Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

ক্রসফায়ারই যদি একমাত্র সমাধান তাহলে কেন তাদের নয়?

RAB - Bangladesh
খুউব কি খারাপ লাগছে? খুউব কি ব্যথিত হচ্ছেন? দেখতে কষ্ট হচ্ছে? মান+হুস যোগফলের মানুষ হয়ে থাকলে হওয়া স্বাভাবিক, লাগাটা জরুরী। এমনটাই যদি আপনার স্টেট অব মাইন্ড, অনুরোধ করব ব্যথা উপশমের দু চারটা ট্যাবলেট গিলে নিতে। কারণ এরপর আমি যা বলব তাতে সে ব্যথা সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে পরার সম্ভাবনা থাকবে। বিশেষ করে আপনাকে যদি মাননীয়া, মহামাননীয় নেতা-নেত্রীদের চরণে নিয়মিত পুজা দিতে হয়। উন্নত দুনিয়ায় শিকার একটি স্বীকৃত হবি। এর পেছনে উচ্চবিত্ত হতে শুরু করে নিম্নবিত্তরা পর্যন্ত অর্থ ব্যয় করতে দ্বিধা করেনা। সরকারী ভাবেও সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে এ হবির লালন পালন ও প্রসার নিশ্চিত করা হয়। বন-জঙ্গল, পাহাড়-পর্বত, সাগর-মহাসাগর আর নদী-নালায় আইন করে বৈধ করা হয় পশু পাখি আর মাছ নিধন। এ কাজে কেউ ব্যবহার করে আগ্নেয়াস্ত্র কেউবা বেছে নেয় সনাতনী মাধ্যম। দিনান্তে সবাই ঘরে ফেরে নির্মল আনন্দ নিয়ে। বাংলাদেশে শিকারের মাঠ থাকলেও নেই পরিবেশ। হয়ত সে কারণেই সমাজের প্রিভিলেজড অংশ সন্ধান করে নতুন মাঠের, বিকল্প পরিবেশের। সে বিকল্পের অপর নাম ক্রসফায়ার, এনকাউন্টার ও বন্ধুকযুদ্ধ।

পুলিশের চাকরী পেতে হলে আমাদের কত টাকা খরচ করতে হয় অথবা আদৌ করতে হয় কিনা তা কমবেশি সবার জানা। সিপাই হতে শুরু করে ইনসপেক্টর জেনারেল পদের একটা দর আছে, যা বেচা-কেনা হয় ক্ষমতা নামক পতিতালয়ে। অপরাধের জরায়ুতে জন্ম নেয়া পুলিশ বাহিনী দেশের একক বাহিনী নয় যা নিয়ে আমরা ’গর্ব’ করতে পারি, এ কাজে সামনে হতে নেত্রীত্ব দিচ্ছে দেশের সেনাবাহিনী। লেনা-দেনার বাণিজ্য এখন আর লুকোচুরির সাবজেক্ট নয়, বরং তা ওয়াইড ওপেন সাবজেক্ট অব স্টেইটস ডিসিপ্লিন । স্বাধীনতার পর পর সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রকাশিত একটা কার্টুন ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল তার কনটেন্টের জন্যে। কার্টুনের সারমর্মটা এ রকমঃ সদ্য ভর্তি হওয়া একজন তরুণ ঢুকছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং চার বছর পর একই বিশ্ববিদ্যালয় হতে বেরিয়ে আসছে চার পাওয়ালা গরু হিসাবে। আমাদের সেনাবাহিনীর গর্বিত সৈনিকদের অবস্থাও একই যখন তারা চাকরি নিয়ে রওয়ানা দেয় সীমান্তে। সেনা সদস্যদের শিকারের মাঠ প্রসারিত করতে চার দলীয় জোট সৃষ্টি করেছিল RAB নামক গুপ্ত সংস্থা। দুর্নীতি আর অপরাধের মহাসমুদ্রে আকণ্ঠ নিমজ্জিত দেশের পুলিশ আর সেনাবাহিনীর হাতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তুলে দিয়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো ব্যস্ত থাকছে বঙ্গবন্ধু অথবা শহীদ জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে। এ ফাঁকে শিকারের মাঠ খোলা পেয়ে ওরা শিকার করছে। বলার অপেক্ষা রাখে না এ শিকার পশু-পাখি অথবা মৎস শিকার নয়, এ শিকার পায়ের উপর শরীর, শরীরের উপর মাথা ওয়ালা মানুষ। ওরা শিকার করছে হাটে মাঠে ঘাটে। অন্ধকার নামলেই ওরা মাঠে নামে এবং তুলে নেয় পছন্দের মানুষকে। খুব কাছ হতে গুলি চালায় এবং পশু হত্যার মত মানুষ হত্যা করে ওরা উল্লাস করে এবং পাশাপাশি অবদান রাখে গণতান্ত্রিক 'সুশাসনে'।

হরেক রকম চোরের মেলা বাংলাদেশে। কেউ গরুর হাটে গরু চোর, কেউ পরিবহনের পকেট মার, কেউবা আবার যা পাই তা খাই জাতীয় চোর। এসব চোরদের গায়ে দুর্গন্ধ, বগলে অপরিস্কার লোম আর পরনে ইস্ত্রিবিহীন বস্ত্র। ওদের চোখে দেখা যায়, হাত বাড়ালে ছোয়া যায় এবং চাইলে যখন তখন ব্যক্তি ও সরকারী আইনের আওতায় আনা যায়। এক কথায় ওরা আনওয়ান্টেড ক্রিমিনাল। চোখের সামনে একদল ক্রিমিনাল অরাজকতা ও অশান্তি সৃষ্টি করবে আর আমাদের তা হজম করতে হবে, রাজনৈতিক দলগুলোকে নিশ্চয় এ জন্যে ক্ষমতায় পাঠানো হয়না? আফটার অল জনগণের দেখভাল করার দায়িত্বটা যে তাদেরই! সে দায়িত্ব ’সাহসিকতার’ সাথে পালনের জন্যেই বোধহয় এসব চোর, ডাকাতদের নেয়া হয় বধ্যভূমিতে, আর রাতের অন্ধকারে চোরের মত হত্যা করে ছড়িয়ে দেয় ভূয়া, মিথ্যা আর বানোয়াট কাহিনী। বাংলাদেশে কে বেশি বড় চোর, একজন পুলিশ না নয়ারহাট রুটের একজন পকেটমার? কে বেশি সন্ত্রাসী, রাজনীতির ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠা একজন বিপদগামী যুবক, না অস্ত্র হাতে একজন পুলিশ, RAB অথবা সেনাবাহিনী? এখানে কে কাকে মারা উচিৎ ছিল, পুলিশ কর্তৃক একজন ছিনতাইকারীকে, না জনতা কর্তৃক পতিতার আঁচল ছিনতাইকারী একজন পুলিশকে?

ডাকাতের ভয়ে দেশ এখন সন্ত্রস্ত। শহর বন্দর ছাড়াও এ ভয় ছড়িয়ে পরছে গ্রামে গঞ্জে। আইনের প্রতি মানুষের বিশ্বাষ উঠে গেছে ডাকাতদের লম্বা হাতের কারণে। ওরা আগে আসতো রাতের আধারে, এখন আলো আর কোন সমস্যা নয়। ডাকাতি ব্যবসা বাংলাদেশে এখন মহামারী। আর এ মহামারী নিধনের টিকা হিসাবে সরকার আবিস্কার করেছে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ এবং এনকাউন্টারের মত মহৌষধ। ডাকাতির একটা আভিধানিক সংজ্ঞা আছে, যার সারমর্ম করলে দাড়াবে; জোর করে অন্যের অর্থ-সম্পদ ছিনিয়ে নেয়া। ওরা নির্জন জায়গায় ঠেক দেয়, সুবিধা মত বাস আটকায়, ছলেবলে বাসাবাড়িতে ঢুকে ছিনিয়ে নেয় একজনের সাড়া জীবনের সম্পদ। ওরা ডাকাত। ওদের বগলে লোম আর গায়ে গন্ধ। কিন্তু বাংলাদেশে এরাই কি একমাত্র ডাকাত? পরণে ফিটফাট বস্ত্র আর গায়ে মৌ মৌ করা সুগন্ধী ওয়ালা ডাকাতরাও কি বাংলাদেশে বাস করেনা? এদের হয়ত চোখে দেখা যায়না, হাত দিয়ে ছোয়া যায়না, তাই বলে কি এদের উপস্থিতি আমরা উপলদ্ধি করিনা? কে বেশি বড় ডাকাত, একজন সুমন, না নেতা নাজমুল হুদা? কত আয় হয় রাস্তার ডাকাতি হতে, ১০ হাজার? ২০ হাজার? ১ লাখ? পুলিশি চাদা, রাজনৈতিক চাদা, আরও হরেক রকম চাদার অলিগলি পার হয়ে ডাকাতির অংকটা যখন সুমন আর আলাউদ্দিনের ঘরে পৌছায় পারে কি তারা সন্তানদের বিলাতে পাঠাতে? ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা পারেন তার দুই মেয়েকে মাসে মাথাপিছু তিন লাখ টাকা খরচ করে বিলাতে পড়াতে। কোথা হতে আসে এ অর্থ, রাষ্ট্রীয় ডাকাতি হতে নয় কি? ফরিদপুরের ছাত্রনেতা জামাল মিয়া বিয়ের আসরে হাজির হলেন আসমানে দুটি হেলিকপ্টার উড়িয়ে। কোটি কোটি টাকার রাজকীয় বিয়েতে হাতি সাজল, ঘোড়া নাচল, সোনা-দানায় ছেয়ে গেল গোটা শহর। কোত্থেকে আসল এ অর্থ, জাদুমন্ত্রে? নাকি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের মাধ্যম? প্রাসঙ্গিক ভাবেই জানতে ইচ্ছে করে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে, মেয়ে, বোন, বোনের সন্তান, বিরোধী দলীয় নেত্রীর দুই ছেলে, কোন সোনার কাঠি রূপার কাঠির ছোঁয়ায় আমেরিকা আর বিলাতে রাজকীয় জীবন কাটাচ্ছেন?

আইন ও বিচার ব্যবস্থার উপস্থিতি সত্যেও ক্রসফায়ারই যদি হয় ডাকাত নিধনের একমাত্র অস্ত্র, তাহলে রাস্তার এসব ডাকাত না মেরে গায়ে সুগন্ধী আর বগলের লোম পরিস্কার ওয়ালা ডাকাতদের আগে গিলোটিনে পাঠানো হোক। কারণ সুমন আর আলাউদ্দিনরা জন্ম নেয় তাদেরই জরায়ুতে। এক কথায় রাষ্ট্রীয় ডাকাতির বাই-প্রোডাক্ট।
RAB - Bangladesh
একজন ফেলানির মৃত্যু নিয়ে আমরা জোরালো প্রতিবাদ করেছি। হত্যাকারী আমাদের প্রতিবেশি দেশের উর্দিওয়ালা বলেই আমরা ক্ষোভে বিক্ষোভে ফেটে পরেছি। ফেলানিকে কাঁটাতারে ঝুলানো আর সুমন-আলাউদ্দিনদের মেরে কুকুরের মত ডোবা নর্দমায় ফেলে রাখার ভেতর পার্থক্যটা কোথায়? ফেলানিদের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের অভিযোগও কি একই ছিলনা? রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে বিচারহীন মৃত্যু কোন ভাবেই মেনে যায়না। দেশ এ জন্যে স্বাধীন হয়নি। ওপরতলার চোরের দল চুরি করে আমাদের পুজা অর্চণা পাবে, আর নীচ তলার ছিচকে চোর ডাকাতদের হত্যা করে আমরা বিজয় উল্লাস করবো, এর নাম গণতন্ত্র হতে পারেনা। দেশের বড় চোর পুলিশ, বড় ডাকাত রাজনীতিবিদ, আমলা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার সহ সমাজের বিত্তশালীদের অনেকে। দেশের বিচার ব্যবস্থা যদি এতই অক্ষম তাহলে ক্রসফায়ারকে সরকারীভাবে স্বীকৃতি দেয়া হোক এবং নির্বাসিত করা হোক গৃহপালিত দলীয় বিচারকদের। নাজমুল হুদা এবং জামাল মিয়াদের বধ্যভূমিতে নেয়ার মাধ্যমেই শুরু হোক আসল ক্রসফায়ার।

Comments

র‍্যাব

দেশে যদি র‍্যাব সৃষ্টি না হতো , যদি ক্রসফায়ার না হতো তবে কি হতো... জনগন কি সান্তির নিঃশ্বাস নিতে পারতো ?

খুলনায় আটককৃত র‌্যাব সদস্য

খুলনায় আটককৃত র‌্যাব সদস্য রিমান্ডে
মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল ২০১২
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে: ৪টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ র‌্যাব ৬-এর এক সদস্যসহ গ্রেপ্তারকৃত ৪ জনকে ২ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে খালিশপুর থানা পুলিশ। গত রোববার সকালে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সদস্য বর্তমানে ডেপুটেশনে র‌্যাব-৬ খুলনায় কর্মরত ওবায়দুল ইসলাম ও বিজিবি’র খুলনার ল্যান্স নায়েক আবিদুল ইসলাম, খালিশপুর হাউজিং এলাকার কাজী মঈনুদ্দীন রবিন এবং জসীম উদ্দীন। এ ঘটনায় খালিশপুর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার সকালে নগরীর কাশিপুর এলাকার এন-১৪ নং বাসা থেকে ওবায়দুলকে গ্রেপ্তার করে। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক পাবলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবিদুলের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৪টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ২টি পালসার, ১টি ডিসকভার এবং ১টি হাংক মোটরসাইকেল রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গতকাল খুলনা মহানগর মুখ্য হাকিম কেরামত আলীর আদালতে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এ ব্যাপারে খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহাবুদ্দিন আজাদ জানান, এই চক্রটি দীর্ঘদিন থেকে খুলনা মহানগরী ও আশপাশের এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি ও বিক্রি করে আসছিল। তবে আটককৃতদের সঙ্গে সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা চোরাই দলের সম্পর্ক রয়েছে। ইতিপূর্বে কুষ্টিয়া থেকেও মোটরসাইকেল এনে খুলনায় বিক্রি করেছে বলে তারা জানায়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার জন্য ২ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

বন্দুকযুদ্ধ নয়, অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যা

বন্দুকযুদ্ধ নয়, অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যা

আমাদের সময় ডেস্ক : র‍্যাব বরাবরের মতো বন্দুকযুদ্ধের কথা বলে এলেও নরসিংদীতে গত সোমবার দুপুরে নিহতদের অন্তত এক জনকে অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যা করা হয় বলে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি দাবি করেছেন। যে স্থানটিতে ছয় জন নিহত হন, তার পাশেই একটি ফসলের মাঠ থেকে ঘটনাটি দেখেন বলে ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে থাকা র‌্যাবের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ আরো রয়েছে, যদিও সন্ত্রাস দমনে গঠিত বিশেষ এই বাহিনী বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে। বিডি নিউজ

প্রত্যক্ষদর্শী ওই ব্যক্তি বলেছেন, অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকজন র‌্যাব সদস্যকে আগেও ওই এলাকায় দেখেছিলেন তিনি। যেখানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা আগেও ঘটেছে। ঘটনার দুদিন পর গত বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলের পাশেই ধানক্ষেতে কাজ করতে দেখা যায় কয়েকজন কৃষককে, যাদের মধ্যে ওই ব্যক্তিকে পাওয়া যায়, যিনি ঘটনাটি চোখে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার বর্ণনা দিলেও র‌্যাব মেরে ফেলতে পারে এই ভয়ে নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি স্থানীয় ওই ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘আমি ক্ষেতে সেচ দিচ্ছিলাম। একটি গাড়ি এসে থামে, তার ভেতরে র‌্যাবের সদস্যরাও ছিল। ওই গাড়িতে কমপক্ষে ১০ জনকে দেখেছি আমি। ‘হঠাৎ গুলির শব্দ হতে থাকে, ভয়ে আমি ধান ক্ষেতে পাহারার জন্য স্থাপন করা অস্থায়ী মেশিন ঘরে ঢুকে যাই। সেখান থেকে রাস্তার ওপরই একজনকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করতে দেখি।’ স্থানীয় সাংবাদিকরা জানায়, খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা গুলিবিদ্ধ ছয়জনের লাশ দেখতে পেয়েছেন। রাস্তার দুই পাশের খাদে পাওয়া যায় দুই জনের লাশ। পিচঢালা রাস্তার ওপর উপুড় হয়ে পড়ে ছিলেন একজন। মাইক্রোবাসে ছিল দুই জনের লাশ এবং ট্রাকে ছিল এক জনের রক্তাক্ত দেহ। সড়কের ওপর পড়ে থাকা ব্যক্তিকে অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার ঘটনা দেখার কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি।

যেখানে লাশটি পড়েছিল পিচঢালা সড়কের সে স্থানটিতে প্রায় তিন ইঞ্চি গভীর গর্ত দেখা গেছে। গর্তের চারদিকে দেখা গেছে বারুদের দাগ, দুদিন পরও ছিল রক্তের দাগ। র‌্যাব অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার পর তা বন্দুকযুদ্ধ বলে চালিয়ে দিয়েছে- এমন ঘটনার প্রমাণ আগেও পাওয়া গিয়েছিল বলে জানান কয়েকজন মানবাধিকার কর্মী। ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর ঝিনাইদহের পায়রাডাঙা গ্রামের মিছাখালি মাঠে (শুকনা পাটকাটা ক্ষেত) মুকুল মণ্ডলকে (৩২) এভাবে হত্যা করা হয় বলে দাবি করেছেন একজন মানবাধিকারকর্মী। তিনি বলেছেন, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য মুকুল বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন বলে র‌্যাব দাবি করলেও তার পিঠে তিনটা গুলির চিহ্ন ছিল। তিনটি গুলিই দেহ ভেদ করে মাটিতে গর্ত তৈরি করেছিল।

নরসিংদীতে নিহত ছয়জনের স্বজনরা ইতোমধ্যে দাবি করেছেন, সোমবার ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়নি, তা ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নরসিংদীর ৫ নম্বর ব্রিজ এলাকার কৃষিশ্রমিকরা জানায়, সারাদিন ধানক্ষেতে শ্রমিকদের কাজকর্ম চললেও দুপুরের খাবারের সময় একদম নির্জন হয়ে যায় পুরো এলাকা। বুধবার বেলা আড়াইটার সময় (প্রায় একই সময় ঘটেছিল সোমবারের কথিত বন্দুকযুদ্ধ) সরেজমিন দেখা যায়, দুই পাশের ধানক্ষেতে মাত্র কয়েকজন সেচ দিচ্ছেন। গাড়ি চলাচলও খুব কম। ওই এলাকায় এর আগেও র‌্যাবের ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

কয়েক বছর আগে শহরের দত্তপাড়ার নূর মোহাম্মদ নূরা (৩৫), কাউরিয়া পাড়ার আবু সিদ্দিক (৪২) ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান নির্জন এই সড়কের পূর্বদিকে তৈরি করা হেলিপ্যাডের পাশে। সোমবারের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি বলেন, ঘটনার আগের কয়েকদিনের মধ্যে তিন থেকে চার জন র‌্যাব সদস্যকে ওই এলাকায় দেখেছেন তিনি, যারা সোমবারের অভিযানে ছিলেন। ‘এরা আগেও এই এলাকায় এসেছেন। ঘুরেফিরে চলে গেছেন,’ বলেন তিনি।

র‌্যাবের বক্তব্য অনুযায়ী, গত সোমবার মারুফ হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীর ৪০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে তারা অভিযানে নামেন, যাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছয় জন নিহত হয়। নিহত ছয় জনকে র‌্যাব ‘কুখ্যাত’ ডাকাত বললেও তাদের মধ্যে মাত্র দুজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। নিহত বাকি চার জনের পাশাপাশি আহত ও আটক মিলিয়ে আট জনের বিরুদ্ধে কোনো মামলার হদিস মেলেনি।

র‌্যাবের বক্তব্য

গুলি ঠেকিয়ে হত্যার এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নরসিংদীর অভিযানে অংশ নেওয়া র‌্যাব-১১ এর উপসহকারী পরিচালক মেজর খন্দকার গোলাম সারওয়ার সরাসরি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। যার লাশ সড়কে পড়ে ছিল, তার গুলি কোথায় লেগেছিল এবং তা দেহ ভেদ করে বেরিয়েছিল কি না- জানতে চাইলে তিনি বৃহস্পতিবার বলেন, ‘তা আমি খেয়াল করিনি।’ ‘দেখে বলতে হবে। পিঠে না পেটে গুলি লেগেছে, তা বলা মুশকিল। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। আমি তো এক্সপার্ট না। সেদিন প্রচণ্ড দৌড়াদৌড়ির পরিস্থিতি ছিল। কেউ নিজে না দেখলে পরিস্থিতি অনুমান করা কঠিন,’ বলেন র‌্যাব কর্মকর্তা সারওয়ার। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এই কর্মকর্তার সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, র‌্যাব-১১ (সদর দপ্তর নারায়ণগঞ্জের আদমজীনগর) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু হেনা মো. মোস্তফা খবর পান, নরসিংদী শহরে এক ব্যবসায়ীর ৪০ হাজার টাকা ডাকাতি করে শহর ও আশপাশে ঘোরাফেরা করছে এক দল ডাকাত। ওই টাকা উদ্ধার ও ডাকাতদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়কের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে নরসিংদী শহর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায় বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। এতে বলা হয়, ‘ডাকাত দল আরো একটি ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে নরসিংদী-মদনগঞ্জ সড়কের ৫ নম্বর ব্রিজের কাছে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় র‌্যাবের একটি দল সেখানে পৌঁছালে ডাকাতরা র‌্যাবের মাইক্রোবাসের সামনে একটি ট্রাক থামিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং পেছনের একটি মাইক্রোবাস থেকে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে।’ ‘সরকারি জানমাল রক্ষা ও আত্মরক্ষার্থে র‌্যাব সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে’ ছয় ছিনতাইকারী নিহত এবং অন্যরা আহত হয় বলে র‌্যাব জানায়। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ র‌্যাবের এসআই শহীদ ও সিপাহী সাইফুল ইসলাম আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি পিস্তল, একটি এলজি, একটি কার্তুজ, দুটি চাকু, ১০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং ছিনতাই হওয়া নগদ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধারের দাবিও করে র‌্যাব।ফংধ

কথিত ব্যবসায়ির খোঁজ জানে না র‌্যাব

আমাদের সময় ডেস্ক : যার মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে নরসিংদীতে কথিত ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করার দাবি র‌্যাব করেছিল, এখন তার সন্ধান দিতে পারছে না তারাও। র‌্যাবের বক্তব্য অনুযায়ী, গত সোমবার মারুফ হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীর টেলিফোনের সূত্র ধরে তারা অভিযানে নামেন, যাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছয় জন নিহত হয়। নিহত ছয় জনকে র‌্যাব ‘কুখ্যাত’ ডাকাত বললেও তাদের মধ্যে মাত্র দুজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এক জনের বিরুদ্ধে মামলা ছিল ডাকাতির প্রস্তুতির, অন্য জনের বিরুদ্ধে ছিল জমি সংক্রান্ত বিরোধের। নিহত বাকি চার জনের পাশাপাশি আহত ও আটক মিলিয়ে চার জনের বিরুদ্ধেও কোনো মামলার হদিস মেলেনি। খবর বিডি নিউজ

নিহতের স্বজনরা ইতোমধ্যে দাবি করেছেন, নরসিংদীর মদনগঞ্জ সড়কের ৫ নম্বর ব্রিজ এলাকায় সোমবার ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়নি, তা ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে শুরু থেকে সমালোচনার মধ্যে থাকা র‌্যাবের সর্বশেষ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এই ঘটনা তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খান। গত সোমবার দুপুরের পর সদর উপজেলার নরসিংদী-মদনগঞ্জ সড়কের ৫ নম্বর ব্রিজ এলাকায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ছয় জন, ছিনতাইয়ের পর তাদের ধাওয়া করা হচ্ছিল বলে র‌্যাবের দাবি। র‌্যাব সেদিন বলেছিল, এক ব্যবসায়ীর ৪০ হাজার টাকা ছিনতাই করে মাইক্রোবাসে করে দুর্বৃত্তরা পালানোর সময় ওই ব্যবসায়ী র‌্যাবকে খবরটি জানান। তখন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু হেনা মোস্তফার নেতৃত্বে র‌্যাব-১১ অভিযানে নামে। নারায়ণগঞ্জের আদমজীনগরে এই ব্যাটালিয়নটির সদর দপ্তর। ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ র‌্যাব শুরুতে ওই ব্যবসায়ীর পরিচয় প্রকাশ করতে অনীহ হলেও পরে র‌্যাবের দাবি নিয়ে নিহতদের স্বজনরা প্রশ্ন তোলার প্রেক্ষাপটে তার নাম প্রকাশ করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই ব্যবসায়ীর নাম মারুফ হোসেন। তিনি থাকেন ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায়। মারুফ কোথায় রয়েছেন- জানতে চাওয়া হলে র‌্যাব-১১ এর উপপরিচালক মেজর খন্দকার গোলাম সারওয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঘটনার পর থেকেই মারুফ হোসেনের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

ওই ব্যবসায়ী ‘ছিনতাইয়ের’ ঘটনাটি র‌্যাবের পাশাপাশি পুলিশকেও জানিয়েছিলেন বলে জানান নরসিংদী সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আমি তাকে জিডি বা মামলার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তিনি জিডি বা মামলার জন্য আসেননি। এমনকি ঘটনার পর থেকে তাকে পাওয়াও যাচ্ছে না।

১০ জনের মধ্যে মামলা ছিল মাত্র দুজনের বিরুদ্ধে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত নাহিদ মোল্লা (১৮), আরিফ (১৮), মাসুম আফ্রাদ (৩০), মোশাররফ (৩৫), মোবারক হোসেন (৩০) ও জামালের (৩৫) মধ্যে শুধু দুজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলার খবর পাওয়া গেছে; তবে র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ছিল কুখ্যাত ডাকাত এবং এলাকাবাসী তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল।

পলাশ উপজেলার নোয়াকান্দি গ্রামের জামালের বিরুদ্ধে পলাশ থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে। পলাশ থানার ওসি আতিকুর রহমান খান জানিয়েছেন, ওই মামলায় জামালের বিরুদ্ধে পরোয়ানাও ছিল। তবে এছাড়া আর কোনো মামলা ছিল না। জামালের বাড়ি পলাশে হলেও তিনি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা এলাকায় থাকতেন। সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের একটি মামলা রয়েছে নিহত আরিফের বিরুদ্ধে। শহরের ভেলানগর মহলার আবুল হাসিম মিয়ার ছেলে আরিফ (১৮) চলতি বছর কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

শহরের দক্ষিণ বিলাসদী মহলার (পুলিশ সুপার অফিস সংলগ্ন) হোসেন মোল্লার ছেলে নাহিদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান। চলতি বছর মীর এমদাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন নাহিদ। তার বড় ভাই নরসিংদী পৌরসভার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী লোকমান মোল্লা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমার ভাইকে হত্যা করার পর ষড়যন্ত্রমূলক এ ঘটনায় জড়িত করা হয়েছে। এছাড়া নিহত শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের বান্দারদিয়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিন আফ্রাদের ছেলে ট্রাকচালক মাসুম আফ্রাদ, সদর উপজেলার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের কুড়েরপার গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আউয়ালের ছেলে মোশাররফ এবং রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মেরাতলা গ্রামের কাশেম আলীর ছেলে সাইনবোর্ড মিস্ত্রি মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ট্রাকচালক মাসুম আফ্রাদের বড় বোন ঝরনা বেগম বলেন, ঘটনার দিন সে (মাসুম) ঘটনাস্থল সংলগ্ন জমি থেকে ট্রাকে মাটি ভরাট করে ইটাখোলায় নিয়ে যাওয়ার সময় র‌্যাব তাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আহত রায়পুরা উপজেলার পিরিজকান্দী গ্রামের সুরেশচন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে ওমর বিশ্বাস (৩৮), শিবপুর উপজেলার ওমরকান্দী গ্রামের আমিন উদ্দিনের ছেলে মাসুম (২৮) এবং একই উপজেলার কুমরাদী গ্রামের আমিন উদ্দিনের ছেলে শাওন (২৫) এর নামে কোনো মামলা ছিল না। আহতদের পাশাপাশি আটক নরসিংদী সদর উপজেলার পাথরপাড়া গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে মনির হোসেনের (৩০) বিরুদ্ধেও কোনো মামলার খোঁজ পাওয়া যায়নি। র‌্যাব-১১ এর উপপরিচারক মেজর খন্দকার গোলাম সারওয়ার দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার মাসুমের বিরুদ্ধে শিবপুর থানায় একটি মামলা রয়েছে। এ দাবির সত্যতা জানতে শিবপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে ওসি বেলায়েত হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তার থানায় মাসুমের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তবে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ পর এ ঘটনায় র‌্যাব ১১-এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) জামাল উদ্দিন মঙ্গলবার নরসিংদী সদর মডেল থানায় অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি ও সরকারি কাজে বাধা দানের অভিযোগে তিনটি মামলা করেন। নিহত ও গ্রেপ্তার সবাইকে মামলার আসামি করা হয়েছে।ফংধ

ওরা কি ছিনতাইকারী?

স্টাফ রিপোর্টার ও নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর পাঁচদোনা ড্রিম হলিডে পার্ক থেকে মাইক্রোবাসে করে মদনগঞ্জের রাস্তা ধরে যাচ্ছিল ওরা। পথে সামনে-পিছনে দু’দিক থেকে তাদের গাড়ি আটক করে র‌্যাব। কাছ থেকে গুলি করা হয় তাদের। র‌্যাব-এর অভিযোগ, এক ব্যবসায়ীর ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর সময় তাদের আটকানোর চেষ্টা করা হলে তারা গুলি চালায়। র‌্যাব পাল্টা গুলি চালালে নিহত হয় ৬ ছিনতাইকারী। সরজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে এ অভিযোগ সম্পর্কে নানা প্রশ্ন শোনা যায়।
জনমনে সন্দেহ, নিহত ৬ জন কি আসলেই ছিনতাইকারী ছিল? সোমবার র‌্যাবের গুলিতে নিহত দুই ছাত্র নাহিদ ও আরিফের পরিবারে মাতম থামছে না। তারা দু’জনেই এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। আরিফ নরসিংদীর শিবপুর উপজেলাধীন কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। নাহিদ শহরের সাটিরপাড়া মীর ইমদাদ উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্র। কলেজে ভর্তির আগে তারা পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় ছিল। র‌্যাবের গুলি তাদের সে অপেক্ষার চির অবসান ঘটিয়েছে।
গতকাল নিহত আরিফের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ভাইয়ের মরদেহ জড়িয়ে বুক চাপড়ে কাঁদছিলেন আরিফের বড় বোন আঁখি। তিনি বলেন, দেশে এ কেমন আইন যে রাস্তায় গুলি করে একজনের বুক ঝাঁজরা করে দেয়া হবে? আরিফের বিরুদ্ধে কোন থানায় মামলা নেই বলে জানান তিনি। আঁখি অভিযোগ করেন, আমার ভাই গাড়ি থেকে নেমে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। কিন্তু তাকে খুব কাছে থেকে গুলি করেছে র‌্যাব। এ ঘটনা অনেকেই দেখেছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। আরিফের বোনজামাই মানিক বলেন, র‌্যাব এত বড় একটা অন্যায় করলো কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। আরিফের পরিবারের সদস্যদের আহাজারি আর মাতমে শোকাচ্ছন্ন বাড়িতে উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla