Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

খুন, খুনি ও আমরা

দেশের অলিগলিতে মানুষ খুন হচ্ছে, গুম হচ্ছে, নদীতে লাশ হয়ে ভেসে উঠছে। তবে সুসংবাদ হচ্ছে কোন কিছুই অজানা থাকছেনা। কে এবং কেন খুন করছে তা বেরিয়ে আসছে। পুলিশ দশ হাত মাটির তলা হতে খুনি ও খুনের মোটিভ টেনে বের করে আনছে। এ বিবেচনায় সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড ও ইলিয়াস আলী গুম ভিন্ন। খোদ ঢাকা শহরের সিকিউরড বাসাবাড়িতে কুপিয়ে পশুর মত জবাই করা হল এই দুই সাংবাদিককে। অথচ পুলিশ ও সরকারের অন্যান্য বাহিনীর হাতে কোন ক্লু নেই। ইলিয়াস আলী নিঁখোজ হলেন প্রকাশ্যে। নাম ভূমিকায় কারা ছিল তারও একটা বর্ননা পাওয়া গেছে প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাক্ষীতে। এবং এ পর্যন্তই। এ ব্যাপারে পুলিশ যেন বোবা, কালা। টু শব্দটি নেই।

র‍্যাবের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ হতে উপসংহার টানলে আমরা অনুমান করে নিতে পারি সাগর-রুনি হত্যা ও ইলিয়াস আলী গুমের অন্তরালেও র‍্যাবের হাত ছিল। বাজারে গসিপ আছে সরকার প্রধানের যোগ্য সন্তনা ও দেশের বিশিষ্ট বৈজ্ঞানিকের অপকর্মের কিছু চাক্ষুস প্রমান এই সাংবাদিক দম্পতির হাতে এসেছিল। এবং তা নিশ্চিহ্ন করার তাগাদা হতে তাদের পৃথবী হতে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। খুব কি অবিশ্বাস্য কোন কাহিনী? বিচারের ভার পাঠকদের উপর ছেড়ে দিলাম। র‍্যবের আগাগোড়া ভূমিকাই ছিল কন্ট্রাক্ট কিলার হিসাবে। প্রথমে সরকারী কনট্রাক্টে কয়েক হাজার হত্যা করার পর তারা তাদের মিশন পাব্লিকের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় টু পাইস কামানোর ধান্ধায়। ইলিয়াস আলীকেও কি এ কারনেই হত্যা করা হয়নি? সিলেটের রাজনীতিতে এই নেতার প্রভাব অবিশ্বাস্য। তাহলে আমরা কি ধরে নিতে পারিনা রাজনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিপক্ষের কেউ টাকা দিয়ে এই নেতাকে খুন করেছে? এবং র‍্যাব ছিল এর বাস্তবায়নকারী? নারায়নগঞ্জের ৭ খুনের লাশ যদি ভেসে না উঠতো তাদের ভাগ্যও কি ইলিয়াস আলীর ভাগ্যের সাথে মিলে যেত না? বিবেচনার ভার আবারও পাঠকদের উপর ছেড়ে দিলাম।

মাহমুদুর রহমানকে কেন জামিন দেয়া হচ্ছেনা? কি এমন বিশাল অপরাধ করেছেন এই সাংবাদিক যার কারণে তার সবকিছু বন্ধ করে দেয়া হয়েছে? আবারও সামনে চলে আসবে কথিত আইটি বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট বৈজ্ঞানিকের অপকর্মের কিছু নথিপত্র। এইচটি ইমামের মাধ্যমে দেশের এনার্জি খাত হতে শত শত কোটি টাকা লুটের কিছু বিবরন লেখা শুরু করেছিলেন এই সাংবাদিক। খুন করা হয়নি সত্য, কিন্তু যে অবস্থায় তাকে রাখা হয়েছে তা কি খুনের চাইতে নিকৃষ্ট নয়? শোনা যায় সাত খুনের খুনিরা জেলখানায় জামাই আদরে দিনপাত করছে। রহস্যটা কি?

Comments

জালিয়াতির ৪৫০০ কোটি টাকা গেল

জালিয়াতির ৪৫০০ কোটি টাকা গেল কোথায়?
যুগান্তর রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৫ জুলাই, ২০১৪

বেসিক ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নেয়া টাকা কোথায় গেল তা খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার বেসিক ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত এমডির সঙ্গে এক বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এই নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে বেসিক ব্যাংকের আরও কয়েকটি নতুন শাখায় জালিয়াতির ঘটনা বেরিয়ে এসেছে। এর মধ্যে ঢাকার কারওয়ান বাজার, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ও জুবলি শাখায়ও জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বেসিক ব্যাংককে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। যেসব টাকা নগদ আকারে তুলে নেয়া হয়েছে সেগুলো সম্পর্কে তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বেসিক ব্যাংকের ব্যাপারে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দুদকে একটি তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। আরও প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। ওই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শুধু ব্যাংকিং খাতের অংশটুকুর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাকি সব কিছুর ব্যাপারে দুদক ও বেসিক ব্যাংক ব্যবস্থা নেবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর এই তিনটি শাখায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা নগদ তুলে নেয়া হয়েছে। বাকি দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে বেসিক ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে কারা টাকা আত্মসাৎ করেছে সে তথ্য বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু টাকার সুবিধাভোগী কে সে তথ্য বের হয়নি। ফলে জালিয়াতির নেপথ্যে কারা রয়েছে, টাকা কোথায় গেছে সে তথ্য এখনও বের করা সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব তথ্য বের করার জন্য কোনো তদন্তও করেনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ব্যাংক ইচ্ছে করলেও সব জায়গায় যেতে পারে না। নগদ আকারে যেসব টাকা তুলে নেয়া হয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে কিছুই করা সম্ভব নয়। শাখা থেকে বস্তায় করে কোথায়, কিভাবে টাকা নেয়া হয়েছে এ বিষয়ে তদন্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়িত্ব দিতে হবে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দুদকে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। এর ভিত্তিতে দুদক পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। বেসিক ব্যাংকের তিন শাখা থেকে নগদ আকারে টাকা তুলে নেয়া হলেও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নগদ লেনদেন বা সন্দেহজনক লেনদেনের মতো প্রতিবেদন জমা দেয়নি বেসিক ব্যাংক। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা তুললে বা জমা দিলে সে তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটে জানাতে হবে। লেনদেনে কোনো সন্দেহ হলে তা সন্দেহজনক লেনদেন হিসাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। বেসিক ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা নগদ আকারে তুলে নেয়া হলেও তারা এ ব্যাপারে কোনো তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানায়নি। এ বিষয়গুলোও তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে বেসিক ব্যাংক নিজস্ব উদ্যোগে তদন্ত শুরু করেছে। তারা যেসব গ্রাহকের নামে ঋণ দেয়া হয়েছে তাদের প্রত্যেককে ডেকে আগে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করছে। গ্রাহক পাওয়া গেলে তারা ঋণ আদায়ের ব্যাপারে কথা বলছে। আর গ্রাহক না পাওয়া গেলে সেটিকে তারা বেনামি হিসাবে চিহ্নিত করে রাখছে। বড় অংকের ঋণ গ্রহীতাদের সপ্তাহে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনকে প্রধান কার্যালয়ে ডেকে কথা বলা হচ্ছে। এছাড়া শাখা পর্যায়েও প্রত্যেক গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেসব গ্রাহকের অস্তিত্ব আছে সেগুলোর নথিপত্রে কোনো ঝামেলা থাকলে তা মিটিয়ে ফেলার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বেসিক ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুস সোবহান যুগান্তরকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যেই আমরা কাজ শুরু করেছি। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনাকে। ঋণ আদায়ের জন্য জোরালো ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, বেসিক ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা স্থানান্তর করে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে তুলে নেয়া হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। এর বাইরে দিলকুশা শাখা ও শান্তিনগর শাখা থেকে ২০০ কোটি টাকার মতো পে-অর্ডারের মাধ্যমে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

এর বাইরে বেসিক ব্যাংকের মাধ্যমে পণ্য রফতানি করে তার মূল্য দেশে আনা হয়নি, পণ্য আমদানির এলসি খুলে দেনা শোধ করা হয়েছে, কিন্তু পণ্য দেশে আসেনি- এভাবে বিদেশে টাকা পাচার করা হয়েছে। এভাবে প্রাথমিক হিসাবে ২০০ কোটি টাকা পাচার করার তথ্য পাওয়া গেছে। নগদ যেসব টাকা তুলে নেয়া হয় সেগুলোও পাচার করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা প্রয়োজন বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে।

নতুন পর্ষদের প্রথম সভা : বেসিক ব্যাংকের নতুন পর্ষদের প্রথম সভা সোমবার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভায় গুলশান শাখার সব ঋণ হিসাব তদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের অন্যান্য শাখার ঋণ হিসাবগুলোও তদন্ত করা হবে। পর্ষদ এমডিকে খুব শিগগিরই ঋণ আদায়ের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তাদের দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি জানান, এই বৈঠকটি ছিল পরিচিতিমূলক। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনাগুলো পর্ষদকে জানানো হয়েছে। তারা পরবর্তী সভায় এই বিষয়গুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা করবে।

ব্যাংকের ১০০০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে এক ব্যবসায়ী

দেলোয়ার হুসেন ও মনির হোসেন
প্রকাশ : ১৫ জুলাই, ২০১৪
দেশের পাঁচটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ওয়াহিদুর রহমান নামের এক প্রতারক ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় মামলা হলেও দেশে তার সম্পদ অক্ষত রয়েছে। বিদেশেও গড়ে তুলেছেন ব্যবসা-বাণিজ্য। বহুল আলোচিত সাবেক ওরিয়েন্টাল (আইসিবি ইসলামিক) ব্যাংক থেকে শত কোটি টাকা আত্মসাতের পর আবার বেসিক ব্যাংক জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত হয়েছেন। এবার নিয়েছেন প্রায় ৭৬৭ কোটি টাকা। এর পরও তার কিছুই হয়নি। এখন আছেন বিদেশে। বলে বেড়াচ্ছেন চিকিৎসা নিতে গেছেন, আবার ফিরে আসবেন। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ওয়াহিদুর রহমান এযাবৎ দেশের ৪টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নামে-বেনামে এক হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এর মধ্যে বেসিক ব্যাংক থেকে ৭৬৭ কোটি, ইসলামিক আইসিবি ব্যাংক থেকে ১০০ কোটি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ১২৪ কোটি, সিটি ব্যাংক থেকে ৬ কোটি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর বেশির ভাগ টাকাই তিনি ঋণ নিয়েছেন ভুয়া ও বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে। ব্যাংকের ঋণের নথিতে উল্লিখিত ঠিকানার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক প্রতিবেদনে এসব ঋণ আদায় হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করা হয়েছে। গ্রাহককে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে নজিরবিহীন বেআইনি সুবিধা দেয়ার তথ্যও উঠে এসেছে ওই সব তদন্ত প্রতিবেদনে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে খেলাপি হওয়ার পরও ওই প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়ার নজিরও রয়েছে। ঋণ বিতরণে সিআইবির ছাড়পত্র না নেয়া, ঋণের নথি যাচাই না করা, গ্রাহকের কেওয়াইসি (তোমার গ্রাহককে জানো) পূরণ না করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। বেসিক ব্যাংক, সাবেক ওরিয়েন্টাল ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার ওপর পরিচালিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য গত এক মাস ধরে ওয়াহিদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার নিকট আত্মীয় ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত তাজুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, ওয়াহিদুর রহমান চিকিৎসার জন্য এখন সিঙ্গাপুরে রয়েছেন । তিনি ফিরে এলে ব্যাংকের টাকা শোধ করার ব্যবস্থা করবেন। তার ব্যবসা এখন ভালোভাবেই চলছে।

কি জাদু আছে : এতটাই জাদুকরি ক্ষমতা রয়েছে তার যে, তিনি সাবেক ওরিয়েন্টাল ব্যাংক থেকে শত কোটি টাকা আÍসাৎ করে হজম করার পর বেসিক ব্যাংক থেকেও টাকা আÍসাৎ করেছেন। শুধু তাই নয়, হাত বাড়িয়েছেন কৃষি, সিটি ব্যাংক ও আইডিএলসিতে। আইনের বেড়াজাল এড়িয়ে এত জালিয়াতি তিনি কিভাবে করলেন? প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির নামে যে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণ থাকলে তিনি আর অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন ঋণ পাবেন না। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ঋণ দেয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) থেকে তথ্য নিয়ে থাকে ওই গ্রাহক অন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি কিনা। খেলাপি থাকলে তিনি আর ঋণ পাবেন না। কিন্তু ওয়াহিদুর রহমান ওরিয়েন্টাল ব্যাংকে ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে তিনি আর নতুন কোনো ঋণ পাওয়ার যোগ্য নন। তার পরও কিভাবে ঋণ পেলেন? ব্যাংকগুলো কি তাহলে সিআইবি থেকে ছাড়পত্র নেয়নি?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওয়াহিদুর রহমান এতটাই ধূর্ত যে, তিনি কখনও এক নামে ঋণ নেননি। ভিন্ন ভিন্ন নামে প্রতিষ্ঠান খুলে তিনি ঋণ নিয়েছেন। ফলে ওইসব প্রতিষ্ঠান সিআইবিতে খেলাপি হিসাবে ধরা পড়েনি। তবে ব্যক্তি ওয়াহিদুর রহমান বেসিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন ২০১১ সালে। জালিয়াতির দায়ে পদত্যাগী চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর মাধ্যমে তিনি ব্যাংকে ঢুকেন এবং একে একে বেনামি প্রতিষ্ঠান খুলে জনগণের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

ওরিয়েন্টাল ব্যাংক : সাবেক ওরিয়েন্টাল ব্যাংক বর্তমানে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক কেলেংকারির একজন ছোটখাটো নায়ক ছিলেন ওয়াহিদুর রহমান। ওই সময়ে তিনি ব্যাংকের বংশাল শাখা থেকে প্রায় শত কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেন। বিভিন্ন ধরনের ১০টি প্রতিষ্ঠানের নামে ওই শাখা থেকে শতাধিক কোটি টাকা নিয়ে আর ফেরত দেননি। ২০০৫ সালে ওই শাখায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক তদন্ত কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, ওয়াহিদুর রহমান বিভিন্ন নামে প্রতিষ্ঠান খুলে গাড়ির ব্যবসাসহ বিভিন্ন ব্যবসার নামে ঋণ নিয়েছেন। তার হিসাবগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই যে, তার প্রতিষ্ঠানগুলোর একটির সঙ্গে অন্যটির কোনো সম্পর্ক আছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক ভিন্ন ভিন্ন নামে দেখানো হয়েছে। পরে অবশ্য ব্যাপক তদন্তে টাকার স্থানান্তর দেখে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করা হয়েছিল এবং ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়ে তিনি ওইসব প্রতিষ্ঠানের দায় স্বীকার করে নিয়েছেন। পরে ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ওই ঋণ নবায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু নিয়মিত কিস্তি না দেয়ায় ওইসব ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়।
ওয়াহিদুর রহমান ওরিয়েন্টাল ব্যাংক থেকে ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজ, পলাশ এন্টারপ্রাইজ, রত্না এন্টারপ্রাইজ, মাসুদ ট্রেডিং, ইউনাইটেড ট্রেডিং, অটো ডিফাইন, ওয়েস্টার্ন গ্রিল, ডেং ডি লায়ন রেস্টুরেন্ট, ফিয়াজ ট্রেডিং ও আলী ট্রেডিংসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়েছেন। কাগজপত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকের ভিন্ন ভিন্ন নাম হলেও প্রকৃত মালিক ওয়াহিদুর রহমান। সালাহউদ্দিন আহমেদ, তাজউদ্দিন আহমেদ, আলী আশরাফ, আশফাক হোসেন- এসব নাম ব্যবহার করা হয়েছে। ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজ ওয়াহিদুর রহমানের একটি প্রতিষ্ঠান হলেও এর মালিক বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনকে দেখানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সুবিধাভোগী ওয়াহিদুর রহমান। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দেখানো হয়েছে তার নিজস্ব ব্যবসায়িক অফিসের।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, খেলাপি প্রতিষ্ঠান নতুন ঋণ পাওয়ার যোগ্য নয়। খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়াটা অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। আর টাকা আদায়ের কাজ ব্যাংকের। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি গাইডলাইন দেয়া হয়েছে। যাতে দ্রুত ঋণ আদায় করা সম্ভব হয়।
বেসিক ব্যাংক : ঘটনার পরিক্রমায় ওয়াহিদুর রহমান এবার বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেংকারির সঙ্গে জড়িয়ে গেলেন। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে নামে-বেনামে নিয়েছেন ৭৬৭ কোটি টাকা। এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এমন সব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়েছেন যেগুলোর একটির সঙ্গে অন্যটির কোনো সম্পর্ক নেই। অফিসের দেয়া ঠিকানার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। বেসিক ব্যাংক তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বেসিক ব্যাংকের দিলকুশা, শান্তিনগর এবং গুলশান- এই তিন শাখা থেকেই ওয়াহিদুর রহমান নামে-বেনামে ঋণ নিয়েছেন। তার অটো ডিফাইন নামের প্রতিষ্ঠানকে শান্তিনগর শাখা থেকে ২৫০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। ওই ঋণ তিনি পরে সিআর এন্টারপ্রাইজের নামে হস্তান্তর করেন। দুটি প্রতিষ্ঠানেরই মালিক ওয়াহিদুর রহমান। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন নাম দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এই ঋণকে খেলাপি করার নির্দেশ দেয়া হয়। পরে এবি রাশেদ নামে ওয়াহিদুর রহমানের এক কর্মচারীকে মালিক বানিয়ে এবি ট্রেড লিংক নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলা হয়। এর নামে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হয় ৬৭ কোটি টাকা। এসব ঋণ এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।
মা টেক্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে গুলশান শাখা থেকে ঋণ নেয়া হয়েছে ৮০ কোটি টাকা। কাগজপত্রে এর ঠিকানা দেখানো হয়েছে রাজধানীর উত্তরায়। সরেজমিন ওই অফিসের উত্তরার ঠিকানায় গিয়ে এ ধরনের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, তারা ওই প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে গার্মেন্টের স্টকলট পণ্যের ব্যবসা করত। এতে বড় অংকের লোকসান দিয়ে এখন ওই প্রতিষ্ঠানের দায়-দায়িত্ব অস্বীকার করছে।

অটো ডিফাইন ঋণখেলাপি হওয়ার পর নিউ অটো ডিফাইন নামে আরও একটি প্রতিষ্ঠান খোলা হয়। অটো ডিফাইনের মালিকানা ওয়াহিদুর রহমান ছেড়ে দিয়ে আসমা খাতুন নামে এক মহিলাকে এর মালিকানা দেন। নিউ অটো ডিফাইনের মালিকানা নেন তিনি। এই প্রতিষ্ঠানের নামে শান্তিনগর শাখা থেকে ৯০ কোটি টাকা ঋণ নেয়া হয়। ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজের নামে শান্তিনগর শাখা থেকে ১৫২ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বেসিক ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুস সোবাহান যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ব্যাংক খতিয়ে দেখতে শুরু করে। এর সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপককে বরখাস্ত করা হয়েছে। ব্যাংকের টাকা আদায়ের জন্য গ্রাহকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। এ ধরনের জালিয়াতি যাতে আর ঘটতে না পারে সে জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ফজলুস সোবাহান বলেন, ব্যাংক যদি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এসব কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকত তা হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হতো না। গ্রাহকের বিরুদ্ধেও টাকা আদায়ের জন্য মামলা করা হতো না। ব্যাংকের একটি বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী এসব করেছে। এখন তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

সিটি ব্যাংক : ওয়াহিদুর রহমানের কর্মচারী রাসেলের নামে সিটি ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে হলোগ্রাম ইন্ডাস্ট্রিজের নামে ৫ কোটি ও তার কর্মচারী এবি রাশেদের নামে খোলা অপর একটি প্রতিষ্ঠানের নামে নেয়া হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা। দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে নেয়া ঋণই এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। টাকা আদায়ের উদ্যোগ নিয়েও ব্যাংক সফল হতে পারছে না। এদিকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ফলে ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের হাতে পর্যাপ্ত জামানত নেই।

কৃষি ব্যাংক : কৃষি ব্যাংকের বনানী শাখা থেকে ওয়াহিদুর রহমানের নামে-বেনামে তিনটি প্রতিষ্ঠান ১২৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। এর মধ্যে ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজের নামে ৫৪ কোটি ৫৮ লাখ, অটো ডিফাইনের নামে ৩৬ কোটি ৪৭ লাখ এবং ফিয়াজ ট্রেডিংয়ের নামে ৩২ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে। সব ঋণই ইতিমধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। কৃষি ব্যাংকের ওপর পরিচালিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিয়াজ গ্র“পের অনুকূলে ব্যাংক কোম্পানি আইন লংঘন করে ১৫২ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়। ২০১১ সালের ২০ এপ্রিল এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে ঋণটি পরিশোধিত হয়নি এবং নবায়নও করা হয়নি। ফলে পুরো ঋণটি আদায় অযোগ্য মন্দ ঋণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণটি আদায়ের ব্যাপারে জোরালো কোনো পদক্ষেপও নেয়া হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত, প্রকল্প প্রস্তাব মূল্যায়ন, বিশ্লেষণ ও তদারকির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আইডিএলসি : নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি থেকে ওয়াহিদুর রহমানের প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নামে নেয়া ঋণের মধ্যে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে অটো ডিফাইনের নামে ১ কোটি ৯৩ লাখ ও বাকি ৪৭ লাখ টাকা নিজের নামে নেয়া হয়েছে। ঋণ নিয়মিত শোধ না করায় এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এ ঋণ নেয়া হয়েছে।
http://www.jugantor.com/first-page/2014/07/15/122972

৬ মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যা

৬ মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যা ১০৮ : রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৩২

গত ৬ মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন ১০৮ জন এবং রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৩২ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গড়ে প্রতি মাসে ১৮ জন এ হত্যাকা-ের শিকার হন। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের এক ষাণ¥াসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। অধিকারের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়Ñ গত ছয় মাসে দেশে ১০৮ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন ৬৬ জন। এদের মধ্যে ৩৯ জন পুলিশের হাতে, ১৪ জন র‌্যাবের হাতে আর যৌথবাহিনীর হাতে ৮ জন নিহত হয়েছেন। র‌্যাব-বিজিবির হাতে দু’জন ও কোস্টগার্ডের হাতে নিহত হয়েছেন তিনজন। নির্যাতনে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে পুলিশের হাতে ছয় এবং র‌্যাবের হাতে একজন। ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে পুলিশের গুলিতে ২০ জন, র‌্যাবের গুলিতে ৪ জন, বিজিবির গুলিতে ২ জন, যৌথবাহিনীর গুলিতে ৩ জন ও সেনাসদস্যের হাতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে পাঁচজনকে। গতকাল এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি।
http://www.amadershomoys.com/newsite/2014/07/03/46414.htm

হাসিনার গাড়ি বহরে পানি নিক্ষেপের ঘটনায় তোলপাড়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরকে লক্ষ্য করে পানি ফেলার ঘটনায় তোলপাড় হচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। বৃহস্পতিবার অধিবেশন শেষে সংসদ ভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি যখন বের হচ্ছিলো তখনই ঘটে এ ঘটনা। পানি থেকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি রক্ষা পেলেও এসএসএফ-এর গাড়ি বহরে গিয়ে পড়ে এ পানি। সংসদ সচিবালয়ের সার্জেন্ট এ্যাট আর্মস আশরাফুল হক বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক কর্মচারিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার আইডি কার্ড সিজ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংসদের নিরাপত্তায় দায়িত্বরত সার্জেন্ট এ্যাট আর্মস, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে।

এ ঘটনায় জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওই বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে পানি না লাগলেও প্রধানমন্ত্রী পানি পড়তে দেখেছেন। আর যেখানে পানি পড়েছে সেখানে ফাইবার গ্লাস ছিল। যার ফলে বিকট শব্দ হয়েছে। এটি পানি না হয়ে অন্য কিছু হতে পারতো। অর্থাৎ সংসদে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি নিচ্ছিদ্র করা সম্ভব হয়নি।
ওই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, পানি ফেলার বিষয়টি ইচ্ছাকৃত নয়। কিংবা প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে পানি ফেলা হয়েছে এমনটি নয়। সংসদের সার্জেন্ট এ্যাট আর্মসও একই যুক্তি তুলে ধরেছেন। প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, গণপূর্তের এক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারি লিফটের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের শীতাতপ নিয়ন্ত্রনযন্ত্রে (এসি) জমে যাওয়া পানি জানালা দিয়ে ফেলেছেন। এর আগে কখনোই তিনি পানি জানালা দিয়ে ফেলেন নি। এসিতে জমে যাওয়া পানি সাধারণত: বাথরুমেই ফেলা হয়। যে পানি বাথরুমে ফেলার কথা সেই পানি সংসদ চলাকালে জানালা দিয়ে ফেলার ঘটনা স্বাভাবিক নয়। আর এমন একটি সময়ে পানি ফেলা হয়েছে যখন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বের হচ্ছে। এটি সংসদের ভিভিআইপি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটা বিরাট ঘাটতি।

সার্জেন্ট এ্যাট আর্মস কমোডর আশরাফুল হক খাসখবরকে জানিয়েছেন, যারা এ কাজটি করেছে তারা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। না বুঝে পানি ফেলেছে। আমি তাদেরকে ডেকে বলে দিয়েছি, আর জানালা দিয়ে যেনো পানি ফেলা না হয়। নিজেকে বাচাতে সার্জেন্ট এ্যাট আর্মসের এক যুক্তি আপাত: মেনে নিলেও সংসদের ভিভিআইপি নিরাপত্তার বিষয়টি আবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। উৎসঃ http://www.onbangladesh.org/newsdetail/detail/200/80955

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla