Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

তের বনাম উনচল্লিশ, আমারে বাঁশ দিলে আমিও বাঁশ দিমু

Bangladeshi Politics বাস্তবতাটা অসম্ভব কিছু নয়। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ক্ষমতার মিউজিক্যাল চেয়ারে এ যাত্রায় বসতে পারেন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী জনাবা খালেদা জিয়া। ধরে নেই এমনটাই ঘটল। খুব করুণ ও নির্মম ভাবে পরাজিত হলেন জনাবা শেখ হাসিনা। ক্ষমতার সমীকরণ বিজয়ী ও বিজিতদের ভাগ্য কোন দিকে ঠেলে দেয় তার ভবিষ্যত বাণী করা বাংলাদেশের কনটেক্সটে খুব একটা জটিল কাজ নয়। আমারে বাঁশ দিলে আমিও বাঁশ দিমু, সরকারী সম্পদ লুটপাটের পাশাপাশি দেশীয় রাজনীতির এটাও অবিচ্ছেদ্য সংস্কৃতি । এই দুইয়ের যৌথ মিলনের অপর নামই আমাদের রাজনীতি। গায়ে গতরে গণতন্ত্রের পেটিকোট থাকলেও গেল ৪০ বছর ধরে এমনটাই আমরা দেখে আসছি। মিউজিক্যাল চেয়ারটায় একবার বসা গেলে তা পারিবারিক সম্পতি বানিয়ে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নেয়ার সংস্কৃতিটার শুরু সেই ৭২ সালে। পরবর্তী সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের কেউই এ অপসংস্কৃতি হতে বেরিয়ে আসতে পারেননি। যার ফলে ক্ষমতার পালাবদল কোন পর্বেই মসৃণ হয়নি এ দেশে। সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের কাউকেই হত্যা ও গলাধাক্কা ছাড়া বিদায় করা যায়নি। মাঝখানে তত্বাবধায়ক সরকারের এক টার্ম চেষ্টা করেছিল পরিবর্তন আনতে। কিন্তু সেটাও যথাযত মূল্যে বিক্রি হয়নি রাজনীতির বাজারে। ভোটের রাজনীতিতে পরাজিত পক্ষ কোন কালেই সহজ ভাবে নেয়নি নিজদের পরাজয়। এবং যেনতেন চেষ্টায় সরকারকে বিদায় করে ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বিরোধী দলীয় রাজনীতি। এ ধরণের অসুস্থ ও রুগ্ণ রাজনীতিতে পিতার যোগ্য উত্তরসূরী হিসাবে আবির্ভুত হয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। নিজ দলের বাইরে বাকি সবাই অবাংলাদেশি এবং মিউজিক্যাল চেয়ারে বসার অযোগ্য, এমন একটা থিসিসের উপর বলতে গেলে পিএইচডি নিয়ে ফেলেছেন ইতিমধ্যে। খালেদা, ফকরুল, ইউনুস, বিশ্বব্যাংক, হোয়াইট হাউস, কফি হাউস হতে শুরু করে জলে, স্থলে অন্তরীক্ষে যাকেই পাচ্ছেন জেল, হাজত, মামলা, হত্যা, গুম আর হুমকি ধামকি দিয়ে ধরাশায়ী করার চেষ্টা করছেন। উদ্দেশ্য একটাই, সামনের নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করা। নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কলা কৌশল বাস্তবায়নে সরকারের ডান হাত হিসাবে কাজ করছে দেশের উচ্চ আদালত। কারণ হিসাবে ধরা যায় সরকার বিদায়ের সাথে প্রশ্ন উঠবে দলীয় বিচারকদের ভাগ্য নিয়ে। সে যাই হোক, নির্বাচনে জেতার জালিয়াতি বাংলাদেশে নতুন কোন প্রযুক্তি নয়। বর্তমানে যারা ক্ষমতাহারা তারাও একই খেলার পেশাদারী খেলোয়াড়। সামনের নির্বাচনে মিউজিক্যাল চেয়ার কোন পরিবারের দখলে যাবে তা ভবিষ্যতের বিষয়, এ নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, গবেষণা সামনের দেড় বছর দেশীয় রাজনীতিকে ডমিনেট করবে সন্দেহ নেই। লেখার খাতিরে ধরে নিতে হচ্ছে চেয়ার সুধা সদন হতে হাওয়া ভবনে হিজরত করেছে। এ ধরণের হিজরতের আফটারম্যাথ কি হতে পারে তার ফ্যান্টাসি নিয়েই আমার লেখা।

আমারে বাঁশ দিলে আমিও বাঁশ দিমু। শেখ হাসিনার হাতে মাপতে গেলে কম করে হলেও তের হাত বাঁশ দেয়া হয়ে গেছে খালেদা জিয়াকে। অবাক হবনা ক্ষমতার পালা বদল যদি শেখ হাসিনার জন্য উনচল্লিশ হাত বাঁশ নিয়ে হাজির হন জনাবা খালেদা জিয়া । আসুন লম্বা এ বাঁশকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করে নির্দিষ্ট একটা আয়তন দেয়ার চেষ্টা করি।

বাঁশ নং ১। দৈর্ঘ্য তিন হাত।

এয়ারপোর্টঃ পীর আউলিয়ার নাম নিয়ে অন্যকে বাঁশ দেয়ার জোৎস্না পর্বে রাতারাতি আমবস্যা নামবে। পুওর বিমানবন্দরকে আবারও কাটা ছেড়া করে ফিরিয়ে আনা হবে জিয়া নাম। সাথে বোনাস হিসাবে শেখ হাসিনাকে উপহার দেয়া হবে বঙ্গবন্ধু ষ্টেডিয়াম, বঙ্গবন্ধু সেতু সহ শত শত গরুর হাট, খেলার মাঠ, খেয়া ঘাট, পশু হাসপাতাল আর গণ শৌচাগার।

বাঁশ নং ২। দৈর্ঘ্য নয় হাত।

ক্যান্টনমেন্টের বাড়িঃ পর্ণ ছবি সহ চল্লিশ বছরের স্মৃতিবহুল বাড়ি হতে উচ্ছেদ করার বেদনা আর কেউ মনে না রাখুক খোদ খালেদা জয়া মনে রাখবেন। এবং তা হবে আমরণ। উপহার হিসাবে হাসিনাকে যদি ধানমন্ডি ৩২নং বাড়িটা উপহার দেয়া হয় খুব একটা অবাক হবনা। উচ্চ আদলতে দলীয় বিচারক দিয়ে এই উচ্ছেদ হালাল করতে খুব কি বেশি পরিশ্রম করতে হবে?

বাঁশ নং ৩। দৈর্ঘ্য সাতাশ হাত।

ইলিয়াস আলী গুমঃ এই একটা ব্যাপারে উপসংহারে আসতে একটু কষ্ট হচ্ছে। কাকে ধরবে খালেদা জিয়ার গুপ্ত বাহিনী? তালিকায় জাহাঙ্গীর কবির নানক অথবা মাহবুবুল আলম হানিফের নাম থাকলে বিস্মিত হবনা। ছাত্রলীগ অথবা যুবলীগের উদীয়মান কোন নেতার অবুঝ সন্তানদের রাস্তায় রাস্তায় হাহাকার করতে দেখা গেলে ধরে নেব ’আমারে বাঁশ দিলে আমিও বাঁশ দিমু’ তত্ত্ব নতুন করে 'মহিমান্বিত' হয়েছে। প্রশ্ন থাকবে, ’যেভাবে উত্থান সেভাবেই পতন’ পশুত্বের চাইতেও কি খালেদা জিয়া নীচে নামতে পারবেন?

বাঁশের সংখ্যা ও দৈর্ঘ্য বর্ণনা করতে গেলে হাজার রজনীর আরব্য উপন্যাস লেখা হয়ে যাবে, যা ব্লগারদের ধৈর্যচ্যুতির কারণ ঘটাবে। তাই তালিকাটা উন্মুক্ত রাখছি। দেশীয় রাজনীতির মূলমন্ত্র ক্ষমতা ও চুরির স্বরলিপি যাদের আয়ত্ব হয়ে গেছে তাদের কাছে সাহায্য চাইব এ তালিকার স্বাস্থ্য ভাল করতে। নাদুস নুদুস তালিকাটা তারপর না হয় সোনালী ফ্রেমে বাধিয়ে ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করবো আগত দিনের।

কতটা অমানুষ হলে একজনের পক্ষে এসব পশুসুলভ চিন্তাভাবনা সম্ভব? সোনালী দেশে রূপালী রাজা-রানীদের হাত ধরে আর কতটা নীচে নামলে পশুত্বের শেষ সিড়িটা ডিঙ্গানো যাবে!

Comments

মৃত্যুপুরী গাজীপুরের শালনা

লেখক: আমীরমুহাম্মদ | রবিবার, ১২ অগাষ্টu-এ ২০১২, ২৮ শ্রাবণ ১৪১৯
Photobucket
এক মাসে ৪৮ জন খুন, গত সপ্তাহে ১৩টি লাশ উদ্ধার

গাজীপুর জেলার শালনা মৃত্যুপুরী হয়ে উঠছে। জয়দেবপুর স্টেশন থেকে রতনপুর স্টেশন যেতে শালনার মীরেরগাঁও গ্রামের রেল লাইনের পাশ থেকে প্রায় প্রতিদিনই অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ উদ্ধার করছে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের ঘটনা বেড়েই চলেছে। গত এক মাসে ছিনতাইয়ের পর ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে ৪৮ জনকে। গত রাতেও কালিয়াকৈরে রতনপুর রেল লাইনের পাশে এক যুবকের লাশ পড়ে ছিল। নিহতদের মধ্যে ব্যবসায়ী, অটোরিকশা চালক, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার কয়েকজনের পরিচয় মিলেছে। অন্যদের অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা হয়েছে। এতগুলো হত্যাকাণ্ড হলেও একটি ছাড়া অন্যগুলোর রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। পরিচয়হীন লাশগুলো গাজীপুর পৌরসভার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। দাফনের আগে নিয়মানুযায়ী তাদের ছবি তুলে রেখেছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। এসব ঘটনায় ট্রেন যাত্রীরা আতঙ্কে ভুগছে।

রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রেন থেকে ফেলে হত্যার ঘটনা শুধু গাজীপুরেই ঘটছে তা নয়, দেশের সবকটি বিভাগীয় শহর থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনে প্রতিদিনই এধরনের ঘটনা ঘটছে। গত বৃহস্পতিবার এবং এর আগে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু রেললাইনের পাশে বেশ কিছু অজ্ঞাতনামা মানুষের লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। তবে টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির একজন কর্মকর্তা বলেন, দুর্বৃত্তরা অনেক সময় মাথা থেঁতলে বা ভিন্ন কৌশলে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে লাশ রেললাইনের পাশে ফেলে যায় যাতে সবার মনে হয় ট্রেন থেকে পড়ে বা ট্রেনের আঘাতে সে মারা গেছে।

এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা খতিয়ে দেখতে রেল মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মোস্তফার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন যোগাযোগ মন্ত্রী। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, রেলওয়ের এডিজি মো. শাহজাহান ও রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি সোহরাব হোসেন।

শালনার মীরেরগাঁওয়ের স্থানীয়রা বলছেন, এই এলাকা দিয়ে ট্রেন দ্রুতগতিতে চলে সে কারণে ছিনতাইকারীরা ট্রেনের দরজা বা ছাদে থাকা যাত্রীদের ধাক্কা দিয়ে সহজে হত্যা করতে পারে। তাছাড়া নিচে পড়ে যাওয়া ব্যক্তি মারা না গেলেও তার পক্ষে প্রতিবাদ করার কিছুই থাকে না। অপরদিকে পরবর্তী স্টেশন দূরে হওয়ায় একটি হত্যাকাণ্ডের পর আরো কয়েকজনকে ভয় দেখিয়ে তারা গণছিনতাই করতে পারে এবং ছিনতাইয়ের পরই ছিনতাইকারীরা ট্রেনের মধ্যে নিরাপদ অংশে চলে যায়। এসব হত্যার ব্যাপারে থানা পুলিশ বা রেল পুলিশ বিশেষ কোন তদন্ত উদ্যোগ না রাখায় ট্রেনের ছিনতাইকারীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জব্বার আহম্মেদ জানান, গত সাত দিনে মীরের গাঁওয়ের এক কিলোমিটার রেললাইনের পাশ থেকে ১৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকেই যে ছিনতাইকারীর হামলার শিকার হয়েছেন তা লাশ দেখেই ধারণা করা যায়। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে রেললাইনের পাশে এক কিলোমিটারের মধ্যে তিন ব্যক্তির মাথা থেঁতলানো লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। পরে এলাকাবাসী বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানায়। পুলিশ দুপুরে তাদের লাশ উদ্ধার করে। নিহতদের কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে একজনের পরনে সাদা-কালো প্রিন্টের হাফহাতা গেঞ্জি ও ধূসর রঙের ফুলপ্যান্ট, অপরজনের সাদা প্রিন্টের শার্ট ও অ্যাশ কালারের ফুলপ্যান্ট এবং অন্য জনের পরনে ছিল ক্রিম রঙের মধ্যে বেগুনি রঙের চেক শার্ট ও কালো রঙের ফুলপ্যান্ট। এদের বয়স ২৪ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে। রেলওয়ে টঙ্গী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলমগীর হোসেন জানান, গত বুধবার রাতে জয়দেবপুর-রাজশাহী রেললাইনে দ্রুতযান, লালমনি এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস ও পদ্মা এক্সপ্রেস যাতায়াত করে। ওইদিন রাতে ওই চারটি ট্রেনের যেকোন একটি থেকে তিন যুবককে ছিনতাইকারীরা ফেলে দিলে তারা ঘটনাস্থলে মারা যান।

জয়দেবপুর রেলস্টেশন মাস্টার জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, গত সাত দিনে রেললাইনের পাশ থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রাতেও কালিয়াকৈর রতনপুর রেল লাইনের পাশে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া সাত-আটজনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গাজীপুরের ভাওয়াল রেলস্টেশনের পাশ থেকে গত সোমবার শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন সদর উপজেলার ধীরাশ্রম এলাকা থেকে অপর এক ব্যক্তির লাশ এবং একই দিন কালিয়াকৈরের কালামপুর থেকে আরেক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গত ২ আগস্ট কালিয়াকৈরের ভান্নারা এলাকা থেকে এক ব্যক্তির এবং ১ আগস্ট সদর উপজেলার ধীরাশ্রম ও কালিয়াকৈরের বক্তারপুর থেকে দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের কারোরই পরিচয় জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে জিআরপি থানার ওসি আলাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঢাকা থেকে যাওয়া যাত্রীদের মালামাল ছিনতাই করতে জয়দেবপুর রেলস্টেশন থেকে ছিনতাইকারীরা ট্রেনে ওঠে। বিশেষ করে ট্রেনের ছাদে যেসব যাত্রী ওঠে তাদের কাছ থেকে ছিনতাই সহজ বলে ছিনতাইকারীরা তাদের টার্গেট করে। এরপর নিকটবর্তী কোনস্টেশনের আগেই এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ সুপার আবদুল বাতেন বলেন, গাজীপুরে লাশ উদ্ধারের ঘটনা বাড়তে থাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে শুধু টঙ্গী এলাকায় তিনটি তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। এছাড়া হোতাপাড়া, কালিয়াকৈর, চক্রবর্তীসহ সবকটি সড়কে অনেকগুলো তল্লাশি চৌকি রয়েছে। এসব চৌকিতে প্রত্যেকটি যানবাহন খুব ভালো করে তল্লাশি করে ছাড়া হয়। তাছাড়া অতিরিক্ত টহল পুলিশ তো আছেই। তবে ট্রেনের মধ্যে ঘটনা ঘটলে জেলা পুলিশের কিছুই করার থাকে না বলে মন্তব্য করেন গাজীপুর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।

http://new.ittefaq.com.bd/news/view/126063/2012-08-12/1

চামচামির বিরুদ্ধে একটি নির্মোহ শোক প্রস্তাব - অজয় দাস গুপ্ত

অজয় দাশগুপ্ত : গত বছর অক্টোবর মাসে মৃত্যুশয্যায় শুয়ে থাকা মাকে দেখতে গিয়েছিলাম, ব্যস্ততার ফাঁকেও শতবর্ষী বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরীকে দেখার জন্য ছুটেছিলাম তার বাসভবনে। কবে আর দেখা হয় বা না হয়, একশ বছরের মহীরুহ দাদুর স্মৃতি এখনও সজীব, মগজ টনটনে, প্রখর দৃষ্টি। দুঃখ করে বলছিলেন, সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী তাকে ‘বিনোদন ভিখারী’ নামে ডাকেন, রটিয়েছেন তিনি নাকি বিপ্লবী ছিলেন না, ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী ডাকাত। এত বয়স্ক একজন মানুষের সামনে কী বলব বুঝতে পারছিলাম না। হঠাৎ কেন জানি মাথায় বুদ্ধি ভর করল। মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, ‘দাদু, মন খারাপ করবেন না, আমরা এমন এক জাতিÑ একত্রে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল বা বঙ্গবন্ধুকেই মানি না, আপনি তো দূরের কথা।’ পনেরো আগস্ট ঘনিয়ে এলে সব সময় মনে হয় কৃতঘœতা আর অপমান করার শাস্তি কি ছাড় দেবে আমাদের? বঙ্গবন্ধুর মতো চিরউজ্জ্বল, দীপ্র, জ্যোতির্ময় নেতাকেও ছাড় দিই না আমরা। বাঙালির এই মুক্তিযুদ্ধেও সব সীমাবদ্ধতা রক্তে ধুয়ে পবিত্র হওয়ার পরও তর্কবিতর্কে নিজেদের ছোট করাই যেন আমাদের নিয়তি।

একসময় মনে হতো, বঙ্গবন্ধু বিরোধী কথিত জাতীয়তাবাদী শক্তি, তার মৃত্যুর করুণ দিনে জš§দিনের ঢাউস কেক কাটতে ব্যস্ত নেতৃত্বই এ জন্য দায়ী, দায়ী দেশি-বিদেশি মিডিয়া ও ষড়যন্ত্র। সে আঁচ তো এখন নিভে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ এখন পরাভূত। তারা এখন আওয়ামী মিত্রও বটে! পাকিস্তানের নিজেরই নাভিঃশ্বাস উঠছে। জামায়াত ও স্বাধীনতাবিরোধীরা তারুণ্য ও নতুন প্রজš§ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত। কেউ আছে বিচারের অপেক্ষায়। এখন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কী করছি আমরা? কীভাবে মূল্যায়ন বা প্রিয় করে তুলতে চাইছি?

বছর কয়েক আগের কথা, সিডনির বহুধাবিভক্ত বঙ্গবন্ধু পরিষদের এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিকে দেখলাম, খানিকক্ষণ পরপরই প্রসঙ্গান্তরে গিয়ে বেগম মুজিবের কথা বলতে শুরু করেছেন। বেগম মুজিব, তার অবদান, ত্যাগ বা ধৈর্য ইতিহাসেই লেখা আছে। সে নিয়ে ৩০ বছর না ছিল উচ্চবাচ্য, না হঠাৎ কথার জোয়ার। ওই অনুষ্ঠানের বক্তা বা অতিথি যতবার সেই প্রসঙ্গে কথা বলছিলেন, সামনের সারি থেকে তড়াক করে লাফ দিয়ে দাঁড়ানো উদ্ভট টাই পরা এক লোক ভিডিও ক্যামেরা চালিয়ে সেই বক্তব্য রেকর্ড করছিলেন, একাধিকবার ঘটায় ঘটনাটি আমাকে কৌতূহলী করে তুলেছিল। পরেরবার এলেন ভিন্ন অতিথি, বঙ্গবন্ধু পরিষদের আরেক গ্র“পের অনুষ্ঠানে একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি দেখে চমকে উঠেছিলাম, জানলাম ভিডিও ধারণের ব্যক্তিটিও এসেছেন বাংলাদেশ থেকে ‘স্যারে’র সফরসঙ্গী হিসেবে। কিš' উত্তর খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে দেশ থেকে জেনেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শোক দিবসের কোনো এক আয়োজনে তার মায়ের কথা বলে আক্ষেপ করেছেন। তার দুঃখ ছিল, আজীবন বঙ্গবন্ধুকে সাহস ও শক্তি জুগিয়ে যাওয়া স্বার্থত্যাগী তার মায়ের কথা তো তেমন করা বলা হয় না। ‘ব্যাস’ আর যায় কোথায়। দেশে তো বটেই, বিদেশে এসেও চামচামি আর ভাঁড়ামির খেলা শুরু করলেন আওয়ামী নেতা, বুদ্ধিজীবী, উপদেষ্টা কিংবা অতিথির দল। ওই ভিডিও ক্লিপ প্রধানমন্ত্রীকে দেখিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন, তারা কত বড় বেগম মুজিবভক্ত। বলা বাহুল্য, এ জাতীয় অসৎ উদ্দেশ্য থাকলে কেউ শতভাগ সত্য ভাষণ বা সত্য কথা বলে না। হয় তা অতিরঞ্জিত অথবা মনগড়া। এতে কি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের গৌরব বেড়েছিল? না বাড়বে?

এই সেদিনও মন্ত্রীর সম্মানে আয়োজিত এক সন্ধ্যায় দেশ থেকে আগত এক সচিবের বক্তৃতা শুনে হাসব না কাঁদব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। তিনি কোথায়, কখন, কেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভাষণ দিয়েছিলেন এবং দিতে পারেন সেই ফিরিস্তি, যে মানুষটির কথা গল্পের মতো, রূপকাথার মতো গ্রাম-গ্রামান্তরে ছড়িয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের চক্ষুশূল বুদ্ধিজীবী আহমদ ছফার বর্ণনায় ‘একদিন এই দেশে মায়েরা বাচ্চাদের ঘুম পাড়াতে গিয়ে বা আদর করতে গিয়ে বলবে এ দেশেও এক রাজপুত্রের জš§ হয়েছিল যার নাম শেখ মুজিব।’ সে মানুষটিকে নিয়ে সরকারি কর্মচারীর তিন-চার ঘণ্টা বক্তৃতার কাহিনী বর্ণনা মূলত একধরনের নিুশ্রেণীর দালালি।

এই জাতীয় কর্মকাণ্ডে মানুষের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে, মানুষ শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়। সিডনির বঙ্গবন্ধু পরিষদের অনুষ্ঠানে একসময় হলে জায়গা দেয়াটাই কঠিন হয়ে দাঁড়াত। সেই ভিড় এখন অস্তগামী, ভাঙতে ভাঙতে আত্মকলহে দীর্ণ মেধাবী ও পরিশ্রমী মানুষগুলোর কর্মকাণ্ড এখন আর দর্শক-শ্রোতা ধরে রাখতে পারে না। ড্রয়িংরুম, চার্চের হল, কমিউনিটি সেন্টারেই সীমাবদ্ধ, গণ্ডিবদ্ধ হয়ে পড়েছে জাতীয় শোক দিবস, দলের নেতা-নেত্রী-কর্মী বাহিনীরা তাকে ক্রমাগত নিজেদের সম্পত্তি বা কুক্ষিগত করে চলেছেন। অথচ তাকে যদি আমরা জাতির জনক, সবার নেতা বা আদর্শ বলে মানি তবে অবগুণ্ঠন ও নিজেদের বন্ধন মুক্ত করাই জরুরি। সন্তান যেমন তার পিতাকে কখনও ভালবাসে কখনও তার ওপর রাগ করে, কখনও অভিমান বা জেদ, কখনও তাকে অস্বীকার করে, অপমানের ভয় দেখায়Ñ এ ক্ষেত্রেও সেই বাস্তবতাকেই মানতে হবে। কেউ কিছু বললেই তড়াক করে ফাল দিয়ে ‘দেশদ্রোহী’ ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ ‘বাংলাদ্রোহী’ বলার ভেতর প্রজ্ঞা নেই। যেসব দেশে জাতির জনক আছে, সেই জাতি চড়াই-উতরাইয়ের ভেতর দিয়েই তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ভারতের দক্ষিণে এমনকি বাংলায়ও হাজার হাজার মানুষ আছে, যারা ঘোরতর গান্ধীবিরোধী, তাকে নিশিদিন গালাগাল, অভিশাপও দিয়ে চলেছে, তাতে গান্ধীর কোনো ক্ষতিবৃদ্ধি হয়নি। সে দেশের রাজনীতিও এ নিয়ে লড়াই বা লাঠালাঠিতে নামেনি। আগেই বলেছি, একটা সময় অবরুদ্ধ দেশ, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পরিবেশ, ইতিহাস বিকৃতির শনির দশায় হরতাল বা অন্যান্য হাতিয়ারে বঙ্গবন্ধুকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজন ছিল। এখন তা নেই, সুসময়ে দালালি, চামচামি আর যত্রতত্র তার নাম ও ইমেজের ব্যবহার বঙ্গন্ধুকে বড় করতে পারবে না। তিনি তার জায়গাতেই আছেন। হয়তো মুখ লুকিয়ে হাসছেনও। হাসারই কথা। এমন মানুষরা আজ ¯'তি করে, শ্রদ্ধা-ভক্তিতে দেশ মাতিয়ে তোলে। এদের অত্যাচারে হয়তো তিনি গুলিবিদ্ধ না হলেও নিজেকে বাঁচিয়ে চলতে পারতেন না। আওয়ামী লীগ এত বছর পরও সামান্য ত্যাগ আর সর্বজনীনতাকে মেনে নিতে পারে নাÑ এটা কি সত্যি মানার মতো ?

http://www.amadershomoy2.com/content/2012/08/11/news0821.htm

সামাজিক ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণে তৎপর হয়ে উঠেছে গোয়েন্দারা

সামাজিক ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণে তৎপর হয়ে উঠেছে গোয়েন্দা বিভাগ। এ জন্য ওয়েবপেজে নজরদারি শুরু করা হয়েছে। গুরুতর সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পেজে কেউ বাড়াবাড়ি করলে প্রথমে সতর্ক এবং পরে কঠোর আইনের মুখোমুখি করা হবে। সামাজিক ওয়েবসাইটগুলোয় মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে যেন কেউ বাড়াবাড়ি ধরনের কোনো মন্তব্য পোস্ট না করে, সে কারণেই গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গোয়েন্দারা রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়ায়, এমন সব ওয়েবসাইট শনাক্ত করবে। কারণ, ওয়েবসাইটভিত্তিক অর্ধশতাধিক ব্লগে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির ও নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহ্রীরের সদস্যরা জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। এসব ব্লগে প্রতিনিয়ত বেপরোয়া মন্তব্য পোস্ট করা হচ্ছে। অনেক সময় এমন সব মন্তব্য প্রকাশ করা হচ্ছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে। এ কারণে সামাজিক সাইট নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। যাতে বেপরোয়া মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ব্লগারদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

সূত্র জানায়, সামাজিক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায়, এমন ওয়েবসাইট শনাক্ত করার কাজে নেমেছে কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (সিএসআইআরটি)। গুরুত্ব¡পূর্ণ অপরাধের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ওয়েবপেজ বন্ধ করে দেওয়া এবং অপরাধীকে সতর্ক করা হবে। এতে কেউ সতর্ক না হলে প্রচলিত আইন মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সিএসআইআরটি।

উল্লেখ্য, গত ২৫ জানুয়ারি থেকে বিটিআরসির সিএসআইআরটির ১১ সদস্যের একটি দল সাইবার ক্রাইম শনাক্তে কাজ শুরু করেছে। সাইবার ক্রাইম অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী অপরাধীর ২ থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের সাজা এবং ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে।
http://www.amadershomoy2.com/content/2012/08/11/all0135.htm

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla