Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

গগনে গরজে মেঘ

আওয়ামী লীগের নৌকা কি তাহলে ডুবতে শুরু করেছে? অনেকে বলবেন এ ফয়সালা তো হবে সামনের নির্বাচনে! তথাস্তু! সময় আমাদের সবার বন্ধু। এর উপর ভর করলে ৮০ দিনেই নাকি গোটা দুনিয়া ঘুরে আসা যায়! নির্বাচন তো মাত্র কয়েক মাসের ব্যাপার, আমরা ম্যাঙ্গোরা না হয় সে সময়টার জন্য অপেক্ষা করবো। তবে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরীর যে রোডম্যাপ আমরা দেখা পাচ্ছি তাতে ডুবা দূরে থাক, এ যাত্রায় পাহাড় বাইয়্যা যাওয়ার কথা আওয়ামী নৌকা। জামাত- বিএনপি জোটের ছোট বড় প্রায় দুই লাখ নেতা মামলার কারণে এখন ঘর ছাড়া। গ্রেফতার এড়াতে দিশেহারা হয়ে এদিক ওদিক পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বানের স্রোতের মত। খালেদা জিয়া ছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রায় সবাই এখন জেল হাজতের সরকারী মেহমান। রিমান্ডে নিয়ে বিভিন্ন থেরাপির মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত তরুন নেতাদের শারীরিকভাবে পঙ্গু বানানোর ’ঐতিহাসিক’ সিদ্ধান্তও নাকি মঞ্জুর করেছেন দলের ওয়ান ওম্যান শো হাই-কমান্ড। তাতেই নাকি প্লেয়িং ফিল্ড মনের মাধুরি মিশিয়ে লেভেল করা যাবে, যেমনটা করা হয় ২২ গজের ক্রিকেট পীচ কে। পরিকল্পনাটা নাকি এরকমই ছিল; প্রতিপক্ষের সবাইকে ডান্ডাবেড়ির ফাঁদে আটকে, এরশাদ ও ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে বিরোধী দলের জুতা পরিয়ে সাজানো হবে ক্ষমতার পরবর্তী সিংহাসন। খালেদা জিয়াকেও আনা হবে এর আওতায়। তবে তা হবে নির্বাচনের পালে যেদিন হাওয়া লাগবে ঠিক তার আগের মুহূর্তে। এতিম তহবিল নয় ছয় করার মামলায় ৭ বছরের জেল সহ লালকার্ড দেখিয়ে বিদায় করা হবে নির্বাচনে মাঠ হতে। পরের ইতিহাস হবে ৭৪-৭৫’এর মত। এ যাত্রায় শতকরা ৯০ ভাগ ভোট দেখিয়ে মসনদে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হবে মাঠের একমাত্র খেলোয়াড় আওয়ামী লীগ তথা শেখ পরিবারকে। এখানেই শেষ নয়, ক্ষমতার দিগন্ত রেখায় মহা মুক্তির ডিজিটাল মন্ত্র নিয়ে যে অশ্বারোহী হাজির হবেন তিনি আর কেউ নন, খোদ জয় ওয়াজেদ। দলীয় প্রধান হয়ে নৌকার হাল ধরার কথা ডাচেস অব গোপালগঞ্জ জনাবা শেখ রেহানার। প্রশ্ন উঠবে, তাহলে রাজমাতার কি হবে? বনবাসে যাবেন? মোটেও না। বয়স হয়েছে, তাই অবসরে যাওয়ার মহাপরিকল্পনা করছেন তিনি। হাতে তসবি, মাথায় হিজাব নিয়ে বাকি জীবনটা নাকি ধর্ম-কর্মের পাশাপাশি নায়-নাতিদের সাথে কাটিয়ে দেয়ার খায়েশ প্রকাশ করেছেন। ইট-সুরকি ও বিটুমিন ইমালশান দিয়ে প্রায় পাকা করে ফেলেছিলেন ক্ষমতার রাজপথ। সাথে শাহবাগী কাফেলা যোগ হয় অনেকটা বোনাসের মত। আর তাতেই নেত্রী ধরে নিয়েছিলেন শুধু বাংলাদেশ কেন, চাইলে ভুবনেশ্বরের অধিপতি হতে পারেন তিনি।

সবকিছু যখন স্বপ্নের মত এগোচ্ছিল অনেকটা জীবাণু হয়ে মাঠে আবির্ভুত হন আমারদেশ পত্রিকার সম্পাদক জনাব মাহমুদুর রহমান। থাবা বাবা ও আসিফ মহিউদ্দিনদের নাস্তিকতার অবাধ রাজত্বকে অনেকটা ক্রিস্টোফার কলম্বাসের আমেরিকা আবিস্কারের কায়দায় আবিস্কার করে তুলে ধরেন জাতির সামনে এবং সামগ্রিক দায় দায়িত্ব চাপিয়ে গোটা ভার্চুয়াল দুনিয়ার উপর। ১.২ বিলিয়ন বিশ্বাসীদের নবী মোহাম্মদকে মোহাম্মক (মোহাম্মদ + আহাম্মক) ও শিশু ধর্ষক বানিয়ে ঠাট্টা তামাসার সাথে প্রতিটা মসজিদকে টয়লেট বানানোর দাবি হতবাক করে দেয় কোটি কোটি বিশ্বাসীর অন্তর। ব্লগার ও বামপন্থী তরুণদের উল্লাসে মুখরিত শাহবাগ চত্বর ও রাজপথে সহসাই নেমে আসে একাকিত্বের বেদনা। শুভ্র পোষাক ও দাড়িওয়ালাদের কাফেলা অনেকটা পিপীলিকার মত বেরিয়ে আসে গর্ত হতে এবং দখল করে নেয় রাজনীতির মঞ্চ। অথচ দুদিন আগে এ মঞ্চেই শুরু হয়েছিল কথিত দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ। যুদ্ধাপরাধী বিচারের কাধে চড়তে গিয়ে কিছু ব্লগার নিজেদের আবিস্কার করে ফেলে সেনাপতির চেয়ারে। এবং সে চেয়ার হতে চালু করে দেশ পরিচালনার নতুন কমান্ড সেন্টার। কাকে নিষিদ্ধ করতে হবে, কাকে ধরতে হবে, কাকে মারতে হবে, কাকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করতে হবে, তা কেবল ঘোষনার মধ্যেই সীমিত থাকেনি, বরং সময় বেধে আলটিমেটাম দিয়ে বলতে গেলে রাষ্ট্র পরিচালনার ভার হাতে তুলে নেয় নিজেদের হাতে। যে হেফাজতে ইসলামের নাম দেশের কোথাও কোনদিন উচ্চারিত হয়নি শেষ পর্যন্ত তাদের প্রচারণার নীচে দলিত মথিত হয় ব্লগারদের বিশ্বজয়ের উৎসব। রাজমাতা একটু দেরিতে হলেও বুঝতে পারেন নিজের ভুল, এবং মরার উপর খাড়ার ঘায়ের মত মুখ ফিরিয়ে নেন ব্লগীয় ভেঞ্চার হতে। ভোট সমীকরণের কাছে পরাজিত হয় তরুণদের আবেগ, উল্লাস ও স্বপ্ন দেখার উন্মাদনা।

মোট জনসংখ্যার শতকরা ৯০ জনেরই জানা নেই ব্লগ কি। অথচ কাদের মোল্লার রায় যেদিন বেরোল তারুণ্যের তর্জন গর্জন আছড়ে পরেছিল দেশ হতে দেশান্তরে। কনকনে শীত ও তুষারপাত উপেক্ষা করে হাজার হাজার স্বদেশি নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, লন্ডনের মত বড় বড় শহরের রাস্তায় নেমেছিল। বিদেশিরা অবাক হয়ে দেখেছিল আবেগের উদ্দামতায় একদল আদমের চীৎকার। হয়ত বুঝতে কষ্ট হয়েছিল চিৎকারের ভাষা, প্রতিবাদের উদ্দেশ্য, স্থান, কাল, ও পাত্রের ভেন্যু। কিন্তু তাতে দমে যায়নি হুজুগে মাতাল বাংলাদেশিরা। অনেকের কাছে এ ছিল ’৭১এর পুনঃজন্ম। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়েছিল বিজয় সময়ের ব্যাপার মাত্র। নিজামী, গোলাম আজমদের সাথে খালেদা জিয়া, মাহমুদুর রহমানদের কবর খুড়তেও অনেকে তৎপর হয়ে উঠেছিল। পথের কাটা বিরোধী দলীয় নেত্রীকে গোলাপি বানিয়ে ড্রেনে সমাহিত করেও কেউ কেউ তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছিলেন। কিন্তু ব্লগের বাইরেও যে একটা দুনিয়া আছে এ সত্যটা বোধহয় কারও মগজে আসেনি। এক অর্থে সে দুনিয়াই আসল দুনিয়া, আসল বাংলাদেশ। সেখানে হাতগোনা কজন ব্লগার ছাড়া কোটি কোটি স্বদেশির বাস, যারা রুটি রুজির সন্ধানে প্রতিদিন রাস্তায় নামে, ফসলের মাঠ মাড়ায়। সহজ, সরল ও ধর্মভীরু এসব মানুষকে হিসাবের বাইরে রেখে দেশের রাজনৈতিক কাঠামো বদলে দেয়ার ব্লগীয় চেষ্টাকে যারা বিপ্লব হিসাবে দেখেছিলেন তাদের হয়ত দেশকে চিনতে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। বাংলাদেশের যে কোন পরিবর্তনে ৯০ ভাগ মানুষের স্বার্থ প্রতিফলিত না হলে সে পরিবর্তন বুমেরাং হয়ে জাতির গলায় চেপে বসতে বাধ্য। আজকের হেফাজতে ইসলাম তারই ইঙ্গিত।

আওয়ামী নৌকায় ইতিমধ্যে ফুটো তৈরী হয়ে গেছে। তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সে নৌকাকে বিপুল বিক্রমে তলিয়ে দিতে বাধ্য করবে কেবল। এমনটাই আজকের বাস্তবতা। পাশাপাশি ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের পরাজয় প্রতিশোধের রক্তগঙ্গা ডেকে আনতে বাধ্য। এ রাস্তা খোদ শেখ হাসিনা নিজ হাতে তৈরী করে রেখেছেন। ভার্চুয়াল দুনিয়ার স্বাধীনতা ভোগ করার নামে আওয়ামী প্রতিপক্ষকে যারা নিজের প্রতিপক্ষ বানিয়ে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে চলছেন তাদের নতুন করে ভেবে দেখার অনুরোধ করবো। কারণ ছাত্রলীগের মত তাদেরও আছে দল, শিবির, পুলিশ, আদালত, বিচারক ও কোটি কোটি জনতা। হিংস্রতায় ওরা কারও চেয়ে কম যায়না। ভুল সময়ে ভুল ভাষার ব্যবহার কতটা বিপদ ডেকে আনতে পারে আসিফ মহিউদ্দিন গং’রা হয়ত এতদিনে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। সরকারের পয়সায় পাঁচ তারকা হোটেলে বাস করে, সরকারের দেয়া গানম্যান নিয়ে বেশিদিন নিরাপদে থাকা যাবে এরই বা নিশ্চয়তা কোথায়?

দুই পরিবারের ক্ষমতার লড়াই দেশকে গৃহযুদ্ধের দাঁড়প্রান্তে নিয়ে গেছে। কুৎসিত এ লড়াইয়ের বলি হয়ে গোটা জাতি ধুকছে। পাশাপাশি জাতীয় সম্পদ লুটপাটের ভয়াবহ প্রতিযোগিতা ছোট করে দিচ্ছে সুস্থ স্বাভাবিক হয়ে বেচে থাকার পৃথিবী। পরিসর সীমিত হলেও ভার্চুয়াল দুনিয়া ছিল এমন একটা স্থান যেখানে দলীয় ভক্তির উর্ধ্বে উঠে তুলে ধরা যেত রাজনীতি তথা অর্থনীতির আসল চেহারা। কিন্তু আমরা ব্লগাররাই বিতর্কিত করে ফেলেছি এ ভেন্যু। যার ফসল ঘরে তুলছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটে ব্যস্ত চোরের দল।

Comments

‘গ্রামীণ’ নামে নিবন্ধন বন্ধ, বিদেশি বিনিয়োগে বাধা

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার আওতায় ২০০ কোটি টাকা (প্রায় ২০ মিলিয়ন ইউরো) বিনিয়োগ করতে চেয়েছিল জার্মানির খ্যাতনামা শিল্পগোষ্ঠী অটো। বস্ত্র খাতে বিনিয়োগের জন্য ২০১১ সালে গ্রামীণ অটো টেক্সটাইল নামের একটি কোম্পানি গঠনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কথা ছিল, গ্রামীণ ট্রাস্টের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের এই কোম্পানি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা করবে। এ নিয়ে ২০১১ সালের নভেম্বরে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তিও হয়।
এর আগে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য অটো গ্রুপের চেয়ারম্যান মাইকেল অটো বাংলাদেশে সফরে এসেছিলেন। কিন্তু সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় জার্মানির ২০০ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ প্রস্তাবটি ফিরে গেছে।
বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এলইডি বাতি কারখানা স্থাপনের জন্য গ্রামীণ শক্তির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহী ছিল জার্মানিভিত্তিক আরেক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান স্নেইডার ইলেকট্রনিকস। ২০১২ সালের জুন মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা সইও হয়। কিন্তু যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয় থেকে নিবন্ধন নিতে গেলেই বিপত্তি বাধে। আর নিবন্ধন মেলেনি।
একইভাবে গত বছর ফাইবার গ্লাস কারখানা নির্মাণের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চেয়েছিল বাহরাইনের প্রকৌশল খাতের প্রতিষ্ঠান আইইএস এলায়েন্স বাইরাইন। এ জন্য আইইএস-গ্রামীণ ফাইবার গ্লাস লিমিটেড নামে কোম্পানি খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠানের নামকরণের অনুমোদন পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক ব্যবসার সেই উদ্যোগও অগ্রসর হয়নি।
এভাবেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার আওতায় ‘গ্রামীণ’ নাম নিয়ে কোনো বিদেশি বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। ফলে বিদেশি খ্যাতনামা কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ প্রস্তাব ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ নামধারী প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন দেওয়া বন্ধ রেখেছে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয়। ডেস্ক কর্মকর্তারা এ ধরনের কোনো আবেদন রাখছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি গ্রামীণ নাম দিয়ে অনলাইনে কোনো ‘নেইম ক্লিয়ারেন্স’ পাওয়া যাচ্ছে না। গত দেড় বছরে গ্রামীণ নামধারী কোনো প্রতিষ্ঠানকেই নিবন্ধন দেওয়া হয়নি।
যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয়ের নিবন্ধক বিজন কুমার বৈশ্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যেকোনো গ্রামীণ নামধারী প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন দেওয়া বন্ধ রেখেছি। কেননা, গ্রামীণ ব্যাংক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে তদন্ত করতে একটি কমিশন কাজ করছে, যা অনুসন্ধান আইনের (দ্য কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫৬) আওতায় গঠিত। এই কমিশনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা গ্রামীণের নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন দিতে পারি না।’
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আকবর আলি খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এভাবে বিদেশি বিনিয়োগ আসতে না দিলে সামাজিক ব্যবসা বাধাগ্রস্ত হবে। আর আমাদের মতো দেশে স্থানীয় বিনিয়োগে সামাজিক ব্যবসা খুব একটা হয় না।’
বোর্ড সদস্যের শিক্ষাগত যোগ্যতা: গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শাহ আলম সারওয়ারের নেতৃত্বে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি নতুন কমিটি গঠন করে দিয়েছে। এই কমিটি গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন-পদ্ধতি সংস্কার বিষয়েও প্রতিবেদন দেবে। এসব বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংক কমিশন কিছু সুপারিশ করেছিল। সেসব সুপারিশ পর্যালোচনা করে আগামী জুন মাসে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নতুন কমিটিকে বলা হয়েছে।
পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হতে কমপক্ষে স্কুল ও মাদ্রাসার কোনো পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকার সুপারিশ করেছিল কমিশন। বর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংকে প্রতি তিন বছর অন্তর একযোগে নয়জন পরিচালক নির্বাচন করা হয়। নতুন সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতিবছর তিনজন করে পরিচালক নির্বাচিত হবেন। আর নির্বাচন পরিচালিত হবে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন এমন কারও নেতৃত্বে।
সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত: গ্রামীণ ব্যাংকের পর এবার সহযোগী অন্য সব প্রতিষ্ঠান নিয়ে তদন্তে নেমেছে গ্রামীণ ব্যাংক কমিশন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসব প্রতিষ্ঠানকে কমিশনের কার্যতালিকায় আনা হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের দরিদ্র সদস্যদের কল্যাণে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে কি না, তাই তদন্ত করে দেখছে কমিশন।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে সব সহযোগী প্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এমনকি গ্রামীণ ভিয়োলিয়া ওয়াটার লিমিটেড, গ্রামীণ ড্যানোন ফুডস লিমিটেডের মতো বিদেশি যৌথ বিনিয়োগের কোম্পানির কাছেও তথ্যও চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী সব প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পরিচালনা পর্ষদের সভাসমূহের কার্যবিবরণী ও বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আকবর আলি খান মত দেন, গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো কোম্পানি আইনে গঠিত। এগুলো সরকারের অংশীদারে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি নয়। কোম্পানি আইনেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু এখন যে প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা দুর্ভাগ্যজনক।
দুই বছরে এমডি নিয়োগ হয়নি: ২০১১ সালের জুলাই মাসের পর বিগত দুই বছরেও গ্রামীণ ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ করা যায়নি। এমনকি এমডি নিয়োগের জন্য বাছাই কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। মূলত গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার মোজ্জামেল হকের পছন্দমতো বাছাই কমিটি অনুমোদনে আপত্তি জানিয়ে আসছেন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।
এ অবস্থায় ২০১২ সালের আগস্টে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়। পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে বাছাই কমিটি করার ক্ষমতা দেওয়া হয় চেয়ারম্যানকে। গত সেপ্টেম্বর মাসে পরিচালনা পর্ষদের সভায় ঋণগ্রহীতা নারী সদস্যদের আপত্তি সত্ত্বেও একতরফাভাবে বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা শামসুল বারীকে বাছাই কমিটির প্রধান করা হয়।
গত ১১ নভেম্বর এমডি নিয়োগের জন্য গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এর কার্যকারিতার বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মোছাম্মৎ তাহসিনা একটি রিট করেন। ২৬ নভেম্বর এমডি নিয়োগের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন উচ্চ আদালত। গত ২৬ জানুয়ারি এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এ প্রসঙ্গে মোছাম্মৎ তাহসিনা প্রথম আলোকে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক এত দিন ড. ইউনূসের নেতৃত্বে সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে। তাই তাঁর ওপরেই দায়িত্ব থাকা উচিত উত্তরসূরি নির্বাচনের।
নিয়মিত কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ গ্রামীণ ব্যাংক: ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলে যাওয়ার পর নিয়মিত কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে গ্রামীণ ব্যাংক। প্রতি তিন মাসে একটি সভা হওয়ার কথা থাকলেও ২০১২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদের মাত্র চারটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। এসব বৈঠকে নীতিনির্ধারণী আলোচনা খুব একটা হয়নি। প্রতিটি সভায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে বাছাই কমিটি গঠনে আলোচনা হলেও পর্ষদ সদস্যদের আপত্তির মুখে তা ভেস্তে যায়। এ ছাড়া বেতন-ভাতা, পদোন্নতি নিয়ে কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে এসব সভায়।
সর্বশেষ হিসাবে, ২০১১ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের মুনাফাও কমে গেছে। জানা গেছে, ২০১০ সালে ৭৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা মুনাফা করেছিল গ্রামীণ ব্যাংক। পরের বছর সাত কোটি টাকা কমে মুনাফা দাঁড়ায় ৬৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকায়। গ্রামীণ ব্যাংকের আর্থিক হিসাব করা হয় জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস ধরে।
এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য চেষ্টা করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান খন্দকার মোজাম্মেল হকের সঙ্গে কথা বলা যায়নি। তাঁর ফোন ক্রমাগত বন্ধ পাওয়া যায়।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-05-25/news/354852

পদ্মা দুর্নীতির ষষ্ঠ ব্যক্তির

পদ্মা দুর্নীতির ষষ্ঠ ব্যক্তির নাম প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক রিপোর্ট : পদ্মা সেতু প্রকল্পে কানাডীয় কোম্পানি এসএনসি লাভালিনের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণে জড়িত ছিলেন সরকারের আরো এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। বিশ্ব ব্যাংকের হাতে যাওয়া তথ্য প্রমাণে তেমনটিই দেখা যাচ্ছে। তবে কানাডার সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে পৌঁছায়নি সেই ব্যক্তির নাম।

ঘুষ গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার, চিফ হুইপ নুরে আলম চৌধুরীর ভাই ও প্রধানমন্ত্রীর ফুফাতো ভাগ্নে ঠিকাদার মুজিবুর রহমান নিক্সন, সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার জড়িত থাকার ব্যাপারে দুদকের হাতে প্রমাণ পৌঁছালেও বাকি রয়েছে একজনের নাম।

এই ঘুষ লেনদেনের কারণে এসএনসি-লাভালিনকে বিশ্ব ব্যাংক নিষিদ্ধ করেছে ১০ বছরের জন্য। একই তথ্য ইতোমধ্যে দুদককে পাঠিয়েছে দাতা সংস্থাটি। ২৫ পাতার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে নিক্সন ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সহ ৫ জনের নাম ও কমিশনের পরিমান।

এসএনসি-লাভালিনের সাবেক কর্মকর্তা রমেশ সাহার একটি ডায়েরির একটি পাতায় সঙ্কেতে থাকা এসব নাম এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশ্ব ব্যাংকের অতিগোপনীয় ওই নোটে নিক্সন ও সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার নামের মাঝখানে একটি নাম মুছে দেয়া রয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে।

এসএনসি-লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ সাহার ডায়েরি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশ্ব ব্যাংকের ২৫ পৃষ্ঠার এই নোটটি। পদ্মাসেতু দুর্নীতি ষড়যন্ত্র মামলার মূল আলামত এই ডায়েরিটি এখন আছে কানাডার সংশ্লিষ্ট আদালতে।

মে মাসের ২৯ তারিখে মামলাটির কার্যক্রম শুরু হবে। এই সময়ের আগে মামলা বিষয়ক আর কোনো তথ্য স্থানীয়, আন্তর্জাতিক বা সামাজিক গণমাধ্যমে প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কানাডার আদালতটি। ফলে এখনই জানা যাচ্ছে না দুর্নীতিতে জড়িত অপর ব্যক্তির নাম।

জনাব রমেশের ডায়েরি নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনের পাঁচ নম্বর পাতায় দেয়া হয়েছে পরামর্শকের কাজ পাওয়ার জন্য ১০ শতাংশ ঘুষের খসড়া হিসাব। যাতে সাংকেতিকভাবে মশি রহমান ১%, মিন ৪%, কায়সার ২%,নিক্সন ২% এবং ১% সেক্রেটারি নামে ঘুষের বরাদ্দ করা হয়েছিল বলে উল্লেখ। আরটিএনএন
http://www.amadershomoy2.com/content/2013/04/22/news0084.htm

রমেশের ডায়েরিতেই আছে ৭ জনের

রমেশের ডায়েরিতেই আছে ৭ জনের ১২ শতাংশ
৪ জন যুক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ শতাংশ উৎকোচ

ডেস্ক রিপোর্ট : পদ্মা সেতু দুর্নীতিতে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ কতটা বেপরোয়া হয়েছিলেন, সেই প্রমাণের অমানিশা খুব দ্রুতই কাটবে বলে অনেকের বিশ্বাস। শুধুই জনসমক্ষে বেরিয়ে আসার প্রতীক্ষা। যারা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তারা কল্পনাও করতে পারবেন না কতটা অপরাধের পদচিহ্ন তারা পদে পদে রেখে গেছেন। ইতোমধ্যে সেগুলোর হাজার খানেক দস্তাবেজ টরন্টোর কোর্টে উপস্থাপিত হয়েছে। সেগুলো থেকে অনুমান করা যায় সদ্যসমাপ্ত প্রাথমিক শুনানির পর চূড়ান্ত শুনানিতে এর পরিমাণ কতটা বিপুল পরিসরে ঘটবে। দুদক নাকি মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের গ্রেপ্তার বা তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পরোয়ানা রুজুর মতো কিছুই হাতের নাগালে পায়নি। অথচ বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সরকারকে দু’দফায় প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি দিয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও প্রশ্ন রেখে জাতিকে বলেছেনÑ টাকাই যেখানে দেয়া হয়নি, তা হলে দুর্নীতি হল কোত্থেকে?

বাংলাদেশ যে একটি দুর্নীতিপরায়ন রাষ্ট্র, প্রতিটি সরকারি কাজে উপর থেকে নিচ অবধি উৎকোচ ছাড়া হয় না, এর সাক্ষ্য-প্রমাণ কোর্টে ‘হার্ডলি সারভাইভিং’ বাংলাদেশি একজনের মুখে বেরিয়ে এসেছে। এছাড়া জাতিসংঘে বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখাটা যে কতটা স্থূল চিন্তার পরিচায়ক ছিল তা বিশ্বব্যাংকের প্রধান পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিত স্টিফেন জিমারম্যানই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সদলবলে অচিরে প্রমাণ করবেন। কারণ তার দফতরের নাম ‘ইন্টিগ্রিটি ভাইস প্রেসিডেন্সি’। শুধু তার পদ্মা সেতু দুর্নীতিতে উদ্ধারকৃত দলিল-দস্তাবেজ জনসমক্ষে তুলে ধরা বাকি। কোর্টে পশ্চিমা মিডিয়ার যারা অবিরত নোট নিয়েছেন অথচ বাধ্যবাধকতায় প্রকাশ করেননি, তারাও সুনামীর মতো ঢেলে দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিকভাবে ওই প্রকল্পের কারণে বিশ্বব্যাংকের হাতে একটি দৃষ্টান্তমূলক ‘শো-পিস’ তুলে দিয়েছেন এমনটাই বলেছেন গত শনিবার ‘বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপ’ অনুষ্ঠানের বক্তারা।

ওই সংলাপে একজন দর্শকের প্রশ্ন ছিল বিশ্বব্যাংক কানাডার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার ফলে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির যে অভিযোগ ছিল, তা স্পষ্ট হয়েছে কি না? উত্তরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিশ্বব্যাংকের কাছে একটা শো-পিস তুলে দিলাম। সারা বিশ্বে দুর্নীতি হলেই বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর বিষয়টি শো-পিস হিসেবে ব্যবহার করবে’। তিনি আরো বলেন, ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পে এটা পরিষ্কার হয়েছে, সরকার অস্বীকৃতির মানসিকতা দেখিয়েছে এবং বিশ্বব্যাংক দাদাগিরি করেছে’।

এই বক্তব্যে জনগণ যা বোঝার বুঝে গেছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশ, দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেছেন, কানাডার আদালতের সর্বশেষ কোনো তথ্য তাদের হাতে আসেনি। প্রশ্ন ওঠে, তথ্য কি এমনিতেই আসবে? নামেই যেন তাদের তোড়জোড় ভাব। তাদের নিজস্ব প্রচেষ্টা নিয়ে কেউ-ই প্রশ্ন তুলছেন না। অথচ কানাডার পুলিশ বাংলাদেশ গিয়ে এমন সব বিষয়াবলি উদ্ধার করেছেÑ তারা তা কল্পনাও করতে পারবেন না।

তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে যাওয়া এসএনসি-লাভালিনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কেভিন ওয়ালেসের সৌজন্যে ঢাকা ক্লাবে কার দেয়া ডিনারে কে কোথায় বসেছিলেন সেই চিত্রটিও উšে§াচিত। তার ঢাকা-টরন্টো আসা-যাওয়ার আগে-পরে কে কখন তাকে ফোন করেছেন, কী কথপোকথন হয়েছেÑ সবই কানাডার পুলিশ উদঘাটন করেছে। এমনকি তার অনুগ্রহে কানাডার ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এই দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত একজনের পাসপোর্টের কপিও তাদের হাতে আছে। বিস্তর চেইন ই-মেইল রয়েছে। এ যেন পদে পদে রেখে যাওয়া অপরাধীর চিহ্ন। শুধু কি পদ্মা সেতু প্রকল্প। এসেছে ঢাকার একটি এক্সপ্রেসওয়ের জন্য ‘ফিফ্টি-ফিফ্টি’ উৎকোচের আবদারের প্রমাণাদি। পদ্মা সেতুর উৎকোচের ‘পার্সেন্টেজ’ নিয়ে নানা বাদানুবাদ ও বিগ্রহ, ‘পার্সেন্টেজ’ নিশ্চিতের লিখিত নেওয়া। হলিউডের কোনো ডিটেকটিভ পরিচালক রীতিমতো একটি সেন্সেশনাল ছায়াছবি করতে পারবেন; নিদেনপক্ষে একটি ডকুমেন্টারি। সেই ডকুমেন্টারি কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (সিবিসি) বানিয়ে প্রচার করেছে। তাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্য কানাডাপ্রবাসী বাংলাদেশিরা দেখেছে। সময়মতো তারাও প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করবেন বলে জানা গেছে।

বুঝতে হবে বাংলাদেশের ৬ কিলোমিটার অন্যতম দীর্ঘ ব্রিজ নির্মাণ প্রয়াস, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩১ শতাংশ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ভাগ্যোন্নয়ন ত্বরান্বিত করার রাজনৈতিক ওয়াদা, উৎকোচের অভিযোগে অর্থদাতা বিশ্বব্যাংকের শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশের ঋণ বাতিল, তার সঙ্গে সিদ্ধান্তে অঙ্গীকারাবদ্ধ তিনটি উন্নয়ন ব্যাংকÑ জাইকা, এডিবি ও ইসলামি ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনও রয়েছে ১৬ কোটি জনগোষ্ঠীর দরিদ্র অথচ এশিয়া মহাদেশে অর্থনৈতিকভাবে প্রতিশ্র“তিশীল বাংলাদেশ।

সেই বাংলাদেশে এসএনসি-লাভালিনের কেভিন ওয়ালেস গিয়েছেন, মুখোমুখি কথা বলেছেন, ডিনার করেছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনসহ অনেকের সঙ্গে। এই মন্ত্রী দেন-দরবারে সুদূর কানাডা থেকে তাকে ‘সাদা-মানুষ’ হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। তার সঙ্গে ছিলেন এসএনসি-লাভালিনের আরেক কর্মকর্তা রমেশ শাহ। দেন-দরবারের নোট নিয়েছেন একটি ‘স্পাইরাল’ ডায়েরিতে। তাতেই উৎকোচের অংক বা পার্সেন্টেজ লেখা হয়েছে ৪% মিন, ২% কায়সার, ২% নিক্সন (ইংরেজ ভেবে নামের পাশে প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়েছেন), ২% (রাষ্ট্রীয় উচ্চপদস্থ একজন ও তার সিবলিং), ১% সেক্রেটারি এবং ১% এমআর এই নিয়ে মোট ১২%। কিন্তু এই ১২% নিয়ে উৎকোচগ্রহীতারা সন্তুষ্ট থাকতে পারেননি। তাই অন্যত্র আরো তিনটি নামের সঙ্গে ৩ দশমিক ১ শতাংশের দাবি যুক্ত হয়েছে। যেমন- ১% ড. মিজানুর রহমান শেলী, ২% বাংলাদেশ ব্রিজ কর্তৃপক্ষের পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও ০.১% ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ জাবের। এ ছাড়াও রয়েছে আরেকজনের নাম হাশেম আনোয়ার। শেষটায় তারা এই উৎকোচপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে রমেশেকে প্রকল্পের দায়িত্ব থেকে সরিয়েছেন। বসিয়েছেন পর্যায়ক্রমিক বাংলাদেশি দুজনকেÑ প্রথমে মো. ইসমাইল, পরে বদরুল আলম।

এখনও দুদক শুধুই রমেশের ডায়েরির কথা বলছে। যেন এটি পেলে তারা তৎপর ডিটেকটিভ হত। বাস্তবে রমেশের ডায়েরি ছাড়াও ছিল আরও অনেক প্রমাণাদি, যা দুদক দায়িত্বশীল হলেই উদঘাটন করতে পারত। তাদের পরমুখাপেক্ষিতার পরিণতিতে কানাডার কোর্ট শুরুর একদিন আগে ভিসার আবেদন করে ভিসা পায়নি। কোর্ট শুরুর তারিখের জায়গায় বলেছে অনিশ্চিতভাবে ৮ বা ১৪ এপ্রিল। টরন্টোর পরিবর্তে মন্ট্রিয়ল ফেডারেল কোর্ট। রীতিমতো এক তামাশা। এ জন্য উৎকোচের গ্লানিতে বিশ্বব্যাংকের স্বল্প সুদের ঋণ হারানোর পাশাপাশি জাতির ভাগ্যাকাশে এখন শুধুই অপেক্ষা করছে এক ‘শো-কেস’ তুল্য হওয়ার গ্লানি।

[বিভিন্ন সূত্র ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও মন্তব্য নিয়ে সংকলিত]
http://www.amadershomoy2.com/content/2013/04/22/news0083.htm

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla