Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

নদীর নামে নাম...নাম তার পদ্মাসেতু

Padma Bridge Crruption
যে হারে যোগানদাতার আবির্ভাব ঘটছে তাতে পদ্মা সেতু নিয়ে সরকার বোধহয় নতুন এক ঝামেলা পাকাতে যাচ্ছে। খবরে প্রকাশ, কেবল আমিরাতের প্রবাসী বাংলাদেশিরাই ৩০০ কোটি ডলার অর্থ সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রায় একই সময় ১০০ কোটি ডলার সমমূল্যের ঋণ নির্দ্দিষ্ট খাত হতে সরিয়ে সেতু খাতে বিনিয়োগ করলে প্রতিবেশী দেশ ভারতের আপত্তি থাকবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছে। সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এক দিনের বেতনও একই খাতে জমা হতে যাচ্ছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে ঢল নামা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। যোগাযোগ মন্ত্রী আবদুল কাদের একধাপ এগিয়ে অন্য কেউ ট্রেন ধরতে দেরি করলে মালয়েশিয়ান বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। চুক্তির ব্যাপারে কথাবার্তা অনেকদূর এগিয়েছে এবং তাদের প্রস্তাবিত ’মুড অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং' মন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিচুস্বরে হলেও একই কাতারে চীন, ইউনাইটেড আরব আমিরাত সহ বেশ কটা দেশ শামিল হতে চায় বলে আওয়াজ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ১১ই জুলাই অর্থমন্ত্রণালয় হতে নতুন করে চিঠি দেয়া হয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা) ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংককে। প্রতিশ্রুত অর্থের চাইতে বেশি অর্থ যোগান দেয়ার অনুরোধটা মুলত অর্থমন্ত্রীর। তিনি বার বার বলছেন নিজেদের ভুল বুঝে একসময় বিশ্বব্যাংকও ফিরে আসবে বিনিয়োগকারীদের কাতারে। ব্যাপারটা কি দাঁড়াচ্ছে তাহলে; সেতু একটা অথচ বিনিয়োগকারী কাঁড়ি কাঁড়ি। এখানেই প্রশ্ন উঠবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের (খালেদা জিয়া দ্রষ্টব্য)।

বিনিয়োগকারীর কাফেলা দেখলে মনে হবে বাংলাদেশের জন্যে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যোগানো এখন হাতের মোয়া। জ্বালাময়ী একটা ভাষন, একটা মোবাইল নাম্বার ও হটমেইল একাউন্টের একটা ই-মেইলই যথেষ্ট এই অংক পদানত করতে। আসলেই কি তাই? সেতুর প্রাক্কলিত মূল্য যা ধরা হচ্ছে তা মুদ্রাস্ফীতির কারণে ৫ বছর পর কোথায় গিয়ে ঠেকবে তার সম্যক ধারণা নিতে প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ হবে দুয়েকজন দেশীয় ঠিকাদারের সাথে কথা বলা, যারা দেশের আনাচে কানাচে কাজ করে জীবন ধারণ করছে। এ প্রসঙ্গে অনেকদিন আগের একটা ঘটনা না বললেই নয়। অফিসের কাজে নঁওগা হতে বগুড়া হয়ে ঢাকা ফিরছি। পথে দেখা হল জাতীয়তাবাদীদের বিশাল গণজমায়েতের। মাইলের পর মাইল রাস্তা আটকে অপেক্ষা করছে প্রিয় নেতা তারেক জিয়ার আগমনের। একটু পর পর হরেক রকম তোরণ আর হাজার রকম বাহারী ফেষ্টুন। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হতে শুরু করে জেলা কমিশনারের শুভেচ্ছা বার্তা পর্যন্ত শোভা পাচ্ছে আকাশে বাতাসে। খুব আগ্রহ নিয়ে ফেষ্টুনের ভাষা পড়ছি আর মনে মনে সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা করছি কোত্থেকে আসে এসব আবেগ। পাশে বসা সহযাত্রীর কাছে প্রশ্নটা ছুড়ে দিতেই এ নিয়ে বেশকিছু চমকপ্রদ তথ্য তুলে ধরলেন তিনি। একেক জনের শুভেচ্ছা বাণীর পেছনে উদ্দেশ্য ও বিধেয় কি তার বিস্তারিত বর্ণনা দিলেন। কারও দরকার দলীয় মনোনয়ন, কারও পদ, কারও আবার প্রমোশন, ঠিকাদারদের দরকার বড় ব্যবসা, ব্যবসায়ীর প্রয়োজন মুনাফার অবাধ লাইসেন্স আর সরকারী কর্মকর্তাদের প্রয়োজন পদোন্নতি, এসব চাওয়া পাওয়ার প্রকাশ্য ডিসপ্লের অপর নামই নাকি এই তোরণ ফেস্টুন খেলা। দিন শেষে কার পকেট কতটা ভারী হয়েছিল তার খবর পাইনি, কিন্তু এটুকু বুঝেছি বাঁচতে গেলে আমাদের দেশে এসবের বিশেষ কোন বিকল্প নেই। একই কায়দায় পদ্মা সেতু নিয়েও শুরু হয়েছে প্রচার আর বাণীর জোয়ার। যারা আজ কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাঠ গরম করছে তাদের সবাই দলীয় আউলিয়া। ক্ষমতার পালাবদলের সাথে তারা যে অথিতি পাখির মত সাইবেরিয়া ফিরে যাবেন না তারই বা নিশ্চয়তা কোথায়? ১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি হাত আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে যারা ৩ বিলিয়ন ডলার ম্যান সাজার চেষ্টা করছেন তারা বোধহয় ভুলে গেছেন মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বিশ্বসমাজের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। ভারতীয় সেনা আর রুশ অস্ত্রের সাথে আমাদের তীব্র আকাঙ্খার সমন্ব্বয় হয়েছিল বলেই দেশ হতে পাকিস্তানীদের বিদায় করা গিয়েছিল। বাস্তবতা এড়িয়ে চাটুকারীতায় যারা পদ্মাসেতু গড়তে চাইছেন তাদের উচিৎ হবে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষমতা নিয়ে আরও একটু পড়াশুনা করা। উন্নত বিশ্বের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়ে গ্লোবাল অর্থনীতির দুনিয়ায় টিকে থাকার চেষ্টা এক কথায় আত্মঘাতী। তার সাথে দুর্নীতি নামক ন্যাশনাল কলেরা যোগা করা গেলে পদ্মা সেতুর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও আঁচ করা সম্ভব।

দুর্নীতিতে পরপর চারবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আমরা। এখানে সরকার প্রধান হতে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদের কেরানী পর্যন্ত কারা দুর্নীতিগ্রস্ত নয় তাদের খুঁজে পেতে দরকার হয় শক্তিশালী দূরবীনের। এমন একটা দেশের একজন মন্ত্রীর নামে কমিশন দাবির অভিযোগ উঠতেই গর্জে উঠলেন সরকার প্রধান। তদন্ত দুরে থাক উলটো অভিযোগকারীদের ধমক দেয়া শুরু করলেন। অভিযোগ নাকি অপমান, তাই অপমানের বদলা নিতে নিজ হাতে পদ্মা সেতুর পাথর সুরকি বসানোর আওয়াজ তুলেছেন। এ আওয়াজের সাথে শেয়ালের হুক্কাহুয়া ডাকে গলা মেলাচ্ছে দলীয় উজির নাজির আর কোতয়ালের দল। অসময়ের এসব অলীক কথাবার্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আর যাই হোক একটা কাজ সফল ভাবে বাস্তবায়ন করেছেন, ব্যর্থতার ধামা চাপা। সাগর-রুনী হত্যা, ইলিয়াস আলী গুম, সৌদি কূটনীতিবিদ হত্যা, সুরঞ্জিত বাবুর ৭০ লাখ, নদী নালা খাল বিলে বেওয়ারিশ লাশের মিছিল, ছাত্রলীগের দলন মথন, ইত্যাদি এবং ইত্যাদি। দেখার বিষয় পদ্মাসেতু নামের শূন্য কলস বাজিয়ে সরকার কতদিন জাতিকে এ নেশায় ব্যাস্ত রাখতে পারে। পদ্মাসেতু শেষপর্যন্ত বিশ্বব্যাংকই বানাবে, আর কেউ না হোক সরকারের অর্থমন্ত্রী তা ভাল করে জানেন। আর এ জন্যেই তিনি গোপনে দেনদরবার চালিয়ে যাচ্ছেন ইজ্জত বাজি রেখে।

Comments

Global hunt to trace Padma bridge scam

M. Shahidul Islam in Toronto

The tantalizing Padma bridge construction scandal is rolling more heads and snatching sleeps of many bigwigs across the globe. A global hunt is on to trace the trail of huge sums of money, to the tune of $35 million, alleged to have been paid as kickbacks to a number of Bangladeshis by the Montreal-based SNC-Lavalin company which was contracted to act as a consultant for the $2.9 billion mega project.

The hunt follows the launching of an investigation in early last year by the Royal Canadian Mounted Police (RCMP) against the concerned SNC-Lavalin officials, as well as the beneficiaries of the kickbacks in and outside Canada. The tentacles of investigation have spread further since an eight-member RCMP team had travelled to Dhaka and had held meeting on June 26 with officials from Bangladesh’s Anti-Corruption Commission (ACC) to share their findings relating to the kickback allegation involving the 6.5 km - long bridge construction project.

In North America, law enforcers are investigating a number of US companies; including the Infolink International, Nova BD International LLC, SEAMEWE-4 undersea cable, Tyco Communications (USA), Wazed Consulting and Sim Global Services. “The trail of the ill-gotten fund is being traced in huge real estate investment too,” confirmed a reliable source, insisting on anonymity. The investigators are honing into the source of fund used to pay outstanding mortgages for two comfy houses: one at 3817 Bell Manor Court, Falls Church, Virginia, and the other at 4823 Martin Street, Alexandria (VA 22312).

The investigators are also chasing the trail of an investment of about Can$8 million in the acquisition of six dollar stores and other assets in the Greater Toronto Area (GTA) by two Bangladeshi businessmen linked with the scam. The Canadian investments have changed ownership since the launching of the RCMP investigation, it was learnt. Earlier, the World Bank claimed that it was in possession of credible evidence and had shared the evidence with the Bangladesh authorities with respect to the bona fide of the crime. Citing concerns over the lingering inactivity of the Bangladesh government in investigating and taking appropriate actions against the recipients of the alleged kickbacks, the WB scrapped a $1.2 billion loan for the project on June 30.

Within Canada, the scandal has become a challenging assignment for the authorities. Since the launching of the RCMP investigation at the behest of the World Bank in February 2011, the authorities laid formal charges against SNC-Lavalin’s former chief executive, Pierre Duhaime, and two of the project executives - Ismail Hossain (a Bangladeshi Canadian) and Ramesh Shah (an Indo-Canadian).

A high-profiled Canadian Senator, Hugh Segal, who has been a long time member of SNC-Lavalin’s Board of Directors, has also resigned abruptly from the company’s directorship following the RCMP crackdown. Segal is a member of the Senate’s Foreign Affairs and Anti-Terrorism committees. Although an independent confirmation could not be made whether Segal too is under investigation or not, a reliable source confirmed that at least four Canada-based Bangladeshis are being investigated upon, two of them close relatives of some very high-ups in Bangladesh. Earlier, Canadian authorities have impounded the passports of the two relatives of the Bangladeshi politician to prevent them from leaving Canada, but the duo had left the country three weeks ago with their Bangladeshi passports. The RCMP is unwilling to comment about the passport seizure saga, the case being under investigation and judicial proceedings. The Holiday, however, has learnt that the two relatives of the Bangladeshi high-ups are in Dhaka and their sprawling, pricy residence in a Toronto suburb is being manned by friends and party loyalists.

Meanwhile, Mohammed Ismail and Ramesh Shah, arrested on February 20, are still languishing in prison as their bails have been denied. The duo have had their fourth court appearance on June 25 since they were detained and charged formally on April 11 under subsection 3(1) of Canada’s Corruption of Foreign Public Officials Act for exerting influence and offering bribes to foreign officials to secure business. Within Bangladesh, the alleged beneficiaries of the kickback include former communications minister (later minister for Information and Communications Technology) Syed Abul Hossain, former state minister for foreign affairs, Abul Hasan Chowdhury, former secretary of the bridges division of the communications ministry, Mosharraf Hossain Bhuiyan, former director of Padma Multipurpose Bridge project, Rafiqul Islam, three high-profiled businessmen with stakes in the project, and, a ruling party MP.

http://www.weeklyholiday.net/Homepage/Pages/UserHome.aspx

র‍্যাব বাংলাদেশের‘ডেথ স্কোয়াড’

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটির শুনানি

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিষয়ক সিনেট কমিটির শুনানিতে আবারো র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সমালোচনা করা হয়েছে। শুনানিতে অংশ নিয়ে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর জন সিফটন শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম হত্যার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, দেশের ভেতরে কাজ করা মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে র্যাব হয়রানি করছে। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, মানবাধিকার সংগঠন, গণমাধ্যম, ব্যবসায়ী ও অন্যদের উচ্চপর্যায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। শুনানিতে উত্থাপিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন টম ল্যান্টোস হিউম্যান রাইটস কমিশন ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সিনেট কমিটির শুনানিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী বেসামরিক সরকারের চেয়ে বেশি ক্ষমতাধর। এছাড়া বাংলাদেশে ভয়ানকহারে গুমের সংখ্যা বাড়ছে। বিরোধী দলের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। শুনানিতে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সমালোচনার পাশাপাশি গত সাড়ে ৩ বছরে সরকারের কয়েকটি ভালো উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের টম ল্যান্টোস হিউম্যান রাইটস কমিশন নামের ওই সিনেট কমিটির শুনানির সময় কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও কংগ্রেস সদস্য জেমস পি ম্যাকগভার্ন এবং কো-চেয়ারম্যান ও কংগ্রেস সদস্য ফ্রাঙ্ক আর উলফ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেকসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় অনুষ্ঠিত ‘হিউম্যান রাইটস ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামের ওই শুনানিতে বলা হয়, বাংলাদেশে নির্যাতন, বেআইনি গ্রেফতার ও নারী নির্যাতনসহ নানা অপরাধ বেড়েই চলেছে। কিন্তু এসব অপরাধে জড়িত থাকলেও র্যাবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তারা দায়মুক্তি উপভোগ করছে।

শুনানিতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে সিফটন বলেন, ‘চরম অত্যাচারী’ সেনা সমর্থিত সরকারের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু এখনও বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবস্থা করুণ। এর প্রধান কারণ দেশটির সেনাবাহিনী বেসামরিক সরকারের চেয়ে ব্যাপক ক্ষমতা রাখে। মানবাধিকার নিয়ে কেউ কথা বললে তাকে সরকার বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করে এবং একে সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করে থাকে।

শুনানিতে র্যাবের কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়, ‘আমরা তাদের ডেথ স্কোয়াড নামে ডেকে থাকি।’ ক্রসফায়ারের নামে তারা লোকজনকে হত্যা করছে। এ সময় জানানো হয়, বাংলাদেশে সুশীল সমাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এবং এর সম্পাদক আদিলুর রহমান খানের ওপর সরকার কড়া নজরদারি বজায় রেখেছে।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের সমালোচনা করে শুনানিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে সংঘটিত ওই অপরাধের প্রধান ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। কিন্তু ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে তাদের বাদ দেয়া হয়েছে। শুনানিতে হতাশা প্রকাশ করে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দিকে সাক্ষ্য হিসেবে নিয়েছে আদালত।

সরকারের কয়েকটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে শুনানিতে বলা হয়, গত প্রায় সাড়ে তিন বছরে বর্তমান সরকার বেশ কিছু ভালো পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশের ভেতরে সহিংসতা বিরোধী আইন, নারী অধিকার বিষয়ক জাতীয় নীতি ইত্যাদি। তারা সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের অধিকার রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০১১ পাস করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা পাস করেছে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন ২০১২।
http://new.ittefaq.com.bd/news/view/114841/2012-07-21/1

পদ্মা সেতু চাঁদার ভাগ নিয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত

পদ্মা সেতু চাঁদার ভাগ নিয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত ১ : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সভায় তদন্ত কমিটি গঠিত

পদ্মা সেতু নির্মাণের নামে আদায়কৃত চাঁদার টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আবদুল্যাহ আল হাসান সোহেল (২৪) নামে এক ছাত্রলীগ নেতা মারা গেছে। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণে আদায়কৃত চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাদার বখশ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের মাঝামাঝি জায়গায় কথাকাটাকাটির জের ধরে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীদের মাঝে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহত ছাত্রলীগ কর্মী আবদুল্যাহ আল হাসান সোহেল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয়বর্ষের ছাত্র (এতো বছর ড্রপ দেয়া) ও ছাত্রলীগের হল প্রস্তুত কমিটির শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক হল শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক, সামনের নতুন কমিটির সম্ভাব্য একমাত্র সভাপতি পদপ্রার্থী এবং সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের সমর্থক। তার বাসা রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের সাবদী গ্রামে। চার ভাইবোনের মধ্যে সোহেল সবার বড়। তার পিতা আবদুস সালাম পেশায় একজন আমিন (ভূমি পরিমাপক) ও মা সানজেলা বেগম গৃহিণী। সে শেরবাংলা হলের ৩০৭ নম্বর কক্ষে থাকত।
দু’গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির পর রাত দেড়টা থেকে ভোর পর্যন্ত ওই দুটি হলে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু দেশি অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করলেও ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মীকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। আবারও যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে শিক্ষার্থীরা।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে : দীর্ঘদিন পর গত ২৬ জুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ১৫৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর থেকে সভাপতি আহম্মেদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক আবু হুসাইন বিপু গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে অধিপত্য বিস্তার নিয়ে মতবিরোধ শুরু হয়। সম্প্রতি পদ্মা সেতুতে সরকারের দুর্নীতির পর বিশ্বব্যাংক মুখ ফিরিয়ে নিলে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেয়ার পর গত সপ্তাহে ঘটাও করে রাবি ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য চাঁদা তোলা শুরু করে। সভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরা পদ্মা সেতুর নামে আদায় করা টাকার অধিকাংশই হরিলুট করে সামান্য কিছু জমা দিচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীরা সভাপতি গ্রুপের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করে।...
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2012/07/17/154812

পদ্মা সেতুতে অর্থ দেওয়ার ঘোষণায় জগন্নাথে ক্ষোভ

পদ্মা সেতু নির্মাণে এক কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়ন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার বেলা একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ভাস্কর্যের সামনে এই সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার পাশাপাশি পরিবহন-সংকট লেগেই আছে। অথচ এসব সমস্যার সমাধান না করে পদ্মা সেতু নির্মাণে এক কোটি টাকা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের নামে বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে বিপুল অঙ্কের এই টাকা। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই এক কোটি টাকা দেওয়ার ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্র ইউনিয়নের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফারুক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, শিক্ষার্থী প্রণোত দাশ গুঞ্জন প্রমুখ। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সিন্ডিকেট সভায় পদ্মা সেতু নির্মাণে এক কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-07-15/news/273896

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla