Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

ক্ষমতার হীরা জহরৎ ও সিসিম ফাঁক মন্ত্র

Bangladeshi

অন্যান্য তত্ত্বের মত গণতন্ত্রেরও নিজস্ব কিছু সংজ্ঞা আছে। এ সংজ্ঞা কতিপয় দল অথবা দলীয় পন্ডিত দিয়ে বদলানোর সুযোগ নেই। তা করতে গেলে ফলাফল হিসাবে যা বেরিয়ে আসবে তা হবে নতুন এক তত্ত্ব। আবিষ্কার একটি চিরন্তন প্রক্রিয়া। সভ্যতা বিবর্তনের সাথে আবিষ্কারের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। সে বিবেচনায় কেউ যদি গণতন্ত্রের নতুন কোন গ্রহণযোগ্য ফর্মুলা উপহার দিতে পারেন তা হবে যুগান্তরি আবিষ্কার। বলতে বাধা নেই আমাদের দেশে তাই হচ্ছে। প্রতিদিন কেউ না কেউ নতুন নতুন তত্ত্ব নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হচ্ছেন। এবং তত্ত্বের প্রসব স্থান হিসাবে বেছে নিচ্ছেন টক শো, রাজনৈতিক সভা সমাবেশ, পত্রিকার কলাম অথবা সামাজিক মাধ্যম। ভাড়ায় খুন করার খেপে যাওয়া সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর জন্য একটি লাভজনক ব্যবসা। এ ব্যবসায় জড়িয়ে অনেকেই নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করে নিচ্ছেন এবং তা যথাসম্ভব দ্রুত। এসব খুনের পক্ষে সাফাই গাওয়ার লোকেরও অভাব নেই। গণতন্ত্রের সংজ্ঞা যেমন সমাজতন্ত্র অথবা ধর্মীয় লেবাস দিয়ে বিকৃত করার সুযোগ নেই, তেমনি সুযোগ নেই বিনা বিচারে কাউকে খুন করার বৈধতা দেয়ার। এমনকি ভিক্টিম যদি হয় একজন সিরিয়াল কিলার। ঠোঁট সার্ভিস দিয়ে এসব চিরন্তন সত্য বদলে দেয়ার চেষ্টা নতুন কোন আবিষ্কার নয়, বরং রুগ্ন মানসিকতার বিকৃত বহিঃপ্রকাশ। একই গবেষণা চলছে গণতন্ত্র নিয়েও। এসব গবেষণার ফলাফল জানতে আমাদের খুব একটা অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছেনা। প্রিন্ট মিডিয়া অথবা ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া নিয়মিত সয়লাব হচ্ছে আবিষ্কারের জোয়ারে। একটা দেশের অর্থমন্ত্রী যখন চার হাজার কোটি টাকা লুটের ঘটনাকে ’বিশাল’ অর্থনীতির দেশে যৎসামান্য ঘটবা হিসাবে চিহ্নিত করেন ধরে নিতে হবে কেবল একবিংশ শতাব্দীর অর্থনীতিতে তিনি নতুন মূল্যবোধের জন্ম দিচ্ছেন না, পাশাপাশি ক্রাইম এন্ড পানিশমেন্টের সনাতনী ধ্যান-ধারণায়ও আনছেন ’বৈপ্লবিক’ পরিবর্তন।

পাঠক, আপনাদের কি ’সিসিম ফাঁক’ মন্ত্রের সাথে পরিচয় আছে? যাদের নেই তাদেরকে কিছুক্ষণের জন্য আলীবাবা চল্লিশ চোরের রাজ্যে নিয়ে যেতে চাই। বাকিদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ করবো। আরব্য উপন্যাস ’এক হাজার এক রাত্রি’র অন্যতম সংযোজন এই গল্প। গরীর কাঠুরে আলীবাবা জঙ্গলে কাঠ কাটতে গিয়ে আবিষ্কার করেন চল্লিশ চোরদের গোপন আস্তানা। গুহার চোরাগলিতে লুকানো এই ভান্ডার খোলার চাবিই হচ্ছে এই সিসিম ফাঁক মন্ত্র। ’সিসিম ফাঁক’ বলা মাত্র গুহার বিশাল দরজা খুলে যায়। মন্ত্র কাজে লাগিয়ে চোরদের গুপ্ত ভান্ডারে ঢুকে পরতে সক্ষম হন গল্পের নায়ক আলীবাবা। ভেতরে ঢুকে তিনি তো থ! সোনাদানা, হীরা-জহরত আর মনি-মুক্তার অথৈ পাহাড়। এবং সেখান হতেই শুরু হয় গরীব আলীবাবার নতুন যাত্রা। এবার চলুন ফিরে যাই মূল লেখায়।

আমাদের বর্তমান সরকার কথিত গণতন্ত্র ও তা রক্ষার নামে যে সার্কাসের জন্ম দিয়েছেন তা এক অর্থে ট্র্যাজিক এবং অন্য অর্থে এন্টারটেইনিং। দল এবং দলীয় বোদ্ধাদের কাছে গণতন্ত্র তথা মানুষের মৌলিক অধিকারের সংজ্ঞা এখন আর গ্রীক সংজ্ঞা নয়, বরং দুই অধ্যায়ের পৌরাণিক উপাখ্যান হিসাবে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। এর এক অধ্যায়, ক্ষমতাসীন এবং অন্য অধ্যায়, ক্ষমতাহীন। এসবের ভেতরে যাওয়ার আগে আলীবাবা কর্তৃক আবিষ্কৃত চল্লিশ চোরের গুপ্ত গুহায় ঢোকা আমাদের জন্য এ মুহূর্তে বাধ্যতামূলক। সার্কাসের মূল আকর্ষণই ঐ গুহা। আমরা কি একবারের জন্যও ভেবে দেখেছি নারায়ণগঞ্জের নুর হোসেনের জন্য নজরুল হত্যা কেন বাধ্যতামূলক ছিল? আসুন জিনিষটা একটু অন্য ভাবে চিন্তা করার চেষ্টা করি। গণ-প্রতিনিধি হওয়ার বাধ্যতামূলক ইচ্ছা এবং তা বাস্তবায়নের যে পথ আমাদের সামনে আবিষ্কৃত হয়েছে সন্দেহ নেই তা কর্দমাক্ত, রক্তাক্ত এবং ভয়াবহ। গোয়ালের শেষ গরুটা বিক্রি করে হলেও ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হওয়ার সাধ, আহ্লাদ ও খায়েশ মেটাতে অনেকে হিংস্র বনে যায়। কেবল দলীয় মনোনয়নের জন্যই হবু মন্ত্রী এম্পিদের ঢালতে হয় কোটি কোটি টাকা। নির্বাচন প্রক্রিয়ার লম্বা ও দুরূহ পথ পাড়ি দিতে কেবল অর্থই নয় বরং হুমকির মুখে ফেলতে হয় নিজের জীবন। তাতেও কিন্তু দুর্গম এ পথ পাড়ি দিতে ইচ্ছুক যাত্রীর অভাব হয়না। দেশের গ্রামে গঞ্জে শহরে গণ-প্রতিনিধি নির্বাচন মানে এখন পানিপথের যুদ্ধ। এ যুদ্ধে হারতে কেউ রাজী নয়। প্রতিপক্ষকে হারাতে গিয়ে প্রফেশনাল খুনি পর্যন্ত ভাড়া করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। কারণটা কি? রহস্যটা কোথায়? মন্ত্রী, এম্পি, চেয়ারম্যান, কমিশনার, মেম্বারদের মাসিক বেতন কি এতটাই আকর্ষণীয় যার জন্য লোটা-বাটি, কম্বল বিক্রি করে পদটা নিতে হবে? এখানেই আসে সিসিম ফাঁক রহস্য। আমার বিচারে দেশীয় গণতন্ত্রে নতুন সংজ্ঞা সংযোজন করেছে চলমান রাজনীতি। যার বিকল্প নাম হতে পারে সিসিম ফাঁক। গণতন্ত্র মানে সিসিম ফাঁক। মন্ত্রবলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের গুহা খুলে ফেলার অপর নামই ক্ষমতা। গ্রীকদের জন্য যা গণতন্ত্র আমাদের জন্য তা সিসিম ফাঁক।

সরকার ও তার প্রতিপক্ষ মন্ত্রের মালিকানা নিয়ে এখন বাকযুদ্ধে ব্যস্ত। হুমকি আসছে এ যুদ্ধ খুব শীঘ্র নাকি মাঠে যাবে। এবং শুরু হবে পানিপথের নতুন যুদ্ধ। কেন এ যুদ্ধ? এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর চাইলে আমাদের হাতড়াতে হবে এর গোঁড়া। জোর গলায় বলতে হবে মূল সমস্যা অন্য জায়গায়, চোরের সাম্রাজ্যে দুই চোর! ক্ষমতা ধরে রাখা এবং তা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে সৈনিকরা মাঠে থাকলেও তাদের অন্তরে থাকবে সিসিম ফাঁক মন্ত্র। সরকারী খাজাঞ্চিখানার সুবিশাল দরজাটা খুলতে চাইলে প্রথমে এর কাছে যেতে হবে এবং উচ্চারণ করতে হবে ’সিসিম ফাঁক’। তবেই কেবল অনুভব যাবে সোনা-দানা, হীরা-জহরত, মনি-মুক্তার উত্তাপ। একবার যারা এই উত্তাপ অনুভব করেছে তাদের পক্ষে দুরে থাকা কষ্টের। আমার কথা বিশ্বাস না হলে বাবু সুরঞ্জিত সেনকে জিজ্ঞেস করে দেখুন। তিনি রেলের গুহা খুলেছিলেন এবং বুঝেছিলেন সিসিম ফাঁক মন্ত্রের রহস্য। আবুল হোসেনের সাথে কথা বলে দেখুন। বললে শুনতে পাবেন গুহার অলৌকিক সব কাহিনী। সাদেক হোসেন খোকা, আমানুল্লাহ আমান, মওদুদ আহমদদের জিজ্ঞেস করে দেখুন। গুহার তাপমাত্রার উপর এরা একেক জন একেক ধরণের বিশেষজ্ঞ। এখানে প্রশ্ন উঠবে, গুহার মালিকানা নিয়ে। এক পক্ষ দাবি করছে যেহেতু গুহার আসল আবিষ্কারক তারা তাই এর আজীবন মালিকানা তাদের হাতেই থাকতে হবে। অন্যপক্ষ বলছে, তা কি করে সম্ভব! মন্ত্র দিলেই যদি গুহা খুলে যায় সে মন্ত্রের উপর তাদেরও অধিকার আছে।

পদটীকাঃ দুই চোরের লড়াইয়ে আমরা তাহলে কারা? সিসিম ফাঁক মন্ত্রের মালিকানা নেয়ার ম্যান্ডেট যদি গণতন্ত্র হয় আমরা কি এর অংশ নই? দাঁড়ান, এখানেও কথা উঠবে! আলীবাবা ৪০ চোর উপাখ্যানে আর কি কোন পার্শ্ব চরিত্র নেই? আছে, নিশ্চয় আছে এই যেমন মর্জিনা, কাসেম... আমরা কি তাহলে তাদেরই একজন?

Comments

লাগামহীন ঘোড়ার পিঠে সরকার!

শাটার মিস্ত্রি রুহুল আমিন আড়াই বছর ধরে কষ্ট ও যন্ত্রণা নিয়ে বড় ছেলে ইমাম হাসানকে খুঁজছেন l তাঁরা যে ঘোড়ার পিঠে চড়েছেন সে ঘোড়ার লাগাম তাঁদের হাতে নেই। ঘোড়া যদি দৌড় দেয় তাহলে তাঁদের কী অবস্থা হবে?’ গতকাল শনিবার মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সম্মেলনে দেশের নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে এ কথা বলেছেন শাটার মিস্ত্রি রুহুল আমিন। নিখোঁজ বড় ছেলে ইমাম হাসানকে খুঁজতে আড়াই বছরের কষ্ট, যন্ত্রণা আর বিব্রতকর পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে সরকারের উদ্দেশে এ কথা বললেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংসদ, মন্ত্রী, মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ছেলের খোঁজে ধরনা দিয়েছেন শ্রমজীবী মানুষটি। সর্বোচ্চ আদালতের আশ্রয়ও নিয়েছেন। কিছুতেই কিছু হয়নি।

সম্মেলনে রুহুল আমিন বলেন, ‘২০১২ সালের ৫ মার্চ রাজধানীর ফার্মগেট থেকে অপহৃত হন ইমাম হাসান ওরফে বাদল। অপহরণকারী পরিচয় দিয়ে একজন আমাকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করেন। সঙ্গে সঙ্গে আমি বিষয়টি র‌্যাব-২ কে জানাই। পরদিন র‌্যাব থেকে ফোন করে জানানো হয়, অপহরণকারীদের আটক করা হয়েছে। এক লাখ টাকা নিয়ে আসেন। হাফ না ফুল নিয়ে আসেন। সঙ্গে সঙ্গে টাকা নিতে যেতে পারিনি।’ রুহুল আমিন বলতে থাকেন, ‘২০১২ সালের ১২ মার্চ র‌্যাব-২ অফিসে গেলে ডিউটি অফিসার এস আই সোলেমান আমাকে বলেন, আপনি তেজগাঁও থানায় গিয়ে অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে নকল নিয়ে আসেন। তেজগাঁও থানায় গেলে ওসি মাহবুবর রহমান মামলা না নিয়ে গালিগালাজ করে আমাকে বের করে দেন। তারপর শেরেবাংলা নগর থানায় যাই। তারাও মামলা নেয়নি। পরের দিন তেজগাঁও থানায় গিয়ে একটি জিডি করি। জিডির নকল নিয়ে যাই র‌্যাব অফিসে। এসআই রাজি ওরফে রাজু আমার কাছ থেকে একটি কাগজে স্বাক্ষর নেন। এরপর এক লাখ টাকা চান। পুরো টাকা না দিলে ছেলেকে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে হত্যা করার হুমকি দেন। আমি কান্নাকাটি শুরু করি এবং ৪০ হাজার টাকা দিই। টাকার কথা কাউকে না জানানোর হুমকি দেন তিনি। কিন্তু এরপর শুরু করেন টালবাহানা।’

রুহুল আমিন বলেন, ‘নিরুপায় হয়ে আমি পঞ্চগড়ের আওয়ামী লীগের সাংসদ নুরুল ইসলামের কাছে যাই। তাঁর সুপারিশ নিয়ে আইন প্রতিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের অনেকের সঙ্গে দেখা করি। র‌্যাব বিষয়ে তাঁদের কিছু করার নেই বলে এড়িয়ে যান তাঁরা। বুঝলাম, র‌্যাবের কথায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলে। এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে যাই। কিন্তু ছেলেকে পাইনি।’ দীর্ঘ বক্তব্যের জন্য অনুষ্ঠানের সঞ্চালক একাধিকবার তাঁকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বলেন, ‘আমাকে সব কথা বলতে দিতে হবে।’ ছেলে ইমাম হাসান আড়াই বছর ধরে নিখোঁজ। ছোট ছেলে হোসেন বিনা চিকিৎসায় পঙ্গু। আর জীবননাশের হুমকির ভয়ে অনেকটাই ফেরারি রুহুল আমিন।

রুহুল আমিনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আজাদ প্রথম আলোকে জানান, ওই সময় এ নামে কাউকে উদ্ধার করার কোনো রেকর্ড তাঁদের কাছে নেই। এ ছাড়া রাজি নামে কোনো কর্মকর্তাও সে সময় ছিলেন না।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/305788/%E0%A6%B2%E0%A6%BE%...

কাস্টমস কমিশনার হাফিজুরের সম্পদ দেখে স্তম্ভিত দুদক

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট, ২০১৪

বিতর্কিত কাস্টমস কমিশনার হাফিজুর রহমান ওরফে রাজুর অবৈধ সম্পদের বিশালত্ব দেখে স্তম্ভিত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে হাফিজুরের শত শত কোটি টাকার সম্পদের প্রমাণ পেয়ে এখন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে দুদক। তলব করেছে হাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী মোরশেদা জাহানের সম্পদবিবরণী।
তবে সূত্র দাবি করেছে, কাস্টম কমিশনার হাফিজুরের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ অবিশ্বাস্য। হাফিজুরের নিজের একক ও যৌথ নামে ২৪টি ব্যাংক হিসাবে লেনদেন হয়েছে শত শত কোটি টাকা। স্ত্রী মোরশেদা জাহান ও একমাত্র ছেলে সাকিব আওসাফ রহমানের নামে আছে প্রায় ৭ কোটি টাকার এফডিআর। আরও আছে নামে-বেনামে রাজধানী ঢাকায় কমপক্ষে ৪টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। রাজউক পূর্বাচল প্রকল্পে সাড়ে ১৭ কাঠার দুটি প্লট, বারিধারায় রয়েছে কয়েক কোটি টাকা দামের আরেকটি প্লট, গুলশান নিকেতন লেকসাইডে একটি বহুতল ভবন, উত্তরা ৩নং সেক্টরের ১১নং সড়কে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, ধানমণ্ডির বাড়ি নং ২৪২/এ, রোড ২২ এ ৩য় ও ৪র্থ তলা মিলিয়ে প্রায় ২২শ’ বর্গফুটের একটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট, রামপুরা বনশ্রীতে ২০ কাঠা জমি ও আইডিয়াল কলেজের পেছনে একটি ৬ তলা বাড়ি। এ ছাড়া স্ত্রী মোরশেদা জাহানের নামে আরেকটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে যার ঠিকানা ফ্ল্যাট-৩/বি, বাড়ি-৭৭, রোড-১২/এ, ধানমণ্ডি ঢাকা। আরও দুটি ফ্ল্যাট ৪/সি, ব্লক-এফ, লালমাটিয়া ঢাকা ও ফ্ল্যাট এ/১, হাউস নং ৮/বি, রোড-২, গুলশান-১ ঢাকা। এ ছাড়া নিজ নামে ও বেনামে মালিকানা পাওয়া গেছে কমপক্ষে ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যেখান থেকে হুন্ডির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে পাচার করা হয়েছে কয়েক কোটি টাকা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে ৩টি ব্যাংক হিসাব। যুক্তরাজ্য ও দুবাইয়ে রয়েছে কমপক্ষে ৩টি বিলাসবহুল বাড়ি। আর আছে ঢাকার প্যারাগন গ্র“পে অংশীদারিত্ব ব্যবসা। হাফিজ এক ভয়েস রেকর্ডে স্বীকার করেছেন এই গ্র“পে তার ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। এত সব সম্পদের বাইরে অজানা রয়ে গেছে আরও কোটি কোটি টাকার অর্থ-সম্পদ। এই বিতর্কিত কাস্টম কমিশনারের আরও অনেক অপকর্ম রয়েছে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলা। রয়েছে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির মামলা। রয়েছে ভুয়া টিআইএন ব্যবহার করে কনকর্ড রিভার ভিউ প্রকল্পে আরেকটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নিজ নামে রেজিস্ট্রেশন করাসহ নানা গুরুতর অভিযোগ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেলও তার বিশাল অংকের অবৈধ অর্থ-সম্পদের বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। কিন্তু নানামুখী চাপে এনবিআরের তদন্ত চলছে শম্ভুক গতিতে।
এ ছাড়া এনবিআরের একজন সদস্যের নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু খোঁড়া অজুহাতে এই তদন্ত স্থগিত আছে বলে জানিয়েছেন কমিটির আহ্বায়ক সুলতান মোঃ ইকবাল। তার মন্তব্য, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব সদস্য হয়েও তদন্ত কমিটিকে সহায়তা করছেন না। এজন্য তদন্ত করা সম্ভব নয় বলে এনবিআর চেয়ারম্যানকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন সিনিয়র কমিশনার রেজাউল হাসানকেও কিছু অভিযোগ সম্পর্কে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। তিনি তদন্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে করা প্রতিটি অভিযোগই সঠিক। তার অবৈধ সম্পদ, ব্যাংকে এফডিআর, সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন আর্থিক বিষয়ের সত্যতা রয়েছে।
যার বিরুদ্ধে এতসব অভিযোগ তিনি এখন কোথায়? জানা গেছে আরও চমকপ্রদ তথ্য। এস আদ্যাক্ষরের এক সুন্দরী যুবতীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের যৌন কেলেংকারি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে শিক্ষা ছুটির নামে দেশ ত্যাগ করেছেন। কিন্তু ১ বছরের শিক্ষা ছুটি নিয়ে যুক্তরাজ্যে গেলেও আজ পর্যন্ত তিনি দেশে ফেরেননি। কর্মস্থলেও যোগ দেননি যা সরকারি চাকরি শৃংখলা পরিপন্থী। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ক্যাডার কর্মকর্তা কয়েক মাস ধরে দেশে না ফিরলেও এখন পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়নি। সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ও নীরব।
রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকে দুদকের তদন্তে যে ২৪টি ব্যাংক হিসাব পাওয়া গেছে তার বেশিরভাগ লেনদেন হয়েছে আইএফআইসি ব্যাংকের ধানমণ্ডি শাখায়। যেখানে হাফিজুর রহমান, এমএইচ রহমান, এইচ রহমান, এম হাফিজুর রহমান, হাফিজ-উর-রহমান এভাবে নামের হেরফের দেখিয়ে খোলা হয়েছে। কিছু অ্যাকাউন্ট তার বাবা-মা, স্ত্রী, ভাই-বোন, বন্ধুদের নামে এবং হাফিজুরের যৌথ নামে। বেশিরভাগের ঠিকানাই ব্যবহার করা হয়েছে হাফিজের ধানমণ্ডির বাসার : ফ্ল্যাট-৩বি, বাড়ি-৭৭, রোড ১২/এ, ধানমণ্ডি।
তার স্ত্রী মোরশেদা জাহানের আয়কর নথিতে সংযুক্ত ধানমণ্ডির বাড়ি নং ২৪২/এ, রোড ২২ এ ৩য় ও ৪র্থ তলা মিলিয়ে প্রায় ২২শ’ বর্গফুটের একটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে। এই ফ্ল্যাটের মূল্য ১৯৯৮ সালে দেখানো হয়েছে মাত্র ২০ লাখ টাকা। বাস্তবে ওই সময়ই তা কেনা হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকায়। যা বিক্রেতা ল্যান্ড অ্যান্ড হোমস লি: ৮৩৮ ধানমণ্ডি, রোড-১৯, ঢাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩টি চেকে জমা করা হয়েছে। এ ছাড়া মোরশেদা জাহানের নামে আরেকটি ফ্ল্যাট ক্রয় দেখানো হয়েছে যার ঠিকানা ফ্ল্যাট-৩/বি, বাড়ি-৭৭, রোড-১২/এ, ধানমণ্ডি, ঢাকা। যার বর্তমান বাজার মূল্য কমপক্ষে ৩ কোটি টাকা। মোরশেদা জাহানের আয়কর নথি অনুযায়ী তিনি গৃহিণী ও স্বামীর আয়ের উপর নির্ভরশীল। অথচ পরে তার আয়ের উৎস দেখানো হয়েছে বিবিধ ব্যবসা, ঠিকানা-১১৬/এ, তোপখানা রোড, ঢাকা। দুদকের তদন্তে এ ঠিকানার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
ঢাকার উত্তরাস্থ বাড়ি নং ১৫, লেক ড্রাইভ রোড, সেক্টর-৭ এ অবস্থিত বেস্ট লজিস্টিক নামে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কাস্টম কমিশনার হাফিজুর রহমান। এ প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে হাফিজুর রহমান দুবাই ও যুক্তরাজ্যে বিপুল অংকের অর্থ পাচার করেছেন। ভুয়া পণ্য আমদানি-রফতানি দেখিয়ে লাখ লাখ মার্কিন ডলার লেনদেন হয়েছে।
সূত্র মতে, যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও অক্সফোর্ডে হাফিজুর রহমান দুটি বাড়ি কিনেছেন। একটি তার ছেলে সাকিব আওসাফ রহমানের নামে (যে এখনও ছাত্র), অপরটি তার বন্ধু আমজাদ হোসাইনের নামে। হাফিজুরের যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকেই এসব বিলাসবহুল বাড়ির মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় সাড়ে ৫ লাখ ডলার মূল্যে হাফিজুর এবং তার ছেলে সাকিব আওসাফ রহমানের যৌথ নামে দুবাইয়ের বিলাসবহুল আবাসিক এলাকা আল বারসায় ১৪০০ বর্গফুটের আরেকটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে ২০১১ সালে। এর মূল্য পরিশোধ করেন দুবাইয়ে হাফিজুরের ব্যবসায়িক পার্টনার মোহাম্মদ আবু দাউদ।
আইএফআইসি ব্যাংকের ধানমণ্ডি শাখাটি বারবার ব্যবহৃত হয়েছে হাফিজুরের অবৈধ আয় বৈধতা দেয়ার কাজে। এই একটি শাখায় ১৭টি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে হাফিজুরের একই নাম বিকৃত করে, তার স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন, বাবা ও অন্য বেনামি ব্যক্তিদের নামে। এ ছাড়া হাফিজুরের মা, বাবা, স্ত্রী, সন্তান, ভাই, ভগ্নিপতিসহ আরও নামে-বেনামে তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট অসংখ্য অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে। শুধু তাই নয়, হাফিজুরের সঙ্গে তার বাবা, ভাই, স্ত্রীর একাধিক যৌথ অ্যাকাউন্টও এই ব্যাংকে রয়েছে যা ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছাড়া খোলা যায় না। হাফিজের মা হাবিবুন নাহার আহমেদের নামেও একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। যাতে লেনদেন হয়েছে বিপুল অংকের অর্থ।
হাফিজুরের স্ত্রীর বড় ভাই পরিচয় দিয়ে জনৈক জাহিদুল আহসান, পোস্ট বক্স-৪০১৮৬৮, ব্রোডথ্রাস্ট, গাবোরনে, বতসুয়ানা ঠিকানা থেকে প্রতিবছর হাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে লাখ লাখ ডলার গিফট দিয়েছেন বলেও তাদের আয়কর নথিতে দেখানো হয়েছে। বাস্তবে সবই ভুয়া। বতসুয়ানায় অবস্থিত একাধিক বাংলাদেশী ওই ঠিকানায় গিয়ে কাউকে পাননি। হাফিজের বিদেশের বেনামি অ্যাকাউন্ট থেকে জাহিদুল আহসানের নাম ব্যবহার করে বারবার রেমিটেন্স নামে অর্থ আনা হয়েছে তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে।
ঢাকার প্যারাগন গ্র“পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রয়েছে হাফিজের বেনামি মালিকানা। উত্তরার বেস্ট লজিস্টিক ও বেস্ট ট্রেডে রয়েছে সরাসরি মালিকানা। গুলশানের ২টি রেস্টুরেন্ট এবং হোটেলেও রয়েছে বিপুল অংকের বিনিয়োগ।
এখন পর্যন্ত যে কয়টির হদিস পাওয়া গেছে তা হচ্ছে, ফ্ল্যাট ৪/সি, ব্লক-এফ, লালমাটিয়া ঢাকা-১২০৭। ফ্ল্যাট এ/১, হাউস নং ৮/বি, রোড-২, গুলশান-১ ঢাকা। কনকর্ড লেক সিটিস্থ সৌরভী এপার্টমেন্ট, ষষ্ঠতলা, ফ্ল্যাট নং ডব্লিউ, বি/৩ নামে যে ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছে তার ক্রেতার ঠিকানা হাফিজুর রহমান, গ্রাম ও ডাকঘর ধাপেরহাট, থানা সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা। টিআইএন নং ব্যবহার করা হয়েছে ১৪৫-১০৭-৬৮০১। এটি সম্পূর্ণ ভুয়া। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে হাফিজুরের প্রকৃত টিআইএন হচ্ছে ৪৬৫-১০১-৩২০৯/সার্কেল-৭৫, কর অঞ্চল-৪, ঢাকা। এ ছাড়া ভুয়া এই টিআইএন নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে তার মালিকানাধীন বেস্ট লজিস্টিক লিমিটেড ও বেস্ট ট্রেডের নিবন্ধনে। আয়কর আইনে একজনের একাধিক বা ভুয়া টিআইএন ব্যবহার করা শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী হাফিজুর ওরফে রাজু মিয়ার রংপুর কারমাইকেল কলেজ এলাকায় ৪৭ শতক জমির উপর ভেনাস ছাত্রী নিবাস ও একটি হোটেল রয়েছে। কাস্টম কর্মকর্তা হাফিজ ওরফে রাজু তার এলাকায় ছাইগাড়ী পার্শ্ববর্তী রসুলপুর গ্রামে আরও ৫১ বিঘা জমি কিনেছেন গত তিন বছরে। ছাইগাড়ী গ্রামের জমির কথা রাজু মিয়ার পিতা অস্বীকার করলেও রসুলপুরের ২৫ বিঘা জমির কথা স্বীকার করেছেন।

http://www.jugantor.com/last-page/2014/08/03/129683

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla