Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

বিল্লালকে জাতীয় বীর ঘোষনা করা হোক

Thieves of Bangladesh
চুরির সাথে মিথ্যার কি সম্পর্ক তা নিয়ে নতুন কিছু না বল্‌হলেও চলবে। এই দুই সত্ত্বা এক কথায় একে অন্যের নিবিড় পরিপূরক! ৩৯ বছর ধরে বাংলাদেশ নামক দেশটার আপাদমস্তক প্রতিষ্ঠিত এমন একটা সত্যকে মিথ্যা প্রমান করলেন জনৈক বিল্লাল। পেশায় গাড়ি এবং গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর। এ নিয়ে মোটেও লজ্জিত নন তিনি, বরং সাংবাদিকদের কাছে অকপটে বলে গেলেন নিজ হাতে গড়ে তোলা চুরি সাম্রাজ্যের চমকপ্রদ কাহিনি। ২০ বছর ধরে কাজ করছেন এ লাইনে, গ্রেফতার হয়েছেন মোট ১৭ বার, কোন বারই ৩ মাসের বেশী জেল খাটতে হয়নি। এ কথা নতুন করে প্রমানের অপেক্ষা রাখেনা বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন অথবা ক্ষমতাহীন রাজনীতিবিদ, পেশাজীবি, বুদ্ধিজীবী সহ রাষ্ট্রযন্ত্রের সাথে জড়িত শতকরা প্রায় ১০০ জন স্বদেশী নিজেদের ভাগ্য গড়েন চুরি বাণিজ্যের উপর। এই চুরিকে হালাল করতে যে সমস্ত জনপ্রিয় টুলস্‌ ব্যবহার করা হয় মিথ্যা তার মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশে মিথ্যাকে লালন করা হয় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, মন্ত্রী, এমপি হতে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার, চেয়ারম্যান, সমাজের পাতি নেতা, উপ নেতা, ছটাক নেতার দল নিজেদের ভাগ্য গড়েন মূলত চুরি এবং মিথ্যার আশ্রয়ে। ট্রুথ কমিশনে দেয়া ক'জনের স্বতস্ফুর্ত স্বীকারোক্তি বাদে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে কোন চোর নিজের দোষ স্বীকার করছে কি-না এর কোন লিপিবদ্ধ রেকর্ড নেই। এ বিচারে বিল্লালের স্বীকারোক্তি হতে পারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর হতে ঢাকায় এসে কাজ খুঁজছিল বিল্লাল, হঠাৎ করেই পরিচয় হয় ভবিষ্যৎ উস্তাদ ছিদ্দিকের সাথে। এই ছিদ্দকের হাত ধরেই নাম লেখান গাড়ি চুরিতে। প্রথম চুরি হতে আয় হয় ২ হাজার। ২০ বছরে গড়ে তুলেছেন বিশাল এক চুরি সাম্রাজ্য। নিজে না জড়িয়ে সাগরেদ দিয়েই কাজ করান এখন এবং ৩/৪ লাখ টাকার কম আয়ের সম্ভাবনা থাকলে এমন গাড়ির দিকে হাত বাড়ান না সাধারণত। বিল্লালের সাফ সুতরা জওয়াব, ২০০ কোটি টাকার মালিক হওয়ার আগ পর্যন্ত চালিয়ে যাবেন এই প্রফেশন। এই প্রতিষ্ঠিত চোরের আপদকালীন দুর্যোগ মোকাবেলায় তৈরী আছে স্পেশালাইজড‌ বিশাল এক টিম। স্ত্রীর নেত্রীত্বে থানা, পুলিশ, উকিল, ডাক্তারদের সমন্বয়ে গড়া এই টিমের বদৌলতে অনেকটা নিরাপদেই চালিয়ে যাচ্ছেন এ ব্যবসা।

বিল্লালের জুতায় হাসিনা, খালেদা, তারেক, ককো, বাবর, মওদুদ, নাজমুল হুদা, নানকদের মত সমসাময়িক রাজনীতির বাঘ ভল্লুকদের পা ঢুকালে খুব কি বড় ধরনের পার্থক্য ধরা পরবে? শোনা যায় বিল্লাল মাত্র ২০ কোটি টাকার মালিক, পার্থক্য নিশ্চয় টাকার অংকে। নিজেরা স্বীকার না করা পর্যন্ত হাসিনা-খালেদা গং কত টাকার মালিক তা আমরা কোনোদিনই জানতে পারবনা। বিল্লালের সাথে পার্থক্যটা এখানেই। বিল্লাল ঘোষনা দিয়েছেন ২০০ কোটি টাকার মালিক হওয়া মাত্র চুরি হতে সড়ে দাঁড়াবেন। আমাদের বাঘ ভল্লুকের দল কত টাকার টার্গেট নিয়ে এ ব্যবসায় জড়িত আছেন তা যদি বিল্লালের মত জানিয়ে দিতেন জাতি হিসাবে আমরা নতুন আশায় বুক বাধতে পারতাম।

যথাযত কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব বিল্লালকে সময়ের সাহসী সৈনিক হিসাবে আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের নতুন বীর হিসাবে ঘোষনা করতে।

সূত্রঃ দৈনিক আমাদের সময়

Comments

মেয়েদের নাম না লিখতে বিল্লালের অনুরোধ

বিপ্লব বিশ্বাস: গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে আটক বিল্লাল তিন মেয়ের জনক। এ কথা জানিয়ে গতকাল তিনি ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তার মেয়েদের সম্পর্কে না লিখতে। তিনি বলেন, ‘আমার কৃতকর্ম সম্পর্কে যতো খুশি লিখেন। কিন্তু আমার মেয়েদের কোনো দোষ নেই। তাদের নাম দয়া করে লিখবেন না।’

বিল্লাল পুলিশের কাছে তার চোর জীবনের অনেক ঘটনা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ১৫ থেকে ২০ জন শিষ্য তৈরি করেছেন তিনি। এর মধ্যে তিন শিষ্য সফিকুল, বাদল ও হাসেম খুবই বিশ্বস্ত।

বিল্লাল বলেন, একবার তারেক রহমানের ডান্ডি কারখানায় ঢুকে পড়েছিলেন তিনি। কারখানার গ্যারেজে পার্ক করা গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরি করেন তিনি।

তিনি জানান, ২২ বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় শ্বশুর বাড়িতে নিজেকে ঢাকার বড় ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেন।

উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, বিল্লাল ১৫ কোটি টাকার সম্পদ গড়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় আছে তিনটি বাড়ি। তিনটি প্লট (তিন, চার ও ছয় কাঠা)। আশুলিয়া ও যাত্রাবাড়িতে তার আরো তিনটি বাড়ি আছে। ঢাকার ভাড়া দেয়া আছে তিনটি ব্র্যান্ড নিউ মাইক্রোবাস এবং প্রাইভেট কার। টাঙ্গাইলের সখীপুরে আছে বিলাসবহুল বাগান বাড়ি। ওই বাড়ি তৈরিতে খরচ হয় এক কোটি ২০ লাখ টাকা।

বিল্লাল পুলিশকে বলেছেন, তিন লাখের কমে কোন কাজ করেন না তিনি। নতুন মডেলের গাড়ি ছাড়া চুরিও করেন না। তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা খুঁজে পাওয়া গেছে।

গত রোববার যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর বিল্লালকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর তাকে নিয়ে নরসিংদীর সদর এলাকার বাদলের বাড়ির বালুর স্তুপে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ির যন্ত্রাংশ (যার আনুমানিক মূল্য ২৪ লাখ টাকা) উদ্ধার করা হয়।

http://www.amadershomoy.com/content/2010/04/07/all0335.htm

রাজধানীতে কোটিপতি গাড়ি চোর বিল্লাল গ্রেফতার

যুগান্তর রিপোর্ট
Photobucket
১৫ বছর ধরে গাড়ির পার্টস চুরি করে প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছে বিল্লাল। এ কাজ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে ১০ থেকে ১২ বার। গণপিটুনির শিকারও হয়েছে। কিন্তু চুরির পেশা ছাড়েনি সে। ইচ্ছা ছিল ২শ’ কোটি টাকার মালিক হলেই সে চুরি ছেড়ে দেবে। কিন্তু এ আশা পূর্ণ হওয়ার আগেই মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ রোববার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে গাড়িচোরদের ওস্তাদ বিল্লালকে। গোয়েন্দা পুলিশ তার কাছ থেকে উদ্ধার করেছে ৩টি প্রাইভেট কারের প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের যন্ত্রাংশ। গ্রেফতারের পর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে বিল্লাল মিডিয়ার সামনে অকপটে স্বীকার করেছে তার গাড়িচোর হয়ে ওঠার কাহিনী। সোমবার বিল্লাল মিন্টো রোডে ডিবি সদর দফতরে সাংবাদিকদের জানায়, প্রায় ১৫ বছর আগে গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর সিদ্দিকের মাধ্যমে সে অপরাধ জগতে পা বাড়ায়। পরে নিজের একটি দল গঠন করে সে। তার অন্যতম চার সহযোগীর মধ্যে জাকির কিছুদিন আগে মারা গেছে। শফিকুল ও বাদল কারাগারে এবং হেলাল এখন পলাতক। ১৫ বছরে সে ১০ থেকে ১২ বার পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। তবে কোনবারই তাকে বেশিদিন জেলে থাকতে হয়নি। সর্বশেষ পাঁচ মাস জেল খেটে সে ছয় মাস আগে বের হয়। দীর্ঘদিনের এ পেশায় সে প্রায় ৫শ’ গাড়ির পার্টস চুরি করেছে। গ্রেফতারকৃত বিল্লাল সাংবাদিকদের অকপটে জানায়, সে ও তার দলের সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন অফিস কিংবা কোন বাসার গ্যারেজে গিয়ে প্রথমে দারোয়ানকে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করে। টাকার প্রলোভন দিয়ে তাকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করে। এতে কাজ হলে রাতে গ্যারেজে ঢুকে গাড়ির যন্ত্রাংশ খুলে নেয়। বিল্লাল জানায়, যত অত্যাধুনিক গাড়িই হোক না কেন ১টা গাড়ি খুলতে তার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের বেশি সময় লাগে না। বিল্লাল জানায়, নতুন মডেলের গাড়ি ছাড়া তারা চুরি করে না। তার ভাষায়, একেকটা কাজ (চুরি) থেকে ২/৩ লাখ টাকা না এলে ঝুঁকি নিয়ে লাভ নেই। তবে এখন সে নিজে খুব বেশি একটা কাজ (চুরি) করে না। এজন্য তার শিষ্যরাই যথেষ্ট বলে সে সাংবাদিকদের জানায়।
বিল্লাল জানায়, এ পর্যন্ত গাড়ির পার্টস চুরি করে সে যাত্রাবাড়ীতে একটি চারতলা বাড়ি করেছে। রয়েছে দুটি গাড়ি। সব মিলিয়ে সে প্রায় ১০ কোটি টাকার মালিক। তবে ২শ’ কোটি টাকার মালিক হতে পারলে এ পেশা ছেড়ে দেবে বলে সাংবাদিকদের জানায় বিল্লাল। তবে তার এ আশায় গুড়ে বালি দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার ১১টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে গাড়িচোর চক্রের হোতা বিল্লালকে গ্রেফতার করে।
গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমশনার (দক্ষিণ) মোঃ মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, গ্রেফতারকৃত বিল্লালের স্বীকারেক্তি অনুযায়ী নরসিংদী জেলার ভুইয়ুম এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ির যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ২৪ লাখ টাকা। এর আগে বিল্লালের সহযোগীদের কাছ থেকে ১ কোটি টাকার চোরাই যন্ত্রাংশ উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৬টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে।
মনিরুল ইসলাম জানান, বিল্লাল গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরির ক্ষেত্রে গডফাদার হিসেবে স্বীকৃত। তাদের দলে রয়েছে কয়েকজন টেকনিশিয়ান। তারা গাড়ির যন্ত্রাংশ খুলে নেয়ার কাজ করে, ৪/৫ জন শ্রমিক মাল বস্তায় ভরে গাড়িতে তোলে। আর বাকিরা ‘মিডিয়া’ বা দালাল হিসেবে চুরির মাল বিক্রির কাজ করে। সে ও তার বাহিনীর সদস্যরা মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে গাড়ির গ্লাস ভেঙে লক (তালা) খুলে যন্ত্রাংশ চুরিতে সিদ্ধহস্ত।
সে জানায়, প্রতিটি গাড়ির চোরাই যন্ত্রাংশ আলাদা বস্তায় ভরে গোপন স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়। এসব যন্ত্রাংশ বিক্রির জন্য তাদের রয়েছে চমকপ্রদ কৌশল। চুরির পর দালালের মাধ্যমে ওই গাড়ির মালিকের সঙ্গেই যোগাযোগ করে তারা। মূল দামের চেয়ে অনেক কমে তার কাছেই চোরাই যন্ত্রাংশ বিক্রি করা হয়। গাড়ির মালিকও পুলিশি ঝামেলা এড়াতে এবং অল্প টাকায় যন্ত্রাংশ ফিরে পেয়ে বিষয়টি চেপে যান।
http://jugantor.biz/enews/issue/2010/04/06/news0938.php

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla