Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

অপরাধ ও শাস্তি

Crime and Punishment in Bangladesh

অপরাধ ও শাস্তি...এ কেবল ফেওদর দস্তয়েভস্কির বিখ্যাত উপন্যাসের টাইটেলই নয়, এ সভ্য দুনিয়ার সভ্যতার প্রাথমিক উপাদান। আদম ও শ্রম শোষণের পোশাক রফতানি করে অর্থনীতির চাকায় আমরা প্রয়োজনীয় হাওয়া লাগিয়েছি। তার উপর ভর করে অর্থনীতি যতটা না গতি পেয়েছে তার চাইতে ঢের বেশী গতি পেয়েছে আমাদের মুখ। মধ্য আয়ের দেশে পা রেখে এখন স্বপ্ন দেখছি আরও বড় বড় উচ্চতা অতিক্রম করার। কিন্তু হায়, অর্থনীতির চাকা সচল হলেও একই গতিতে পিছিয়ে পরছে আমাদের মানবিক বিকাশ। মানুষ হিসাবে দাবি করলেও আমাদের মধ্যে এমন অনেক কিছুই নেই যা সে দাবির প্রতি সমর্থন যোগাতে পারে। অপরাধ ও শাস্তি তার অন্যতম। রাজিন ও রাকিব হত্যা নিয়ে কোথাও না হোক অন্তত ভার্চুয়াল দুনিয়ায় অনেক আলোচনা, সমালোচনা হয়েছে। আমরা একবাক্যে অপরাধীর শাস্তি দাবি করেছি এবং এখনো করছি। তবে সে দাবির ধরণটাও খতিয়ে দেখার দাবি রাখে। শাস্তি হিসাবে আমরা বেশিরভাগ মানুষই দাবি করছি অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড। এবং তা এখনই। এক কথায়, স্থায়ী হয়ে যাওয়া সরকারী স্পনসরে অবৈধ হত্যা। হত্যার বদলে হত্যা, খুনের বদলে খুন! এমনটাই আমাদের অপরাধ ও শাস্তির মানচিত্র। জাতি হিসাবে আমারাও তা মেনে নিয়েছি। তা হলে রাজিন আর রাকিবকে যারা হত্যা করলো তাদের সাথে আমাদের পার্থক্যটা কোথায় রইল? সামান্য চুরির অপরাধে একজন কিশোরকে তিলে তিলে হত্যা করা হল এবং বিচারে আমরা দাবি করছি আরও দ্রুত একটা হত্যাকাণ্ডের।

এখানেই আসেে আমাদের আইন ও বিচার ব্যবস্থার করুন চিত্র। রাজিনের লাশ মাটির উপর রেখেই খুনিরা ফয়সালা করে পুলিশের সাথে। সামাজিক মাধ্যমের চাপে পড়ে আইনের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু মানুষ ঘাটাঘাটি করলেও রাজিন হত্যাকাণ্ড এক সময় থিতিয়ে আসবে। আইন ও বিচার ব্যবস্থার হাত ধরেই খুনিরা সমাজে ফিরে আসবে। দাপিয়ে বেড়াবে। এবং জন্ম দিবে নতুন হত্যাকাণ্ডের। স্বভাবতই হাতের বদলে হাত, খুনের বদলে খুন কোনভাবেই নিশ্চিত করবেনা আমাদের নিরাপত্তা। আমাদের সমস্যার গোঁড়া নষ্ট রাজনীতির জরায়ুতে। ওখানেই জন্ম নেয় রাজিন ও রাকিবের খুনিরা। আর তাদের লালন পালনের মাধ্যমে নিজদের ভাগ্য গড়ার জন্য আছে আমাদের আইন রক্ষাকারী বাহিনী...আছে নিম্ন ও উচ্চ আদালতের বিচারক গন। শিশু রাজিন, কিশোর রাকিব অথবা ব্লগার নীলাদ্রি হত্যার বিচার হয়ত দুয়েকজনের জেল-হাজতের মাধ্যমে দফারফা হবে, কিন্তু এ ফাঁকে জন্ম নেবে নতুন রাজিন, নতুন রাকিব এবং নতুন নতুন নীলাদ্রি।

Comments

১০ বছরের শিশুকে ম্যাজিস্ট্রেটের অমানুষিক নির্যাতন

আমাদের সময়.কম : ১৯/০৮/২০১৫
সাতক্ষীরায় এবার এক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও তার স্ত্রীর হাতে বিথী (১০) নামের এক শিশু নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। নুরুল ইসলাম সাতক্ষীরা জজ কোর্টের দেবহাটা আদালতের বিচারক।
নির্যাতিত শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। বিথী ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বড় আমিনীয়া গ্রামের গোলাম রসুলের মেয়ে। সাতক্ষীরার সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনোয়ার সাঈদ জানান, গৃহকর্তা ও সাতক্ষীরা আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নাতাশা তাদের বাসার কাজের শিশুটিকে প্রায়শই নির্যাতন করত। বুধবার দুপুরেও মেয়েটিকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি জানতে পেরে তারা বাসার দরজা খোলেননি। পরে মুখ্য বিচারিক হাকিম নিতাই চন্দ্র সাহা ও জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শিমুল কুমার বিশ্বাস আসার পর পুলিশ ওই বাসায় ঢুকে শিশুটি গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা করে। শিশুটির মাথার চুল কাটা ছিল এবং হাতে, পিটে ও নিতম্বে আগুনে পোড়ানসহ একাধিক স্থানে ক্ষত দেখতে পান সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মুখ্য বিচারিক হাকিম নিতাই চন্দ্র সাহা সেখানে থেকে হাসপাতালেও যান। তিনি এধরনের ঘটনা অনাকাঙ্খিত উল্লেখ করে বলেন, শিশুটির সব ধরনের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক পরিমল কুমার বিশ্বাস জানান, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কল করা হয়েছে।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla