Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন জনাবা প্রধানমন্ত্রী

Bangladeshi PM Sheikh Hasina
পাবলিক ফোরামে রুচিহীন কথাবার্তার জন্যে যাকে আদর্শ হিসাবে নেয়া যায় তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী। খেতাবের আগে পিছে যারা মাননীয়া বলতে অজ্ঞান তাদের যথাযত সন্মান দেখিয়েই বলছি, মেধা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা আর যোগ্যতাহীন কাউকে যদি গোয়ালঘর পরিষ্কারের স্থলে কর্পোরেট ব্যবসার চীফ পদে বসানো হয় সে ব্যবসা পথে বসতে বাধ্য। রাজনৈতিক ক্ষমতাও তেমনি একটা পদ। সরকারের প্রধান নির্বাহী হয়ে গত ৩টা বছর যা বলে গেছেন তা প্রধানমন্ত্রী দুরে থাক কোন সূস্থ মানুষের ভাষা হতে পারেনা। দেশের ১৫ কোটি মানুষের সবাইকে যদি তিনি মানসিক রুগী ভেবে থাকেন তাহলে হয়ত অন্য কথা। হীরক রাজ্যে প্রজাদের মত রাজাকেও হতে হয় মগজহীন গরু। এমন রাজ্যে মূর্খ রাজা যা বলেন তা কেবল ইউনিভার্সাল ট্রুথই নয়, বরং লিখিত আইন। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কথিত তৃণমূল নেতাদের সবাই যদি হীরক রাজ্যের গরু হয়ে থাকে তাহলে বলার কিছু নেই। সে ক্ষেত্রে প্রধনমন্ত্রী যদি রাখালের ভূমিকায় নামেন গরু স্বার্থের জন্যে হলেও আমাদের সমর্থন জানানো উচিৎ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে পৃথিবীটা আগের মত ছোট নেই যা গোয়াল ঘর হিসাবে ব্যবহার করা যাবে, প্রযুক্তিও থেমে নেই হীরক রাজ্যের রাজার বগলে, আর আমরাও চার পা ওয়ালা গরু নই। প্রধানমন্ত্রী দশ বছর আগে কোথায় কি বলেছিলেন তা জানতে ২০ হাজার লোকের ২২ বছরের তাজমহল ভ্রমণ করতে হবেনা। উচ্চ আদালতের আর্কাইভ ঘাটলেই হদিস মিলবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ সাংস্কৃতির।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা সমাবেশে একই প্রধানমন্ত্রী কথা বললেন প্রতিপক্ষ রাজনীতিবিদ্‌দের মুখ নিয়ে। সমালোচনা করলেন সাংসদদের নোংরা আচরনের এবং ধোলাই করলেন ব্যবহূত ভাষার। http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-03-31/news/236842 গণতান্ত্রিক দুনিয়ার অনেক দেশের সংসদেই ভাষা সমস্যা আছে, আছে হাতাহাতির ইতিহাস। সেদিন বিএনপির জনৈকা সাংসদ সংসদে দাড়িয়ে যা বললেন তা কোন মানদণ্ডেই রাজনীতির ভাষা হতে পারেনা। এ নিয়ে সার্বজনীন সমালোচনারও অভাব হয়নি। কিন্তু যাদের মুখ হতে সমালোচনা উচ্চারিত হয়েছিল তাদের সবারই জানা ছিল এসব কুৎসিত ভাষার উৎস কে এবং কোথায়। সামরিক বাহিনীতে কর্মরত পারিবারিক সদস্যকে দিয়ে খালেদা জিয়ার শয়ণকক্ষে পর্ণো স্থাপনের আসল কাহিনী জানতে আমাদের হয়ত অপেক্ষা করতে হবে, কিন্তু বদরুদ্দোজ্জা চৌধুরিকে রাষ্ট্রপতি বানানোর সূত্রে উনি যে মন্তব্য করেছিলেন তা জাতির মেমোরি হতে ডিলিট করতে নতুন কোন প্রযুক্তি আবিস্কার করতে হবে। ‘রাষ্ট্রপতি না অন্য পতি‘? প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে এসব ভাষা যদি গ্রহনযোগ্য হয় তাহলে উনার উচিৎ হবে জাতির জন্যে ভদ্রতার সংজ্ঞাও নতুন করে লেখার। চাইলে তিনি তা করতে পারেন, কারণ হাতে আছে নির্বাচনী ম্যান্ডেট আর আদালতে আছে আবুলীয় বিচারক। ‘উচ্চমার্গের সুশীলরা উনাকে কোলে করে ক্ষমতায় বসাবেন না‘ - প্রতিপক্ষের নেত্রীকে নিয়ে এসব তৃতীয় শ্রেনীর কথার সূত্রপাত খোদ প্রধানমন্ত্রীর মুখ হতে। এ নিয়ে বিরোধী দলের মহিলা এমপিরা যদি ত্যানা পেঁচায় তাতে প্রধানমন্ত্রীর আক্ষেপটা কোথায় বুঝতে কিছুটা কষ্ট হয়। প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ হবে এ নিয়ে গর্ব করা, কারণ রাজনৈতিক নোংরামির অনেক কিছুর আবিষ্কারক তিনি নিজে। চা বাগানে জন্ম আর নানা-নানীর পরিচয় নিয়ে তিনি যেসব কুৎসিত ইংগিত দিয়েছেন তা দেশীয় রাজনীতির নতুন উপাদান। এসব ’উপাদেয়’ অখাদ্য প্রতিপক্ষ দল গোগ্রাসে গিলবে তা কি প্রধানমন্ত্রীর জানা ছিলনা? তিনি কি ভুলে গেছেন প্রতিপক্ষের ফরিদা-আকলিমার দল একই রাজনীতির ’যোগ্য’ খেলোয়াড়? ১৫ই আগষ্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন নিয়ে এদেশের কোটি কোটি মানুষ সংশয় প্রকাশের পাশাপাশি প্রতিবাদ করেছিল এবং সামনেও হয়ত করে যাবে। প্রধানমন্ত্রী যদি ভেবে থাকেন একই সুরে চা বাগানে জন্ম আর নানা-নানীর পরিচয় নিয়েও জনগণ উনার পাশে দাড়াবে তাহলে মারাত্মক ভুল করবেন। ১৫ কোট মানুষের সবাইকে হানিফ ভেবে থাকলে এর খেসারত কতটা ভয়াবহ হতে পারে তার উত্তর পেতে সবাইকে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর হচ্ছে, এ মুহূর্তে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে গোপালগঞ্জের আসন ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অন্য কোন আসনে জেতার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। এসব জেনেই কি তিনি উন্মাদনায় নেমেছেন?

কংগ্রেস-আওয়ামী যৌথ প্রযোজনার ফসল ’দেশিয় নির্বাচনে পাকিস্তানি টাকা’ হালে পানি পাচ্ছেনা। অথচ প্রধানমন্ত্রী প্রলাপ বাকার মত বকে যাচ্ছেন এ গল্প। যাদের বরাত সূত্রে এ অভিযোগ তারা নিজেরাই অস্বীকার করছে এবং দেশীয় পত্রিকা দৈনিক প্রথম আলোও মিহি গলায় ক্ষমা চাইছে নিজেদের পরিবেশিত ভুল তথ্যের জন্যে। কিন্তু যাকে থামানো যাচ্ছেনা তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী। মিডিয়া ব্যবহারের অবাধ সুযোগ নিয়ে তিনি প্রতিদিন প্রচার করছেন এ মিথ্যাচার। এ যেন ইখতিয়ার উদ্দিন বিন মোহম্মদ বখতিয়ার খিলজির লম্বা হাত দিয়ে শত্রু নিধনের মত। অবস্থাদৃষ্টে মনে হবে গায়ের জোরে কি যেন একটা প্রতিষ্ঠা অথবা লুকাতে চাইছেন তিনি। পাকিস্তানি টাকা নিয়ে শোরগোলের মাঝে একটা খবর প্রায় শিরোনামহীন খবর হয়ে তলিয়ে গেছে তথ্য সমুদ্রে। তা হল, সরকার কর্তৃক টিপাইমুখী বাধের বৈধতা দেয়া। খবরে প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রীর দুই খাস উপদেষ্টা ভারত সরকারের মেহমান হয়ে বাংলাদেশের মরণফাঁদ এ বাধের 'নো অবজেকশন সার্টিফিকেট' দিয়ে এসেছেন। এ খবর যাতে রাজনীতির মাঠ গরম না করে সে জন্যেই নাকি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার জরায়ুতে জন্ম নিয়েছিল পাকিস্তানি অর্থায়ন পর্ব। বলার অপেক্ষা রাখে না এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার উপদেষ্টাদের নেই, যা দেয়া হয়েছে তা প্রধানমন্ত্রীর একক ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত। বাংলায় একটা কথা আছে, চোরের মার বড় গলা। বিরোধী দলীয় নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর লাগাতার বিষোদগার চোরের মার বড় গলারই যেন প্রতিধ্বনী।

দেশের সব কিছুতে এখন লেজে গোবরে অবস্থা। মানুষ মরছে অনেকটা পশুর মত। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও আকাশচুম্বি দ্রব্যমূল্য নিয়ে জনগণের নাভিশ্বাস এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। অশ্লীল কথাবার্তা দিয়ে এসব রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা নতুন চেষ্টা নয়, অতীতেও এসব চর্চা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী একই পথে হাঁটছেন এবং আশা করছেন জনসমর্থন। কিন্তু হায়, সমর্থন যে বিপরীত মেরুর যাত্রী হয়ে দিগন্ত রেখায় মিলিয়ে যাচ্ছে উনার কি জানা আছে? আর বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যার মুখ খিস্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আক্ষেপের জবাবে বলব, আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন ...

Comments

বাণী চিরন্তনী | তারিখ: ০৯-০৪-২০১২

দুই সাংবাদিককে নিজেদের ঘরে মারা হয়েছে। সরকারের পক্ষে কারও বেডরুম পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে।
২৪-০২-২০১২, প্রথম আলো

১২ মার্চ মহাসমাবেশের নামে কোনো উল্টাপাল্টা করার চেষ্টা করা হলে খবর আছে। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলে আমাদের করার কিছু নেই। কিন্তু কর্মসূচির নামে ১৮ ডিসেম্বরের মতো বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগ, মানুষ হত্যার চেষ্টা করা হলে তার জবাব দেওয়া হবে।
০৩-০৩-২০১২, প্রথম আলো

উনি কী ভেবেছেন, তত্ত্বাবধায়ক এলে ওনাকে একেবারে কোলে তুলে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। ওনাকে তো কোলে তুলে ক্ষমতায় বসাবে না। কিন্তু ওনার বোঝা উচিত, তত্ত্বাবধায়ক এসে ওনাকেই জেলে পুরেছিল। তাঁর দুই ছেলেকে উত্তমমধ্যম দিয়ে দেশ থেকে বের করে দিয়েছিল। আর এবার যদি তত্ত্বাবধায়ক আসে, তাহলে তাঁদের ধরে এনে কারাগারে পুরবে। সেটা ওনার মনে রাখা উচিত।
০৭-০৩-২০১২, প্রথম আলো

বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়ার কথা ও কাজে মিল নেই। তাঁর ছোবল যে কত মারাত্মক, তা ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে টের পেয়েছি।
১০-০৩-২০১২, প্রথম আলো

তাঁর জন্ম শিলিগুড়ির চা-বাগানে। তাঁর নানা-নানির নাম কী? জিয়াউর রহমানের জন্ম ভারতে, পড়াশোনা করেছেন পাকিস্তানে। তাঁর বাবা-মায়ের কবর পাকিস্তানে। দেশের প্রতি তাঁদের দরদ থাকবে কী করে? জিয়াউর রহমান ঘটনাচক্রে মুক্তিযোদ্ধা। বিএনপির নেতা মেজর হাফিজের লেখা বইয়ে আছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় গেরিলারা বেগম জিয়াকে ভারতে নিয়ে যেতে এসেছিলেন। তিনি যাননি। তিনি ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে মেসে ছিলেন।
১৮-০৩-২০১২, প্রথম আলো

খেলা শুরু হয়েছে, আমি বক্তব্য আরও সংক্ষেপ করার চেষ্টা করি।
২০-০৩-২০১২, প্রথম আলো

আমি বিরোধীদলীয় নেত্রীর মতো মিথ্যার ফুলঝুরি দেব না। তিনি ভূরি ভূরি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।
২০-০৩-২০১২, প্রথম আলো

‘বিরোধীদলীয় নেত্রী বিভিন্ন অসত্য তথ্য দিয়ে একখানা উপন্যাস রচনা করেছেন। উপন্যাসটি পাঠ করে দিয়ে তিনি সংসদ থেকে চলেও গেছেন। তার পরও আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই, তবুও তো তিনি এসেছেন।’
২০-০৩-২০১২, প্রথম আলো

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই মানুষ কিছু পায়। ক্ষমতায় এলে আমরা আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাই, বিএনপি পায় তিরস্কার। হত্যা, খুন, জঙ্গিবাদ, বোমা হামলা, বাংলা ভাই ও লুটতরাজ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি তারা।
২১-০৩-২০১২, প্রথম আলো

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যখন আসে, তখন দেশবাসীকে কিছু না কিছু দেয়। দাবিদাওয়া করতে হবে না, বলতেও হবে না। নতুন নতুন উপহার নিয়ে আপনাদের কাছে আসব।
২৪-০৩-২০১২, প্রথম আলো

আমরা যা করে যাই বিএনপি সরকার তা মুছে ফেলে। ক্ষমতায় গেলে নতুন এই সমুদ্রসীমাও কি মিয়ানমারকে ফেরত দিয়ে দেবেন?
২৮-০৩-২০১২, প্রথম আলো

লোডশেডিংয়ের দরকারও আছে, মানুষ যাতে ভুলে না যায়, লোডশেডিং নামে কিছু একটা ছিল।
২৯-০৩-২০১২, প্রথম আলো

পত্রিকা ও টেলিভিশনগুলো এখন সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে যা ইচ্ছা বলছে।
৩০-০৩-২০১২, প্রথম আলো

এত বিদ্যুৎ উৎপাদন করলাম, তা যেন চোখেই পড়ে না। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছি, তা সাত দিন বন্ধ রেখে আগের তিন হাজার মেগাওয়াটে রাখলেই তাদের কথাবার্তা বন্ধ হবে। তখন প্রমাণ হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি কি না।
০৩-০৪-২০১২, প্রথম আলো
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-09/news/238963

"বিরোধীদলীয় নেত্রী তাকে বলেছেন, তুমি লুকিয়ে থাকো। আন্দোলনের ইস্যু পাচ্ছি না। নিজের দলের একজনকে গুম করার অভিযোগ তুলে তিনি হরতাল দিয়েছেন। মারামারি, কাটাকাটি করছেন।"
(বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা)
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-20/news/251620
২০-০৪-২০১২, প্রথম আলো

প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতা বাংলাদেশের জন্য নয়

॥ সিরাজুর রহমান ॥

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দয়ার শরীর। তার দয়াদাক্ষিণ্য আর বদান্যতার তুলনা নেই। সমস্যা হচ্ছে সব বদান্যতাই তিনি রিজার্ভ রেখেছেন পাশের দেশের জন্য। নিজের দেশের মানুষের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে তার যেন কোনো মাথাব্যথা নেই।
বাংলাদেশ ধুঁকছে। মধ্যবিত্ত স্বভাবতই সুজন। উপোস থাকলেও ভিক্ষা করা তার ধাতে সইবে না। সস্তা বলে বাজারের সবচেয়ে খারাপ জিনিস কিনবে সে। যৎসামান্য সঞ্চয় অনেক আগেই বিক্রি করে খেয়েছে। সাততাড়াতাড়ি সমৃদ্ধির মুখ দেখার আশায় গ্রামের বাড়ির জমি এবং গিন্নির বাপের বাড়ি থেকে পাওয়া গয়নাগাঁটি বিক্রি করে শেয়ারবাজারে লগ্নি করেছিল। সরকারি দলের তস্কররা সেটা লুটেপুটে খেয়েছে। ছেলেপুলে ছেঁড়া কাপড় পরে স্কুলে যায়। যাদের চাকরি আছে, তারা সম্বল মাত্র একজোড়া ট্রাউজার ধুয়ে বালিশের নিচে ভাঁজ করে রাখে। সকালবেলা সেটি পরে আপিসে যাবে।
কেউ কেউ এখনো ঘুষ-উৎকোচ আর দুর্নীতির পথে যাননি। সব মানুষই স্বভাবত দুর্নীতিপরায়ণ নয়। অর্থনৈতিক চাপে পড়ে কেউ কেউ দুর্নীতির পথ ধরেছেন। ইংরেজি প্রবাদ অনুযায়ী ‘দুর্নীতিপরায়ণ সমাজ নৈতিক দেউলিয়া।’ ছেলেপুলের শুকনো মুখ দেখে কেউ কেউ নীতি-নৈতিকতার কাছ থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন' তারাও ভালো নেই। অস্বাভাবিক ভ্যাপসা গরমে রাতে ঘুমুতে পারেন না। সিলিংয়ের পাখাটা চালাবেন কী করে? বিদ্যুতের লোডশেডিং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১৬ ঘণ্টা। শিশুদের স্কুলের পড়া পড়তে হয় টিমটিমে মোমবাতির আলোতে। এ অবস'া চলতে থাকলে তাদের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দেখা দেবে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একবার নয়, বহুবার বলেছেন যে, অর্থনীতি সঙ্কটে আছে। আরো বলেছেন, ব্যাপক দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন ও অর্থনীতির বিকাশ হতে পারছে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন অন্য কথা। তিনি বলেন, অর্থনীতির কোনো সমস্যা নেই, অর্থনীতি ভালো অবস'ায় আছে। তাদের মধ্যে কে সত্য কথা বলছেন? কার কথা লোকে বিশ্বাস করবে?
মাঝে মাঝে কলে পানি থাকে না। অন্য সময়ে পাওয়া যায় দুর্গন্ধময় দূষিত পানি। বহু পরিবারে সবাই পেটের অসুখে ভুগছে। যারা মারা যাচ্ছে তাদের মধ্যে শিশুরাই বেশি। পানি ফুটিয়ে খাবে, তারও উপায় নেই। চুলায় গ্যাস নেই। গিন্নিকে শেষ রাতে উঠে সামান্য কিছু রান্না করে রাখতে হয়। ও সময়ে গ্যাস আসে। সেচের অভাবে ফসল কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্যের দাম তাতে বেড়ে যাবে। দুর্ভিক্ষ ঘটারও আশঙ্কা বাদ দেয়া যায় না। চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষে ৭০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, শিগগিরই তিনি বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করে ফেলবেন। মানুষ দেখছে উল্টোটা। বিদ্যুৎসঙ্কট এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শোচনীয়। প্রধানমন্ত্রী সে দিন বলেছেন, ‘এত বিদ্যুৎ উৎপাদন করলাম তা যেন চোখেই পড়ে না।’

বিদ্যুৎ ঘাটতির অন্তরালে
মন্ত্রীরা বলেছিলেন, মানুষ বেশি করে, তিনবারের বদলে চারবেলা খাচ্ছে বলেই খাবারের দাম বেড়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ তো আর খাবার জিনিস নয় যে, বেশি করে খাবে! আর মওজুদ করে রাখার সামগ্রীও নয় বিদ্যুৎ। তা হলে ‘এত বিদ্যুৎ’ গেল কোথায়? লোকে কিন' বলে অন্য কথা। আসলে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কতগুলো বাণিজ্যিক গ্রুপকে ২০ হাজার কোটি টাকার কন্ট্রাক্ট দেয়া হয়েছে বিনা টেন্ডারে। জানা গেছে, এসব গ্রুপের কোনো কোনোটির মালিক প্রধানমন্ত্রীর কাছের আত্মীয়, অন্যরা আওয়ামী লীগের মহারথী। সরকারি কোষাগার ফতুর করে দেয়া সে টাকা এরাই লুটেপুটে খাচ্ছে। এদের জন্য মনে হয়, প্রধানমন্ত্রীর দয়ার সীমা নেই। আকাশচুম্বী দুর্নীতি চলছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বেলায়। জোর গুজব, এই দুর্নীতি সম্বন্ধে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন বলেই সাংবাদিক দম্পতি মেহেরুন রুনি আর সাগর খুন হয়েছেন। খুনিদের গ্রেফতারে সরকারের অনীহা এসব গুজবকে আরো বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে। খুনিদের ধরার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজের হাতে নিয়েছেন। তাতে ফল হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন চা-বিস্কুট খাইয়ে সাংবাদিকদের আর কত দিন শান্ত রাখবেন?
মজার ব্যাপার দেখুন! তিতাস নদীর স্রোত বন্ধ করে সে নদী আর শাখা নদী ও খালগুলোতে বাঁধ দেয়া হলো। কারণ? কারণ এই যে, ভারত আগরতলায় বড় আকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন কারখানা তৈরি করবে, সে কারখানার জন্য বিরাট আর ভারী যন্ত্রপাতি নিতে হবে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে। ১৩৪ চাকার বিশাল ট্রেইলারে করে সেসব যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন' বাংলাদেশের পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতির কথা বিবেচনা করা হয়নি। তারপর শোনা গেছে, বাংলাদেশ সে কারখানা চালু রাখার জন্য গ্যাস দেবে আর সে কারখানা থেকে বিদ্যুৎ কিনে নেবে। সে রকম কারখানা কি বাংলাদেশে তৈরি করা সম্ভব ছিল না? বিশেষ করে জ্বালানি যখন দিতে হবে বাংলাদেশকে? একসময় বর্তমান বাংলাদেশ থেকে পাট নিয়ে ব্রিটেনের ডান্ডিতে চট তৈরি হতো, আর সে চটের থলির চালান যেত বাংলাদেশে। নব্য উপনিবেশবাদ দেখছি কি আমরা?
ভারতের প্রতি হাসিনার ঔদার্যের অবধি নেই। সে দেশের উত্তর-পূর্বের সাতটি অঙ্গরাজ্য বঞ্চিত এবং ক্রুদ্ধ। পাকিস্তানি আমলে আমাদের যেমন বঞ্চিত ও শোষণ করা হয়েছে, তারাও অনুরূপ শোষণের শিকার হচ্ছে দিল্লির হাতে। তাদের রকমারি প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়ে পশ্চিম ভারতের কেরালা, মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও পাঞ্জাবকে শিল্পোন্নত করা হয়েছে। কিন' বিনিময়ে তারা পাচ্ছে যৎসামান্য। তারা এই শোষণযন্ত্র থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছে চার দশকেরও বেশি আগে। বস'ত তাদের স্বাধীনতার যুদ্ধ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেয়েও পুরনো।
ভারত সামরিক শক্তি দিয়ে (পাকিস্তানিদের মতো) ন্যায্য অভিযোগ ও অসন্তোষকে টুঁটি টিপে মারার চেষ্টা করছে। সে রাজ্যগুলোতে অস্ত্রশস্ত্র আর সৈন্য পাঠানোর সহজ পথ বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে। ওদিকে অরুণাচলে বিস্তীর্ণ বিবদমান এলাকা দখলের জন্য চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পাঁয়তারা হচ্ছে ভারতে। চীন যদি শিলিগুড়ি হয়ে সরু সংযোগ পথটি বন্ধ করে দেয় তাহলে উত্তর-পূবের সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে তখন বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ছাড়া এ রাজ্যগুলোতে যাতায়াতের অন্য কোনো পথ থাকবে না।

যা যা দেয়া হচ্ছে ভারতকে
হয়তো সে জন্যই ‘বস্তা বস্তা টাকা আর পরামর্শ’ দিয়ে ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী করেছিল। হাসিনাও সুদে-আসলে সে ঋণ পরিশোধে বিলম্ব করেননি। এশিয়ান হাইওয়ে যাওয়ার কথা ছিল টেকনাফ থেকে মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে দক্ষিণ চীন পর্যন্ত। কলমের এক টানে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা সে পরিকল্পনা উল্টে দিলেন; বললেন যে, এশিয়ান হাইওয়ে দুই শাখায় বিভক্ত হবে; একটি যাবে বুড়িমারী থেকে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে আসামে; আবার দ্বিতীয় শাখাও শেষ হবে আসামে গিয়ে, বেনাপোল থেকে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে। যেন বাংলাদেশের জন্য এশিয়া শেষ হয়ে যাচ্ছে আসামে গিয়েই।
হাসিনা দিল্লিতে গিয়েছিলেন ২০১০ সালের জানুয়ারিতে। বাংলাদেশের মানুষ শুনেছে, সেখানে অনেক চুক্তি করে এসেছেন তিনি। কিন' চুক্তির বিষয়বস', এমনকি সংখ্যাও বাংলাদেশের মানুষকে জানতে দেয়া হয়নি, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদেরও নয়। ভবিষ্যতেও যাতে কেউ জানতে না পারে, তার ব্যবস'া করার জন্য সংবিধানও পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে সরেজমিন যা ঘটছে, তার থেকে কিছু আঁচ-অনুমান বাংলাদেশের মানুষ করতে পারছে, অনেক কিছু দেখছেও তারা। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে রেল, সড়ক ও নদীপথে উত্তর-পূর্ব ভারতে যাওয়ার করিডোর এবং চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর অবাধে ব্যবহারের অধিকার দিতে হাসিনা রাজি হয়ে এসেছেন। প্রয়োজনবোধে তিতাসের মতো অন্য নদীতেও তারা বাঁধ তৈরি করবে বৈকি! বিনিময়ে বাংলাদেশ কিছু পাবে না। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মশিউর রহমান বলেছেন, ভারতের কাছে টাকা চাইলে আমরা অসভ্য হয়ে যাবো।’ ভারতের কাছ থেকে ‘বস্তা বস্তা টাকা আর পরামর্শ‘ পাওয়ার এখতিয়ার শুধু শেখ হাসিনার।
কিছুকাল আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সফররত এক কর্মকর্তার কাছে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব দিয়েছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট করা হয়। প্রমাণ হয় যে, সারা বিশ্বের ব্যাংকিং ব্যবস'া তদারকির জন্য তিনি ড. ইউনূসকে উপযুক্ত ব্যক্তি মনে করেছিলেন। ড. ইউনূস বিশ্বব্যাপী সম্মানিত। প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতার (তার ও বাকি বিশ্বের জন্য) জন্য তিনি তাকে যথাযোগ্য ধন্যবাদ দিয়েছিলেন। তবে ইউনূস বাংলাদেশের সেবা করাকেই শ্রেয় বিবেচনা করে সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এখানে দেখা যাচ্ছে, বদান্যতার বেলায় বিদেশীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষপাতিত্ব।
ইউনূসকে তিনি বাংলাদেশে তারই স'াপিত ও পরিচালিত গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনার উপযুক্ত বিবেচনা করেননি। তাকে অত্যন্ত অশোভনভাবে নিজের গড়ে তোলা ব্যাংক থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। তখন শোনা গিয়েছিল, গ্রামীণফোনের ওপর প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের এবং গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর তার পৃষ্ঠপোষকদের কারো কারো লোলুপ দৃষ্টি পড়েছিল। গ্রামীণ ব্যাংকের নতুন নির্বাহী পরিচালক নিয়োগের জন্য উপযুক্ত প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সে কমিটির সদস্য হওয়ার জন্যও ইউনূসকে যোগ্য বিবেচনা করেন না। শেখ হাসিনা শাসিত বাংলাদেশে গ্রামের যোগী ভিখ্‌্ পাবে না।

বিদেশে মর্যাদাহানি
একটা কথা মনে রাখতে হবে, ড. ইউনূসের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর গাত্রদাহ শুরু হয় ইউনূস যখন নোবেল শান্তি পুরস্কার পান তখন থেকেই। শেখ হাসিনা প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার কর্মকর্তারা তার জন্য এক ডজনেরও বেশি ডক্টরেট খরিদ করেছিলেন। বর্তমান দফায় ক্ষমতা পাওয়ার পর তিনি তার জন্য একটা নোবেল পুরস্কার সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে কূটনীতিক পাঠিয়েছিলেন দেশে-বিদেশে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে তার পৈতৃক সম্পত্তি মনে করেন, তার মতে নোবেল পুরস্কারসহ এ দেশের প্রাপ্য সব কিছু তার নিজের হওয়া উচিত। অন্য কেউ বাংলাদেশের জন্য সম্মান নিয়ে এলে সেটাকে গৌরব ভাবতে তার কষ্ট হয়। ড. ইউনূসের নোবেল প্রাপ্তিতে নিজের মর্মবেদনা প্রধানমন্ত্রী এখনো ভুলতে পারেননি মনে হচ্ছে।
ইউনূসের প্রতি শেখ হাসিনার অন্যায্য আচরণ বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদায় যেন এক বোতল কালি ঢেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন সে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের তিন নম্বর প্রধান কর্মকর্তা ওয়েন্ডি আর শেরম্যান ঢাকা সফরে এসেছিলেন। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল ড. ইউনূসের প্রতি সরকারের আচরণ। অতি সত্বর গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কর্মকর্তা নিয়োগের তাগিদ দিয়েছেন শেরম্যান। ওয়াশিংটন স্পষ্টতই ভয় করছে, এই আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে শেয়াল-কুকুরে কামড়াকামড়ি হতে পারে। ইউনূসকে যথাযোগ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধও মিজ শেরম্যান প্রধানমন্ত্রীকে করে গেছেন বলে মনে করা হয়।
মিজ শেরম্যান প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে গোপন বৈঠকে আর যে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে মনে হয়, সেগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশে সব দলের যোগদানের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করা। এটাও তিনি টের পেয়ে গেছেন যে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো দল তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। আওয়ামী লীগ একদলীয় নির্বাচন করলে তাদের সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হবে। তেমন অবস'ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন অথবা অন্য কোনো পশ্চিমা দেশও স্বীকৃতি দিতে চাইবে না। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারকে এ বিষয়টা গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে।
আগেও জানা গিয়েছিল, বর্তমান সরকারের আমলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সম্বন্ধে ওয়াশিংটন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিএনপি ও সমমনা গণতান্ত্রিক দলগুলোর সভা-সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকারে সরকার যেভাবে বাধা দিচ্ছে, সে বিষয়ে মার্কিন সরকারের অসন'ষ্টির কথাও ওয়েন্ডি শেরম্যান প্রধানমন্ত্রীকে বলে গেছেন। এই মার্কিন কর্মকর্তার সফরের কী প্রতিক্রিয়া হবে, সবাই সে দিকে দৃষ্টি রাখবে।
লন্ডন, ০৮.০৪.১২
serajurrahman@btinternet.com
http://www.dailynayadiganta.com/details/40973

আবাল প্রধানমন্ত্রী।

কি আর বলব।এই আমাদের প্রধানমন্ত্রী।আমার কাছে খুব অবাক লাগে যখন দেখি কোন প্রফেশনাল মিটিং এ ও উনি আরেকজনের বদনাম ছাড়া আর কিছু বলতে পারছেন না।সত্যি উনার জন্য করুনা হয়...করুনা!!!

ইতিহাসই বিচার করবে এই মহিলার

ইতিহাসই বিচার করবে এই মহিলার অপকর্ম...

ছাত্রলীগ নেতার রাজকীয় বিয়ে

শনিবার, ৩১ মার্চ ২০১২

স্টাফ রিপোর্টার, ফরিদপুর থেকে: ১৫ হাজার লোকের ভুরিভোজ। বাহারি আয়োজন। বাবুর্চি আনা হয়েছে ঢাকা থেকে। ২শ’ খাশি। ৭ হাজার মুরগি। মেনুতে আছে বাশমতি চালের কাচ্চি বিরিয়ানি। মুরগির রোস্ট। টিকিয়া। ইলিশ, রুই আর চিংড়ি। সবশেষে জর্দা ও দই। খাদেমদারিতে ৩শ’ স্বেচ্ছাসেবকের ছুটোছুটি। শাহজাদার বেশে বর এসেছে হেলিকপ্টারে। একটি নয়, কপ্টার ছিল দু’টি। কন্যা চড়েছে প্রাডোতে। বরকে বরণ করতে সাজসজ্জা শহরজুড়ে। ২০টি তোরণ। অর্ধটন তাজা ফুল। বর-কনের ছবি সংবলিত বিশেষ টি-শার্ট বিলি করা হয়েছে সবার মাঝে। কনের জন্য অর্ধকোটি টাকার গহনা। রাজকীয় বিয়ের এ অনুষ্ঠান হলো গতকাল ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কদমতলী গ্রামে। বর ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সংসদ উপনেতার সাবেক এপিএস জামাল হোসেন মিয়া। কনে রাজধানী শহরের কল্যাণপুর এলাকার এক ব্যবসায়ীর কন্যা। ছাত্রলীগ নেতার ওই রাজকীয় বিয়ে নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে ফরিদপুরে। ফরিদপুরে নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামে নিজ বাড়িতে গতকাল শুক্রবার দু’টি হেলিকপ্টার নিয়ে রাজকীয় বিয়ের অনুষ্ঠান করলেন জামাল হোসেন মিয়া।

দুপুর ১টায় রাজকীয় সাজে সজ্জিত হয়ে নববধূকে নিয়ে ঢাকা থেকে নিজ বাড়ীর পাশে কদমতলী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টার থেকে নেমে আসেন বর ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক। হেলিকপ্টার থেকে নেমে ফুলে ফুলে সাজানো প্রাডো ল্যান্ড ক্রুজার গাড়িতে নববধূকে নিয়ে উপস্থিত হাজার হাজার উৎসুক মানুষকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। এ সময় গ্রামবাসী ফুলের পাঁপড়ি ছিটিয়ে নব দম্পতিকে স্বাগত জানান। নবদম্পতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান চিত্রনায়ক রিয়াজ, সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জুয়েল, সংসদ উপনেতার বর্তমান এপিএসসহ নগরকান্দা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানবৃন্দ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। ফরিদপুরের ইতিহাসে হেলিকপ্টার নিয়ে প্রথম রাজকীয় এ বিয়ে নিয়ে চলছে সর্বত্র আলোচনা। বিয়েতে নববধূকে শতাধিক ভরি স্বর্ণসহ নানা ধরনের অলঙ্কার ও পোশাকে সাজানো হয়।
http://www.mzamin.com/index.php?option=com_content&view=article&id=39208...

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla