Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

আমিরাত নয়, রাশিয়া!

২০২০ সালে বিশ্ব বাণিজ্য মেলা বসবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে। তাও প্রায় ছয় বছর বাকি। এ মেলা আয়োজনের দাবিদার ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ আরও তিনিটি দেশ। যথাক্রমে রাশিয়া, ব্রাজিল ও তুরস্ক। আয়োজক একজন এবং, দাবিদার চারজন। সঙ্গত কারণে ভোটাভুটির প্রয়োজন দেখা দিল। বিশ্ব যেহেতু আওয়ামী চেতনায় সংক্রামিত নয় তাই চাইলেই ৫ই জানুয়ারির কায়দায় নির্বাচন করে তৈল সমৃদ্ধ দেশ আমিরাত অথবা প্রাক্তন পরাশক্তি রাশিয়ার পক্ষে মেলা বসানো সম্ভব ছিলনা। ভোট হবে গোপন ব্যালটে। কে কোন দেশকে ভোট দিল তা সনাক্ত করা সম্ভব ছিলনা। তবে এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দিল পৃথিবীর একটা দেশ...আমাদের জননী জন্মভূমি বাংলাদেশ। হাসিনা সরকারের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলার সাত বছর আগে ঢোল বাজিয়ে ঘোষণা দিলেন...তোমরা যাকে খুশি দাও, আমরা কিন্তু দেব পূর্ব ইউরোপের দেশ রাশিয়াকেই। আদম ব্যবসা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা যোগান দেয়ার অন্যতম প্রধান উৎস। পৃথিবীর প্রায় সব দেশে বাংলাদেশিরা নিজেদের ভাগ্য সন্ধানে ব্যস্ত। এবং দিন শেষে রক্ত পানি করে যা কামায় তার সিংহভাগই দেশে পাঠায় স্বজনদের দেখভাল করার দায়িত্ব হিসাবে। পাঠকদের মনে করিয়ে দেয়ার দরকার নেই পৃথিবীর কোন কোন দেশ বাংলাদেশিদের জন্য নিজেদের শ্রমবাজার খুলে দিয়েছে। বলাই বাহুল্য মধ্যপ্রাচ্য এবং আরব আমিরাত তার অন্যতম।

রাশিয়াও আমাদের বন্ধু। মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন প্রস্তাবের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো দিয়েছিল। দেশটার অর্থনৈতিক বাস্তবতা তৃতীয় বিশ্বের দেশ বাংলাদেশের চাইতে খুব একটা শক্ত অবস্থানে নেই। স্বভাবতই ভাগ্যের সন্ধানে বাংলাশিরা রাশিয়ায় ভিড় জমায় না। তবে অবস্থানচ্যুত কিছু ভাগ্য সন্ধানী স্বদেশীকে মস্কো অথবা সেন্ট পিটার্সবার্গে দেখা যায় না তা সত্য নয়। সোভিয়েত যুগের কিছু বাংলাদেশি দেশটায় অবস্থান করছে বৈবাহিক সূত্রে। বাকিরা দেশটাকে ব্যবহার করছে পশ্চিম ইউরোপে পাড়ি জমানোর ট্রানজিট হিসাবে। এক কথায়, সমসামিয়ক রাশিয়া কেবল বাংলাদেশেরই নয়,পৃথিবীর কোন দেশের অর্থনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে অক্ষম। আমাদের মত রুশরাও পশ্চিম ইউরোপ সহ উন্নত দেশ সমূহে বৈধ অবৈধ পথে ভাগ্য সন্ধানে ব্যস্ত। দুবাই শহরের হোটেল গুলোতে রুশ পতিতাদের ভিড় তারই অংশ। হাজার হাজার বাংলাদেশি কাজ করছে আমিরাতে এবং দিন শেষে সম্ভব শেষ পেনিটা পর্যন্ত দেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে। অথচ ছয় বছর যে মেলা বসবে তার ভোট দিলাম রাশিয়াকে। তাও উন্মুক্ত ঘোষণার মাধ্যমে। রহস্যটা কোথায়?

শেখ হাসিনার ভাল চাননা এমন কেউ কেউ সরাসরিই বলছেন রহস্যের চাবি লুকিয়ে আছে রাশিয়ার সাথে সম্পাদিত ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অস্ত্র-চুক্তির কমিশনে। এবং চাবিটার মালিক খোদ প্রধানমন্ত্রীর তনয়। প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনি চৌধুরানীর মতে রাশিয়াকে ভোট না দিলে প্রতিবেশী ভারত নাখোশ হত। আর ভারত নাখোশ হলে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে ভুবন খ্যাত ফলাফলও বিপদের মুখে পড়ত। ভোট দেয়ায় ফলাফল যা হবার তাই হল। আমিরাতের রাজতন্ত্র বেজায় নাখোশ, যার প্রতিফলন দেখা গেল দেশটার শ্রমশক্তি আমদানিতে। একই মেলার অবকাঠামো নির্মাণে সাড়ে তিন লাখ শ্রমিক আমদানির প্রতিশ্রুতি দেয়া হল হিন্দু রাষ্ট্র নেপালকে। কারণ নেপালের ভোট গিয়েছিল আমিরাতের বাক্সে। অথচ ভোটের আগে আমিরাতের প্রতিনিধি ঢাকায় এসে ভোটের বিনিময় হিসাবে এই সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশ হতে নিয়োগের ওয়াদা করেছিলেন।

শোনা যায় দিপু মনি পরকীয়ায় জড়িয়ে সবকিছুতে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। রাশিয়াকে ভোট দেয়ার পেছনে সেটাও নাকি একটা কারণ ছিল। সে যাই হোক, মনিজী কার সাথে কোথায় কি করবেন সেটা উনার ব্যক্তিগত ব্যপার। তবে বিশ্ব-মেলার ভোট পর্বে রাশিয়ার পক্ষ নিয়ে যে ক্ষতি করে গেছেন তার মূল্য পরকীয়া দিয়েও পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে হয়না।

Comments

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, কেবল এটাই কোনো দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে। তিনি বলেন, আমি মনে করি কেবল নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই কোনো দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে আকাসাকা প্রাসাদে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি লীগের সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে বক্তৃতা করছিলেন। জাপান পার্লামেন্টের হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ সদস্য তাকিও কাওয়ামুরা জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট লীগের সদস্যদের নেতৃত্ব দেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, দুদেশের আইন প্রণেতারা বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুসংহত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুদৃঢ়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণের ক্ষমতায়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দেশের ঐতিহ্যবাহী ধর্মনিরপেক্ষতা ও সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনেও কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য জিডিপির হার ২০১৫ সালের মধ্যে ৮ শতাংশ ও ২০১৭ সালের মধ্যে ১০ শতাংশে উন্নীত করা। এই হার ধরে রেখে ২০২১ সালের মধ্যে আমরা দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চাই। শেখ হাসিনা বলেন, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ১৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ায় ২০ বিলিয়ন ডলার। তিনি বলেন, আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল এবং সব অর্থনৈতিক সূচক ইতিবাচক অগ্রগতির ধারায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গোল্ডম্যান শ্যাসের মতে বাংলাদেশ তাদের ‘পরবর্তী এগারো’ দেশের তালিকায় এবং জেপি মরগান তাদের প্রথম ৫ দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তিনি বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্ব জোরদারের অঙ্গীকারের জন্য জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় লীগের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জাপানের জনগণের সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদানকারী কয়েকটি দেশের মধ্যে জাপান অন্যতম। তারা স্বাধীনতার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমাদের স্বীকৃতি দেয়। তিনি বলেন, জাপানের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে এদেশ সফরে আসেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার ওই ঐতিহাসিক সফরের মাধ্যমেই দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক সুদৃঢ় হয় এবং সেই থেকে জাপান বাংলাদেশের একনিষ্ঠ উন্নয়ন অংশীদার ও বিশ্বস্ত বন্ধু। শেখ হাসিনা বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমাদের জাতীয় উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে জাপানের সহায়তা অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি বলেন, দেশ গঠনের অগ্রযাত্রা বিশেষ করে আমাদের অবকাঠামো ও মানব সম্পদ উন্নয়নে জাপানের সমর্থন জাতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত ৫ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের উপরে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপান আন্তর্জাতিক অঙ্গন বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অস্ত্র বিস্তার রোধ, বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার মতো সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের অভিন্ন উদ্দেশের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় লীগ বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সমন্বিত অংশিদারিত্বের চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় লীগের সাফল্য কামনা করেন এবং বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও অগ্রগতির যাত্রায় বাংলাদেশের পাশে থাকায় জাপানে বাংলাদেশের বন্ধুদের ধন্যবাদ জানান।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অতি দ্রুত সতর্কতা সংকেত প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে উল্লেখ করে তিনি এ ব্যাপারে বাংলাদেশ-জাপান যৌথ সহযোগিতার ওপর জোর দেন।
জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টরি ফ্রেন্ডশিপ লীগের সদস্যরা বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে পরস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী কয়েকটি দেশের মধ্যে জাপান অন্যতম। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ১০ বছর পর জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা প্রধানমন্ত্রীকে আরও জানান যে জাপানের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। প্রতিনিধিদলের প্রধান তাকিও কাওয়ামুরা বলেন, শেখ হাসিনার এ সফর জাপান-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার এবং সেই সঙ্গে দু’দেশের আস্থার সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার এ সফর উভয় দেশের সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককেও জোরদার করবে। আর্থসামাজিক ও অবকাঠামোগত খাতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নের প্রশংসা করে প্রতিনিধি দলের প্রধান বলেন, এটি জাপানসহ গোটা বিশ্বের মনোযোগ আকৃষ্ট করেছে।

অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম, এম আবদুল লতিফ এমপি, অ্যাম্বাসেডর-এট-লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল ও উপপ্রেস সচিব বিজন লাল দেব এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla