারেরটা জানা আছে। উনি নামের আগেই সেটা ব্যবহার করেন। ’সাংসদ’ নিশ্চয় যোগ্যতার মাপকাঠি নয়, বিশেষ করে শিক্ষা ক্ষেত্রে। বরং আমার বিচারে এবং বাংলাদেশের সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে একজন সাংসদ মূলত চাঁদাবাজ, দখলবাজ, খুনি, ধর্ষক ও সরকারী সম্পদ লুটেরা হিসাবে পরিচিত। দুয়েকজন ব্যতিক্রম থাকলে তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। বেচে থাকার জন্য লেখাপড়াই যাদের একমাত্র পুঁজি তাদের কাছে ডক্টরেট ডিগ্রি অনেকটা শেষ ঠিকানার মত। বলা যায় জীবনের মঞ্জিলে মকসুদ। এ মঞ্জিলে পৌছানোর সাধ ও সাধ্য সবার থাকেনা। এ বিবেচনায় সাংসদ হওয়া অনেকটাই সহজ। অঢেল অর্থকড়ি, নামের শেষে দুয়েকটা খুন-খারাবির রেকর্ড এবং নেত্রী মনোরঞ্জনের গুন থাকলেই আসা যায় রাজনীতির মূল ধারায়। অনেকটা প্রকৃতির অমেঘো পরিণতির মতই এ ধারা একজন রাজনীতিবিদকে নিয়ে যায় সাফল্যের শেষ ঠিকানায়, মন্ত্রিত্ব। ডক্টর মোহম্মদ ইউনূস এবং জনাব লতিফ সিদ্দিকী নিজ নিজ ক্যারিয়ারের মেঠোপথ পেরিয়ে পৌছে গেছেন সাফল্যের শেষ চূড়ায়। একজন নিজের মেধা, গুন এবং ব্যক্তিত্বের বলে জয় করে নিয়েছেন বিশ্বের কোটি কটি মানুষের হৃদয়। অন্যজন মন্ত্রিত্বের রশ্মি ছড়িয়ে জয় করে যাচ্ছেন নেত্রীর মন। মন জয় করা মন্ত্রিত্ব নামক মৃগয়া শিকারে বাধ্যতামূলক ফ্যাক্টর। বলা হচ্ছে সামনের নির্বাচনে ১৫০ এম্পি, মন্ত্রী নমিনেশন পাচ্ছে না। সংগত কারণেই ভয় ঢুকে গেছে অনেক বিগ ফিশদের মনে। পাশাপাশি প্রসারিত হচ্ছে প্রতিযোগতার মাঠ। টিকে থাকার দৌড়ে জনাব লতিফ সিদ্দিকীর অবস্থান অনেকটাই পোক্ত। একদিকে যেমন যোগাড় করছেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা, পাশাপাশি ইখতিয়ার উদ্দিন বিন মোহম্মদ বখতিয়ার খিলজির লম্বা হাতের মত মুখ ব্যবহার করে জয় করে নিচ্ছেন নেত্রী বন্দনার সব গুলো মাউন্ট এভারেষ্ট। সাভারের রানা প্লাজার সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় সরকার কমিশন বানিয়ে জানতে চেয়েছিল উপর্যুপরি এসব দুর্ঘটনার কারণ এবং এ ব্যাপারে গার্মেন্টস মালিকদের গাফলতি ও ব্যর্থতার কারণ সমূহ। কমিশনের প্রধান করা হয়েছিল পাটমন্ত্রী জনাব সিদ্দিকীকে। তদন্ত কাজ শুরুর আগেই মন্ত্রীর কাজ মন্ত্রী সেরে নেন। মালিকদের হুমকি দিয়ে ৫ কোটি টাকা নিজের নির্বাচনী ফান্ডে জমা করে নিশ্চিত করেন সাংসদ ও মন্ত্রী হওয়ার শর্ত সমূহের অন্যতম শর্ত।

ডক্টর মোহম্মদ ইউনূস। পৃথিবীর অন্যতম সফল আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রামীন ব্যাংকের রূপকার। হাজার হাজার কোটি টাকা মূলধন এই ব্যাংকের। গ্রাহক রাস্তার ভিখারি হতে শুরু করে ছিন্নমূল গৃহবধূ পর্যন্ত। বিনা পয়সার গম ও ঢেউটিন বিলিয়ে আজীবন দাসত্বে রাখার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কিছুটা হলেও বৈচিত্র্য আনেন এই ব্যাংকের মাধ্যমে। দেশের সবকটা বানিজ্যিক ব্যাংক যেখানে লতিফ সিদ্দিকীদের মত সাংসদ ও মন্ত্রীদের ভয়াল থাবায় দেউলিয়া হওয়ার পথে, একই দেশে, একই আসমানের নীচে গ্রামীন ব্যাংকের ঋণ আদায়ের পরিসংখ্যান অনেকটা অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল। এ ধরণের অবিশ্বাস্য ফেনোমেনন বিশ্বকে অবাক করে দেয় এবং খুব শীঘ্রই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ শরণাপন্ন হয় বাংলাদেশি এই শিক্ষকের। পশ্চিমা দুনিয়ার ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দায় ধুকছে। শক্তিশালী মার্কিন অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ ব্যাংক অব আমেরিকা, সিটি ব্যাংকের মত ব্যাংক গুলোও ফতুর হওয়ার দাঁড়প্রান্তে গিয়েছিল। ঠিক এমন একটা অর্থনৈতিক বাস্তবতায় চুরি চামারিতে চার বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মত একটা দেশের ব্যাংক কি করে তার কো-লেটারাল বিহীন ঋণ আদায় শতকরা ৯৮ ভাগে ধরে রাখতে পারে তা গোটা বিশ্বে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। ডক্টর মোহম্মদ ইউনূস নামের শুরুটা এখানেই। বিশ্বে এমন কোন রাষ্ট্র অথবা সরকার প্রধান নেই যিনি এই ডক্টরের উদ্ভাবনী শক্তি নিয়ে আগ্রহ দেখান নি। বিদেশে বিখ্যাত এবং স্বদেশে উপেক্ষিত এই ডক্টরের নামের নীচে চাপা পরে অকাল মৃত্যুবরণ করেন দেশের জীর্ণ, শীর্ণ, মানসিক ভাবে বিকলাঙ্গ রাজনীতির অনেক বাঘা খেলোয়াড়। প্রতিশোধ পর্বের শুরুটাও বোধহয় এখানে। যে ব্যক্তির জন্য পৃথিবীর সব দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের দরজা ২৪/৭ খোলা থাকে তার জন্য বন্ধ হয়ে গেল গ্রামীন ব্যাংকের দুয়ার। কারণ দেখানো হল উনার বয়স! অথচ গ্রামীন ব্যাংকের সেনশেসন কাটিয়ে উঠার আগেই ডক্টর মোহম্মদ ইউনূস বিশ্বকে ডাক দিলেন সোস্যাল ইনভেষ্টমেন্টে শরিক হতে। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কোর্স হিসাবে পড়ানো হচ্ছে এই ইনভেস্টমেন্ট থিওরি।

জনাব লতিফ সিদ্দীকি দাবি করছেন তিনি যদি এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হতেন তাহলে ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে জেলে পুরতেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে কথা বলে এই ডক্টর যে ’অপরাধ’ করেছেন তা নাকি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। রেফারেন্স হিসাবে টেনে এনেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপর মোজাম্মেল বিচারকের রায়। আমাকে কেউ যদি প্রশ্ন করেন দেশে সুশাসনের মূল অন্তরায় কি, আমি বিনা দ্বিধায় উত্তর দেব দেশের বিচার ব্যবস্থা। অনেক আগে কোন এক ব্লগে লিখেছিলাম আমাকে যদি সরকার প্রধান হওয়ার সুযোগ দেয়া হয় প্রথমেই হাত দেব দেশের উচ্চ আদালতে। দলীয় ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত বিচারকদের কোন এক প্রমোদতরীতে উঠিয়ে ছেড়ে দেব বঙ্গোপসাগরে। সাথে থাকবে মদ এবং মেয়ে মানুষ। এ তরী কেবল ভাসতে থাকবে। শর্ত থাকবে কোন বন্দরে ভিড়তে পারবেনা। এভাবে সুখের সাগরে তিলে তিলে হত্যা করবো ১৫ কোটি মানুষের দেশকে নষ্ট করার মূল কারিগরদের। জনাব মোজাম্মেল এসব বিচারকদেরই একজন। তিনি নেত্রী পুজারী, রাজনীতির সেবাদাস। এসব কুলাঙ্গারদের রায়কে আইন মেনে নেয়া আর একজন দ্বিচারীনির পতি ভক্তির স্বীকৃতি একই জিনিস। জনাব সিদ্দীকি চাইলে এখুনি ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে জেলে পাঠাতে পারেন। প্রয়োজন শুধু গ্রামে গঞ্জের আদালতে একটা মামলা এবং নেত্রীর আশির্বাদ। মহিউদ্দিন খান আলমগীর সাহেব বুক চিতিয়ে এগিয়ে যাবেন হ্যান্ডকাফ নিয়ে। হয়ত বিএপির ফখরুলদের কায়দায় ডান্ডাবেড়ি ঝুলিয়ে হাজির করবেন আদালত পাড়ায়। রাজনীতির এসব উচ্ছিষ্টদের হয়ত জানা নেই পৃথিবীটা গোল এবং নিত্য ঘুরছে। ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে গ্রেফতার করার জৈব লালসা এনাকোন্ডা সাপ হয়ে ছোবল হানবে লতিফ সিদ্দীকির পশ্চাৎদেশে। এ বিষে কেবল সিদ্দীকি সাহেব নিজে নন, সাথে নিয়ে যাবেন উনার দশাননা মাকে।

পাপ মোচনের অনেক রাস্তা আছে। জেল-হাজত তার অন্যতম। পৃথিবীর যে কোন দেশে লতিফ সিদ্দীকির স্থায়ী ঠিকানা হত জেলের চার দেয়াল। ঘরে ঘরে ঢুকে হত্যা করার ডাক দিয়ে একজন বেজন্মা রাজনীতিবিদ মন্ত্রীর আসনে বসে থাকতে পারেন এ বোধহয় মা দূর্গার দেশেই সম্ভব। আর কটা মাস বাকি মাত্র। তারপর ধ্বস নামবে মার সিংহাসনে। দশহাত ওয়ালা মা বনে যাবেন দুই হাত ওয়ালা ঘসেটি বেগমে। জনাব লতিফ সিদ্দীকির তাফালিং কোন গঙ্গায় বিসর্জিত হয় তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকবো। তবে বিপদে পরলে ধর্ণা দিতে পারেন ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসের দুয়ারে। তিনি বড় মাপের মানুষ। কাউকে সাহায্য করতে দ্বিধা করবেন না। চাইলে গ্রামীন ব্যাংকের কোন ব্রাঞ্চে দারোয়ান পদের জন্যও তদবির করতে পারেন।

Comments

একসময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের

একসময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পাশে হাসিমুখে ছবি তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ড. ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন দেশে ও বিদেশে। কিন্তু সেসব দৃশ্য ও পরিস্থিতি আজ আর নেই। শান্তির এই নোবেল লরিয়েটকে কেন্দ্র করেই তবে কি দেশে অশান্তির ঝড় উঠবে? রাষ্ট্র নামক অতিকায় পরাক্রমশালী যন্ত্রের বিরুদ্ধে একজন ড. ইউনূস এখন লড়ছেন বা খেলছেন। উইকিলিকসের ফাঁস করা তারবার্তা থেকে জানা যাচ্ছে, ড. ইউনূসের প্রতি শেখ হাসিনার কোনো আস্থা তো নেই-ই, এমনকি খালেদা জিয়াও ড. ইউনূসকে বিশ্বাস করেন না। কোথায় যাচ্ছে আমাদের রাজনীতি? ইউনূসের ওপর শেখ হাসিনার ক্ষোভের কারণই বা কী ?

ব্যক্তি যতই শক্তিশালী হোক, তিনি রাষ্ট্রের কাছে সামান্যই মাত্র। কিন্তু এটাও আবার মনে রাখা দরকার যে শাসক দল মাত্রই কিন্তু রাষ্ট্র নয়। যদিও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এ ধ্রুপদী তত্ত্ব একদমই খাটে না। এ দেশে যে দল ক্ষমতায় আসে, তিনি ও তাঁর দল রাষ্ট্রযন্ত্রকে ইচ্ছামতো ব্যবহার করেন বিত্তবৈভবের জন্য এবং অবশ্যই বিরোধী শক্তি ও মতকে দমন করার জন্য। এই রিলে রেস স্বাধীনতার পর থেকেই খুব বেশি হেরফের হয়নি। এ পর্যন্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য দেশ ও তামাম দুনিয়ার ক্ষমতাধর মানুষ কথা বলেছেন। সরকারকে কখনো তাঁরা প্রচ্ছন্ন, কখনো সরাসরি হুমকিই দিয়েছেন ইউনূসকে যেন হেনস্তা না করা হয়। তবু সরকারের এতটুকু হুঁশ ফেরেনি। সরকার ইউনূসবিরোধী কর্মকা- সচল রেখেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসও কম যান না। একটি রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে তিনিও লড়েছেন। জয়-পরাজয় এখনো অধরা। তবে এর মাঝ থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে তিনি নিজেই অব্যাহতি নিয়েছেন। এই যা পিছুহটা। এ ছাড়া ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ যুদ্ধে খুব বেশি হারেননি। কিন্তু সরকারের একদম শেষ সময়ে এসে রাজস্ব বোর্ড দিয়ে করের অর্থ ফেরত নেওয়ার যে প্রক্রিয়া সরকার শুরু করেছে তাতে মনে হচ্ছে, ইউনূস বিতর্ক শেষ হয়নি। এ ঘটনা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ এ কারণে যে যখন কোন পদ্ধতির সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে- সে বিষয় নিয়ে সারা জাতি অপেক্ষা করছে, তখন ইউনূসকে ফের বিপদে ফেলার এ তৎপরতা খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। বিএনপি জোট সরকারের বিপুল দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশের জনগণ চেয়েছিল দুর্নীতিমুক্ত একটি স্বচ্ছ সরকারব্যবস্থা। অর্থাৎ দুর্নীতি দূর করা ছিল এ সরকারের প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ। এরপর ছিল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, ঘরে ঘরে একজন করে চাকরি দেওয়া, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঘোড়ার রাশ টেনে ধরা, যুদ্ধাপরাধের বিচার ইত্যাদি। এর মধ্যে একমাত্র যুদ্ধাপরাধের বিচারের কাজটি অর্ধেক করা ছাড়া বাকি পরীক্ষায় সরকার সোজা ফেল করেছে। বিগত বিএনপি জোট সরকারের আমলের মতো হয়তো এ সরকারের সময় একটি হাওয়া ভবন হয়নি; কিন্তু সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অসংখ্য ছোট ছোট হাওয়া ভবন তৈরি হয়েছে। এসব হাওয়া ভবনের নেতৃত্বে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী থেকে শুরু করে পাড়ার গলির মাস্তানরা। ফলে আনুপাতিক হারে ঘুষ-দুর্নীতি তো কমেইনি; বরং এর সংখ্যা ও কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের টাকা বিদেশে পাচার

বিগত বিএনপি জোটের আমলে বিভিন্ন মহলে শোনা গিয়েছিল, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশ থেকে দেশে আনতে না পারলেও জিয়া পরিবারের কনিষ্ঠ কর্তা আরাফাত রহমান কোকোর অর্থ একাধিকবার বিদেশ থেকে এ আমলে দেশে এসেছে। এ প্রক্রিয়ার মধ্যে মানুষ এটা বুঝতে পেরেছে, দেশের অর্থ বাইরে পাচার হওয়ার যে পুরনো অভিযোগ- তার সত্যতা রয়েছে। আওয়ামী লীগ চলতি মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সময়ই বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের সাংবাদিক বার্গমানের সিরিজ প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০ জন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডে অর্থ পাচার করে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। কেন ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডে? কারণ হচ্ছে, সেখানে অর্থ বিনিয়োগ করলে শুধু রাজস্ব মওকুফই করা হয় না, পাশাপাশি অর্থের উৎসও জানতে চাওয়া হয় না। এ তালিকায় রয়েছে সরকারের পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খানের পারিবারিক ব্যবসা সামিট গ্র“প, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য জাফরউল্লা চৌধুরী, সরকার সমর্থক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড গ্র“পের হাসান মাহমুদ রাজাসহ একাধিক ব্যক্তি। অর্থ পাচারের বদনাম শুধু বিএনপির ঘাড়েই না- এখন একে একে বেরিয়ে আসছে আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থক ব্যবসায়ীগোষ্ঠীরও নাম।

সরকারি ব্যাংকের কোষাগার ফাঁকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গিন যে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শমতে, ব্যাংকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থেকে বেরোনোর প্রস্তাব নিচ্ছে। বেসরকারি ব্যাংকের পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগের তা এখনো আন্দাজ করা যাচ্ছে না। নব্বই-পরবর্তী খোলাবাজার অর্থনীতির যুগে প্রবেশের পর থেকেই ব্যক্তি খাতে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক বিকাশ ঘটে। এর আগে ব্যবসায়ীরা ঋণ নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাতেন। আর এখন ব্যবসায়ীরা তাঁদের পুঁজি বিনিয়োগ করেন মুনাফা করার আশায়, অর্থ লোপাটের আশায় নয়। অন্তত গত বিএনপি জোটের আমলেও মোটাদাগে এটা পরিলক্ষিত হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ শাসনামলেই দেশের সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির নাম শোনা গেল হলমার্ক। এরপর বেরিয়ে এলো বিসমিল্লাহ গ্র“পসহ একের পর এক কেলেঙ্কারির কথা। অর্থাৎ রাষ্ট্রের পুঁজিপতিদের মধ্যে এমন একাংশের আবির্ভাব গত পাঁচ বছরে ঘটেছে, যারা ব্যবসা না করে অর্থ লোপাটের ধান্দায় মত্ত। এসব ঘটনার সঙ্গে সরকারের প্রভাবশালীরা যুক্ত, তা সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সুদের রাজনীতি

পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার মূল কথা মুনাফার জন্য উৎপাদন। মুনাফার জন্য উৎপাদন করা হলে সে ব্যবস্থাতে অবশ্যই সুদ থাকবে। আওয়ামী লীগ পুঁজিবাদী বাজারব্যবস্থার সমর্থক একটি দল। ফলে স্বভাবতই এ দলটির প্রথাগত সুদের বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তাঁর রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা কথায় কথায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সুদখোর হিসেবে গালি দেন। তাহলে স্বাভাবিক কারণে প্রশ্ন উঠতে পারে, শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার কি সুদমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করতে চান? তাহলে তা তো পুঁজিবাদবিরোধী অবস্থান হলো। সে কারণে রাষ্ট্র সবচেয়ে বড় সুদখোর প্রতিষ্ঠান। তার ব্যাংক-বীমা দিয়ে সে সব সময় সে কাজই করে যাচ্ছে। এমনকি ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি সরকারি সংস্থা আনসার-ভিডিপি ব্যাংক দিয়েও পরিচালনা করছে সুদের কারবার। তাহলে ইউনূস কেন সুদখোর হবেন একা?

পদ্মায় ডুবছে নৌকা

একসঙ্গে অনুষ্ঠিত চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর। যতটা ভাবা হয়েছিল, পরিস্থিতি তার থেকেও সঙ্গিন। বিশেষত খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে এ ভরাডুবির পেছনে পদ্মা সেতু বড় ভূমিকা পালন করেছে। সরকার একজন আবুল হোসেনকে বাঁচাতে 'নৌকা ডুবি' হবে জেনেও পিছপা হয়নি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পদ্মার ওপারে একমাত্র গোপালগঞ্জ ছাড়া অন্য একটি আসনও নিরাপদ নয়। সব আসনই আওয়ামী লীগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এখন সময় হচ্ছে, পদ্মার ওপারে নৌকা কি শেষ পর্যন্ত পদ্মায় ডুববে? অন্তত সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে মানুষ এটা ভাবলে দোষ দেওয়ার কিছু নেই। শুধু পদ্মার ওপার কেন, সারা বাংলার মুমূর্ষু নদীগুলোতে নৌকাডুবির আয়োজন করছেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা।

যুক্তরাষ্ট্র বনাম তৃতীয় বিশ্ব

চিলির আয়েন্দা, ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ণ ও বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো জাতীয়তাবাদী শাসকদের করুণ পরিণতির পেছনে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ অপচ্ছায়া। এসব রাষ্ট্র শাসিত হয়েছে তৎকালীন কমিউনিস্ট সোভিয়েত ইউনিয়ন মডেলে। এসব দেশের শাসকরা নিজ দেশে তুমুল জনপ্রিয় থাকার পরও মার্কিনরা ক্যু ঘটিয়ে নির্মম রক্তপাতের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটিয়েছে। বর্তমান সময়ে ক্যু আর ষাটের দশকের ক্যুয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। এখন ক্যু হয় 'আরব বসন্ত'-এর মতো তুমুল জনপ্রিয় গণ-আন্দোলনের ভেতর দিয়ে। এ ক্যুয়ের প্রধান ঘটক হিসেবে কাজ করে মিডিয়া ও সুশীল সমাজ।

বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন শাসক দলের এমনিতেই জনসমর্থন তলানিতে এসে থেমেছে- সে পরিস্থিতিতে আরেকটু সাবধানে পা না ফেললে হড়কে খাদের নিচে পড়ার আশঙ্কাই বেশি। তবে আফসোস, শেখ হাসিনা একা যেন সমুদ্রের তীরে। হয় তিনি কাউকে বিশ্বাস করতে পারেন না, নতুবা তাঁকে পরামর্শ দেওয়ার মতো দলে যোগ্য কেউ নেই। সবাই আসলে মীরজাফর, জগৎ শেঠ, রায় দুর্লভের উত্তরসূরি; এখানে গোলাম হোসেন নেই।

কূটনীতিতে হেরেছে বাংলাদেশ

পদ্মা সেতুতে শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক অর্থ ছাড় করেনি। অভিযোগ দুর্নীতির। বিশ্বব্যাংক ধোয়া তুলসীপাতা নয়। তাদের নিজেদের মধ্যে ঘুষ-দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করলে অন্তত সরকার একটা কূটনৈতিক হার থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারত। শুধু কি পদ্মা সেতু? ভারতের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন ও সীমান্ত চুক্তির বিলও পাস হয়নি ভারতের পার্লামেন্টে। দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল ভারতের পার্লামেন্টে আঞ্চলিক দল পশ্চিমবাংলার তৃণমূল কংগ্রেস একাই ঠেকিয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন হলো, তৃণমূলের খুঁটির জোর কোথায়? যাঁরা ভারতের রাজনীতির খোঁজখবর রাখেন তাঁরা জানেন- পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে কমিউনিস্ট পার্টি অব মার্কসবাদী বা সিপিআইএম- সংক্ষেপে সিপিএমের নেতৃত্বে গত ৪০ বছরের বাম শাসন হটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছে। রাজ্য থেকে কমিউনিস্টদের হটিয়ে কড়া দক্ষিণপন্থী তৃণমূলকে ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই মার্কিনরাই তাদের প্রভাব দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে লেলিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। ফলাফল আবারও বাংলাদেশের হার।

পলিটিক্যাল ইসলামের উত্থান

নব্বইয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আদর্শিক রাষ্ট্র হিসেবে সমাজতন্ত্রের আপাত বিদায় হয়েছে। তবে একই সঙ্গে উত্থান ঘটেছে পলিটিক্যাল ইসলাম বা রাজনৈতিক ইসলামের। এই রাজনৈতিক ইসলাম দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন যুগে বহু তেলেসমাতি ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন নিজেই সেই রাজনীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার। বাংলাদেশেও নব্বই-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ইসলামের ব্যাপকতা বেড়েছে। ক্ষয়িষ্ণু হয়েছে বামপন্থা। যদি রাজনৈতিক ইসলামের আরো বড় উত্থান বাংলাদেশে ঘটে, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। যেমন দাঁড়াবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির। গত ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের হটে যাওয়ার পর রাজনৈতিক তাত্ত্বিকদের অবশ্যই ভাবতে হবে- গ্রাম থেকে আসা এসব মানুষ নিস্তেজ হয়ে যায়নি। বরং আরো বহু গুণ শক্তি নিয়ে তারা শহরে ফিরে আসবে। রাষ্ট্রের ভাগ চাইবে। আপাতত হেফাজতের পক্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র তাদের বর্তমান অবস্থান পাল্টালে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

হাসিনার ক্ষোভ কোথায়

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি শেখ হাসিনার ক্ষোভ কোথায়? আগ্রহী জনতার মতো আমারও জানতে ইচ্ছা করে। সাধারণ জনগণের মধ্যে যেসব বিষয়ে ক্ষোভের কারণগুলো ঘুরেফিরে এসেছে, সে বিষয়গুলো নিয়ে প্রথমে আলোচনা করে দেখতে চাই, ক্ষোভের প্রকৃত কারণগুলো তা কি না। একটা কথা লোকমুখে শোনা যায় তাহলো, শেখ হাসিনার শান্তির নোবেলটি ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছিনিয়ে নিয়েছেন। ইউনূস নোবেল না পেলে শেখ হাসিনাকেই নোবেল দেওয়া হতো। এ জন্য নাকি ১৯৯৬-২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকার সময় শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব কিছুই করা হয়েছিল। বিশেষ করে পার্বত্য শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ের আদিবাসীদের একটি জাতীয়তাবাদী সশস্ত্র আন্দোলনের মুখে পানি ঢেলে দেওয়ার সফল কাজটি শেখ হাসিনা সরকারই করেছিল।

যদি মার্কিন যুদ্ধবাজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারকে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার দিতে পারে নোবেল কমিটি, তাহলে তিন পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন দশকের বেশি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধের কারণে শেখ হাসিনা আলবৎ শান্তির নোবেল পেতে পারেন। আমি এখনো বিশ্বাস করি, এ রকম একটি চুক্তির জন্য শেখ হাসিনাকে নোবেল দেওয়া উচিত। কিন্তু শান্তির নোবেল শুনতে যতটা শান্তি শান্তি ভাব আসে, বাস্তবে বিষয়টি ততখানিই শান্তির নয়। এ নোবেলটি অত্যন্ত রাজনৈতিক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ততখানি লবিং ও ঝানু খেলোয়াড় না হলে এ পুরস্কারটি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। শোনা যায়, আওয়ামী লীগের তৎকালীন সব সংসদ সদস্য নাকি তাঁদের প্যাডে নোবেল কমিটিকে চিঠি দিয়েছিলেন শেখ হাসিনাকে শান্তিতে নোবেল দেওয়ার জন্য। যদি সত্যিই এ রকমটি ঘটে থাকে তাহলে বলতে হবে, যে দলে এতগুলো বুদ্ধিমানের অবস্থান সে দলে শেখ হাসিনাকে একা নোবেল দেওয়াটা ঠিক হবে না। বরং চিঠি যাঁরা লিখেছিলেন, তাঁদেরও একটি করে এই পদক দেওয়া উচিত।

দ্বিতীয় কারণটি হলো, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন সব দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে, ঠিক তখন ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দল খুলে ক্ষমতায় যাওয়ার সোজা পথ ধরেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি তৎকালীন সরকারের বিশেষ প্রীতি সত্যিই ছিল উদ্বেগজনক। সব দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ আর ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজনীতি করতে পারবেন- এ পরিস্থিতির মধ্যে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তখন জরুরি অবস্থা ভেঙে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন ও তাঁর রাজনৈতিক দল খোলার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এই লেখক তখন সেই বিক্ষোভ সমাবেশের একজন কর্মী ছিলেন। এ ঘটনার পর গোয়েন্দা পুলিশের অত্যাচারের বিষয়টি উল্লেখ করলাম না। এ বিক্ষোভ সমাবেশের ঘটনাটি দেশি বিদেশী মিডিয়া গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে। এর কিছুদিন পর ২০০৭-এর ৩ মে ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজনীতি থেকে ঘোষণা দিয়ে ইস্তফা দেন। এ ধরনের কর্মকা-ের জন্য নিশ্চয়ই তিনি নিন্দা-মন্দ পেতে পারেন, পাবেনও। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যে জরুরি অবস্থার কারণে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া কারাগারে গেলেন। সেই জরুরি অবস্থার কুশীলবদের বিচার তো এ সরকার করেনি। উল্টো সেই সরকারের কর্মকা-ের বৈধতা শেখ হাসিনা দিয়েছেন। কুশীলবদের বিচার না করে শুধু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার করতে চাওয়াটা স্ববিরোধিতা। কারণ রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। সবাই চায় রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে। ইউনূসও চেয়েছিলেন। শুধু চাওয়াটা কেন দোষের হবে? যারা ইউনূসের চাওয়াটা বাস্তবে রূপ দিতে চেয়েছিল, হাসিনা-খালেদাকে জেলে পুরল, তাদের বিচার হবে না, বিচার হবে ইউনূসের? এটাকে তাহলে ব্যক্তি-আক্রোশ হিসেবেই নাগরিকরা গণ্য করবেন, করছেনও।

জরুরি অবস্থায় ড. ইউনূসের ভূমিকার বিষয়টি পাওয়া যায় জেনারেল মইন ইউ আহমেদের বই 'শান্তির স্বপ্নে সময়ের স্মৃতিচারণ'-এ। সেখানে তিনি লিখেছেন : 'আমাদের সামনে তখন অনেক কাজ। সবচেয়ে বড় কাজ হলো নিরপেক্ষ ও সর্বজনবিদিত একজনকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচন করা, যিনি জটিল এ সময়ে আমাদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। এ ব্যাপারে সবার আগে সদ্য নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. ইউনূসের নাম প্রস্তাব করা হলো। এখানে উল্লেখ্য যে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি সম্ভাব্য প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূস অথবা ড. ফখরুদ্দীনের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। আমারও মনে হলো, দেশে ও বিদেশে গ্রহণযোগ্যতার কারণে নিশ্চিতভাবে ড. ইউনূস এ পদ গ্রহণে সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত। কিন্তু তিনি প্রধান উপদেষ্টা হতে আগ্রহী হলেন না। সবার অনুরোধে আমি তাকে ফোন করে প্রধান উপদেষ্টা হতে অনুরোধ করে সবরকমের সহায়তার নিশ্চয়তা দিলাম। তবুও তিনি রাজি হলেন না। তিনি বললেন, বাংলাদেশকে তিনি যেমন দেখতে চান সে রকম বাংলাদেশ গড়তে খ-কালীন সময় যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশকে তিনি আরো দীর্ঘ সময় ধরে সেবা দিতে আগ্রহী। সেই মুহূর্তে আমি ড. ইউনূসের কথার মমার্থ বুঝিনি। তিনি একজন মহান ব্যক্তি। তিনি আসলে কাউকে অবলম্বন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে চাননি। পরবর্তী সময়ে আমরা দেখেছি তিনি একটি রাজনৈতিক দল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যদিও পরিস্থিতির কারণে তাকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছিলো।'

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি শেখ হাসিনার ক্ষোভের কারণগুলো সব অতীত। তাহলে এখন কেন প্রধানমন্ত্রী একজন নাগরিকের ওপর এত খ্যাপা। যে নাগরিকের মতাদর্শের সঙ্গে শেখ হাসিনার রাজনীতির কোনো তফাত নেই। আগ্রহী বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন ওয়ান-ইলেভেনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন। হয়তো তিনি সরাসরি কোনো পদে থাকবেন না; কিন্তু তাঁর কথার বাইরেও কিছু হবে না। তবে এ সবই আন্দাজনির্ভর। কারণ সরকার মনে করে যে সংবিধান সংশোধন করে অনির্বাচিত সরকার আসার সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবুও আওয়ামী লীগের অনির্বাচিত সরকারের ভয়ে জ্বর উঠে যাচ্ছে। তাহলে কি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা বুঝতে পেরেছেন, যদি অবৈধ-অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা নেয়ই, তারা তো সংবিধানের অনুচ্ছেদ মেনে বিধিসম্মতভাবে আসবে না। সংবিধানকে টিস্যু পেপার বানিয়ে ক্ষমতায় আসবে তারা। এখানেই হয়তো ইউনূসকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছেন শেখ হাসিনা। কারণ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে কেন্দ্র করে সারা পৃথিবীর তাবৎ ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে অন্যরা যেভাবে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ সরকারের নিন্দা-মন্দ করছেন, তাতে মনে হচ্ছে সরকারের চেয়ে একা ইউনূস বেশি শক্তিশালী।

নতুন ধরনের সরকার

বিএনপি নতুন ধরনের সরকার গঠন করবে- এ ঘোষণা লন্ডনে দলটির অন্যতম ভবিষ্যৎ তারেক রহমান দিয়েছেন। সম্ভবত এই নতুন ধরনের সরকারের মধ্যেই মূল বিষয়টি রয়েছে। বিভিন্ন মারফতে যতদূর জানা যাচ্ছে, বিএনপি যদি নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেও, তাহলে গতবারের যেসব কলঙ্ক তাদের ক্যালানুসের ভূতের মতো তাড়া করেছিল, তা আর এবার হবে না। বিশেষত, নতুন করে আর কোনো হাওয়া ভবন হবে না- এটা বিএনপির পক্ষ থেকে দেশের সুশীল সমাজকে নিশ্চিত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যতদূরে ঠেলে, বিএনপি ততোই তাঁকে কাছে টেনে নেয়। নতুন ধরনের সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টাতে আসবে নানা চমক। দেশের প্রতিথযশা সুশীলরা এই শর্তে বিএনপি সরকারের প্রতি সমর্থন দেবেন। সেখানে বড় বড় চমক রয়েছে বলেও বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে। যদিও বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগামীকাল কী ঘটবে সেটাই বলা যায় না, সেখানে নির্বাচনের আগে দেওয়া কোনো গোপন ঘরোয়া অঙ্গীকার বিএনপি মেনে চলবে- এ রকম রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো তৈরি হয়নি। ফলে আস্থা রাখাও কঠিন।

কী হবে বাংলাদেশের

বাংলাদেশ একটি রেখার ওপর দিয়ে তার যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। একদিকে দেশটির বিপুল সহজলভ্য শ্রমশক্তি ব্যবহার করে মধ্যআয়ের দেশ হিসেবে অর্থনৈতিক উত্থান ঘটানোর সম্ভাবনা। অন্যদিকে পলিটিক্যাল ইসলামের কাছে পরাস্ত হওয়া, দেশটাকে সন্ত্রাসবাদ-যুদ্ধের মধ্যে ফেলে দেওয়া। শেখ হাসিনা এ রকম পরিস্থিতিতে যে ঝুঁকি নেওয়ার হুঙ্কার দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রায় অসাধ্য এক কাজ। এর পেছনে সম্ভাব্য দুটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমটি হলো, শেখ হাসিনার মন্ত্রীদের চরম দুর্নীতির কারণে তিনি ভীত। ক্ষমতা ছাড়ার পর এসব দুর্নীতির মুখোমুখি হওয়ার ভয়। আর দ্বিতীয়টা হলো, রাজনৈতিক ইসলামপন্থীদের উত্থানে ব্যক্তি হাসিনা ও তাঁর দলের নিশ্চিহ্ন হওয়ার আশঙ্কা। এ দুটির যেকোনো একটি যদি সত্যি হয়, তাহলে কোনোভাবেই শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে ক্ষমতার পালাবদল বা আবার নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের জয় নিয়ে ফিরে আসাটা প্রায় অসম্ভব। সে ক্ষেত্রে সংঘর্ষ অনিবার্য। এ ক্ষেত্রে আমার বিবেচনায় শেখ হাসিনার সামনে দুটি পথ খোলা আছে। প্রথমটি হলো, সংসদ শেষ হওয়ার আগেই- অর্থাৎ ২৪ জানুয়ারির মধ্যে একটি নির্বাচন করে যেনতেন প্রকারে ক্ষমতায় আসা। একবার ক্ষমতায় বসে যেতে পারলে বিএনপির দুর্বল সাংগঠনিক অবস্থা এতই খারাপ যে তাকে ফেলার ক্ষমতা বিএনপির হবে না। আর দ্বিতীয়টি হলো, এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে ওয়ান-ইলেভেন আসন্ন হয়। যাঁরা সেই পরিস্থিতিতে ক্ষমতা নেবেন, তাঁদের সঙ্গে দরদাম করে নিজে ও দলকে নিরাপদে রাখা।

প্রথমটি করতে গেলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিশ্চুপ থাকবে- এটা মনে করা একদমই শিশুসুলভ। একমাত্র ভারত ছাড়া এই মুহূর্তে শেখ হাসিনার পাশে কেউ নেই। ফল কী হবে আন্দাজ করা কঠিন নয়। সেই থোড়বড়ি খাড়া তো খাড়াবড়ি থোড়। অর্থাৎ অপছন্দের সুশীলরাই ক্ষমতায় আসবেন। দ্বিতীয়টা হলো ওয়ান-ইলেভেন পরিস্থিতি তৈরি করে দরদাম করে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। সেখানেও শেখ হাসিনার অপছন্দের সুশীলরা আসার সম্ভাবনাই বেশি। উভয় সংকটে আছেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা কোন দিকে যাবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কালেরকণ্ঠ ।
http://www.amadershomoybd.com/content/2013/09/19/news0759.htm

লতিফ সিদ্দিকীর দখল করা সাবেক

লতিফ সিদ্দিকীর দখল করা সাবেক প্রেসিডেন্টের বাড়ি উদ্ধার হয়েছিল যেভাবে
শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩

স্টাফ রিপোর্টার: আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী। সমপ্রতি নানা বিষয়ে আলোচিত তিনি। মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে চিঠি দিয়ে কৈফিয়ত চেয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন কিছুদিন আগে। সমপ্রতি এক অনুষ্ঠানে হরতালকারীদের ঘরে ঢুকে হত্যা করারও নির্দেশ দিয়েছেন এ নেতা। বক্তৃতা বিবৃতিতে নিজেকে আওয়ামী লীগের খাঁটি কর্মী প্রমাণ করতে চান তিনি। সমালোচনা করেন দলের প্রবীণ নেতাদেরও। আলোচিত এ নেতার রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেও ছিলেন আলোচনায়। বঙ্গবন্ধু তখন প্রধানমন্ত্রী। আর লতিফ সিদ্দিকী সংসদ সদস্য। সেই সময়ে নিজের লোকজন দিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর বাড়ি দখল করে নিয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য ওই বাড়ি উদ্ধার হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে। রক্ষিবাহিনী অভিযান চালিয়ে ওই বাড়ি থেকে লতিফ সিদ্দিকীর লোকজনকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল ময়মনসিংহে। ওই বাড়ি উদ্ধারের ঘটনার বর্ণনা পাওয়া গেছে সাবেক সেনা কর্মকর্তা আনোয়ার উল আলমের বর্ণনায়। তিনি ওই সময় লেফটেনেন্ট কর্নেল মর্যাদায় রক্ষী বাহিনীর উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) ছিলেন।
‘রক্ষী বাহিনীর সত্য-মিথ্যা’ বইয়ে এ ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। বইটির ‘বিরাগভাজন হওয়ার কয়েকটি ঘটনা’ উপ শিরোনামে আনোয়ার উল আলম ওই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে-
কোন বাহিনীর হয়ে দেশে আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে গিয়ে ওই বাহিনীর কর্মকর্তাদের অনেক সময় সরকারি দলের নেতা, কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের বিরাগভাজন হতে হয়। এ বিষয়ে অবশ্যই পুলিশ বাহিনীর অভিজ্ঞতা অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের চেয়ে বেশি। জাতীয় রক্ষীবাহিনীর একজন উপ-পরিচালক হিসেবে আমি নিজেও কয়েকজন জনপ্রতিনিধির বিরাগভাজন হয়েছিলাম।
ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসার পর কাজে যোগ দিয়ে আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে থাকি। কিছুদিন পর, একদিন সন্ধ্যায় আমি অফিসে কাজ করছি। আমাদের বাহিনীর পরিচালক এএনএম নূরুজ্জামান আমাকে ডেকে পাঠান। তার কাছে যাওয়ার পর তিনি আমাকে দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে বললেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে শেরেবাংলা নগরের নতুন গণভবনে যাই। গণভবন ও আমাদের সদর দপ্তরের মধ্যে তেমন দূরত্ব ছিল না। কয়েক মিনিটের মধ্যে আমি গণভবনে পৌঁছাই। প্রধানমন্ত্রীর সচিবের কাছে যাওয়ার পর তিনি বঙ্গবন্ধুকে আমার উপস্থিতির কথা জানান। বঙ্গবন্ধু সচিবের মাধ্যমে আমাকে তার কক্ষে যেতে বলেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর অফিসকক্ষে প্রবেশ করে দেখতে পাই, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী সোফায় বসে আছেন।
বঙ্গবন্ধুর চেহারা দেখে আমার মনে হলো, তিনি খুব রাগান্বিত। এতে আমি একটু আশ্চর্য হয়ে গেলাম। ভাবলাম, আমি কি কোন ভুল করে ফেলেছি? আমি বঙ্গবন্ধুর সামনে যেতেই তিনি আমাকে বললেন শোন, চৌধুরী সাহেবের পৈতৃক বাড়ি লতিফ দখল করেছে। ওই বাড়ি আজ রাতের মধ্যেই খালি করতে হবে।
সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাপারটা বুঝে গেলাম। এ লতিফ টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী থানা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। একই থানার নাগবাড়ি গ্রামে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর বিশাল পৈতৃক বাড়ি। লতিফ সিদ্দিকী ওই বাড়ি দখল করেছেন। আমি কোন কিছু না ভেবেই সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে বললাম, খালি হয়ে যাবে, স্যার। এরপর বঙ্গবন্ধু আমাকে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর কাছ থেকে সব জেনে কাজ করতে বললেন। নির্দেশ দিলেন বাড়ি খালি করে পরদিন সকালে যেন তাকে রিপোর্ট করি। তারপর আমাকে সাবেক রাষ্ট্রপতির কাছে রেখে বঙ্গবন্ধু পাশের ঘরে গেলেন।
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী এমনিতেই খুব ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং গম্ভীর মানুষ ছিলেন। তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক। এ সুবাদে তিনি আমাকে ভাল করেই চিনতেন। তখন থেকেই আমাকে খুব স্নেহ করতেন। এ ছাড়া স্বাধীনতার পর ১০ই জানুয়ারি (১৯৭২) দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু যখন তাকে রাষ্ট্রপতি করবেন বলে মনঃস্থ করেন, তখন আমাকেই তার কাছে পাঠিয়েছিলেন।
একান্ত ব্যক্তিগত এবং প্রাসঙ্গিক না হলেও উল্লেখযোগ্য বলে ঘটনাটির অবতারণা করছি। ১১ই জানুয়ারি ১৯৭২ রাতে আমরা কয়েকজন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাই। তখন রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টা। ভেতরে প্রবেশ করেই জানতে পারলাম, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ প্রমুখ ঊর্ধ্বতন নেতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু দোতলায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছেন। আমরা নিচতলায় বসতে যাচ্ছি, এমন সময় দেখি, বঙ্গবন্ধু ও অন্য নেতারা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছেন। আমরা উঠে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুসহ তাদের সবাইকে সালাম দিলাম। বঙ্গবন্ধু নেতাদের বিদায় দিয়ে আমাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন। আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুর পা ছুঁয়ে সালাম করলাম। মনে হলো, আমাদের পেয়ে তিনি খুব খুশি হয়েছেন। আমাদের কাছে নানা বিষয়ে জানতে চাইলেন। তবে কিছুক্ষণ কথা বলার পর মনে হলো, তিনি বেশ ক্লান্ত। তাই বেশিক্ষণ কথা না বলে আমি তাকে বললাম, আপনাকে শুধু দেখতে এসেছি। এ কথা বলে সবাই বিদায় নিচ্ছি, বঙ্গবন্ধু আমাকে কাছে টেনে নিয়ে কানে কানে বললেন, তোর ভিসিকে তাড়াতাড়ি এখানে নিয়ে আয়।
উল্লেখ্য, আবু সাঈদ চৌধুরী ৭ই জানুয়ারি লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরেন। সেদিন আমি তার বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তিনি আমার কাছে টাঙ্গাইলের খবর জানতে চান। আমি সংক্ষেপে কিছু ঘটনা জানাই।
১১ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ভবন থেকে বেরিয়ে আমার সহযোদ্ধা নূরুন্নবী ছাড়া সবাই টাঙ্গাইলে রওনা হলেন। আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে রাতেই বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর বাসায় হাজির হলাম। সঙ্গে নূরুন্নবী। তার বাসায় গিয়ে জানতে পারি, তিনি শহীদ মুনীর চৌধুরীর স্ত্রী ও সন্তানদের সমবেদনা জানাতে তার বাসায় গেছেন। কখন ফিরবেন, ঠিক নেই। এ অবস্থায় আমি শহীদ মুনীর চৌধুরীর বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। তার বাসা ছিল ভূতের গলিতে। এটা অবশ্য আমি জানতাম না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আমার এক বন্ধুর সাহায্য নিয়ে আমি ওই বাসায় যাই। সেখানে আমি আবু সাঈদ চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করি। বিনীতিভাবে তাকে জানাই, বঙ্গবন্ধু আমাকে পাঠিয়েছেন। আমরা আপনার বাসায় গিয়েছিলাম। না পেয়ে এখানে এসেছি। তিনি আপনার সঙ্গে কথা বলতে চান। আপনাকে তার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা এসেছি। এরপর তিনি মুনীর চৌধুরীর স্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধু ভবনে রওনা হন।
আমরা যখন সেখানে পৌঁছাই, তখন রাত প্রায় ১১টা। বঙ্গবন্ধু সবে রাতের খাবার সেরে উঠেছেন। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ের পর বঙ্গবন্ধু তাকে সঙ্গে নিয়ে তার শয়নকক্ষে যান। নূরুন্নবী আর আমি নিচে অপেক্ষা করতে থাকি। একটু পর বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী নিচে নেমে এসেই আমাকে জড়িয়ে ধরেন। আমি তখন কারণ বুঝতে পারিনি। পরদিন রেডিওতে খবর শুনে কারণটা বুঝতে পারি। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হয়েছেন।
যা হোক, বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী তার বাড়ি দখলের বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে একটু বিব্রত বোধ করছিলেন। তা করারই কথা। কারণ, কোন দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতির বাড়ি বেদখল হওয়ার ঘটনা একটা অচিন্তনীয় বিষয়। আমি নিজেও বেশ লজ্জা বোধ করছিলাম। আমি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর কাছ থেকে সব শুনে তাকে আশ্বাস দিলাম যে রাতের মধ্যেই তার বাড়ি খালি হয়ে যাবে। এরপর আমি অফিসে ফিরে আসি। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী তার বাসভবনে ফিরে যান। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আবু সাঈদ চৌধুরীর পৈতৃক বাড়িটি পুড়িয়ে দিয়েছিল। তার পারিবারিক বিষয় সম্পত্তি দেখাশোনার জন্য সামসুদ্দিন (মুচু মিয়া) নামের একজন ম্যানেজার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তাকে পাকিস্তানি সেনারা নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, সাবেক রাষ্ট্রপতির পৈতৃক বাড়ি দখলদার সংসদ সদস্যের কাছ থেকে উদ্ধার করতে হবে। তাই আমি কৌশল ঠিক করলাম, উদ্ধার অভিযানটা পরিচালনা করতে হবে সঙ্গোপনে। টাঙ্গাইল জেলায় কোন দিন কোন অভিযানে রক্ষীবাহিনী পাঠানো হয়নি। আশাপাশে রক্ষীবাহিনীর কোন ক্যাম্প ছিল না। কাছাকাছি ময়মনসিংহে রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্প ছিল। সেখানে বাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন লিডার সরোয়ার হোসেন। তার বাড়ি ছিল কালিহাতী থানার পাশেই বাসাইল থানায়। মুক্তিযুদ্ধকালে সরোয়ার কালিহাতী এলাকায় যুদ্ধ করেন। ফোন করে তাকে নির্দেশ দিলাম দুই ট্রাক রক্ষী সদস্য প্রস্তুত করে রাত একটার মধ্যে নাগবাড়ী পৌঁছাতে এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর বাড়ি ঘেরাও করে ভেতরে যাকেই পাওয়া যাবে তাদের সবাইকে ট্রাকে উঠিয়ে সরাসরি ময়মনসিংহে নিয়ে যেতে। আরও নির্দেশ দিলাম গভীর রাতে অপারেশন করার জন্য। গ্রামের লোকজন যাতে এ অপারেশনের বিষয়ে জানতে না পারে, তার জন্য নীরবে কাজ করতে হবে। কোন গুলি করা যাবে না। তারপর ময়মনসিংহে ফিরে সকালেই আমাকে জানাতে হবে।
যে রকম নির্দেশ, সে রকম কাজ। সকাল ছয়টার দিকে ময়মনসিংহে ফিরে লিডার সরোয়ার হোসেন আমাকে ফোন করে জানালেন, অপারেশন সফল। তারা নাগবাড়ীতে গিয়ে দেখেন গ্রামটি নীরব, নিস্তব্ধ। লোকজন সবাই ঘুমে, এমনকি সাবেক রাষ্ট্রপতির বাড়ি যারা দখল করে আছে, তারাও ঘুমে। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে তাদের সবাইকে (যত দূর মনে পড়ে ১৫-১৬ জন) ধরে কোন হট্টগোল ছাড়াই রক্ষী সদস্যরা ফিরে আসেন। আমি সরোয়ারকে দুপুরের আগেই একটা রিপোর্ট লিখে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার জন্য বলি।
এরপর অফিসে গিয়েই আমি সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে ফোন করে জানাই, তার বাড়ি খালি হয়ে গেছে। সেখানে তার লোকজন যেতে পারে। তারপর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে রিপোর্ট করতে গণভবনে যাই। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি দখলমুক্ত হয়েছে জেনে তিনি খুব খুশি হন এবং নিজেই তাকে ফোন করেন।
এদিকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সকালেই খবর পেয়ে যান বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি থেকে তার লোকজনকে কে বা কারা রাতের অন্ধকারে ধরে নিয়ে গেছে। এ খবর পেয়ে লতিফ সিদ্দিকী এদিক সেদিক খোঁজ নিতে থাকেন, কিন্তু কোন খবর পান না। কারণ, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) বা কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেউই বিষয়টি জানতেন না। দু’তিন দিন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ না পেয়ে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলীর সঙ্গে দেখা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে জানান, তিনিও এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে তার কাছ থেকেই হয়তো লতিফ সিদ্দিকী খবর পান, বিষয়টা আমি জানি।
দু’তিন দিন পর একদিন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আমার বাসায় আসেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। আমি তাকে বলি যে ব্যাপারটা ঘটেছে অনেক উঁচুপর্যায়ের সিদ্ধান্তে। এর বেশি আমি জানি না। এটা জানতে হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে হবে। আমার কাছে সদুত্তর না পেয়ে লতিফ সিদ্দিকী অত্যন্ত রাগান্বিত হন। তারপর চলে যান আমার বাসা থেকে। আর কোন দিন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর সম্পত্তির ধারে কাছে যাননি তিনি।
http://www.mzamin.com/details.php?nid=NzEwODI=&ty=MA==&s=MTg=&c=MQ==

পরিবর্তন চেষ্টায়

পরিবর্তন চেষ্টায় ইউনূস
বৃহস্পতিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩

মানবজমিন ডেস্ক: গার্মেন্ট খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার এ উদ্যোগের নেতৃত্বে থাকছে জার্মানি। জড়িত রয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থা। তার এ উদ্যোগের নাম দিয়েছেন গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি ট্রান্সপারেন্সি ইনডেক্স (জিআইটিআই)। অর্থাৎ গার্মেন্ট শিল্পে স্বচ্ছতার সূচক। কোন কোন গার্মেন্ট কারখানা যথাযথ নিয়মকানুন মেনে চলছে, বিশেষ করে অগ্নিনিরাপত্তা, শ্রমিকদের সার্বিক নিরাপত্তা, নারীদের প্রতি আচরণ, মূলনীতি, মান, মেনে চলার নীতি, সদস্যপদ, জরিমানা, তদারক, বৈধতার বিষয় কতটা মেনে চলছে তার ওপর ভিত্তি করে এই সূচক নির্ধারণ করা হবে। সমপ্রতি ওমেন’স উইয়্যার ডেইলি (ডব্লিউডব্লিউডি)-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব নিয়ে কথা বলেছেন। ওই সাক্ষাৎকারের শিরোনাম ‘ইউনূস প্রেসেস ফর চেঞ্জ ইন বাংলাদেশ’। অর্থাৎ বাংলাদেশে পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন ইউনূস। দীর্ঘ এ সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, এক্সট্রাকটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ ট্রান্সপারেন্সি ইনিশিয়েটিভ (ইআইটিআই) নামের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের আদলে আমরা জিআইটিআই সৃষ্টি করছি। আমরা আশা করি, এর সঙ্গে যুক্ত হবে সরকার, শিল্প কারখানার প্রতিনিধি, শ্রমিক, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মতো সংস্থা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ড. ইউনূস বলেন, আমি এ বিষয়ে প্রস্তাব করার পরই জার্মানি এ উদ্যোগে নেতৃত্ব দিতে রাজি হয়ে যায়। এ উদ্যোগের মূল সভা হবে অক্টোবরে। গার্মেন্ট শিল্পের সামান্য অংশই জানে সরকার ও ক্রেতারা। এর আসল চিত্র তাদের কাছে অজানা। তাই আমরা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এসব কিছুই তাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। ডব্লিউডব্লিউডি তার কাছে জানতে চায়- সামাজিক সমস্যা সমাধানের মূলনীতির ধারণা দেয়ার ক্ষেত্রে আপনি পথপ্রদর্শক। আপনি কি বাংলাদেশে তৈরী পোশাক কারখানার সমস্যা সমাধানের জন্য কোন পরিকল্পনা করছেন? জবাবে ড. ইউনূস বলেন, গার্মেন্ট শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা একটি সামাজিক বাণিজ্য সৃষ্টির পরিকল্পনা করছি। একে চেনা যাবে ‘হ্যাপি ওয়ার্কার্স’ নামে। এটা করা হবে একটি সামাজিক বাণিজ্যের মাধ্যমে। তৈরী পোশাকের ক্রেতাকে বলা হবে তারা যে পরিমাণ অর্থের পোশাক কিনছে তাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে শতকরা ১০ ভাগ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। তারা যদি প্রতিটি ১০ ডলার দামের ১০ লাখ শার্টের অর্ডার দেয় তাহলে এ প্রক্রিয়ায় ১০ লাখ শার্ট থেকে এক ডলার করে মোট ১০ লাখ ডলার আসবে ‘হ্যাপি ওয়ার্কার্স’-এ। এ অর্থ ক্রেতার পকেট থেকে দিতে হবে না। ক্রেতারা যখন তার দেশে নিয়ে এ পোশাক ভোক্তার হাতে তুলে দেবেন তখন যদি তারা তাদের বুঝিয়ে বলেন, গার্মেন্টের শ্রমিকদের অবস্থার উন্নয়নে তারা ১০ ডলারের একটি শার্টে এক ডলার বেশি নিচ্ছেন। এই এক ডলার সরাসরি চলে যাচ্ছে তাদের উন্নয়ন খাতে। এমনটা বোঝানো হলে ভোক্তা এক ডলার বেশি দিতে কার্পণ্য করবেন না। এর মাধ্যমে গার্মেন্ট শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ইনস্যুরেন্স, মাতৃমঙ্গল, শিশুর শিক্ষা, গৃহায়নে সহায়তা সহ অনেক কিছু করা সম্ভব। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ নেয়া হলে যে ক্রেতা সংস্থা এমন মান মেনে কাজ করবেন আন্তর্জাতিক বাজারে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়বে। তা দেখে অন্য অনেক ক্রেতা এগিয়ে আসবেন। এ কর্মসূচি শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তৈরী পোশাক উৎপাদন করে এমন দেশগুলোতে এ কর্মসূচি নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রাম থেকে আসা নারীদের আমরা ক্ষমতায়িত করে বাংলাদেশের অগ্রগতির ধারাকে অব্যাহত ও শক্তিশালী রাখতে পারি। এসব নারী দারিদ্র্য থেকে কাজের জন্য কারখানায় ছুটে এসেছেন। পরিবার থেকে তারা স্বাধীনভাবে বসবাস করছেন শহরে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জীবন পাল্টে যাচ্ছে। তারা নিজেরা অর্থ উপার্জন করছেন এবং শক্তিশালী করছেন অর্থনীতিকে। এর প্রতিটি বিষয়ই সমাজের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। এতে ধীর গতিতে তবে সুষম গতিতে পরিবর্তন হচ্ছে। এখন নারীরা মুক্ত। এর মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন বাংলাদেশ। ড. ইউনূস বলেন, এখন কেউ আর স্লেভ লেবার অথবা শিশু শ্রমিক অথবা সোয়েটশপে তৈরী পোশাক কেউ পরতে চান না। শ্রমিকদের অবস্থা লুকানোর মতো কোন অবস্থা নেই। আমরা চাই অল্প সংখ্যক কারখানা নেতৃত্বে এগিয়ে আসুন এবং আদর্শ স্থাপন করুন। একবার যখন এ ধারা শুরু হয়ে যাবে তখন এর গতি হবে দ্রুততর। আমাদেরকে ভবিষ্যতের জন্য একটি মানদণ্ড দাঁড় করাতে হবে। আমাদের সবাইকে দেখতে হবে অর্থনীতি যেন রাজনীতির শিকার না হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সবাই সজাগ। বিশেষ করে যারা হরতাল বা ধর্মঘট করেন তারাও সজাগ। বাংলাদেশের অর্থনীতির কেন্দ্রীয় অংশ হলো গার্মেন্ট শিল্প। কিছুদিন আগেও এই গার্মেন্ট ছিল সীমিত অথবা এর অস্তিত্বই ছিল না। কিন্তু এখন বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ। বাংলাদেশীদের জন্য কি আনন্দের কথা! কি সুন্দর অর্জন আমাদের! আমাদেরকে এ শিল্পকে রক্ষা করতেই হবে।
http://www.mzamin.com/details.php?nid=Njk4NTk%3D&ty=MA%3D%3D&s=MTg%3D&c=...

সরকারি দলের অনেক নেতা দেশ

সরকারি দলের অনেক নেতা দেশ ছাড়ছেন

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রতিদিনই ঢাকাস্থ কয়েকটি দেশের দূতাবাসে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতারা। উদ্দেশ্য ভিসা প্রাপ্তি। এই তালিকায় আইনজীবী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী এমনকি বিচার বিভাগের লোকজনও রয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেই তারা দেশ ছাড়বেন। মহাজোট সরকারের সময় হালুয়া-রুটির ভাগ বাটোয়ারাই শুধু নয়; নানাভাবে তারা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। প্রশাসনকে ব্যবহার করে এবং ক্ষমতার দাপটে প্রতিপক্ষের ওপর জুলুম নির্যাতন চালিয়েছেন। ক্ষমতার পালাবদল ঘটলে বিএনপি এবং নির্যাতিত মানুষ প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে আক্রমণ করতে পারে সে ভয়েই তারা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ভিসা করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকাস্থ দূতাবাস গত এক বছরে ৫ হাজার ভিসা ইস্যু করেছে বলে জানা গেছে। ক্ষমতার দাপটে যারা এতোদিন নানা পন্থায় রাষ্ট্রের সম্পদ লুট করেছেন এবং বিরোধী দলকে জুলুম নির্যাতন করতে প্রশাসনকে ব্যবহার করেছেন তাদের ‘দলকে বিপদে ফেলে’ বিদেশে ‘পালিয়ে যাওয়ার’ দৌড়ঝাঁপ দেখে দলের ভিতরেই প্রশ্ন উঠেছে। আওয়ামী লীগের এক সাবেক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, প্রধানমন্ত্রীকে যারা এতোদিন ভুল বুঝিয়েছেন তারা দলকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলে বিদেশ পালানোর চেষ্টা করছেন। ইনকিলাব

পাল্টে যাচ্ছে রাজনীতির দৃশ্যপট। ক্ষমতাসীন দলের দাপুটে নেতাদের অনেকেই দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ক্ষমতার দাপট, দলের প্রভাব এবং বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বদলি বাণিজ্যসহ নানা পন্থায় সাড়ে চার বছরে যারা বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন তাদের বিরাট অংশ বিদেশে চলে যাওয়ার এই প্রক্রিয়া করছেন। এছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য এবং উপদেষ্টাদের যারা প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে সিন্ডিকেট তৈরি করে তোষামোদী করেছেন তাদের অনেকেই বিভিন্ন দেশের ভিসা করে রেখেছেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝেই তারা উড়াল দেবেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে বিদেশ যাতায়াত শুরু করেছেন। স্ত্রী-বাচ্চাদের বিদেশে পাঠিয়েছেন এমন নেতার সংখ্যাও কম নয়। ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ২০ থেকে ৩০ হাজার নেতা দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে বিএনপির যেসব বিতর্কিত নেতা জুলুম-নির্যাতনের ভয়ে দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন তাদের অনেকেই স্বদেশমুখী হচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস ভোট হলেই বিএনপি ক্ষমতায় আসবে এবং তারা আগের মতো লুটপাটে নেমে পড়বেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে সরকারের মেয়াদ শেষ হলেই রাজনীতির বাতাস ঘুরে যাবে। সিন্ডিকেট করে এতোদিন যারা প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়েছেন তারা তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) দুর্দিনে পাশে থাকবেন না। এরাই দেশের প্রকৃত চিত্র বুঝতে না দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ হরিলুট করেছেন। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সময়ও এই সুবিধাবাদীচক্র বঙ্গবন্ধুর পাশে থাকেননি। যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে মায়াকান্না করছেন তাদের কেউ সে সময় ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচাতে’ গর্তে লুকিয়েছিলেন; আবার কেউ মোশতাকের মন্ত্রী হয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের মু-ুপাত করেছেন।

উন্নয়নমূলক কিছু কর্মকা- করলেও সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব, প্রতিপক্ষের ওপর জুলুম-নির্যাতন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, ইসলাম বিদ্বেষী আচরণসহ নানা কারণে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। বিভিন্œ জরিপ ও জনমত যাচাইয়ে দেখা গেছে নির্দলীয় সরকারের অধীনে ভোট হলে নৌকার ভরাডুবি ঘটবে। পরিস্থিতি বুঝেই ‘সংবিধান থেকে এক চুলও নড়বো না’ অবস্থান নিয়েছে সরকার। কিন্তু প্রভাবশালী দেশ ও দাতাসংস্থাগুলোর দাবি সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করতে হবে। ভোটের পরে বিএনপি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে পাল্টা আক্রমণ করতে পারে সে আশঙ্কা থেকেই বিদেশ চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতারা। প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং দুর্দান্ত ক্ষমতাধর উপদেষ্টাদের কয়েকজন ইতোমধ্যেই আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের ভিসা নিয়েছেন। আবার কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে বিভাগ, জেলা, উপজেলা পর্যায়ের আলোচিত নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডাক্তার, চ্যানেলের মালিক, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতারা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শুধু নেতারা নন; সরকার সমর্থক ব্যবসায়ী, আইনজীবী এবং বিচার বিভাগের বিতর্কিত লোকজনও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগেই বিদেশ যেতে চাচ্ছেন। সবার ভয় বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের ওপর ‘সুনামী’ নামবে। এতোদিন হালুয়া-রুটি খাওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনে ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন। অন্যায়ভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করেছেন। পুলিশকে লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ‘সাইজ’ করেছেন। শেখ হাসিনার জন্য জীবন দেয়ার শ্লোগান দিয়ে বিভিন্ন টার্মিনাল দখল করেছেন। এখন পিঠ বাঁচাতে তারা নেত্রীকে রেখেই ‘অন্য কোথাও অন্য কোনো খানে’ যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অনেকেই ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের সদস্যদের বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। জানা গেছে, কেউ কেউ ভোটের আগেই বিদেশ পাড়ি জমাবেন। আবার যারা নির্বাচন পর্যন্ত থাকবেন বা নির্বাচন করবেন তাদের অনেকেই বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছেন। পরিবহন সেক্টর, রোডস এন্ড হাইওয়ে, এলজিইডি, খাদ্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওয়াপদাসহ অনেক সেক্টরে এই সমঝোতা হচ্ছে। এতোদিন আওয়ামী লীগের নেতারা একাই লুটপাট করলেও এখন এসব সেক্টরে লুটপাটে বিএনপি-জামায়াতকে ভাগ দেয়া হচ্ছে। জেলা পর্যায়েও এই সমঝোতার চেষ্টা চলছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই প্রকাশ্যে বিএনপির বিরোধিতা এবং বিএনপি-জামায়াতের মুন্ডুপাত করলেও ভিতরে ভিতরে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছেন। ভিতরে ভিতরে চায়ের দাওয়াত খাচ্ছেন। ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তারা নির্দলীয় সরকার নিয়ে একগুঁয়েমির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করছেন। তাদের ভাবখানা এমন আমরা দল করি বলে প্রকাশ্যে নেত্রীর (শেখ হাসিনা) বিরোধিতা করতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রীকে তাল দিয়ে যাচ্ছি। তবে আমরা চাই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়া উচিত। সাড়ে চার বছর দেশের আলেম-ওলামা এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর যে জুলুম-নির্যাতন হয়েছে আমরা তার বিপক্ষে ছিলাম। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীকে যারা ঘিরে রেখেছেন তাদের ওপর দলের অনেক নেতাই বিক্ষুব্ধ। এমনকি মন্ত্রীদের অনেকেই উপদেষ্টাদের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারায় ক্ষুব্ধ। মন্ত্রণালয়ের কাজে উপদেষ্টাদের ‘অযাচিত খবরদারি’ এবং ‘হস্তক্ষেপ’ ভালভাবে মেনে নিতে পারছেন না। জেলা, উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিশেষ করে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভয়ঙ্কর আচরণ এবং প্রশাসনের উপর খবরদারির কারণে ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসিরাও ক্ষুব্ধ। তারা আশঙ্কা করছেন সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে এলে ‘বাতাস উল্টো দিকে’ ঘুরতে শুরু করবে। তখন জামায়াত ও বিএনপি ভয়ঙ্করভাবে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠবে। আওয়ামী লীগের সমর্থক এক বুদ্ধিজীবী ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় প্রশ্নের সুরে বললেন, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় ধসের জন্য কি শুধু শেখ হাসিনা দায়ী? হলমার্ক, ডেসটিনি, পদ্মা সেতু, রেলের কালো বিড়াল, শেয়ারবাজার, বিসমিল্লাহ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের ভয়াবহতা কি শেখ হাসিনা ঘটিয়েছেন? ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসবের কোনোটির সঙ্গে নেই। হলমার্কের কেলেঙ্কারির সঙ্গে উপদেষ্টা ডা. মোদাচ্ছেরের নাম এসেছে। পদ্মা সেতুর ইস্যুতে সৈয়দ আবুল হোসেন এবং ড. মশিউর রহমানের নাম জড়িত। রেন্টাল, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ এর দুর্নীতির সঙ্গে উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহীর নাম এসেছে। রেলের ৭০ লাখ টাকার কালো বিড়াল সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এখনো সক্রিয়। তিস্তা চুক্তি করতে না পারা ও ট্রানজিট দেয়ার জন্য ড. গওহর রিজভী ও ড. মশিউর রহমান দায়ী। এ ছাড়াও কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও দলীয় সংসদ সদস্যের ঔদ্ধ্যত্বপূর্ণ আচরণ ও কর্মকা-ের জন্য দলের ইমেজ নষ্ট হয়েছে। প্রশাসনে দলীয়করণ এবং নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশনের সরকারের আজ্ঞাবহ ভূমিকা নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছে তার সংশ্লিষ্ট কিছু তোষামোদকারীর কারণে হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৎ। ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ভয়াবহ কর্মকা-ের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। আলেম-ওলামা-হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া এবং ব্লগার রাজিবের বাসায় যাওয়া এবং শাহবাগীদের প্রশ্রয় দেয়ার জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট কিছু দলকানা বুদ্ধিজীবী ও অতি প্রগতিশীল নেতা। কোন পদক্ষেপ গ্রহণের সময় ‘সিদ্ধান্তে ভুল হচ্ছে’ বা ‘এমন সিদ্ধান্ত নেতা উচিত নয়’ বলে কি কোনো সিনিয়র নেতা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন? কোনো মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে নেয়ার সময় কি কোনো প্রভাবশালী মন্ত্রী প্রকৃত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চাপ দিয়েছেন; ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন? কোনোটিই কেউ করেননি। মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতভেদের কারণে পদত্যাগের ঘটনা এ দেশে কম হলেও ঘটেছে। বিএনপির ‘৯১ ‘৯৬ শাসনামলে শিল্পমন্ত্রী জহিরউদ্দিন খান এবং ২০০১-০৬ শাসনামলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পদত্যাগ করেছিলেন। অথচ ৭০ লাখ টাকা কেলেঙ্কারির পর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেও ২৪ ঘণ্টা পর দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হয়ে এখনো নির্লজ্জের মতো প্রতিদিন জাতিকে জ্ঞান দিচ্ছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে সংসদে ইনডেমনিটি বিল পাস করা হয়েছে। পৃথিবীর কোনো দেশে দুর্নীতির মামলা ঠেকাতে সংসদে আইন পাস করার নজির নেই। অথচ এ আইন বাংলাদেশের সংসদে পাস করা হয়েছে। এটা যে খারাপ নজির সৃষ্টি করবে সেটা কি সংশ্লিষ্ট কেউ প্রধানমন্ত্রীকে ধরিয়ে দিয়েছেন? বাইরে চাপাবাজি করলেও আওয়ামী লীগের কোনো সিনিয়র নেতা সরকারের ভুল ধরিয়ে দেয়া বা সৎ পরামর্শ দেয়ার সৎ সাহস দেখাননি। বরং তাদের কেউ কেউ বলেছেন, সরকারের ব্যর্থতার কথা বলে বিপদে না পড়ে ‘আওয়ামী লীগার’ হিসেবে মরতে চাই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই সাবেক বামপন্থী এবং হঠাৎ মুজিবপ্রেমী মন্ত্রীদের ওপর ক্ষুব্ধ। যারা এক সময় বঙ্গবন্ধুর মতো পর্বতসম মহান নেতার চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাঁজাতে দেয়েছিল; বঙ্গবন্ধুর সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে গণবাহিনী গঠন করে সশস্ত্র বিপ্লবে নেমেছিল তারা এখন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের জয়গান গেয়ে রাষ্ট্রের সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছেন। শেখ হাসিনাকে খুশি করতে তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে নিত্যদিন খিস্তি খেউর করছেন। অথচ প্রধানমন্ত্রী এখনো বর্ণচোরাদের রং ধরতে পারছেন না। অবশ্য ক্ষমতার হালুয়ারুটি খাওয়া এই সাবেক বাম-বর্তমানে মুজিবপ্রেমীদের সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নূরে আলম সিদ্দিকী বার বার প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে দিচ্ছেন। তিনি রাম-বামদের খপ্পর থেকে সরে আসার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, তারাও এই বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রী, পিকিংপন্থী-কোরিয়াপন্থী ও রাশিয়াপন্থী বাম সিন্ডিকেটের কারণে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। এ প্রসঙ্গ উঠতেই এক সাংবাদিক জানালেন হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেননসহ কয়েকজন বাম নেতার হঠাৎ ফুঁলেফেপে উঠার গোপন তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনের হাতে রয়েছে। ক্ষমতার পালাবদল ঘটলে ‘ওদের খবর’ হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা করেন এমন এক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, হাসানুল হক ইনু প্রতিদিন যেভাবে খালেদা জিয়ার নামে বিষোদগার করছেন তা অত্যন্ত দুঃখজনক। হাসানুল হক ইনু পুলিশ নিয়ে চলাফেরা করায় ‘বাস্তবতা’ বুঝতে পারছেন না। আমরা সরকারের জুলুম নির্যাতনের মধ্যেও রিকশায় চলাফেরা করছি। ক্ষমতার পালাবদল ঘটলে নব্য এই মুজিবপ্রেমী গণধোলাইয়ে পড়বেন। সাড়ে চার বছর যা করেছেন তাতে এদের অনেকের পিঠের ছাল থাকবে না। পরিস্থিতি যাই হোক এক সময়ের আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন এমন এক বুদ্ধিজীবী প্রায়ই টকশো ও লেখালেখিতে বর্ণচোরাদের সম্পর্কে সরকার প্রধানকে সাবধান করে দিচ্ছেন। আর যারা নেত্রীর জন্য জীবন দেয়ার শ্লোগান দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করছেন তারা যাতে ভোটের আগে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ গ্রহণে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। সামনে কি হবে সেটা অবশ্য সময় বলে দেবে।
http://www.amadershomoybd.com/content/2013/08/29/middle0296.htm

শেখ হাসিনার ১৭৩ দিন হরতালের ফসল তত্বাবধায়ক

তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানালে যদি ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে জেলে যেতে হয় তাহলে শেখ হাসিনার অবস্থা কি হবে? লতিফ সিদ্দীকি যার অনুকম্পায় মন্ত্রী হয়েছেন সেই শেখ হাসিনাতো ১৭৩ দিন হরতাল করে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এনেছেন।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla