Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনিকে অভিনন্দন

Dipu Moni, Bangladeshi Foreign Minister
বিদেশ সফরে বিশ্বরেকর্ড করার জন্য এই মন্ত্রীকে অভিনন্দন না জানালেই নয়। বিগত সাড়ে চার বছরে ৬০০ দিন অর্থাৎ প্রায় দুই বছর বাইরে কাটিয়ে নয়া বিশ্ব রেকর্ড গড়তে সক্ষম হয়েছেন হাসিনা মন্ত্রীসভার এই সদস্যা। পৃথিবীর কোন জীবিত অথবা মৃত মন্ত্রীর নামের বিপরীতে এক টার্মে এতবার ও এতদিন বিদেশ সফর করার রেকর্ড আছে বলে কারও জানা নেই। চাইলে জাতি হিসাবে আমরা গর্ব করতে পারি। কূটনৈতিক পাড়ায় চালু আছে মন্ত্রী নাস্তা করেন দিল্লিতে, লাঞ্চ সারেন জেনেভায় এবং ডিনার করেন বন্দর শেরি বেগওয়ানে। সংসদ ভাঙ্গার আগে মন্ত্রী ভ্রমণে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকাতে সক্ষম হবেন। ২০ বার লন্ডন, ১১ বার সুইজারল্যান্ড, ৪ বার জার্মানি সহ বিশ্বের খুব কম দেশই বাদ গেছে দীপু মনির সফর তালিকা থেকে। ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক মিয়ানমার, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, মিশর, চীন, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা, পর্তুগাল, ভুটান, ইতালি, জাপান, ইরান, কাজাখস্তান, নেদারল্যান্ডস, ভিয়েতনাম, নরওয়ে, কিউবা, সাউথ আফ্রিকা, সিরিয়া, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো ডেনমার্ক, মরিশাস, ফিলিপাইন, নেপাল, তাজিকিস্তান, জিবুতি, ব্রাজিল, উগান্ডা, বেলজিয়াম, স্পেন, কানাডা, লিথুয়ানিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ওমান, তুর্কমেনিস্তান, ব্রুনাই দারুস সালাম, লাটভিয়া- কোথায় যাননি তিনি। এ পর্যন্ত সর্বসাকুল্যে ৪০ কোটি টাকা খরচ করতে সক্ষম হয়েছেন। ভ্রমণ তালিকায় মাত্র ১৭টি দ্বিপক্ষীয় সফর, বাকি সব ফটোশেসনের হাজিরা।

জনাবা মনি, বেচে থাকুন আপনি। আরেক জনমে জন্ম নিলে ঈশ্বরকে বলবেন চোখ ও মুখের চামড়া যেন কিছুটা পুরো করে বানায়। ১৬ কোটি মানুষের সম্পদ এভাবে লুটতে চাইলে চামড়ার ঘনত্ব বেশি হওয়াটা জরুরি। কেবল গোলাম আযমরাই এ জাতিকে খুন আর ধর্ষণ করেনি, আপনারাও করছেন। ফাঁসির দড়িটা আপনার গলায় শোভা পেলে প্রাণভরে উপভোগ করতাম আপনার শেষ যাত্রা।

Comments

লাস ভেগাসে দিপু মনি

দুই কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে মাঝে পাঁচ দিনের অবসর কাটাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় লস এঞ্জেলস থেকে লাসভেগাসের পথে রওয়ানা হন তিনি।

এর আগে শুক্রবার রাতে আটলান্টায় ফোবানা সম্মেলন উদ্বোধনের পর শনিাবার লস এঞ্জেলস যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সূত্রমতে রোববার রাত ১০ টার দিকে তার লাসভেগাসেপৌঁছানোর কথা। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তার সফরসঙ্গী হওয়া একজন সাংবাদিক ও লস এঞ্জেলসের একজন নেতা।

দীপুমনির পরবর্তী সরকারী কর্মসূচিটি রয়েছে আগামী ৬সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে।

এই পাঁচদিন কোন সরকারি কর্মসূচি না থাকায় ব্যাক্তিগত অবকাশযাপন করবেন মন্ত্রী। তবে মঙ্গলবার লস এঞ্জেলসে ফিরে একটি দলীয় কর্মসুচিতে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে সুত্রটি ।

এদিকে ৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে কালচার অব পিস বিষয়ক কর্মসূচিতে অংশ নিতে ৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে গিয়ে পৌঁছাবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ।

এই কর্মসূচিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সফরকারী দলের হয়েই অংশনেবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী।

এর আগে জাতিসংঘের কর্মসুচিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অংশগ্রহন নিয়ে কথা উঠেছিল। সংস্কৃতি মন্ত্রীর কর্মসুচিতে তিনি অংশ নিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছিল। তবে সে বক্তব্যের প্রতিবাদ পাঠানো হয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে। তাতে বলা হয়েছে, কালচার শব্দটি থাকলেই তা সংস্কৃতি বিষয়ক নয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট্র একটি দ্বায়িত্বশীল সূত্র আগে জানিয়েছিল ওই কর্মসূচিটি সংস্কৃতি মন্ত্রীর জন্যই প্রযোজ্য। অন্য অধিকাংশ দেশ থেকেই সংস্কৃতি মন্ত্রীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সূত্রটি নিশ্চিত করেছিল, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য এই কর্মসুচিতে অংশগ্রহনে আলাদা করে একটি চিঠিও সংগ্রহ করা হয় জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে।

সুত্রগুলো জানিয়েছে, সংস্কৃতিমন্ত্রীও নিউইয়র্ক কর্মসুচির পর দেশে ফিরবেন। তবে তার এক সপ্তাহের মধ্যেই কোষ্টারিকায় জলবায়ু বিষয়ক এক কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনিসেখানে যাবেন। এই কর্মসূচিটি পরিবেশ বিষয়ক হলেও তা পররাষ্ট্রমšত্মীর জন্য জরুরী বলে এক চিঠিতে জানিয়েছে তার দপ্তর।

কোষ্টাররিকা সফরের পর জাতিসংঘ সাধারন পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনেযোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফের যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। তবে ১৫থেকে ২৩সেপ্টেম্বর পর্যšত্ম তিনি দেশে থাকবেন, নাকি আমেরিকা জোনেই কাটাবেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাংলানিউজ

Yunus launches $ 4.5m Social

Yunus launches $ 4.5m Social Business Fund in Mexico
. UNB, Dhaka
Javier Duarte de Ochoa, the Governor of Veracruz, the third richest state of Mexico, has announced to launch social business in his state by making a grant of US$ 4.5 million to Yunus Social Business Fund to be created by Professor Yunus in Veracruz within the next three months.
As soon as the fund is created, the grant money will be transferred to the fund to launch social businesses without delay. The announcement came after a meeting with Nobel Laureate Prof Muhammad Yunus during his (Yunus) three-day visit to Mexico from July 17-20, said a Yunus Center release on Monday.
Prof Yunus visited Veracruz at the invitation of Governor Javier Duarte de Ochoa. On the occasion, the Governor organised an open air gala event at the historical spot at the port area where Spanish traders first set foot on the Latin American continent to give a formal reception to Professor Yunus.
The event was attended by the mayors of various leading cities, members of the state legislative assembly, business leaders, and academics. The Governor brought Prof Yunus with him from Xalapa, the capital of the state, in his official helicopter.
The day before Prof Yunus addressed a conference in Leon attended by countries top business leaders organised by his long time friend and former President of Mexico Vicente Fox at Centro Fox in Guanajuato. He also appeared in a national TV programme in a conversation which was a conversation programme between President Fox and Nobel Peace Laureate Prof Yunus.
During a press conference, President Fox also announced his plan to launch social business movement through Centro Fox in his State. On his final day in Mexico, Nobel Yunus visited the borrowers of Etla branch, in Oaxaca state of Mexico.
Grameen Microcredit programme was launched in 2009 in collaboration with Grameen Trust and Carlos Slim of Mexico who is among the wealthiest people in the world. This programme known as Grameen Carso is focused in the state of Oaxaca, the poorest state in Mexico.
Nearly 1000 borrowers, all of whom are women, many with their children, gathered in a city hall in a festive environment to meet Professor Yunus. The Grameen Carso programme headed by a Bangladeshi Project Director, Shamsul Alam Khan Chowdhury, now has 7,000 borrowers under 24 branches.
They are maintaining 100 percent repayment record since the beginning of the programme five years back. In the meeting with Professor Muhammd Yunus in City Hall, borrowers described their story of successes in businesses and thanked Grameen Carso for helping them change their lives. Prof Yunus was received by the Governor of Oaxaca, Gabino Cué Monteagudo who thanked Professor Yunus for his microcredit project.
The Governor invited Prof Yunus to help him launch social businesses in his State. Prof Yunus also addressed the students and faculty of University Jose Vasconcelos and attended a special reception given by Alumni Association of university of Monterrey.

AL leader’s family set up

AL leader’s family set up offshore cos

David Bergman

A top Awami League politician along with his family established a network of offshore companies in the British Virgin Islands, a country known as a secretive tax-free haven, New Age can reveal.
In July 2006, Kazi Zafarullah, a member of the party’s 12-member presidium, along with his wife Nilufer Zafar, the current member of parliament for the constituency which her husband previously held, became directors and shareholders of two offshore companies.
As directors of one of the companies, documents show that Kazi and Nilufer opened up a bank account in the Singaporean branch of a Swiss bank, making themselves joint signatories.
The application form which the pair signed gave details of their Gulshan address and stated that the company was for ‘investment purposes.’
Two years later, in April 2008, their son Kazi Raihan Zafar became director and shareholder of another British Virgin Island company, with his wife Fahra Murad (providing a Canadian address) and his mother Nilufer, who has recently been appointed chairman of the parliamentary standing committee on the ministry of foreign affairs, also joining him as directors by the end of June that year.
And then after six more months, whilst a ‘fugitive’ from a court verdict which had sentenced him to two years’ imprisonment for failing to submit his wealth statement to the Anti-corruption Commission, Kazi Zafarullah - a distant relative of the prime minister by marriage - set up a further offshore company in which he was the sole director and shareholder.
Kazi Zafarullah, told New Age that ‘the information is not accurate as far as it relates to me any my wife…. I don’t know about the rest.’
The information on the Zafarullah family offshore trusts, which also includes one set up by the AL presidium member’s sister, her husband and two nephews all based in New Zealand, is contained amongst 2.5 million electronic files which were leaked to the International Consortium of Investigative Journalists, and which was then shared with New Age.
The leaked ICIJ documents, which relate to the period up to early 2010, provide information on the ownership of a total of 120,000 offshore companies and trusts set up in the British Virgin Islands and other offshore tax havens.
The leaked files include information on dozens of Bangladeshis, many of whom are well-known businesspeople in the country, who own or owned offshore companies. After 2010, it is possible that the companies were dissolved or otherwise became defunct.
People often use the secrecy afforded by offshore companies to place assets beyond the reach of their country’s tax authorities although people may also use them for entirely lawful purposes.
In the context of Bangladesh, which unlike the developed countries tightly restricts the outflow of money, residents using offshore companies also risk being in breach of the foreign exchange laws.
Bangladesh bank officials have confirmed to New Age that the Foreign Exchange Regulation Act 1947 and the associated guideline do not allow Bangladesh residents to establish offshore companies.
Abu Hena Mohd. Razee Hassan, the Bangladesh Bank deputy governor responsible for the bank’s Financial Intelligence Unit told New Age that he could think of ‘no legal reason’ that could justify setting up such a company.
Ziauddin Ahmed, the director general of the Anti-Corruption Commission in charge of the unit within the commission which investigates money laundering, added that it was ‘suspicious’ for any Bangladeshi to own an offshore company in the British Virgin Islands and that his unit would undertake inquiries into any information provided.
Three months ago, after the Indian Express newspaper had published information about offshore companies owned by prominent Indian politicians and business men, the country’s finance minister P Chidambaram announced an investigation. ‘We have taken note of the names and inquiries have been put in motion in respect of the names that have been exposed.’
The Council of the European Union has also formally requested the ICIJ to release to each EU government any information from its leaked cache of offshore financial data that may involve citizens of those countries.
In 2008, during the caretaker period, the Anti-Corruption Commission filed cases against four members of the Zafarullah family for owning assets disproportionate to their known sources of income. It also prosecuted the former lawmaker for money laundering and failing to provide a wealth statement.
After the Awami League government had come to power in 2009, the High Court quashed three cases relating to Kazi Zafarullah, in one of which he had been convicted and sentenced for two years imprisonment, and the Anti-Corruption Commission withdrew cases against his wife and two sons. There are no outstanding cases against any members of his family.
On July 27, 2006, Trustnet (BVI) Ltd, which provides ‘customised corporate, trustee and fund administration and management services to private individuals,’ incorporated the company Hanseatic Ltd in the British Virgin Islands.
On that same day, Portcullis Trustnet appointed Kazi Zafarullah, at that time an Awami League lawmaker in a Faridpur constituency, along with his wife Nilufer, to be the first directors of the company.
The two directors then signed a resolution which made themselves joint shareholders and allowed them to set up a bank account at the Singaporean branch of the Swiss bank UBS AG. ‘The account be operated either by Zafarullah Kazi or Zafarullah Nilufer signing singly for an unlimited amount,’ the resolution stated.
In a Trustnet ‘due diligence’ form, seen by New Age, the two directors wrote that the ‘nature of business’ of the new company was for ‘investment purposes.’ A copy of Zafarullah’s passport which was provided with the form stated that his profession was ‘member of parliament.’
On the very same day, the two family members also became directors and shareholders of another British Virgin Islands company Pathfinder Finance Ltd, which had also been set up a month earlier by Portcullis Trustnet.
The information provided to the ICIJ suggests that this second company may have been dissolved before 2010.
On July 16 and 17, 2006, just 10 days before the married couple established these two offshore accounts, Zafarullah, according to charges drafted two years later by the Anti-Corruption Commission, withdrew a total of Tk 4.3 crore ($551,800) from the Banani branch of Premier Bank.
The charges, which were later quashed by the High Court, do not state what Zafarullah is alleged to have done with this money and the commission was unaware at the time that he owned any offshore companies.
At the end of 2008, in her disclosure to the Election Commission of her financial income and assets, Nilufer did not mention her ownership of either of these two companies or the holding of any foreign bank accounts.
On January 11, 2007, a state of emergency was announced and two years of caretaker government ensued which resulted in significant attention on Zafarullah’s financial affairs.
In April, the politician was detained and then shown arrested in relation to an extortion case and the Anti-Corruption Commission started investigating his financial affairs.
On July 26, 2007, Abdullah Erman Yousuf and Abdullah Ahsan Yousuf, the two sons of the politician’s sister Sabiha Mahboob and Abdullah Ahmed Yousuf, the sister’s husband, all of them living in New Zealand, became directors and joint shareholders of the British Virgin Island offshore company Assets Connexion Ltd. In September, Sabiha became a director.
With Zafarullah out on bail, but with cases proceeding against him, on April 15, 2008, Kazi Raihan Zafar, the younger son of Kazi Zafarullah, bought another offshore company, Elderstar Ltd, becoming its director and sole shareholder. One month later, on May 12, his mother Nilufer also became director of the company and on June 5, Raihan’s wife Fahra Murad, registering with an address in Toronto Canada, was also appointed.
Zafarullah told New Age that his son and his son’s wife live in Canada. It has not been possible to contact those of Zafarullah’s family members in Canada and New Zealand who became directors of offshore companies.
By now, Zafarullah was in effect absconding from court and not present to hear a special court sentence him to two years’ imprisonment for failing to submit a wealth statement. However, on November 27, 2008, the former lawmaker found time to become the sole director and shareholder of yet another British Virgin Island offshore company, Majestic Success Ltd.
Notes made by Portcullis Trustnet suggest that the offshore service agency may by then have become aware that Kazi Zafarullah was subject to allegations of corruption. On December 10, 2008, two weeks after Majestic Success was set up, Portcullis wrote a note on the account stating, ‘This case will now be handled as ENHANCED DUE DILIGENCE which means that every single event or transaction involving the transfer of funds in excess of US$10,000 must be notified to Compliance for their records. (If Compliance consider it necessary further enquiries may be made.)’
A similar note was made on the same date on the records of Hanseatic Ltd, set up two and a half years earlier.
In the charge sheet that subsequently alleged that Kazi Zafarullah was involved in money laundering, it was alleged that in 2005 he had distributed Tk 5 crore amongst 10 accounts belonging to some of the same family members, including his wife and his sister, who subsequently become directors of offshore companies.
http://www.newagebd.com/detail.php?date=2013-07-12&nid=56721#.UedZPo1JN9t

বিশ্বরেকর্ড...

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৩

মিজানুর রহমান: প্রস্তুত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দপ্তরের কর্মকর্তাদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বুকিং ছিল বিমান টিকিট ও হোটেলের। কুয়েত সিটি, জেদ্দা আর রিয়াদে ৬ দিন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর লাগেজ খোলা হয়নি। অপেক্ষায় ছিলেন কখন ডাক আসে সৌদি আরব থেকে। দেশটির একজন মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ বাকি রেখেই জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় ফিরেছিলেন দীপু মনি। কথা ছিল, অ্যাপয়েনমেন্ট হওয়া মাত্রই মন্ত্রী আবার রিয়াদ যাবেন! গত ২৩শে জুন, রোববার। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিনের ঘটনা এটি। মধ্যপ্রাচ্যের দু’টি দেশ সফর শেষে বিমানবন্দরে নেমে সরাসরি সেগুনবাগিচার পররাষ্ট্র দপ্তরে যান মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আগে থেকেই তার দপ্তরে বসা ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত বৈঠক সেরে মন্ত্রী তার দাপ্তরিক কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অধস্তনরা জানান, রাতেই আবার মন্ত্রীকে সৌদি আরব যেতে হতে পারে। সেভাবেই সব প্রস্তুত। সৌদি সরকারের ইনটেরিয়র মিনিস্টারের অ্যাপয়েনমেন্ট পেতে দেরি হওয়া ও ঢাকায় সংসদ অধিবেশন সহ অন্য কর্মসূচিতে যোগদানের বাধ্যবাধকতা থাকায় মন্ত্রী ফিরেছেন। অ্যাপয়েনমেন্ট হলেই তাকে আবার রওনা হতে হবে। রবি ও সোম দু’দিনেও সৌদি মন্ত্রীর অ্যাপয়েনমেন্ট না পাওয়ায় তৃতীয় দিনে (২৫শে জুন) তিনি প্যারিসের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি গত সাড়ে ৪ বছর এভাবেই কাটিয়েছেন। দলবল নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শহীদ মিনার উদ্বোধন, পুরস্কার গ্রহণ, সভা-সেমিনার, সিম্পোজিয়াম কিংবা একান্ত বৈঠক যে কোন দাওয়াতেই ছুটে গেছেন। এ নিয়ে সরকারের ভেতরে-বাইরে সমালোচনা হলেও স্বামীর বাঁশি শুনতে দিল্লি সফরটি বাতিল করা ছাড়া কখনওই তা গায়ে মাখেননি। শুরু থেকে এ পর্যন্ত একই ভাবে চালিয়েছেন তিনি। গত ৩ মাসে ৫৫ দিন দেশের আকাশ ও স্থল সীমানার বাইরে কাটিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে লন্ডনে ৩ দিন এবং বেলারুশে দেড় দিন ছাড়া বাকি সময় তিনি তার দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়েই ছিলেন। সাম্প্রতিককালে তার সবচেয়ে আলোচিত ছিল আজারবাইজান টু যুক্তরাষ্ট্র ভায়া সুইজারল্যান্ড যাত্রা। ১৩ই জুন নিউ ইয়র্কে ইউনেস্কোর উদ্যোগে সংস্কৃতি মন্ত্রীদের ওই আয়োজনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে একমাত্র তিনিই হাজির ছিলেন। সর্বসাকুল্যে ২০ মিনিটের একটি ফটো সেশনের জন্য বাকু থেকে টার্কিশ এয়ারের ফ্লাইটে সেখানে ছুটে যান তিনি। পড়ন্ত বিকালে জাতিসংঘ স্থায়ী মিশনে হালকা খাবার গ্রহণ করে সুইস এয়ার যোগে জেনেভার পথে রওনা হন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই উড়াল কূটনীতি নিয়ে তার অনুপস্থিতিতে সংসদে তুমুল আলোচনা হয়েছে। বলা হয়েছে, ঢাকায় নাস্তা, দিল্লিতে লাঞ্চ আর নিউ ইয়র্কে ডিনার করা পররাষ্ট্রমন্ত্রী অহেতুক বিদেশ সফরে গিয়ে জনগণের অর্থের অপচয় করছেন। পররাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট কর্তনের দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে গত বাজেট অধিবেশনে। দীপু মনির দপ্তর, তথ্য অধিকার আইনে প্রদত্ত বিবরণী ও ঘোষিত সফরসূচি মতে, প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে (২০০৯ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে বিদেশ সফর শুরু করেন) গত ৫৪ মাসে (১০ই জুলাই, ২০১৩ পর্যন্ত) ১৮৭টি সফর করেছেন তিনি। এই সময়ে প্রায় ৬০০ দিন দেশের বাইরে কাটিয়েছেন দীপু মনি। বিদেশ সফরে প্রতিবেশী কোন রাষ্ট্র তো নয়ই, এশিয়া, ইউরোপ আমেরিকার প্রভাবশালী পররাষ্ট্রমন্ত্রীদেরও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। ভারতের সদ্য সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা কিংবা পাকিস্তানের হিনা রব্বানি খার কেউই বিদেশ সফরে ১০০ পার হতে পারেনি। সদ্য বিদায়ী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন চার বছর মেয়াদে ১১২ দেশ সফরে গিয়ে ৩০৬ দিন বিদেশের মাটিতে কাটিয়েছেন। তার পূর্বসূরিদের অনেকে ২৫-৩০ দিন পর্যন্ত একটানা বিদেশ সফর করলেও কারই ৪০০ দিনের বেশি বিদেশে কাটানোর রেকর্ড নেই। এক মেয়াদে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশ সফর করে সবার রেকর্ড ভেঙেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। নয়া রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন মহাজোটের চমক মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী সদস্য ডা. দীপু মনি!

রহস্যজনক ভ্রমণ বিল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের শিক্ষার্থী শামীন হোসেন তার গবেষণার কাজে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশ সফরকারী দীপু মনির সফরের বিস্তারিত বিবরণ (উদ্দেশ্য ও ব্যয়সহ) চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেছিলেন। গত বছরের শুরুর দিকে তিনি আবেদনটি করেন। বেশ কাঠখড় পুড়িয়ে মধ্য জুনের দিকে তা হাসিল করতে সমর্থ হন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচার অনুবিভাগের মাধ্যমে ওই গবেষককে একটি বিবরণী সরবরাহ হলেও সেখানে প্রতিটি ভ্রমণে মন্ত্রীর সঙ্গে ক’জন সফরসঙ্গী ছিলেন, তাদের পেছনে রাষ্ট্রের কত অর্থ ব্যয় হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। ওই বিবরণীতে শুধুমাত্র মন্ত্রীর (২০০৯-এর জানুয়ারি থেকে ২০১১-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত) ৭৫টি প্যকেজ ট্যুর (সিঙ্গেল হিসাবে ১১২টি সফর)-এর হিসাব দেয়া হয়। ওই তিন বছরে বিমান ভাড়া, হোটেলের স্যুইট ভাড়া ও অন্যান্য ভাতা বাবদ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মন্ত্রীর একাউন্টে ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৬৪ হাজার ৯৫৯ টাকা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। ২০১২’র জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের ১০ই জুলাই পর্যন্ত মন্ত্রী আরও ৭৫টি সফর করেছেন। মন্ত্রণালয়ের বাজেট বিভাগ সূত্রের দাবি, সফরের মোট হিসাব মন্ত্রীর দপ্তরে সংরক্ষণ করা হয়। বিল-ভাউচার জমা দেয়ার জন্য এক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া আছে। নতুন অর্থ বছরের বিলগুলো ছাড়া সমুদয় বিল স্ব স্ব অর্থবছর থেকে সমন্বয় করা হয়েছে জানিয়ে বাজেট বিভাগের ওই কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রী এ পর্যন্ত কত দেশ ভ্রমণ করেছেন, সফরসঙ্গীর মোট সংখ্যা কত, তাদের যাতায়াত, আবাসন, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ইত্যাদিতে রাষ্ট্রের কত অর্থ ব্যয় হয়েছে তার খাতওয়ারি তথ্য চেয়ে একজন গবেষক আবেদন করেছেন। এর একটি হিসাব বিবরণী তৈরি হচ্ছে। বাজেট বিভাগের ওই কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক কোন হিসাব দিতে পারেননি। তবে তিনি গত মাসে মন্ত্রীর আলোচিত আজারবাইজান টু যুক্তরাষ্ট্র ভায়া জেনেভা ট্যুরের বিলের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ত্রিদেশীয় এ ট্যুরে মন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা প্রত্যেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা করে বিল দেখিয়েছেন। চারজন সার্বক্ষণিক তার সঙ্গে ছিলেন। তাদের প্রত্যেকের জন্য ইকোনমি ক্লাস ও হোটেলের সাধারণ রুম ছিল। কর্মকর্তা কিংবা অন্য সফরসঙ্গীদের চেয়ে মন্ত্রী কয়েক গুণ বেশি সুবিধা পান। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বিমানের ফার্স্ট ক্লাসে ভ্রমণ (না পেলে বিজনেস ক্লাস) ও হোটেলে মডারেট স্যুইট (প্রতি রাতের জন্য ২৯৫-৪২০ ডলার) ছাড়াও নগদ ভাতা, হাতখরচ, ট্রানজিট ভাতা, টার্মিনাল ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, প্রতিনিধি দলের দলনেতা হিসেবে আনুষঙ্গিক ভাতা, বিমানবন্দর কর বরাদ্দ দেয়া হয়। ত্রিদেশীয় এ ট্যুরে মন্ত্রীর তরফে প্রায় ১৬ লাখ টাকা বিল করা হয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এমন বিল প্রতি মাসে দু’তিনটি হয়। কাছাকাছি দেশে ভ্রমণের বিল তুলানামূলক কম হয় জানিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রীর একেকটি প্যাকেজ ট্যুরে (সফরসঙ্গীসহ) ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিল হয়। এসব বিল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে পুরোপুরি রহস্য। পছন্দের এক ট্রাভেল এজেন্সি থেকে সব সময় মন্ত্রী ও তার সফর সংশ্লিষ্টদের টিকিট কেনা হয়। বিশ্বের সবচেয়ে লাক্সারি বিমান এমিরেটস তার প্রথম পছন্দ। দীর্ঘ দিন এমিরেটসের রিজারভেশনে কাজ করেছেন এমন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, সরকারি বিধি মতে মন্ত্রী বা পদমর্যাদার ব্যক্তিদের যেভাবে টিকিট করা হয় সেখানে একবার লন্ডন যেতে (ঢাকা থেকে বিজনেস ক্লাস, দুবাই থেকে হিথ্রো ফার্স্ট ক্লাস) ন্যূনতম ৫ লাখ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। রুট ভেদে ফার্স্ট ক্লাস প্রিমিয়াম স্যুটের ভাড়া ৮-১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয় বলেও জানান এমিরেটস এর ওই কর্মকর্তা। এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হোটেল স্যুইটের ভাড়া মওসুম ভেদে কমবেশি হলেও তার কোন ছাপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা তার সফরসঙ্গীদের ভ্রমণ বিলে পাওয়া যায় না বলে দাবি করেন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা। তথ্য অধিকার আইনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম ৩ বছরের ভ্রমণের যে হিসাব প্রকাশ করেছেন সে প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের বাজেট বিভাগে দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন এমন এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, তা একান্ত তার নিজস্ব খরচ। তার বহরে থাকা দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের কর্মকর্তা, নির্বাচনী এলাকার লোক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের বিল সমপূর্ণ আলাদা। সব বিল এক সঙ্গে করলে তা ৪০ কোটিতে গিয়ে ঠেকবে। ক্ষমতা ছাড়া পর্যন্ত এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে তা ৫০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা দেন তিনি।

শেষ সময়ে সফর-ব্যয় বেড়েছে: দায়িত্ব গ্রহণের ২২ দিন পর থেকে বিদেশ সফর শুরু করেন দীপু মনি। প্রথম যান জেনেভায়। ২০০৯ সালে ৩৪ বার সফরে বের হন তিনি। পরের দুই বছরে এ সংখ্যা আরও বাড়ে। তৃতীয় বছরে তা ৪৪-এ গিয়ে দাঁড়ায়। চতুর্থ বছরে ৪৬। আর চলতি বছরে এ পর্যন্ত ২৯টি সফর সেরে ফেলেছেন। এখনও প্রায় তিন মাস সময় তার হাতে আছে। আগামী ২৫শে জুলাই প্রাইভেট ভিজিটে ৩ দিনের জন্য দিল্লি যাচ্ছেন তিনি। এটি তার ১৮৮তম সফর। সফরটির বিষয়ে মন্ত্রীর পিআরও মনিরুল ইসলাম কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ঘোষিত সিডিউল মতে, দিল্লি থেকে ফেরার পর তার সৌদি আরব, চীন, ইউক্রেন, মিয়ানমার (ভিভিআইপি), কোস্টারিকা, জাতিসংঘের ৬৮তম অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত সফরের কথা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বাজেট বিভাগে কর্মকর্তাদের মতে, শেষ সময়ে সফর সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনি ব্যয়ও বাড়ছে।

দ্বিপক্ষীয় সফর হাতেগোনা: বিগত সাড়ে চার বছরে মাত্র ১৭টি দ্বিপক্ষীয় সফরে গেছেন দীপু মনি। সর্বশেষ জুনের তৃতীয় সপ্তাহে দ্বিপক্ষীয় সফর করেছেন কুয়েত ও সৌদি আরবে। অবশ্য পশ্চিম ও মধ্যপ্রাচ্য অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, আজারবাইজানে একটি সম্মেলনে অংশ নেয়ার উদ্দেশ্যে মন্ত্রীর সফরটি হলেও সেখানে দ্বিপক্ষীয় উপাদান ছিল। এর আগে গত ৪ঠা জুন রিয়াদ সফরটিও দ্বিপক্ষীয় ছিল বলে দাবি তাদের। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্য এক কর্মকর্তা জানান, প্রতি বছর অনেক অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ আসে। যেগুলোতে মন্ত্রীপর্যায়ের অংশগ্রহণ তেমন জরুরি নয়। কিন্তু মন্ত্রী কারও পরামর্শ না নিয়েই তাতে যোগ দেন। এতে অনেক ক্ষেত্রেই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, কোথায় মন্ত্রীর যাওয়া উচিত আর কোথায় অনুচিত তা পররাষ্ট্র সচিব ও সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালকদের ঠিক করার রেওয়াজ। কিন্তু দীপু মনি তা একেবারেই মানেন না। তিনি নিজের সিদ্ধান্ত বরাবরই নিজে নেন। বিগত দিনে যে অনুষ্ঠানে যেতে চেয়েছেন তা চূড়ান্ত করে অধস্তনদের জানিয়ে দিয়েছেন। আর যেখানে যেতে চাননি তার জন্য পরামর্শ করে অন্য কাউকে পাঠিয়েছেন কিংবা বাদ দিয়েছেন।

ফাইলও বিদেশ ঘুরে, সিদ্ধান্ত পেতে রজনী পার: বিদেশ সফরে ব্যস্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফাইল দেখার সময় নেই। বিমানবন্দর থেকে বাসায় অফিস কিংবা বাসায় আস-যাওয়ার সময়টুকু বরাবরই কাজে লাগান কর্মকর্তারা। রেওয়াজ মতে, পররাষ্ট্র সচিব ও দেশে থাকা মন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তাদের তার আগমন ও প্রস্থানকালে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য প্রস্তুতকৃত সারসংক্ষেপ কিংবা নিয়োগ-বদলি, পদায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো আগে থেকে পররাষ্ট্র সচিবের স্বাক্ষর নিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়। যাতায়াত পথে, বাসায় কিংবা বিমানবন্দরে তাতে সই নেয়া নয়। ঘনিষ্ঠরা জানান, কোন কারণে দেশে ফাইল দেখা সম্ভব না হলে মন্ত্রী তা সঙ্গে নিয়ে যান। সে ক্ষেত্রে তার ফেরত আসা পর্যন্ত ফাইল বিমানে বিমানে ঘোরে। এদিকে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহাপরিচালকরা তাকে বিভিন্ন কাজে সরাসরি মেইল করে সিদ্ধান্ত চান। এ ক্ষেত্রেও ভোগান্তি পেতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে মন্ত্রী মেইলেই সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য মন্ত্রীর বিমান থেকে নেমে হোটেলে পৌঁছা এবং ফ্রেশ হয়ে মেইল চেক করা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয়। সময়ের ব্যবধান থাকায় বেশির ভাগ সময় মধ্যরাতে জবাব মেলে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত শেষ রাত কিংবা রজনী পার হয়ে যায় বলেও জানান এক কর্মকর্তা।

অর্জনের ঝুলি শূন্য: সরকারের সাড়ে চার বছরে ২০ বার লন্ডন সফর করেছেন দীপু মনি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ‘সুনির্দিষ্ট’ কোন কর্মসূচি ছিল না সেখানে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে গেছেন দু’বার। বাকি সময় প্রইিভেট ভিজিট। তবে সবচেয়ে বেশি সময় গেছেন তার সন্তানকে সঙ্গ দিতে। অবশ্য তার দপ্তরের সাবেক এক কর্মকর্তার (বর্তমানে বিদেশ মিশনে পোস্টিংয়ে) দাবি, যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকাতে মরিয়া জামায়াত-শিবিরের যুক্তরাজ্য ভিত্তিক প্রচারণা ঠেকাতে তিনি বার বার লন্ডন সফর করেছেন। মন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাওয়া নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, হাতেগোনা ক’টা দ্বিপক্ষীয় সফর করেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে গেছেন ৪৪টি ভিভিআইপি সফরে। এর মধ্যে চলতি বছরে প্রধামন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়া, থাইল্যান্ড, লন্ডন ও সর্বশেষ পূর্ব ইউরোপের দেশ বেলারুশ। সদ্যপ্রয়াত প্রেসিডেন্ট গত আগস্ট থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন দফা চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর ও লন্ডনে গেছেন। বেশ ক’দিন বিদেশের মাটিতে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেও কোথাও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেখা যায়নি। এই দিনগুলোতেও তার সফর থেমে ছিল না। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ১৬বার যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন দীপু মনি। ওবামা প্রশাসনের সাবেক ও বর্তমান দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। সিনেট কংগ্রেসম্যানদের সঙ্গে বৈঠকেও গেছেন তিনি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এক চুলও এগোয়নি বরং নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক সরকারের রোষানলে থাকায় বরাবরই ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র। হিলারি ঢাকায় এসেও উদ্বেগ জানিয়ে গেছেন। বাংলাদেশের শ্রমমান ও শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ছিল এবং আছে। বিষয়গুলো নিয়ে বার বার সতর্কতা ও নোটিশ করার পর সমপ্রতি দেশটির বাজারে বাংলাদেশী পণ্য প্রবেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ওবামা প্রশাসন। এবার ইউরোপের বাজার নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও দীপু মনির সমপ্রতি জেনেভা সফরে ইইউ’র তরফে শর্ত জুড়ে দিয়ে শ্রমমান উন্নয়নে বাংলাদেশের পাশে থাকার ঘোষণা এসেছে। কেবল এই ইস্যু নয়, এর আগেও ১১ বার সুইজারল্যান্ড, ৪ বার জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সিরিজ সফর করেছেন দীপু মনি। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাই প্রোফাইল সফর বিনিময় ছাড়াও কমপেক্ষে ৯ বার এককভাবে ভারত সফরে গেছেন দীপু মনি। বাংলাদেশের বড় উদ্বেগ সীমান্ত হত্যা আজও বন্ধ হয়নি। দেশটির সঙ্গে সম্পাদিত সীমান্ত চুক্তি ও প্রটোকলের বাস্তবায়ন তো দূরে থাক লোকসভার অনুমোদনও আজ পর্যন্ত মিলেনি। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিতে ভারতের তরফে কোন সাড়া না পেলেও বরাবরই দীপু মানি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা সম্পাদনের বিষয়ে আশাবাদী। সব প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার পর আগামী সপ্তাহে ‘ইনফরমাল ডিপ্লোমেসি’ করতে তিনি নয়া দিল্লি যাচ্ছেন। শোনা গেছে, প্রাইভেট ভিজিট হলেও তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়েছেন। বিশ্বের খুব কম দেশই বাদ গেছে দীপু মনির সফর তালিকা থেকে। ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক মিয়ানমার, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, মিশর, চীন, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা, পর্তুগাল, ভুটান, ইতালি, জাপান, ইরান, কাজাখস্তান, নেদারল্যান্ডস, ভিয়েতনাম, নরওয়ে, কোবা, সাউথ আফ্রিকা, সিরিয়া, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো ডেনমার্ক, মরিশাস, ফিলিপাইন, নেপাল, তাজিকিস্তান, জিবুতি, ব্রাজিল, উগান্ডা, বেলজিয়াম, স্পেন, কানাডা, লিথুয়ানিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ওমান, তুর্কমেনিস্তান, ব্রুনাই দারুস সালাম, লাটভিয়া- কোথায় যাননি তিনি। ন্যূনতম একবার ঊর্ধ্বে ৪-৫ বার পর্যন্ত গেছেন একেকটি দেশে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তিনি রীতিমতো চষে বেড়িয়েছেন। মিশন কর্মকর্তারা তার খেদমতে অর্থকড়ি ও সময় ব্যয় করেছেন। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, জনশক্তি রপ্তানি কিংবা কাঠামোগত সংস্কার বা অর্জন- কাজের কাজ কিছুই হয়নি। জনশক্তি রপ্তানির নতুন বাজার সৃষ্টি তো নয়ই, পুরনো বাজারও হাতছাড়া হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সৌদি আরবে আকামা পরিবর্তনের সুযোগ দিয়েছে দেশটির সরকার। তবে ভিসার জন্য কবে উন্মুক্ত হবে তা কেউই জানে না। এত সফরের পরও অর্জনের ঝুলি শূন্য থাকার অভিযোগ মানতে নারাজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা। তাদের মতে, দীপু মনি পথ দেখিয়েছেন। তার দেখানো পথ ধরেই সফলতা আসবে। সেই পর্যন্ত দেশবাসীকে অপেক্ষায় থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

সংসদ না ভাঙলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ হবে: চলতি বছরেই দীপু মনির বিদেশ সফরের ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ হবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মতে, আগামী ২৪শে অক্টোবর সংসদ ভেঙে দেয়া হবে। ওই দিন মন্ত্রীরাও পদত্যাগ করবেন। যদি তা না হয় তাহলে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বিদেশ সফরের ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ হবে ১১ই নভেম্বর। খসড়া সিডিউল মতে, ২০০তম সফরে ওই দিন এশিয়া-ইউরোপ মিটিং (আসেম)-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে তিনি দিল্লি যাবেন। অবশ্য তার আগে আরও এক ডজন সফর করবেন দীপু মনি। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন উত্তর দিতে রাজি হননি।
http://www.mzamin.com/details.php?nid=NjI5NjY=&ty=MA==&s=MTg=&c=MQ==

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla