Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

ক্ষমতার ৪২ বছর, বিদায় মুয়ামার গাদ্দাফি, বিদায়...

Photobucket
৪২ বছরের শাসনও সন্তুষ্ট করতে পারেনি তাকে। চেয়েছিলেন আজীবন টিকে থাকতে। শুরুটা ১৯৬৯ সালে। দেশের রাজাকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল নিয়ে দেশবাসীকে শুনিয়েছিলেন স্বপ্নের কথা। একদিকে ইসলামী সমাজতন্ত্র, প্যান-আরব জাতীয়তাবাদ, অন্যদিকে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে জেহাদ, মুসলিম দুনিয়ার উপেক্ষিত ও বঞ্চিত মানুষদের মন জয় করায় বারুদ হিসাবে কাজ করেছিল এসব বিপ্লবী কথাবার্তা। কিন্তু বারুদ যে একদিন বুমেরাং হয়ে নিজ ঘরে ফিরে আসবে তা বুঝতে তাকে ৪২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। হ্যাঁ, আমি আরব বিশ্বের স্বঘোষিত মুক্তিদূত মুয়াম্মার গাদ্দাফির কথা বলছি। আজ এ মুহূর্তে হতে কেবল মুয়ামার গাদ্দাফি বললেই যথেষ্ট হবে, প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফি বলার প্রয়োজন হবেনা। ৪২ বছরের স্বৈরশাসন আজ হতে কেবল ইতিহাস। পতন হয়েছে এই জল্লাদের। ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের মত তিনিও লুকিয়েছেন। যে ছেলেদের তর্জনীতে গতকালও লিবিয়ার আকাশ বাতাস আন্দোলিত হত আজ তারা বন্দী। শুরুটা তিউনেশিয়ার বেন আলী দিয়ে। মিশরের হোসনি মোবারকের হয়ে এবার লিবিয়ার গাদ্দাফি। পাইপ লাইনে আছেন সিরিয়ার বাশার আল আসাদ গং।

হত্যা, ষড়যন্ত্র আর গণতন্ত্র হোক, ক্ষমতার সীমাহীন স্বাদ একজন স্বাভাবিক মানুষকে কতটা অমানুষে পরিনত করতে পারে তার উদাহরণ আরব বিশ্বের দেশে দেশে। নিজে ৪২ বছর, সন্তানদের জন্যে আরও ৮৪ বছরের শাসন নিশ্চিত করার সব রাস্তা পাকা করেছিলেন লিবিয়ান নে্তা। কিন্তু সে পাকা রাস্তায় এখন জনতার পদভারে প্রকম্পিত। হোক তা ট্রাইবাল লড়াই, গাদ্দাফির মত একজন লৌহমানবের পতন বিশ্বের বাকি স্বৈরশাসকদের জন্যে স্টার্ন ম্যাসেজ হিসাবে বিবেচিত হবে।

একটা দেশ বিশেষ কোন পরিবারের সম্পদ হতে পারেনা, লিবিয়ায় গাদ্দাফির সর্বশেষ পরিণতি নতুন করে তা প্রমান করে গেল।

এ পর্যন্ত গাদ্দফির ৩ পুত্রকে গ্রেফতার করেছে বিদ্রোহীরা।

Comments

গাদ্দাফির ৮ ছেলের ৪ জন নিহত, স্ত্রী আলজেরিয়ায়

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির আট ছেলের মধ্যে চারজন নিহত হয়েছেন। একজন অন্তর্বর্তী জাতীয় পরিষদের (এনটিসি) হাতে আটক রয়েছেন। আলজেরিয়ায় গাদ্দাফির স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে অবস'ান করছেন। নাইজারে গাদ্দাফির তৃতীয় ছেলে সাদি গাদ্দাফি অবস'ান করছেন। গাদ্দাফির স্ত্রী-পুত্রদের লিবিয়ায় ফিরিয়ে দিতে দেশ দু’টির ওপর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। খবর ডেইলি মেইল ও রয়টার্সের।
মুয়াম্মার গাদ্দাফির সবচেয়ে আলোচিত ছেলে সাইফ উল ইসলামের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সার্তে শহর রক্ষার মিশনে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। ৩৯ বছর বয়স্ক সাইফ গাদ্দাফির দ্বিতীয় স্ত্রীর জ্যেষ্ঠ পুত্র। গাদ্দাফিবিরোধী কার্যক্রম শুরুর আগে তাকেই পিতার উত্তরসূরি বিবেচনা করা হতো। ব্রিটেনের বিভিন্ন মর্যাদাসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথেও তার সম্পর্ক ছিল। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার গত বছর সাইফকে ‘ব্যক্তিগত পারিবারিক বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন এবং ডাউনিং স্ট্রিট ত্যাগের পর অনেকবার লিবিয়া সফর করার কথা জানিয়েছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। কয়েক মাস আগে বিপ্লবীরা ত্রিপোলি দখলের সময় সাইফকে আটকের দাবি করে। তবে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। বৃহস্পতিবার এনটিসি প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল সাইফ গাড়িবহরে করে সার্তে থেকে পালিয়ে গেছে। পরে জানানো হয়, বিপ্লবী রক্ষীরা তার পায়ে গুলি করেছে এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আরো পরে জানানো হয়, ন্যাটোর বিমান হামলায় তিনি আহত হয়েছেন।
গাদ্দাফির আরেক ছেলে মুতাসিম সার্তেয় নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যু নিয়েও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন খবরে বলা হয়েছিল, তাকে জীবিত আটক করা হয়েছিল।
গাদ্দাফির প্রথম স্ত্রীর ঘরে জন্ম নেয়া একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ (৪১) ত্রিপোলি পতনের পর আলজেরিয়ায় পালিয়ে যান। তিনি ছিলেন লিবিয়ার অলিম্পিক কমিটির প্রধান ও জেনারেল পোস্ট অ্যান্ড টেলিকম কোম্পানির চেয়ারম্যান।
সাদি (৩৮) গত সেপ্টেম্বরে নাইজারে পালিয়ে যান। তিনি ছিলেন দেশটির চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম ব্যক্তিত্ব।
গাদ্দাফির অপর ছেলে হানিবল (৩৬) গত আগস্টে আলজেরিয়ায় পালিয়ে যান। তিনি দেশটির তেল রফতানি নিয়ন্ত্রণ করতেন।
লিবিয়ার সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল পদবিধারী মুতাসিম (৩৪) সার্তেয় নিহত হয়েছেন বলে এনটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গাদ্দাফির মেয়ে আয়েশা (৩৪) তার বাবার পক্ষে সবসময় সরব ছিলেন। গত আগস্টে তিনি তার মা সাফিয়া, দুই ভাই মোহাম্মদ ও হানিবেলের সাথে আলজেরিয়ায় পালিয়ে যান।
গাদ্দাফির অপর ছেলে সাইল আল আরব (২৯) গত এপ্রিলে ত্রিপোলিতে ন্যাটোর বিমান হামলায় নিহত হন।
খামিস (২৮) ত্রিপোলিতে নিহত হয়েছিলেন।
গাদ্দাফিকন্যা হানার (২০ ঊর্ধ্ব) কোথায় আছেন তা জানা যায়নি। ১৯৮৬ সালে মার্কিন বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। কিন' গত আগস্টে অনেকে তাকে দেখার দাবি করেছেন।
গাদ্দাফির স্ত্রী সাফিয়া (৬০ ঊর্ধ্ব) এখন আলজেরিয়ায় রয়েছেন। ১৯৬৯ সালে গাদ্দাফির অ্যাপেনডিক্স অপারেশনের সময় তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। সাফিয়া ফারকাশ আল বারাসি ছিলেন নার্স। গাদ্দাফির মৃত্যু পর্যন্ত তাদের দাম্পত্য জীবন (৪০ বছর) টিকে ছিল। গাদ্দাফির আট সন্তানের সাতটির জননী সাফিয়া। বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে বলা হয়, ২০ টন স্বর্ণসহ তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ১৯ বিলিয়ন পাউন্ড।
গাদ্দাফির প্রথম স্ত্রী ফাতিহা আল নূরী কোথায় আছেন তা জানা যায়নি। তিনি ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষিকা। মাত্র এক বছর স'ায়ী বিয়েটি ১৯৭০ সালে ভেঙে যায়। তাদের একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ।
মুতাসিমের মৃত্যুও রহস্যজনক
ডেইলি মেইল জানিয়েছে, নিহত লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে মুতাসিমের মৃত্যুর রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। তাকে জীবিত অবস'ায় আটকের ঘোষণা করার পর বলা হয় তিনি মারা গেছেন।
ডেইলি মেইল জানায়, একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে আটকের পর সম্ভবত একটি হাসপাতালের সোফায় তিনি একটি দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসে ধূমপান করছেন এবং একটি বোতল থেকে পানিও পান করছেন। লিবীয় সরকারের নতুন একটি টিভি চ্যানেলে প্রচার করা ছবি দেখেও মনে হচ্ছিল, মুতাসিমকে কোনো হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এর পর তিনি কিভাবে মারা গেলেন সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর পর আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, মুতাসিম মারা গেছেন এবং তাকে একটি স্ট্রেচারে শুইয়ে রাখা হয়েছে। মিসরাতার একটি সামরিক সূত্র জানায়, গলায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে মুতাসিম নিহত হয়েছেন।
আরেকটি সূত্র জানায়, মুতাসিমের লাশ সার্তের একটি সড়কের পাশে পাওয়া যায়। বিপ্লবী সরকারের তথ্যমন্ত্রী মাহমুদ শাম্মাম জানান, ‘মুতাসিম নিহত। আমি এটা

খেয়ালি নেতা কর্নে গাদ্দাফি

প্রাণবন্ত, খেয়ালি আর কিছুটা খ্যাপাটে স্বভাবের মানুষ ছিলেন কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি। জীবনযাপনের ধরন, বেপরোয়া কথাবার্তা আর কিছু বিশেষ বিষয়ের প্রতি ঝোঁক—তাঁর নামের পাশে এ বিশেষণগুলো যুক্ত হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের ফাঁস করা তারবার্তায় দেখা যায়, ত্রিপোলিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জিন এ. ক্রেজ লিবিয়ার সাবেক এই নেতাকে ‘প্রাণবন্ত ও খামখেয়ালি’ বলে উল্লেখ করেন। তারবার্তায় গাদ্দাফির বেশ কিছু মজার কাজেরও উল্লেখ ছিল।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২০০৯ সালে নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন গাদ্দাফি। ওই অধিবেশনে ভাষণে তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে ‘সন্ত্রাসী পরিষদ’ বলে আখ্যা দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ও নাগরিক আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দাবি করেন তিনি।
২০০৯ সালের মার্চে আরব দেশগুলোর এক সম্মেলনে সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে দেখা হয় গাদ্দাফির। এ সময় গাদ্দাফি সৌদি বাদশাহকে বলেন, ‘যুক্তরাজ্য আপনাকে তৈরি করেছে এবং রক্ষা করছে। তাই আপনি সব সময় তোয়াজ করে চলেন।’ এরপর নিজেই নিজের প্রশংসা করা শুরু করলেন, ‘আমি আরব নেতাদের নেতা, আফ্রিকার রাজাদের রাজা এবং মুসলিম বিশ্বের ইমাম (নেতা)।’
নিউইয়র্কে ওই অধিবেশনে যোগ দিতে মার্কিন ভিসার আবেদনের সঙ্গে ছবি চাইলে প্রথমে ছবি দিতে চাননি গাদ্দাফি। তাঁর ঘনিষ্ঠ একজন জানান, ছবি চাইলে তিনি ত্রিপোলির বিভিন্ন স্থানের বিলবোর্ডে থাকা তাঁর ছবি থেকে ছবি তৈরি করে নেওয়ার পরামর্শ দেন। মার্কিন দপ্তর ওই ছবি নিতে অস্বীকার করে। পরে ওই ঘনিষ্ঠজন তাঁকে বুঝিয়ে ছবি দিতে রাজি করান।
কর্নেল গাদ্দাফির অন্যতম শখ ছিল ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সোনার ঘড়ি উপহার দেওয়া। ওই ঘড়ির বিশেষত্ব ছিল, এর ডায়ালে সামরিক পোশাক পরা গাদ্দাফির ছবি থাকত। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎসা রাইসকেও লকেটসহ এমন একটি ঘড়ি উপহার দিয়েছিলেন গাদ্দাফি। নিজেকে তরুণ ও তেজস্বী লাগে—এমন ছবিই এসব ক্ষেত্রে ব্যবহার করতেন তিনি।
কর্নেল গাদ্দাফির উচ্চতা-ভীতি ছিল। তাই রাতে থাকার জন্য দ্বিতীয় তলার শয়নকক্ষই ছিল তাঁর প্রথম পছন্দ। আরেকটি বিষয় সব সময় মেনে চলতেন—কখনো ৩৫ ধাপের ওপরে উঠতেন না তিনি। ২০০৯ সালে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে গাদ্দাফির জন্য নিউইয়র্কে দ্বিতীয় তলায় কোনো শয়নকক্ষ পাওয়া যায়নি। তাই নিউ জার্সিতে তাঁর থাকার ব্যবস্থা করা হয়।
টানা আট ঘণ্টার বেশি ভ্রমণ করতে চাইতেন না গাদ্দাফি। টানা দীর্ঘ ভ্রমণ এড়াতে গাদ্দাফি ২০০৯ সালে নিউইয়র্কে যেতে পর্তুগালে যাত্রাবিরতি করেন। জলপথে ভ্রমণে তাঁর কেমন যেন ভীতি ছিল। বিষয়গুলো নিয়ে অনেক ঝামেলায় পড়তে হতো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
গাদ্দাফি সবকিছুর ব্যাপারে ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির ওপর নির্ভর করতেন। তাঁদেরই একজন ইউক্রেনিয়ান নার্স গ্যালিনা কোলোতনেস্কা। গাদ্দাফির সঙ্গে গ্যালিনার সম্পর্ক এতই ঘনিষ্ঠ ছিল যে, অনেক দূতাবাস মনে করে, তাঁদের মধ্যে ‘আবেগঘন সম্পর্ক’ ছিল। চারজন সুন্দরী ইউক্রেনিয়ান নার্স গাদ্দাফিকে সব সময় ঘিরে রাখতেন।
গাদ্দাফি নিজের জন্য একটি নারী নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করেছিলেন। এই বাহিনীকে লিবিয়ায় ‘দ্য রেভল্যুশনারি নান্স’ বা ‘দ্য গ্রিন নান্স’ বলা হতো। আল-জাজিরা, এএফপি।

কীভাবে মারা গেলেন গাদ্দাফি?

লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির মৃত্যু অস্পষ্টই রয়ে গেল। তবে বিদ্রোহী বাহিনীর কমান্ডার, যোদ্ধা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় গাদ্দাফির অবস্থা সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। গত আগস্টে ত্রিপোলির পতনের পর গাদ্দাফির জন্ম শহর সিরতে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল তাঁর বাহিনী। গত বুধবার রাতে জোরালো হামলা চালায় জাতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের (এনটিসি) যোদ্ধারা। এতে কিছুটা পিছু হটে সমুদ্রতীরবর্তী এলাকার দিকে সরে যায় গাদ্দাফি বাহিনী।
গতকাল বৃহস্পতিবার খুব সকালে গাড়িবহর নিয়ে সিরত শহর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন গাদ্দাফি। ওই বহরে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবু বকর ইউনূস ও গাদ্দাফির ছেলে মুতাসিম। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটার দিকে শহরের তিন-চার কিলোমিটার পশ্চিমে ওই গাড়িবহরের ওপর বিমান হামলা চালায় ন্যাটো বাহিনী। এতে বহরের প্রায় ১৫টি গাড়ি ধ্বংস হয়। গাদ্দাফিসহ আরও কয়েকজন বিমান হামলা থেকে বেঁচে যান। তাঁরা কাছাকাছি দুটি বড় কালভার্টের পানিনিষ্কাশন পথে আশ্রয় নেন। তাঁদের দেখে এগিয়ে আসে এনটিসি যোদ্ধারা।

সালেম বকর নামের এক এনটিসি যোদ্ধা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘প্রথমে আমরা তাঁদের লক্ষ্য করে বিমানবিধ্বংসী গোলা নিক্ষেপ করি। কিন্তু এতে কোনো কাজ হয়নি। তখন আমরা তাঁদের দিকে এগিয়ে যাই। গাদ্দাফির একজন যোদ্ধা কালভার্টের ভেতর থেকে বেরিয়ে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করেন।’ সালেম বকর আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, গাদ্দাফি তাঁর লোকজনকে গুলি না চালানোর নির্দেশ দেন। ওই যোদ্ধা তখন বলতে থাকেন, ‘আমার নেতা এখানে আছেন, আমার নেতা এখানে আছেন। গাদ্দাফি আছেন এবং তিনি আহত।’

স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে গাদ্দাফিকে গুরুতর আহত অবস্থায় আটক করা হয়। আল-জাজিরা টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, এনটিসি যোদ্ধারা রক্তাক্ত গাদ্দাফিকে নিয়ে টানাহেঁচড়া ও বিদ্রূপ করছে। এরপর একের পর এক কীভাবে ঘটনা ঘটেছে, ভিডিওতে তা স্পষ্ট বোঝা যায়নি।
তবে সালেম বকর বলেন, ‘আমরা কালভার্টের মধ্যে ঢুকে গাদ্দাফিকে বের করে আনি। তিনি বলছিলেন, ‘আমার অপরাধ কী, আমার অপরাধ কী। এসব কী হচ্ছে।’ এরপর আমরা তাঁকে একটি গাড়িতে তুলি।’

নিজেকে প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে এক ব্যক্তি বিবিসিকে বলেন, স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেউ একজন নাইন এমএম আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গাদ্দাফির পেটে গুলি করেন। এনটিসির কর্মকর্তা আবদেল মজিদ বলেন, ‘গাদ্দাফি দুই পায়েই আঘাত পেয়েছিলেন। এ ছাড়া তিনি মাথাতেও চোট পান। দুই পক্ষে অনেক গোলাগুলি হয় এবং গাদ্দাফি নিহত হন।’ রয়টার্স ও বিবিসি অনলাইন।

গাদ্দাফি, কোথায় আপনি?

সমকাল ডেস্ক
লিবিয়ার শক্তিধর লৌহমানব হিসেবে খ্যাত মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল ত্রিপোলিতে গাদ্দাফির প্রাসাদ বিদ্রোহীদের দখলে চলে যায়। কিন্তু তার কোনো খোঁজ মেলেনি। গাদ্দাফি, তার কোনো ছেলে বা পরিবারের কোনো সন্তানকে প্রাসাদে পাওয়া যায়নি। অনেকটা তারা যেন হাওয়ায় মিলিয়ে যান। বিদ্রোহীদের সদর দফতর বেনগাজি থেকে না পাওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করা হয়। বিদ্রোহীদের ন্যাশনাল কাউন্সিলের কর্নেল আহমেদ ওমর বানি গতকাল বেনগাজিতে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, 'আমরা জানি না গাদ্দাফি এবং তার পরিবারের সদস্যরা কোথায়। বাব আল আজিজিয়া প্রাসাদ আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। সেখানে কেউ নেই। গাদ্দাফি পরিবারের কোনো সদস্যকে সেখানে পাওয়া যায়নি।' ৪২ বছর আফ্রিকার অন্যতম তেলসমৃদ্ধ লিবিয়া শাসন করেছেন কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি। সিরতের এক বেদুইন পরিবারের সন্তান গাদ্দাফির উত্থান ছিল সত্যি বিস্ময়কর। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পদদলিত করে শাসন ক্ষমতায় চিরদিন থাকা যায় না তা হয়তো তিনি ভুলে গিয়েছিলেন। যার পরিণতিতে গাদ্দাফিকে গতকাল প্রাসাদ ছেড়ে পরিবারকে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যেতে হয়। সত্যি কী করুণ পরিণতি এক স্বৈরশাসকের। ইতিহাস কোনো একনায়ককে ক্ষমা করেনি। হিটলার, মুসোলিনি, পিনোশে, সাদ্দামরা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে আশ্রয় নিয়েছেন। বিজয় হয়েছে মুক্তিকামী জনগণের। গণতন্ত্রের। গাদ্দাফি কোথায় গেছেন এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। কেউ বলছেন গোপনে তিনি মিসর বা মাল্টায় পালিয়ে গেছেন। আবার কারও ধারণা তিনি আফ্রিকার কোনো দেশে চলে গেছেন। তার চলে যাওয়ার কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই। ত্রিপোলিতে যখন হাজার হাজার বিদ্রোহী স্রোতের মতো প্রবেশ করছিল তখন তিনি কী ভাবে কী করে শহর ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে নিরাপদে চলে যেতে পারেন তা অনেকেরই বোধগম্য নয়। কেউ হিসাব মিলাতে পারছেন না গাদ্দাফি এবং তার পরিবারের এ নাটকীয় ও রহস্যময় অন্তর্ধান। অনেকে আশাবাদী অচিরেই এ রহস্যের জট খুলবে। বিশ্ববাসী জানতে পারবে নেপথ্য কাহিনী।

গাদ্দাফির প্রাসাদ বাব আল আজিজিয়া
বাব আল আজিজিয়া ত্রিপোলিতে অবস্থিত মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির প্রাসাদ। এটি একটি বিশাল কমপ্লেক্স। এর আয়তন ৬ বর্গকিলোমিটার। বাব আল আজিজিয়ার অর্থ 'অনিন্দ্যসুন্দর গেট'। ত্রিপোলির দক্ষিণ শহরতলিতে এর অবস্থান। বাব আল আজিজিয়ার চারদিকে রয়েছে উঁচু কংক্রিটের দেয়াল। এর রয়েছে একাধিক ইস্পাতের তৈরি দুর্ভেদ্য গেট। ত্রিপোলি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী প্রশস্ত এয়ারপোর্ট হাইওয়ের উত্তর প্রান্তে প্রাসাদের অবস্থান। প্রাসাদের সঙ্গে ত্রিপোলির সব সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের সংযোগ সড়ক রয়েছে। এছাড়াও ত্রিপোলি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে নির্মিত হাইস্পিড সড়ক সংযোগ সুবিধা রয়েছে। কম্পাউন্ডের ভেতরে রয়েছে গাদ্দাফি ও তার পরিবারের বসবাসের জন্য আবাসিক এলাকা, সামরিক ব্যারাক, প্রশাসনিক ভবন, সম্মেলন কেন্দ্র, পার্টিহল, মসজিদ, সুবিস্তৃত বাগান, অতিথি বিশ্রামাগার ও বাসস্থান, অস্ত্রভাণ্ডার, গ্যারেজ ইত্যাদি। এক কথায় গাদ্দাফির বাব আল আজিজিয়া প্রাসাদে ভোগ-বিলাসের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এটি এত বিশাল প্রাসাদ কমপ্লেক্স যে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত যেতে গাড়ির প্রয়োজন হয়। প্রাসাদের ভেতর সুবিন্যস্ত সড়ক রয়েছে বিভিন্ন ভবনে যাওয়ার জন্য। মার্কিন এক গোয়েন্দা তথ্যে বলা হয়, গাদ্দাফির প্রাসাদের সুযোগ-সুবিধা তেলসমৃদ্ধ পারস্য উপসাগরীয় শেখ বা সুলতান কিংবা লেবাননের হারিরি পরিবারের মতো তত জমকালো নয়।
১৯৮৬ সালে বার্লিন ডিস্কোতে বোমা বিস্ফোরণের অপরাধে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান গাদ্দাফির বাসভবনে বোমা হামলার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী ১৯৮৬ সালের ১৫ এপ্রিল প্রাসাদে বোমা হামলা চালানো হয়। এ হামলায় ১৩টি মার্কিন জঙ্গিবিমান অংশ নেয়। প্রাসাদে বোমা হামলার সময় গাদ্দাফি এবং তার পরিবারের সদস্যরা ভবন থেকে শেষ মুহূর্তে বেরিয়ে যাওয়ায় রক্ষা পায়। ১৫ ফেব্রুয়ারি লিবিয়ায় গণঅভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পর বেশ কয়েকবার ন্যাটো ওই প্রাসাদে বোমা হামলা চালিয়েছে। ২০ মার্চ ভূমধ্য সাগর থেকে উৎক্ষেপণ করা টমা হক ক্ষেপণাস্ত্র বাব আল আজিজিয়া প্রাসাদে আঘাত হানে। প্রতিবার গাদ্দাফি এবং তার পরিবারের সদস্যরা হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান। গতকাল বিদ্রোহীরা প্রাসাদ কমপ্লেক্সে প্রবেশ করলেও গাদ্দাফি বা তার পরিবারের কোনো সদস্যের দেখা পায়নি। পেন্টাগন ধারণা করছে, গাদ্দাফি প্রাসাদের অভ্যন্তরে সুরক্ষিত কোনো ভূগর্ভস্থ কক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অবস্থান করছেন। এএফপি, গুগল অনলাইন।

গাদ্দাফির পতন এবং বাস্তবতা

ওয়াচডগ সাহেব যদি মনে করে থাকেন যে এ পতন লিবিয়া মিশর বা সিরিয়ার জনগনের জন্য কোন কল্যান বয়ে আনবে তাহলে ভুল করছেন। সামনের দিনগুলোএ মিশর লিবিয়া সিরিয়ার জনগন আরও দূর্ভোগে থাকবে। মোশাররফের প্রস্থানের পরে ফাকিস্তান এক নরকে পরিণত হয়েছে। ঠিক তেমনই হবে এ লিবিয়া সিরিয়া মিশরের। পশ্চিমারা গনতান্ত্রিক সরকার চায় কারন তাদের পক্ষে এসব গনতান্ত্রিক সরকারের মাধ্যমে এসব দেশকে শোষন করা অনেক সহজ হয়ে পরবে।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla

JUST VIEWED