Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

সুশাসনের রোজনামচা: ১৯শে মে, ২০১৪

Bangladesh

ঘটনা-১: যদি মুঠো ফোনে যোগাযোগ করেন রিংটোন হিসাবে ভেসে আসবে সূরা ইয়াসিনের তেলাওয়াত। হয় আপনি বিমোহিত অথবা ভাববেন নিশ্চয় জামাত হেফাজতের কেউ। কথায় বলে, বৃক্ষ নাম তার ফলে পরিচয়। সূরা ইয়াসিন সম্প্রচারকের পরিচয়ও তার কর্মে, ধর্মে নয়। ধারণা নিতে চলুন বাংলাদেশের আর দশটা শহরের মত আরও একটা শহরে ঘুরে আসি। এ যাত্রায় সিলেটের সুন্মাগঞ্জে। স্থানীয় লোকজনের কাছে এই ’ধর্মযাজকের’ পরিচয় খাপ খোলা তলোয়ার হিসাবে। নাম হাসানুজ্জামান ইস্পাহানী। বয়স মাত্র ২৯। এই বয়সেই রাজনীতির সবকটা অলিগলি মাড়ানো প্রায় শেষ। যার ভেতর জেলখানাও অন্তর্ভুক্ত। ২০০১ সালে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের হাত ধরে রাজনীতির মঞ্চে আবির্ভাব। তারপর আর পিছু তাকাতে হয়নি। ভাড়াটে খুনি, চাঁদাবাজ, পতিতালয়ের পিম্প, বিয়ের আসর হতে কনে উঠিয়ে তৃতীয় পক্ষের হাতে সপে দেয়ার মত অলৌকিক কর্মকান্ডের ধারক, বাহক হিসাবে ব্যাপক ’সুনাম’ অর্জন করে ফেলেছেন ইতিমধ্যে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান এখন আর এম্পি নন। তাই ইস্পাহানীকে নিরাপত্তা দেয়ার কেউ নেই। তাই বলে বসে নেই নিষিদ্ধ সাম্রাজ্যের এই অধিপতি। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সাংসদ না থাকায় পা রেখেছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ শামসুন্নাহার বেগম শাহানা রাব্বানীর আঙিনায়। বলাই বাহুল্য জনাবা রব্বানী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত সৈনিকদের একজন।

ঘটনা-২: স্থান ফেনী শহরের একাডেমী সড়কে অবস্থিত বিলাসী নামের সিনেমা হল। সময় প্রায় ১১টা। ১০০ ক্যাডারের ছোটখাটো একটা দল মোটরসাইকেলে চড়ে চলমান একটা গাড়িকে অনুসরণ করছে। মাঝে মধ্যে চক্কর দিচ্ছে। রাস্তার শত শত মানুষ খোলা চোখে দেখছে ফিল্মই কায়দার এ প্রদর্শনী। শেষ পর্যন্ত থামতে বাধ্য হল গাড়িটা। আর অনুসরণ নয়, এবার একশনে যাওয়ার পালা। গর্জে উঠল একাধিক বন্দুকের নল। গাড়ির ভেতর লুটিয়ে পরলেন ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান একরামুল হক। গাড়িতেই কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হল তার লাশ। তারপর পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হল গাড়িটায়। দাউ দাউ করে জ্বলছে মৃত্যুপথযাত্রী একজন মানুষ। মানুষ নির্বকার হয়ে তাকিয়ে দেখছে। ঢাকায় সরকার প্রধানের কানে গেল এ ঘটনা। ঘটনাচক্রে এও জানলেন সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে চেয়রাম্যান ইকরামুলের প্রতিপক্ষ ছিলেন বিএনপির এক নেতা। বিদ্যুৎ গতিতে নির্দেশ দিলেন গ্রেফতারের। গ্রেফতারের আগেই লুটপাট সহ জ্বালিয়ে দেয়া হল কোমর ভাঙ্গা, দিশেহারা, মামলা-মোকদ্দমায় জর্জরিত রাজনৈতিক দলের এই নেতার বাড়ি।

ঘটনা-৩: শিল্প শহর টঙ্গির কোন এক ব্যস্ত রাজপথ। সাভার ক্যান্টনমেন্ট হতে গাড়ি বহর খাদ্য ও অন্যান্য রসদ নিয়ে রওয়ানা দিয়েছে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে। ঠিকানা খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট। টঙ্গির রাস্তায় অনেকটা ড্রোণ হামলার কায়দায় ট্রাক বহরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কনস্টেবল আব্বাস আলী ও বাবর আলী। অভিযোগ, সেনা সদস্যদের গাড়ি হাল্কা ধাক্কা দিয়েছে পুলিশ পিকআপভ্যানকে। পুলিশের এএসআই আনোয়ার হোসেন মোটর বাইকে নিয়ে চাতক পাখির মত অপেক্ষায় থাকেন শিকারের আশায়। তার উপর ধাক্কার অভিযোগ। এ যেন সোনায় সোহাগা। ধাক্কার কাফফারা ধার্য করা হয় ৫০ হাজার টাকা। এ নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার জনাব শাহাদাত হোসেনকে ট্রাক হতে নামিয় উত্তম-মধ্যম দেয় আনোয়ার হোসেনের বুলডগ দ্বয়। এক পর্যায়ে খবর চলে যায় উত্তর পাড়ায়। একদল পোশাকধারী সেনা সদস্য স্থানীয় জনগণের সহায়তায় খুঁজে পায় আব্বাস আলী ও বাবর আলীকে। এবং এক নাগাড়ে দেয়া হয় বেধড়ক গণপিটুনি।
খবর চলে যায় উপর মহলে। নির্দেশ আসে এবং স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় রক্ষা পায় পুলিশের দুই ঈগল।

ঘটনা-৪, ৫ ও ৬: সিলেটে ব্যবসায়ী অপহরণ। চুয়াডাঙ্গায় সাংবাদিকের ক্ষতবিক্ষত লাশ। দৌলতপুর সীমান্ত হতে দশ বছরের এক বালককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ।

রোজনামচা অসম্পূর্ণ থাকবে আমাদের অবৈধ সরকারের জারজ অর্থমন্ত্রীর একটা বক্তব্য তুলে না ধরলে: "পাঁচ বছরের জন্যে এসেছি, পাঁচ বছরই থাকব: একটি ছোট দল হওয়ার পরও বিএনপিকে আরেকটি নির্বাচনের সুযোগ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মানুষ আমাদের যে বিপুল ম্যান্ডেট দিয়ে পুনর্নির্বাচিত করেছেন, তাতে আর মেয়াদের আগে নির্বাচনের প্রয়োজন নেই"

ভ্যালারে জন্মভূমি, বেচে থাক চিরকাল!!

Comments

আমাকে নামানোর ক্ষমতা কারও

আমাকে নামানোর ক্ষমতা কারও নাই: মায়া
নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১৩:৩৪, জুন ০৫, ২০১৪
২Like ৭৪

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, ‘আমাকে নামানোর ক্ষমতা কারও নাই। একমাত্র আল্লাহ ও শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ আমাকে নামাতে পারবে না। অথবা আমি যদি নিজে না নামি।’
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় মায়া এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে অনেকে টানাহেঁচড়া করছেন। আমি তাঁদের দেখেছি, কিন্তু কিছুই বলিনি। এই টানাহেঁচড়া করে লাভ হবে না।’
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের নেতা মায়া বলেন, ‘২০১৯ সালের আগে তো নির্বাচন হবে না। ক্ষমতায় এসে বিচার করতে হলে, আপনাদের পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তাই আপনারা যদি জিয়া হত্যার বিচার চান, কালই আসুন। আমি আপনাদের সহযোগিতা করব।’
মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, বিএনপি জিয়া হত্যার বিচার করতে পারবে না। তাঁর বিচার করলে বিএনপির অনেক রাঘব বোয়াল বেরিয়ে আসবে। এ জন্য এই বিচার চাচ্ছেন না বা করছেন না।

সভায় হবিগঞ্জ সীমান্ত এলাকা থেকে অস্ত্র উদ্ধার করার জন্য র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) স্যালুট জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য র‌্যাবকে বিলুপ্ত করার কথা বলা হচ্ছে। অথচ হবিগঞ্জ সীমান্তে র‌্যাব দক্ষতার সঙ্গে অস্ত্র উদ্ধার করেছে। আমি র‌্যাবকে স্যালুট জানাই।’

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফয়েজউদ্দিন মিয়ার সভাপতিত্বে বর্ধিতসভায় বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুকুল চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজি মোহাম্মদ সেলিম প্রমুখ।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/234145/%E0%A6%86%E0%A6%AE%...

যেভাবে অপহরণ ও হত্যা

অপহরণ ঘটনার ২ প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ চেকপোস্টের দুই কর্মকর্তা ও রিমান্ডে তিন র্যাব কর্মকর্তার দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, নাসিক কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে অপহরণের দিনক্ষণ আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। ২৭শে এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি চাঁদাবাজির মামলায় স্থায়ী জামিন নিতে নজরুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ আদালতে আসবে। এ সম্পর্কে মেজর (অব.) আরিফ হোসেন নিশ্চিত হন। নিশ্চিত হয়েই সকালেই অপহরণ পার্টিকে বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড় করানো হয়। সাদা পোশাকে একটি টিম নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নেয়। তারা সার্বক্ষণিক মেজর আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। নজরুল ইসলাম সেদিন তার গাড়ি না এনে তার সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপনের গাড়ি ব্যবহার করেন। স্বপনের সাদা রঙের এক্স করোলা প্রাইভেটকার যোগে নজরুল ইসলাম আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়ে আদালত থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকার যোগে নজরুল ইসলাম বের হওয়ার পরপরই মেজর আরিফের কাছে খবর পৌঁছে দেয় আদালতের আশপাশে অবস্থান নেয়া সাদা পোশাকের র্যাব সদস্যরা। নজরুলের সঙ্গে একই গাড়িতে নজরুলের সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, সিরাজুল ইসলাম লিটন, তাজুল ইসলাম। গাড়ি ড্রাইভ করে স্বপনের ব্যক্তিগত গাড়িচালক জাহাঙ্গীর। নজরুলদের গাড়ির পেছনে ছিল আইনজীবী চন্দন সরকারের গাড়ি। নজরুলদের বহনকারী গাড়িটি নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোড হয়ে উত্তর দিকে যাওয়ার পথে ফতুল্লা স্টেডিয়ামের সন্নিকটে (ময়লা ফেলার স্থান) পৌঁছার পর মেজর আরিফের নেতৃত্বে গাড়ির গতি রোধ করা হয়। নজরুলের গাড়ির পেছনে ছিল আইনজীবী চন্দন সরকারের গাড়ি। পরে দু’টি গাড়ি থেকে ৭ জনকে র্যাবের দু’টি গাড়িতে তুলে নেয়া হয় অস্ত্র দেখিয়ে। গাড়িতে তাদের ওঠানোর পর একে একে প্রত্যেকের শরীরে ইনজেকশন পুশ করে অচেতন করা হয়। অচেতন হওয়া সাতজনকে কয়েক ঘণ্টা তাদের গাড়িতেই রাখা হয়। নিয়ে যাওয়া হয় নরসিংদীতে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিকল্পনা মতে কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিম পাড়ে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বালু-পাথর ব্যবসাস্থল জনমানুষ শূন্য করার জন্য নূর হোসেনকে ফোন দেয় মেজর (অব.) আরিফ হোসেন। গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর র্যাবের গাড়ি ওই স্থানে পৌঁছায়। গাড়ির ভেতরই অচেতন প্রত্যেকের মাথা ও মুখমণ্ডল পলিথিন দিয়ে মোড়ানো হয়। পরে গলা চেপে ধরার পর একে একে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যায় সাতজন। সাতজনের নিথর দেহ গাড়ি থেকে নামানো হয়। পরে নারায়ণগঞ্জ শহরের ৫নং ঘাট থেকে র্যাবের নির্দিষ্ট নৌকা নিয়ে যাওয়া হয় কাঁচপুর ব্রিজের নিচে। লাশগুলো নৌকায় উঠিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী দিয়ে যাওয়ার পথে ‘নির্দিষ্টস্থান’ থেকে লাশ গুমের উপকরণ নৌকায় তোলা হয়। নৌকার মধ্যেই একে একে প্রত্যেকটি লাশের সঙ্গে ইট বাঁধা হয়। একটি করে ফুটো করে দেয়া হয় নাভির নিচে- গ্যাস বের হয়ে যাতে লাশ ভেসে না ওঠে। তারপর শীতলক্ষ্যা নদীর নির্দিষ্ট স্থানে লাশগুলো ফেলে দেয়া হয়।
পুরো অপারেশনে র্যাবের ৩ কর্মকর্তাসহ ২০ জন অংশ নেয়। লাশ ফেলে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন ঘাট দিয়ে উঠে শহরের ভেতর দিয়ে নিজ গন্তব্যে পৌঁছার পথে শহরের হাজীগঞ্জে পুলিশ চেকপোস্টে লে. কর্নেল তারেক সাঈদ পুলিশের মুখোমুখি হয়। এসময় তারেক সাঈদ দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাকে বলেন, আমরা আপনাদের মতো ‘ওদের’ উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছি। তখন পুলিশ আর কিছু বলেনি। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডে ফতুল্লা মডেল থানার এক কর্মকর্তার মুখোমুখি হয় মেজর আরিফ হোসেন। মেজর আরিফকে দেখে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আর কিছু বলেননি।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla