Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

কত জনের কত কথা

 photo 29_zps19f527e8.jpg

ঘটনা ১)

সময়টা অধুনা রাজনীতির উচ্চমূল্যের বেশ্যা হোমো এরশাদের আমল। চারদিকে মন্ত্রী এম্পিদের ভরা যৌবন। উন্নতির জোয়ারে ভাসাতে গিয়ে দেশকে ওরা বেশ্যার শয়নকক্ষে ইজারা দেয়া সম্পূর্ণ করেছে কেবল। যাদের জানা নেই তাদের জেনে রাখা ভাল, এই দেশপসারীনির শয়নকক্ষেই তখন নির্ধারিত হত দেশের উন্নতির সূচক। সদ্য সংগৃহীত কথিত বিরোধী দলের ভাঁড় রওশন আর তার স্বামী হোসেন মোহম্মদের মধ্যে শারীরিক লেনাদেনা শয়নকক্ষে কতটা সক্রিয় ছিল কেউ জানতে না পারলেও আর্থিক লেনাদেনার মূল্যটা জানা ছিল প্রায় সবার। উন্নয়ন প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার আগে প্রথমে পেশ করা হত দুই বেশ্যার বিছানায়। এখানেই চলত দরকষাকষি। বাংলাদেশের বৃহৎ ও মাঝারি ধরনের কোন প্রকল্পই তাদের শয়নকক্ষ না হয়ে আলোর মুখ দেখতে পারেনি। বিদেশি অর্থায়নে মাতৃভূমির শরীর ভোগের কমিশন সরাসরি চলে যেত পতিতার বিদেশি একাউন্টে। লোকাল কমিশন হাঁটাহাঁটি করত রওশনের শরীরে। মান-অভিমান, হুমকি এবং দরাদরি শেষে সিদ্ধান্ত উপনীত হতে পারলেই কেবল প্রকল্পের হাঁটাচলা সক্রিয় হত। এর বাধ্যবাধকতা হতে নিজ সিপাহসালারাও মুক্ত ছিলনা। কাজী জাফর ও জামাল হায়দারদের মত বড় বড় মাছদের উত্থান ও বিবর্তনের কাহিনী ঘাঁটলে শোনা যাবে লম্বা দীর্ঘশ্বাসের কাহিনী। এক অর্থে শয়নকক্ষের কমিশন ছিল হোমোর অবৈধ যৌন জীবনের কাফফারা। ভাঁড় রওশনেক আর্থিক দন্ড দিয়ে কিনে নিতেন পুরুষাঙ্গের স্বাধীনতা। এসব অন্য এক অধ্যায়, অন্য এক পর্ব, যার সাথে এ লেখার কোন সম্পর্ক নেই। তো এমনি এক সময়ের ঘটনা।

পৃথিবী জুড়ে রাজত্ব করছে এইচআইভি ও এইডসের আতংক। অজানা অচেনা এই রোগের প্রতিকার নিয়ে শঙ্কিত উন্নত বিশ্ব। ফ্রেডি মারকারির মত বড় তারকাদের গোপন যৌন জীবনের চমক নিয়মিত উন্মোচিত হচ্ছে প্রচার মাধ্যমে এবং এইচআইভি ও এইডসের জন্য দায়ী করা হচ্ছে বিকৃত যৌন মানসিকতা। হতে পারে হোসেন মোহম্মদ নিজেও চিন্তিত। তার চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণও ছিল। তাই একদিন সকালে নিজ দরবারে তলব করলেন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গবুচন্দ্র মন্ত্রীকে। আদেশ দিলেন জরুরি ভিত্তিতে এর উপর সচেতনতা তৈরি করতে। যে কথা সে কাজ। গবুচন্দ্রের নির্দেশে মন্ত্রণালয় আয়োজন করল বিশাল এক সেমিনারের। পোলাও-কোর্মা, কালিয়া-জর্দার পাশাপাশি কিছু সাদা চামড়ার বিশেষজ্ঞকে হাজির করা হল ওজন বাড়াতে। গবুচন্দ্রের সভাপতিত্বে সেমিনার শুরু হল। বক্তাদের অনেকেই বললেন, আন্তর্জাতিক গণ্ডি পেরিয়ে এইচআইভি/এইডস এখন বাংলাদেশেই আস্তানা গাড়তে শুরু করেছে। সেমিনারের শেষ বক্তা হিসাবে বক্তব্য দিতে দাঁড়ালেন জনাব গবুচন্দ্র। আয়োজকদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ দিলেন। উপস্থিত স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের কাছে সরকারের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। এবং তারপর যা বললেন তাতে চমকে উঠলো সেমিনারের দর্শক শ্রোতাগন। আলোড়ন উঠল চারদিকে। তিনি বললেন: ‘আমার মহান নেতা, পল্লী-বন্ধু ও দেশীয় উন্নতির সিংহ-পুরুষ হোসেন মোহম্মদ এরশাদের কারণেই এখন আর বিদেশে নয়, দেশেই তৈরি হচ্ছে এইচআইভি। আগামীতে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে এই মূল্যবান সম্পদ।‘

ঘটনা ২)

সময়টা ৫ই জানুয়ারির অবৈধ নির্বাচনের জারজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমল। ওয়ান-ওম্যান শো মন্ত্রীসভায় জায়গা পেতে অথবা তা ধরে রাখতে চাই ভগবানজীর লাগামহীন বন্দনা। কাজটা করতে গিয়ে অনেকেই অনেক কিছু বলছেন। কেউ দিনকে রাত, রাতকে দিন বানিয়ে শ্রী শ্রী ভগবানের চরণতলে এমন সব সুপদ্যয় প্রসাদ দিচ্ছেন যা হজম করতে প্রয়োজন হচ্ছে বিশেষ উদরের। তেমনি এক তৈলাক্ত প্রসাদ দিতে গিয়ে তথাকথিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহম্মদ নাসিম বললেন: ’দুনিয়ার কোথাও ছুটির দিনে চিকিৎসক পাওয়া যায়না। কেউ মরে গেলেও চিকিৎসক আসেনা’। ফুট লং সাব-ওয়ের এই নপুশংক স্যামৌইচ গোটা পৃথিবীকে দেবী পূজার বলি বানিয়ে এমন এক তথ্য উপহার দিলেন যার সহজ অর্থ হবে ভগবানজীর বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে ছুটির দিনেও চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়। অবশ্য এই পূজারী স্বদেশে চিকিৎসক কর্তৃক রুগী ধোলাই, অথবা আন্দোলনের নামে গোটা চিকিৎসা খাত গুম করার কথা বুঝাতে চেয়েছেন কিনা তা পরিষ্কার করেন নি।

ঘটনা ৩)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের কোন এক শহর। সময় প্রেসিডেন্ট ওবামা দ্বিতীয় টার্মের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন কেবল। নির্বাচনী উত্তাপ ইতিমধ্যে থিতিয়ে এসেছে। কর্মী ও ভোটাররা ফিরে গেছে নিজ নিজ জীবনে। আমার একমাত্র সন্তান লিয়ার বয়স ছয় মাস কেবল। দিনটা শনিবার। সকাল হতেই লিয়ার শরীরটা ভাল যাচ্ছিল না। গা গরম, সাথে সর্দি। দুপুরের দিকে শরীর আরও খারাপ হতে থাকল। গিন্নী এবং আমি দুজনেই উদ্বিগ্ন। এক পর্যায়ে গিন্নীর মনে হল লিয়া শ্বাস ফেলছে না। ভয়ে আতংকে চীৎকার করে উঠল সে। সাত পাঁচ না ভেবে আমি ৯১১’এ ফোন করলাম। সেকেন্ডের মধ্যে একজন জানতে চাইল আমার জরুরি প্রয়োজনটা কি। দুই বাক্যে বুঝিয়ে বললাম সবকিছু। ফোন না ছেড়ে ভদ্রমহিলা জানতে চাইলেন লিয়ার মেডিক্যাল ইতিহাস। এতকিছু বলার ধৈর্য ছিলনা। আমাকে আশ্বাস দেয়া হল জরুরি চিকিৎসার জন্য একটা টীম ইতিমধ্যে রওয়ানা হয়ে গেছে। এ ফাঁকে লিয়া চীৎকার করে উঠল। ৯১১ ডিস-পাচার আমাকে আশ্বাস দিলেন যেহেতু সে কাঁদতে পারছে তাই নিঃশ্বাস না ফেলার ভয় আপাতত কেটে গেছে। একটু অপেক্ষা করতে বলে শুভ কামনায় জানিয়ে ফোন রেখে দিলেন। ঠিক ছয় মিনিটের মাথায় দরজার কড়া নড়ে উঠল। ওরা হাজির। সংখ্যায় তিন জন। সিনিয়র নার্স, সাথে একজন সহযোগী ও এম্বুলেন্সের ড্রাইভার। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে লিয়ার দায়িত্ব তাদের হাতে চলে গেল। জরুরি ভিত্তিতে যা করা সম্ভব তাই করা হল। পাঁচ মিনিটের মাথায় চীনা নার্স মৃদু হাসি দিয়ে ঘোষণা দিল চিন্তিত হওয়ার মত তেমন কিছু নেই লিয়ার শরীরে। চাইলে হাসপাতালে পৌঁছে দেবে আমাদের। ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় করে দিলাম তাদের। ইতিমধ্যে সন্ধ্যা নেমে গেছে। রোববার দুজনেরই ছুটি। তাই সকালের দিকে হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনে রাত জাগতে তৈরি হলাম। সে রাতে তেমন কিছুই হয়নি লিয়ার। ভোরের নাস্তা খেয়ে নিজ গাড়িতে রওয়ানা দিলাম হাসপাতালের দিকে। জরুরি বিভাগে নাম লেখানোর সাথে সাথে ডাক্তার, নার্সদের তৎপরতার নীচে চাপা পরে গেল আমাদের উপস্থিতি।

ভিন্ন ভিন্ন তিনটা ঘটনা। সূত্র এক, চিকিৎসা খাত। বোধহয় কার্ল মার্ক্সেরই কথা হবে, ’যদি বুঝতে পারি আমি কম জানি, চেষ্টা করি বেশি জানার’।

Comments

পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যু

পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যু
ভয়ে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সুজন

প্রায় ৩ বছর ধরে গার্মেন্টের ঝুটের ব্যবসা করতেন মাহাবুবুর রহমান সুজন। স্থানীয় এক সন্ত্রাসীর সহযোগী মোহন তার কাছে ঝুটের মালামাল কেনার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু, তিনি রাজি হননি। মোহনের বন্ধু ছিলেন মিরপুর থানার এসআই জাহিদুর রহমান। ঝুটের ব্যবসা অবৈধ বলে এসআই জাহিদুর তার কাছে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করতেন। চাঁদা না দিলে তাকে বিভিন্ন স্থানে শারীরিক নির্যাতন ও হয়রানি করতেন। এসআই জাহিদুরের অত্যাচারের কারণে সুজন ইউরোপের একটি দেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। গতকাল এমনই অভিযোগ করেছেন নিহতের ভাই নজরুল ইসলাম শামীম। শনিবার রাতে মিরপুর থানায় পুলিশের হেফাজতে ঝুট ব্যবসায়ী সুজনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ করে তার পরিবার। তবে পুলিশের দাবি, নিহত যুবক শাহআলী এলাকার শীর্ষ ছিনতাইকারী। এদিকে, মিরপুর অঞ্চলে এসআই জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার সব অপকর্মে মিরপুর অঞ্চলের পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার মদত আছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।
গতকাল দুপুরে নিহত সুজনের নিজ বাড়ি শাহআলী থানাধীন ই-ব্লকের ৯ নম্বর সড়কের ১৬ নম্বর প্লটে গিয়ে দেখা যায়, তার হত্যার প্রতিবাদে দুইটি কালো ব্যানার টানানো হয়েছে। ওই বাড়িটির সামনে এলাকাবাসী ভিড় করছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে যে, তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে ওই তদন্ত কমিটির প্রধান মিরপুর অঞ্চলের পুলিশের এডিসি জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা এলাকাবাসীর কাছে তথ্য সংগ্রহ করছেন। পুলিশের উপস্থিতিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এসআই জাহিদকে চাকরিচ্যুত ও বিচার দাবি করেন। এ বিষয়ে নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম শামীম জানান, ‘দীর্ঘ ৩ বছর ধরে এসআই জাহিদুর রহমান আমার ভাই সুজনের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন চালাচ্ছে। কারণ একটাই, সে ঝুটের ব্যবসা করে। সে তার কাছে চাঁদা চায়। কিন্তু, তার ভাইয়ের দাবি, ঝুটের ব্যবসা তো অবৈধ নয়। কেন চাঁদা দিতে হবে? তিনি আরও বলেন, সুজন শাহআলী এলাকার প্রায় ৭টি গার্মেন্টসের ঝুটের মালামাল ক্রয় করতো। প্রতিমাসে প্রায় ১ লাখ টাকা করে চাঁদা দিতো এসআই জাহিদুরকে। চাঁদা না দিলে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দিতো। প্রায় ৬ মাস আগে দুপুরে তার ছোট ভাই জহরুল ইসলাম সবুজ বাসায় অসুস্থ অবস্থায় ঘুমিয়েছিল। তখন এসআই জাহিদুর বাসায় এসে তার ভাইয়ের বিছানার পাশে রিভলবার রেখে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক করে আটক করে নিয়ে যায়। সবুজ এখনও কাশিমপুর কারাগারে আছে। এসব ঘটনা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানিয়ে কোন লাভ হয়নি বরং হয়রানির হুমকি দেয়া হয়েছে। শামীম বলেন, এসআই জাহিদুরের অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য সুজন ইউরোপের যে কোন একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এক মাস আগে পাসপোর্ট তুলেছিল এবং কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তার আগে পুলিশ তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করলো বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের মোবাইলে ফোনে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও পুলিশের নাম করে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। নিহতের খালু জুলহাস আলী জানান, সুজনের নিহতের ঘটনায় পুরো শাহআলীর এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত ও আতঙ্কিত। আজকে আমার এক স্বজনকে পুলিশ এভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কালকে যে অন্য কারও করবে না তার কি কেউ নিশ্চিয়তা দিতে পারবে? এমন একটি ঘটনার পর ওই পুলিশ কর্মকর্তা তার পদে কিভাবে বহাল থাকে তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেন।

এ ঘটনার তদন্ত কমিটির প্রধান ও পুলিশের মিরপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জসিম উদ্দীন জানান, আমরা গতকাল সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসী ও পরিবারের বক্তব্য নিয়েছি। সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। আশা করছি, আগামী সাতদিনের মধ্যে এই তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারব। তিনি আরও বলেন, নিহতের ঘটনায় পুলিশের কোন গাফলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এসআই জাহিদুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে। কোন ছাড় দেয়া হবে না। নিহতের পরিবারের মামলা নেয়া হচ্ছে না কেন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর নিহতের পরিবারের মামলা নেয়া হবে।

এসআই জাহিদুরের যত অপকর্ম: এসআই জাহিদুর রহমানের নামে মিরপুর এলাকায় সরজমিনে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে মিরপুরের কাফরুল, পল্লবী, শাহআলী ও মিরপুর থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। এ কারণে পুরো মিরপুরের সব বিষয় ছিল তার নখদর্পণে। পল্লবীতে চাঁদার টাকা না দেয়ায় জনি নামে এক বিহারি যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ সময় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও পরে তদবির করে তিনি আবার শাহআলী থানায় দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তখন থেকেই এই তিনি আসকারা পেয়ে যান। শাহআলী এলাকায় রিপন নামে চা দোকানিকে তার সোর্স দিয়ে চোর সাজিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পল্লবী এলাকায় কাঁচামাল ব্যবসায়ী কালু নামে এক যুবককে রাতের আঁধারে তিনি আটক করেছিলেন। পরে থানায় নিয়ে গিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না দেয়ায় তার পায়ে রড ঢুকিয়ে নির্যাতন করেন। কালুর ভাই দেলোয়ার জানায়, তার ভাই এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেনি। শাহআলীর দিয়াবাড়ির বাসিন্দা মামুন জানান, প্রায় ৭ মাস আগে রাত ১২টার সময় মিরপুরের কাজী পাড়ার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে আসছিলাম। তখন এসআই জাহিদুর আমাকে সনি সিনেমা হলের সামনে থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। থানায় নিয়ে গিয়ে আমার কাছে ৩০ হাজাট টাকা চাঁদা দাবি করেন। না হলে ছিনতাইয়ের মামলায় ঢুকিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। হয়রানির ভয়ে আমার পরিবার অন্য একজনের কাছ থেকে ধার করে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ওই রাতেই আমাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনে। সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে ২৪শে সেপ্টেম্বর পুলিশের এএসআই পদে যোগ দেন জাহিদ। মাদারিপুর সরকারি কলেজে অনার্স পড়াকালে ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন তিনি।
http://mzamin.com/details.php?mzamin=%20MzIzMjQ=&s=Mw==

‘বাংলাদেশ আবার বাংলাদেশ হবে’

গত ২৮শে জুন ইউনূস সেন্টারে আয়োজিত সোশ্যাল বিজনেস ডে ২০১৪’র মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন রবার্ট এফ কেনেডি সেন্টার ফর জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি। তিনি সাবেক মার্কিন সিনেটর ও অ্যাটর্নি জেনারেল রবার্ট এফ কেনেডির সন্তান। বাংলাদেশের মানুষকে পাশে এসে দাঁড়ানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে কেনেডি পরিবারের। সোশ্যাল বিজনেস ডে অনুষ্ঠানে কেরির বক্তব্যে উঠে আসে সেসব ইতিহাসের কিছু অংশ। কেরি কেনেডি দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ঢাকায় আসাটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। মনে আছে ১০ বছর বয়সে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের কথা শুনেছিলাম। আর আমাদের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার যখন বলেছিলেন, অন্য একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করাটা মার্কিন স্বার্থবিরোধী তখন যে বিভীষিকা বোধ করেছিলাম তা-ও মনে আছে। এখানের মানুষকে মার্কিন সহায়তা দিতে আমার চাচা সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি যেমন দৃঢ় প্রচেষ্টা করেছেন সেজন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত। ১৯৭১-এ তিনি ভারত সফর করেছিলেন। আমাদের বলেছিলেন রিফুজি ক্যাম্পের গল্প। সেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুরা গণহত্যা থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল। তাদের মাতৃভূমির স্বপ্ন পূরণ হলে সেখানে পুনরায় যাবেন প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিলেন তিনি। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানিদের পরাজিত করার কয়েক মাস পরই টেডি তার প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ঢাকা সফরে যান। ঢাকাতে তিনি প্রথম আন্তর্জাতিক সফরকারী নেতাদের মধ্যে একজন ছিলেন। পরে এপ্রিল মাসে বাংলাদেশেকে মার্কিন স্বীকৃতি দেয়ার রাস্তা খুলে দেন তিনি। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘স্বাধীনতা তোমাদের, আর ভবিষ্যৎ নতুন এই বাংলা রাষ্ট্রের মানুষদের হাতে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মগুলোর জন্য বাংলাদেশের গল্প বিশ্বের কাছে একটি শিক্ষা হয়ে রবে। বাংলা রাষ্ট্রের জন্ম অন্য ভূমিতে অন্য মানুষদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তোমাদেরই মতো যাদের ভালবাসা আছে, আর সাহসিকতার উদ্যম আছে তাদের কাছে এ এক নিদর্শন হয়ে থাকবে যারা এখনও তোমাদের মতো স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি।’ হাজার হাজার বাঙালি স্বাধীনতার নামে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। আমি ভাবি তারা যদি আজকে তাদের মাতৃভূমিকে দেখতে পেতো তাহলে তারা কি বলতো। নিশ্চিতভাবে আজ তারা- নারীপুরুষের সাম্যতা, সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা, খাদ্য উৎপাদন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ প্রগতি দেখে গর্বিত হতো। তারা এটা জেনে গর্বিত হতো যে, দেশের প্রধানমন্ত্রী আর বিরোধী দলের নেত্রী দু‘জনই নারী। আর নারীরা এ দেশের বস্ত্রশিল্পের মূল চালিকাশক্তি। যেখান দেশের দেশের ৮০ ভাগ রপ্তানি আসে। তারা এটা জেনে অবাক হতেন যে, ছোট্ট বাংলাদেশ চীনের অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। আর তারা বিশ্বের ৫ শতাংশ বস্ত্র উৎপাদন করে। তারা এটা জেনেও গর্বিত হতেন যে বাংলাদেশে অন্য যে কোন দেশের তুলনায় জাতিসংঘে বেশি শান্তিরক্ষী সরবরাহ করে থাকে। আর বাংলাদেশীদের গর্ব করার জন্য রয়েছে এক ব্যক্তিত্ব যাকে বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশ শ্রদ্ধা করে। তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০০৮ সালে ভার্জিনিয়াতে আমি ড. ইউনূসের সঙ্গে দেখা করি। ‘স্পিক ট্রুথ টু পাওয়ার’ নামে বিশ্বের সব থেকে সাহসী ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বই লিখছিলাম। এজন্য তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে গ্রামীণ ব্যাংক ৪৪ লাখ পরিবারকে ৪৭০ কোটি ডলার দিয়েছে। ১৪১৭টি শাখা নিয়ে গ্রামীণ ৫১ হাজার গ্রামের তাদের সেবা পৌঁছে দিয়েছে। আজ বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের ২৫০-এর বেশি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক মডেলের ওপর ভিত্তি করে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়াও গ্রামীণ ব্যাংকের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে হাজারো ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম জন্ম নিয়েছে। এক বিশেষজ্ঞের মতে, গ্রামীণ ব্যংকে ইউনূস যে পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করেছেন তা তৃতীয় বিশ্বে গত ১০০ বছরের মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন। খুব বেশি মানুষ এতে দ্বিমত পোষণ করবে না। আজকের অনুষ্ঠানে কি নিয়ে কথা বলবো জানতে চেয়েছিলাম ড. ইউনূসের কাছে। কিভাবে মানবাধিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলাম তা নিয়ে কথা বলতে বলেন তিনি। আমার ছিল ১০ ভাইবোন। তার মধ্যে ৭ ভাই। যখন আপনি ৭ ভাইয়ের সঙ্গে বড় হবেন তখন খুব কম বয়সেই মানবাধিকার নিয়ে তীক্ষ্ন একটি বোধ সৃষ্টি হয়। ছেলেবেলায় আমার পিতা রবার্ট কেনেডির অফিসে যেতাম মাঝে মাঝে। তখন তার ভাই জন এফ কেনেডি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। গণ-অধিকার আন্দোলন তখন তুঙ্গে। মার্কিন বর্ণবাদ ও আফ্রিকান আমেরিকান সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন বন্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্টিন লুথার কিং। আমার যখন ৩ বছর বয়স আমার চাচা জ্যাককে (জন এফ কেনেডি) হত্যা করা হয়। ৫ বছর পর নিহত হন মার্টিন লুথার কিং। এর কয়েক সপ্তাহ পর আমার পিতাও আততায়ী গুলিতে প্রাণ হারান। আমি সেই সব মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ যারা তার মৃত্যুর পর তার অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আমার এক নিকটাত্মীয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় বিনাদোষে ১৭ বছর কারাবাস করেন। পরে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। আমার এক কাজিনও মিথ্যা হত্যা মামলায় ১১ বছর জেল খাটে। এসব কিছুর কোন অর্থ খুঁজে পেতাম না- এগুলো ছিল আমার জীবনের বিশৃঙ্খলা। কলেজে থাকাকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে ইন্টার্নশিপ করি। সেখানে আমি মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক ঘোষণাপত্র সম্পর্কে জানতে পারি। আমি জানতে পারি এ সব কিছুর মধ্যে এক একটি বিষয় অভিন্ন ছিল। এগুলোর প্রত্যেকটি ঘটনাই ছিল মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈকিত হত্যাকাণ্ড, নারীদের ওপর সহিংসতা, নারী-পুরুষ বৈষম্য, দণ্ডমুক্তি আর প্রকৃত প্রক্রিয়া লঙ্ঘন। তখন আমি জানতে পারি যেসব মানবাধিকার লঙ্ঘন ভয়াবহতার আমি সম্মুখীন হয়েছি তা প্রতিহত করতে অনেক মানুষ কাজ করেছে। মানবাধিকার সংস্থার মাধ্যমে আমি নিজেও এ সহিংসতা বন্ধে ভূমিকা রাখতে পারি- সেটা বুঝতে পারলাম। সেটাই আমার জীবন পাল্টে দেয়। আজকে রবার্ট এফ কেনেডি ফর জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ল স্কুলের মাধ্যমে কিন্ডারগার্টেন থেকে মানবাধিকার শিক্ষা দেয়। সেখানে আমরা যা কিছু শেখাই সেগুলোর একটি মোহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে- দরিদ্রতা থেকে মুক্তির অধিকার নিয়ে। অ্যামনেস্টিতে থাকাকালে আমি কম্বোডিয়ায় খেমার রুজদের প্রতিহত করতে সক্রিয় মানবাধিকার কর্মীদের বিষয়ে জানতে পারি। এছাড়াও ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতারা আর চিলির গণতন্ত্রপন্থি কর্মীরা। তাদের উদ্দেশ্যর পেছনে কারণ ছিল জোরালো। শত্রুপক্ষ ছিল বিপজ্জনক আর শক্তিধর। কিন্তু আমার চারদিকে মহাপ্রাণদের উপস্থিতি উপলব্ধি করেছিলাম যারা দানবে পূর্ণ এক পৃথিবীর বিরুদ্ধের রুখে দাঁড়িয়েছিল। পেছনে তাকালে দেখা যায়, মহাপ্রাণদেরই জয় হয়েছিল। সে সময় পুরো লাতিন আমেরিকা ছিল সামরিক স্বৈরতন্ত্রের অধীনে; আজ কিউবা ছাড়া পুরো লাতিন আমেরিকায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত। সে সময় পূর্ব ইউরোপ ছিল কম্যুনিজমের অধীনে। আজ সেখানে কম্যুনিস্ট সরকারের কোন চিহ্ন নেই। সে সময় দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল বর্ণবাদে আক্রান্ত। আজ সেখানে কয়েক দফা স্বাধীন ভাবে সরকার নির্বাচিত হয়েছে। সে সময় নারী অধিকার আন্তর্জাতিক এজেন্ডার মধ্যে ছিল না; আজ নারী অধিকার কনভেনশন-সিএডিএডব্লিউতে স্বাক্ষর করেছে ১৮৫টি দেশ।
সরকার, সামরিক বাহিনী বা বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলোর চাওয়ার কারণে এতসব পরিবর্তন আসেনি। বরং, সীমিত সুবিধা নিয়ে মানবাধিকার জন্য লড়াই করার দৃঢ় মানসিকতার গুটিকয় মানুষের প্রচেষ্টার ফলেই এমনটি সম্ভব হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রচেষ্টাতেই পরিবর্তন এসেছে। তারা স্বাধীনতার স্বপ্ন লালন করেছেন। সেটাকে বাস্তবায়ন করেছেন। তাদের প্রচেষ্টার ফলে যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তাতে অনুপ্রাণিত হয়েছে অন্যরা। এভাবেই নিপীড়নের শক্ত দেয়ালের পতন ঘটেছে। মার্গারেট মিড বলেছেন, দৃঢ় মানসিকতা সম্পন্ন ছোট গ্রুপের সামর্থ্য কখনও ছোট করে দেখতে নেই। মূলত, কালে কালে তারাই বিশ্বে পরিবর্তন এনেছে। এটাই আজকের সম্মেলনের মুখ্য উদ্দেশ্য। এটা আমাদের নিয়ে। অল্প কিছু মানুষের দল যারা দারিদ্র্য বিমোচনে বা স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে বা শিক্ষা, মানবাধিকার বা নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছে। একে অপরের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে, দলভুক্ত হয়ে পরিবর্তন আনছে। এ কারণেই আপনাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত।

কাজেই আজ যখন আমরা আমাদের সামনের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে ভাবছি, আমাদেরকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে বিশ্বমানবতা স্বাধীনতার পক্ষে। মুক্ত সমাজে সেন্সরশিপ নিশ্চিত করাটা একটি চ্যালেঞ্জ। সমালোচকদের বাকরোধ করার জন্য দমন-পীড়ন নীতির একটি প্রস্তাবিত এনজিও আইন যা ব্যবহার করে এনজিওর লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেয়া, সাংবাদিকদদের কারারুদ্ধ করা, সংবাদপত্র আর টিভি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়া ও সংবিধানে বিতর্কিত সংশোধনী আনা। শাসক গোষ্ঠীর জন্য হুমকি স্বরূপ যাদের দেখা হয়, তাদের বিরুদ্ধে চালানো হয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অব্যাহত নোংরা প্রচারণা। এগুলোর মধ্যে এমনভাবে মিথ্যা অভিযোগ করা হয় যা একজন মানুষের চরিত্র হননের শামিল। কোন প্রমাণ ছাড়া থাকে না জবাবদিহির আশা। এরপর আইনের মারপ্যাঁচে ঘটনার শিকার ব্যক্তির অবস্থান কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয় যেন ক্ষমতার লোভীরা নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রেও আছে চ্যালেঞ্জ। যখন কিনা নিরাপত্তা বাহিনীর কোন জবাবদিহি নেই। জোরপূর্বক গুম আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোন সমাধান হয় না। ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতন নিয়মিত ঘটনা। প্রসিকিউশনরা হয়ে উঠতে পারেন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত আর বিচারকদের দেয়া হতে পারে দিক নির্দেশনা। তারা যদি স্বতন্ত্রভাবে কাজ করার চেষ্টা করে তাহলে অপসারণের হুমকির সম্মুখীন হন।

গণতন্ত্রের জন্য এটা চ্যালেঞ্জ যখন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয় না। যেখানে নির্বাচন কমিশন আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষমতাসীন দলের অধীন এবং যেখানে পোলিং অফিসারদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। যেখানে এত মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে যে তা ভোট দিতেও অপারগতা প্রকাশ করেছে। এটা সমাজের জন্য চ্যালেঞ্জ যেখানে নারীদের ক্ষমতায়ন হচ্ছে এবং তাদের ১৫০% বেতন বাড়ছে তারপর তারা জীবন ধারণের জন্য পর্যাপ্ত আয় করতে পারছে না। তাদেরকে যৌতুক প্রথা, এ সংক্রান্ত সহিংসতা ও এসিড নিক্ষেপের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা, শিশু বিবাহ ও কম বয়সে অধিক সন্তানের মা হওয়ার বিড়ম্বনা। বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর একটিকে রানা প্লাজা বিপর্যয়ের পর প্রধান ব্যক্তিবর্গের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মিষ্টি কথায় ভোলানোর চেষ্টা একটা চ্যালেঞ্জ। দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ তহবিলে পূর্ণ অর্থায়ন করাটা ব্র্যান্ডগুলোর দায়িত্ব। আনুমানিক ৬০০০ কারখানার সবগুলোকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, বায়ু সঞ্চালন ও পরিদর্শন নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক অনুদান দেয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। সরকারকে তেজস্বী, প্রশিক্ষিত, দুর্নীতিমুক্ত ও শ্রদ্ধার দাবিদার পরিদর্শন দল তৈরি করা উচিত। একই সঙ্গে গড়ে তুলতে হবে নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। এছাড়াও, কারখানা এলাকায় মোতায়েনকৃত বিশেষ শিল্প পুলিশ বাহিনীকে শ্রমিকদের সুবিধার জন্য কাজ করতে হবে। শুধু কারখানা মালিকদের রক্ষা করলে চলবে না। প্রতিবাদকারী শ্রমিকদের ওপর সহিংসতা তাদেরে এসোশিয়েশন অধিকার ও স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারের লঙ্ঘন। আর যে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশেরে শ্রমিকদের শ্রম থেকে উপকৃত হয়েছেন, তাদের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করার দায়িত্ব পালন করতে হবে। যাতে পরিচ্ছন্ন কর্মপরিবেশ বাস্তব রূপ নিতে পারে। যখন একজন ব্যক্তি স্বাধীনতা বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতাগুলো বিবেচনা করবে যে জন্য আপনাদের লক্ষাধিক পূর্বপূরুষ লড়াই করেছে এবং প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে, তখন নিষ্ফল প্রয়াস মেনে নেয়াটা সহজ হয়ে যায়। বিশ্বাসটা এমন যে, বিশ্বব্যাপী দরিদ্রতা, অবিচার, লোভ, বৈশ্বিক উষ্ণতা আর এত দুর্দশার বিরুদ্ধে একজন মানুষ কিছুই করতে পারে না। এবং সেই বিশ্বাস থেকে আমাদের নিজেদের কাজ পরিবার নিয়ে সংকীর্ণ জীবনে ফিরে যাওয়াটাই বেশি প্রলুব্ধ করে। পৃথিবী তার মত থাকুক। কিন্তু আমি আড়াই বছর ধরে বিশ্বের নানা প্রান্তে ভ্রমণ করে পৃথিবীর বুকে সাহসী সব ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। তাদের মধ্যে ছিলেন এলি উইজেলের মতো ব্যক্তি যিনি শিশু অবস্থায় হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে এসেছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার প্রত্যাশা হলো তোমাদের সন্তানের যেন আমার অতীত না থাকে। আর ছিলেন, ডেসমন্ড টুটু, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী নেতা যিনি বলেছিলেন, আমাদের যিনি সৃষ্টিকর্তা আছেন তিনি এমন নন যে বলবেন, তোমাকে সামলে নিলাম। আমরা পড়ে গেলে আমাদের সৃষ্টিকর্তা পুনরায় উঠে দাঁড় করাবেন আর ধুলো পরিষ্কার করে বলবেন আবার চেষ্টা করো। আমার কাছে এগুলোই মানবাধিকারের শিক্ষা। একদিকে বর্বরতা বন্ধ করতে চেষ্টা করে যেতে হবে, অন্যদিকে এ বিশ্বাস থাকতে হবে যে মানব প্রাণের সঞ্জীবনী শক্তি সব থেকে নিকৃষ্ট পরিস্থিতিতেও জয়ী হবে। আমেরিকায় গণঅধিকার আন্দোলনের সময় প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান ও প্রথম নারী অ্যাটর্নির মর্যাদা অর্জনকারী মেরিয়ান রাইট ইডেলম্যান বলেছেন, একটা সময়ে এসে আমাদের প্রত্যেককে আত্মার ভেতর থেকে ওই খামটি খুলতে হয় এবং সেখান থেকে ওই কাগজের টুকরোটি বের করতে হয় যেখানে লেখা আছে পৃথিবীর বুকে আমরা কি করতে এসেছি। তিনি বলেন, আমি আশির্বাদপুষ্ট যে অল্প বয়সে আমি এমন একটি কারণ খুঁজে পেয়েছিলাম যার জন্য প্রাণ বিসর্জন দেয়াটাও যথার্থ ছিল। এবং সেটা আমার জীবনের প্রতিটি দিনকে সার্থক করেছে।

প্রকৃতপক্ষে আমরা আমাদের জন্য ও আমাদের সন্তানদের জন্য এটাই চাই। সেবার মধ্য দিয়ে জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করা। এবং সোশ্যাল বিজনেস এর অর্থও এটা। জন এফ কেনেডি বলেছেন, তোমার দেশ তোমার জন্য কি করতে পারে সেটা জিজ্ঞাসা করো না বরং নিজেকে জিজ্ঞাসা করো তুমি দেশের জন্য কি করতে পার। কাজেই তোমাদের সাহসিকতা আর নিষ্ঠা শক্তভাবে ধরে রাখো যেন বাংলাদেশকে আবার বাংলাদেশে পরিণত করতে পারো।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla