Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

টু ওম্যান এন্ড ফিউ হাফ-ম্যান...বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাধার এখনই সময়।

hasina and khaleda
রাজনীতির ভাগ্যাকাশে এখন দুর্যোগের ঘনঘটা। এ হতে উত্তরনের প্রেসক্রিপশন কারও জানা থাকলে প্রকাশের এখনই সময়। রাজনীতিবিদ, সমাজবিদ, অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিবিদ, বৈজ্ঞানিক, মনোবিজ্ঞানী সহ সমাজের স্ব স্ব পদে যারা পার্থক্য গড়ে তুলছেন তাদের হাতে ফর্মুলা থাকলে উচিৎ হবে টেবিলে রাখা। কালক্ষেপণ করলে দেরি হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে মূল্য পরিশোধ করতে গিয়ে জাতির কোমর ভেঙ্গে গেছে প্রায়। সরকারের হাতে খুন হওয়া স্বদেশির সংখ্যা ২০০ কাছাকাছি পৌছে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার পুলিশ লীগকে আঙ্গুল না চুষে গুলি চালানোর ফ্রি লাইসেন্স দিয়েছেন। মনে হচ্ছে শিকারীর শিকার টার্গেট ইতিহাসের সর্বকালের সব রেকর্ড ভাঙ্গতে যাচ্ছে। দিলীপ বড়ুয়া ও হাসানুল হক ইনুদের মত ওয়ান-ম্যান-শো মার্কা দল ছাড়া বাকি দলগুলোর রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিতেও সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষ দলের নেতাদের ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে পশুর মত আদালতে প্রদর্শন তারই ইঙ্গিত বহন করে। পাশাপাশি বিরোধীরা হাটতে শুরু করেছে সে পথে যে পথ আজকের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার রাস্তা দেখিয়েছিল। হরতাল, ধ্বংস, নৈরাজ্য ও হুমকি দেশের অর্থনীতিকে ঠেলে দিয়েছে এমন এক অনিশ্চয়তার মুখে যা হতে বেরিয়ে আসার সবকটা রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। যদিও আমার মত আবুলরা বিশ্বাস করে বিরোধীদের হরতাল অথবা অলিগলিতে বিক্ষিপ্ত অগ্নিসংযোগ ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য যথেষ্ট হবেনা। লাগাতার হরতাল, গান পাউডারের আগুনে চলন্ত বাসে যাত্রী পুড়িয়ে মারা, লগি-বৈঠার তাণ্ডবের পর লাশের উপর সাম্বা নাচ, একটার বদলে ২০টা লাশ ফেলার প্রতিজ্ঞা, নৃশংসতার এসব চূড়ান্ত শৃঙ্গ পদানত না করে ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার সাধ অধরাই থেকে যাবে বিরোধীদের জন্য। হরতাল যদি করতেই হয় তা হতে হবে আওয়ামী লীগের নক্সায়, গাড়ি যদি পোড়াতে হয় তাতে থাকতে হবে জীবন্ত যাত্রী, প্রকাশ্য রাজপথে পৈশাচিক উন্মত্ততায় মানুষ খুন করতে হবে। লাশের উপর নাচতে হবে, কুদতে হবে। সচিবালয় হতে মখা আলমগীরের মত কাউকে বেরিয়ে আসতে হবে। মঞ্চ বানাতে হবে। দেশের প্রেসিডেন্টকে ভাতে ও পানিতে মারার অংশ হিসাবে বঙ্গভবনের পানি ও গ্যাস বিছিন্ন করতে হবে। কেবল তখনই সরকারের ঘুম ভাঙ্গবে। অনুভব করবে গণবিস্ফোরণের উত্তাপ। যেমনটা করেছিল বিএনপি-জামাত জোট।

অস্ট্রেলিয়ান স্যার নিনিয়ানকে দিয়েও মধ্যস্থতা সম্ভব হয়নি। মান্নান ভূইয়া ও জলিল সাহেব সহ যারা চেষ্টা করেছিলেন তাদের কেউই আর বেঁচে নেই। সময় এখন মোহম্মদ হানিফ ও ফখরুলদের, রাজনৈতিক শিষ্টাচার যাদের জন্য ইতিহাসের বিষয়। একে অপরের বিচার, ফাঁসি, দেশ হতে উচ্ছেদ সহ বিদেশে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি এখন রাজনীতির ভাষা। এমন একটা পরিবেশে দলীয় উচ্ছিষ্টভোজী বুদ্ধি ব্যবসায়ীরা দাবি জানাচ্ছেন দুই নেত্রীর সংলাপের। জনৈক ব্যবসায়ী রুলিংয়ের জন্য আদালত লীগের দরজা পর্যন্ত মাড়িয়েছেন। মৃত প্রেসিডেন্টের লাশের প্রতি সন্মান জানাতে দুই নেত্রীর এক কক্ষে উপস্থিতিকে অনেকে সংলাপের ভেন্যু হিসাবে দেখতে চেয়েছিলেন। আক্ষেপ করেছেন একজন অপরজনের দিকে তাকায়নি বলে। ভাবটা এমন, তাকানো মাত্রই লালিত ভালবাসার মোমবাতি জ্বলে উঠবে। সে মোম ঝাড়বাতি হয়ে আলোকিত করবে টেকনাফ হতে তেঁতুলিয়া। এবং প্রেম, প্রীতি ভালবাসার ভাসিয়ে নেবে ১৭৫ জনের রক্ত। আসলেই কি তাই? দেশের কথা না হয় বাদ দিলাম, পারস্পরিক সন্মান, শ্রদ্বা, ভালবাসা ও মায়া মমতা বলতে আসলেই কিছু অবশিষ্ট আছে দুই নেত্রীর ভাণ্ডারে? থাকলে কোথায় সেসব? ক্ষমতার মসনদে পারিবারিক কর্তৃত্ব চিরস্থায়ী করার ব্লু প্রিন্টের সাথে আমরা কি ইতিমধ্যে পরিচিত হইনি? ২০০৯ সালের নির্বাচন কি তাই ছিলনা? পাঁচ বছর পর পর নির্বাচন আসবে এবং আমরা আবুলরা এক হাত মাথায় অন্য হাত মুখে ঢুকিয়ে দিনের পর দিন দেখতে থাকবো মানুষ মরছে, গাড়ি পুড়ছে, জনজীবন অচল হচ্ছে, অর্থনীতি ডুবছে, বিনিয়োগ গুটিয়ে বিদেশিরা সটকে পরছে , এবং বিক্রীত ক্রীতদাসের মত বাকি সবাই বাহাবা অথবা ঘৃণা ছড়াবে; শেষপর্যন্ত এটাই কি হতে যাচ্ছে গণতন্ত্রের স্থায়ী রোডম্যাপ? সার্বজনীন তাণ্ডবের শেষে নেত্রীরা মসনদে বসবেন, হাতী নাচাবেন, ঘোড়া নাচাবেন, সন্তানদের প্রবাসে বেকার বৈজ্ঞানিক বানিয়ে সম্পদের পাহাড় বানাতে সাহায্য করবেন, আয় হীন জীবনে লন্ডনের মত শহরে বিশাল বাড়ি ভাড়া করাবেন, যোগ্যতাহীনদের বানাবেন অটোইজমের বিশেষজ্ঞ, পাশাপাশি ১৬ কোটির বাকি সবাইকে ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা বানিয়ে পিতা ও ঘোষকের ছায়াতলে নাচতে বাধ্য করাবেন... জাতি হিসাবে স্বাধীনতার কাছে এটাই কি ছিল আমাদের একমাত্র পাওনা?

তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতিবিদ হতে চাইলে প্রয়োজন কিছু অতিরিক্ত মেধার। কি আছে আমাদের দুই নেত্রীর মগজে? হিংসা, জেদ, ক্রোধ, প্রতিশোধ, পিতা ও স্বামীর নামে দেশকে পারিবারিক সম্পত্তি বানিয়ে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নেয়ার খায়েশ ছাড়া অন্য কোন গুনাবলী জাতির সামনে উন্মোচিত করতে পারেননি নেত্রীদ্ধয়। বছরের পর বছর ধরে আমরা অসহায়ের মত দেখছি এ পশুত্ব, পাশাপাশি এক পক্ষের হয়ে অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে নর্তন কুর্দন করছি। বিনিময়ে কি পাচ্ছি? গণতন্ত্র? অন্ন? বস্ত্র? বাসস্থান? শিক্ষা? চিকিৎসা? স্বাভাবিক জন্ম-মৃত্যুর নিশ্চয়তা?এসব মৌলিক অধিকার হতে বঞ্চিত করেছিল বলেই আমরা প্রতিবাদ করেছি। অস্ত্র হাতে নয় মাস যুদ্ধ করেছি পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে। রক্ত দিয়েছি। ধর্ষিতা হয়েছি। ফলাফল? ২২ পরিবার খপ্পর হতে বেরিয়ে দুই পরিবারের বিষাক্ত থাবা। এ থাবায় আমরা এমন ভাবে আটকে গেছি যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দূরে থাক, মুখ খুলে কথা বলার সামর্থ্যটুকু পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছি। অথচ মুক্তিযুদ্ধের শৌর্য বীর্য নিয়ে রাজপথে মাতলামি করতেও দ্বিধা করছিনা। ব্রিগেড বানিয়ে ’৭১এর খুনিদের ফাঁসি দেয়ার দাবি অনেকটা নেশার পর্যায়ে চলে গেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে জাতি হিসাবে আমাদের একমাত্র সমস্যা কাদের মোল্লাদের ফাঁসি নিশ্চিত করা। আসলেই কি তাই? দেশকে রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ারের মত দুই দেবীর আপনজন ও পোষ্যরা চেটেপুটে খাচ্ছে। কোথায় প্রতিবাদ? কোথায় বিচারের দাবি? সাইদী নিজামীর বিচার ইতিহাসকে দায়মুক্তি করার দাবি। আমরা বোধহয় ভুলে গেছি ইতিহাস আমাদের অন্ন যোগায় না, স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা দেয় না। বর্তমানকে স্বাভাবিক পথে চালিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজন রাজনীতি। আর এ জন্যই আমরা ভোট দেই, জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করি, নেতা বানাই। অথচ ক্ষমতার স্বাদ পেয়েই নেতারা বনে যান হিংস্র হায়েনা। স্বাদ চিরস্থায়ী করার নেশায় হয়ে উঠেন উন্মত্ত। জাতিকে জিম্মি করে মুক্তিযুদ্ধের রেকর্ড বাজান, উন্নতির কীর্তন করেন। ৪০ হাজার কোটি টাকার লুটপাটকে বলেন দুষ্টুমি।

যথেষ্ট হয়নি কি এ পশুত্ব? জাতি হিসাবে বিগত ৪২ বছরে আমরা কি কিছুই শিখিনি? যদি তাই হয় কোন মুখে নেত্রীরা আমাদের হয়ে কথা বলছেন? কোন মুখে গণতন্ত্রের জয়গান গাইছেন? দেবীদের গণতন্ত্রের শেষ ঠিকানা কি আমাদের দেখা হয়নি? সময় হয়েছে দুই ওম্যান প্লাস এরশাদ ও ইনু মিনুদের মত কজন হাফ ম্যানদের নির্বাসনে পাঠানোর। বেড়ালের গলায় কাউকে না কাউকে ঘন্টা বাঁধতে হবে। এবং তা যত সম্ভব দ্রুত।

Comments

তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় ৯০% মানুষ

প্রথম আলোর উদ্যোগে ওআরজি-কোয়েস্ট পরিচালিত: জনমত-জরিপ ৯-২০ এপ্রিল ২০১৩
তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় ৯০% মানুষ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সম্পন্ন করার ব্যাপারে দেশের মানুষ প্রায় একযোগে মত দিয়েছে। প্রথম আলোর উদ্যোগে পেশাদার জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থা ওআরজি-কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেড পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, আগের বছরগুলোর তুলনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে জনমত এখন আরও জোরালো। বেশির ভাগ মানুষ মনে করছেন, দেশের পরিস্থিতি হতাশাব্যঞ্জক। দেশের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে মানুষের মতামত যাচাইয়ের জন্য গত ৯ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। অধিকাংশ মানুষ এ কথা মনে করছেন যে, যুদ্ধাপরাধের বিচারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় রায় ঘোষণার পর পর উদ্ভূত পরিস্থিতি সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার বিপক্ষেও সংখ্যাগরিষ্ঠ মত পাওয়া গেছে।

নির্বাচনকালীন সরকার, দেশের চলমান পরিস্থিতি ও এই প্রেক্ষাপটে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সেনা হস্তক্ষেপের শঙ্কা এবং বিতর্কিত বিভিন্ন দলের সঙ্গে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর জোটবদ্ধতা ইত্যাদি বিষয়ে এই জরিপে মানুষ তাদের মতামত জানিয়েছেন। এসব মতামতে দেশের এক সংশয়পূর্ণ ছবি ফুটে উঠেছে। জরিপটি পরিচালিত হয় দেশের প্রতিটি প্রশাসনিক বিভাগের ৩০টি জেলা শহর ও গ্রামের তিন হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর। বাংলাদেশের জনবিন্যাস অনুযায়ী উত্তরদাতাদের অনুপাত প্রতিনিধিত্বশীল রাখা হয়। বিশ্বের বহু প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যম ও জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এ পদ্ধতিতে জনমত যাচাই করে থাকে। ইউরোপিয়ান সোসাইটি ফর অপিনিয়ন অ্যান্ড মার্কেট রিসার্চের (ইসোমার) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নৈতিক মানদণ্ড অক্ষুণ্ন রেখে জরিপটি করা হয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ নির্দলীয় অথবা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন চায়। এই দাবির পক্ষে মানুষের সংখ্যা এখন ৯০ শতাংশ। ২০১১ ও ২০১২ সালের জনমত জরিপেও মানুষের এ আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু আগের জরিপের প্রায় অর্ধবছরের ব্যবধানে এর পক্ষে যথেষ্ট হারে জনমত বেড়েছে। বেশির ভাগ মানুষ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অর্ধেক মানুষ বলেছে, দেশ অত্যন্ত খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাকি অর্ধেকের মধ্যেও ৩৫ শতাংশ মানুষের ধারণা, দেশ খারাপ অবস্থা পার করছে। এতে করে দেখা যায়, মোট ৮৫ শতাংশ মানুষ দেশের অবস্থা খারাপ বলে মনে করছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে যে সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি, এও তাদের হতাশার অন্যতম কারণ।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তির সময় পরিচালিত জরিপে অধিকাংশ মানুষের মধ্যে এই প্রত্যাশা ছিল যে, ভবিষ্যতে হরতাল, অবরোধ ও সহিংসতায় ভরা নৈরাজ্যকর অবস্থা আর ফিরে আসবে না। পরবর্তী বছরগুলোতে তাদের এ আশাবাদে ক্রমাগত ভাঙন ধরেছে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারে কাদের মোল্লা ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘোষণার পর সারা দেশে যে তীব্র হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে, ৭৯ শতাংশ মানুষ মনে করে, সরকার তা সামলাতে পারেনি। খুব কমসংখ্যক মানুষই বলেছে যে সরকার সুষ্ঠুভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের জরিপে বিপুল সংখ্যায় মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি করে এবং মহাজোট সরকার এ বিচারের কাজ সম্পন্ন করতে পারবে বলে প্রত্যাশা জানায়।

এবারের জনমত জরিপে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে মত দিয়েছে।
শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ উত্তরদাতা। পক্ষান্তরে এর বিপক্ষে মত দিয়েছে অর্ধেকের সামান্য কিছু বেশি মানুষ। জরিপে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজন মানুষ গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন সম্পর্কে জানে না। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে তাদের আন্দোলন শুরু করে। পরে প্রধান বিরোধী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী তাদের নিয়ে সমালোচনামুখর হয়ে উঠলে এবং তাদের সম্পর্কে নানা অপপ্রচার চললে মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়। বেশির ভাগ মানুষ বিতর্কিত দলের সঙ্গে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্রব ও সম্পর্ক অপছন্দ করে। অর্ধেকেরও বেশি উত্তরদাতা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির এবং বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর জোটবদ্ধ থাকার বিপক্ষে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনী হস্তক্ষেপ করতে পারে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে পক্ষে-বিপক্ষে মানুষের মতামত প্রায় কাছাকাছি। তবে এর মধ্যেও কিছু বেশি সংখ্যক মানুষ মনে করে তেমন কোন আশঙ্কা নেই। বেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে—প্রায় প্রতি চারজনের একজন—বলেছে যে, এ ব্যাপারে তারা কিছু বলতে চায় না বা কিছু জানে না।
http://www.prothom-alo.com/detail/news/351302

কাজ শুরুর আগেই দুর্নীতি

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেডের (বিটিসিএল) টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট (টিএনডি) প্রকল্পে কাজের আগেই দুর্নীতি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দের এই প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ, দরপত্র ও কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে পরামর্শক নিয়োগে ২০ কোটি টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। বাকি টাকা কৌশলে দরপত্র মূল্যায়নের কারসাজিতে অতিরিক্ত খরচ ধরা হয়েছে। যা কাজ বাস্তবায়নের সময় সরকারের গচ্চা যাবে। এ ব্যাপারে কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপ-পরিচালক মাহমুদ হাসানের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ টিম অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন

দুদকে আসা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে বিটিসিএলের টিএনডি প্রকল্পে পরামর্শক হিসাবে ২০১০ সালে নিয়োগ পায় জেটেক নামের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। ওই বছর ২৮ নভেম্বর বিটিসিএলের সঙ্গে জেটেকের সম্পাদিত চুক্তিতে প্রকল্পের সব ক্রয় কার্যক্রমে সুস্পষ্টভাবে বাংলাদেশের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০০৮-এর প্রাকযোগ্যতা বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়। কিন্তু, পরবর্তীতে দরপত্র প্রক্রিয়ার কোনো ক্ষেত্রেই ক্রয় আইন ও বিধিমালার তোয়াক্কা করা হয়নি। দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দুটি লটের প্রতিটিতে অবৈধভাবে ১০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ করে কেটি-মারুবেনি জেভি নামের কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এতে ওই পরিমাণ টাকা সরকারের গচ্চা যাবে। এ ছাড়া, প্রকল্পটির খরচ ও ঋণ পরিশোধিত হবে জাপানি ইয়েনে। দরপ্রস্তাব দাখিলের দিনে ১ ডলার সমান ৮০ ইয়েন ছিল। বর্তমানে প্রায় ৯০ ইয়েনে দাঁড়িয়েছে। ফলে অতিরিক্ত প্রায় ৫০ কোটি টাকা সরকারের ক্ষতি হবে।

সংশ্লিষ্টরা পরস্পর যোগসাজশে অনৈতিকভাবে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এসব অপকর্ম করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, আট সদস্যবিশিষ্ট দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সাতজনের সাক্ষর ছাড়াই একটি ভুয়া মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি রিভিউ প্যানেলে তা ধরা পড়ে। পরে রিভিউ প্যানেল নেটাস নামের একটি কোম্পানিকে যোগ্য ঘোষণা করে। রিভিউ প্যানেলের এ সিদ্ধান্তকে অকার্যকর করতে রিট আবেদন করে বিটিসিএল। অবশেষে রিভিউ প্যানেলের সিদ্ধান্ত প্রতিপালন করতে বিটিসিএলকে নির্দেশ দেয় আদালত। এদিকে, অভিযোগ পেয়ে দুদকের অনুসন্ধানী দলের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করেন। নথি পর্যালোচনা সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ গ্রহণ নেন। ইতোমধ্যে বিটিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. কলিমুল্লাহসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে।
http://www.amadershomoy2.com/content/2013/04/06/middle0647.htm

শাহবাগ আন্দোলন সম্পর্কে পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির বিবৃতি

শাহবাগ আন্দোলন এবং আমাদের অবস্থান

(সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কমিটি, PBSP(MBRM) কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত। ৪র্থ সপ্তাহ, মার্চ’১৩)

শাহবাগ আন্দোলনের শুরু হয়েছিল ব্লগার ও ইন্টারনেট এক্টিভিস্টদের উদ্যোগে। শ্রেণিগতভাবে স্বচ্ছল শহুরে মধ্যবিত্তদের দ্বারা সূচিত এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা। যারা এই আন্দোলনের শুরু করেছিলেন, তারা আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী সরকারের প্রতি অনাস্থায় ভূগছিলেন যে, সরকার যুদ্ধাপরাধের সঠিক বিচার করবে না। তৎকালে সংঘটিত ঘটনাবলী তাদের শঙ্কা ও সন্দেহকে বদ্ধমূল করছিল। কিন্তু আন্দোলনের নেতৃত্ব পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের দ্বারা দখল হয়ে যায়। এখন শাহবাগ আন্দোলন হচ্ছে আওয়ামী ভাবাদর্শ প্রচার ও তার নির্বাচনী রাজনীতির উৎরাই পাড়ি দেবার হাতিয়ার।

শাহবাগ আন্দোলনের সাথে এখনো অনেক দেশপ্রেমিক, সৎ এবং নয়া প্রজন্মের তরুণ-যুবকেরা সংশ্লিষ্ট। তাদের বিভ্রান্ত ও বিপথগামী করার জন্য আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত আর তাদের দোসররা পরস্পর বিপরীত দিক থেকে সচেষ্ট। তাদের পরস্পর বিরোধিতা সত্ত্বেও, তাদের অভিন্ন মূল অবস্থান হচ্ছে, শাহবাগ আন্দোলন যাতে কোনোভাবেই বুনিয়াদি জনগণের সাথে, গ্রামাঞ্চলের কৃষক জনগণ এবং শহরাঞ্চলের শ্রমজীবী মেহনতি শ্রমিক জনগণের সাথে সম্পর্কিত হতে না পারে। কেননা, শাহবাগ আন্দোলন গণসম্পর্কিত আন্দোলনে পরিণত হলে, লুটেরা শাসকশ্রেণির অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত-জাতীয়পার্টি প্রভৃতি সকলের জন্যই বিপদ। একারণে আওয়ামীলবী ইতিহাস বিকৃতি এবং বিএনপি-জামায়াত ধর্মীয় রাজনীতির উপর ভর করছে। শাহবাগ আন্দোলন আওয়ামীলবীর ইতিহাস বিকৃতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে বিএনপি শাহবাগ আন্দোলনের বিপক্ষে ধর্মীয় রাজনীতির উপর ভর করেছে।

’৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বড় দুই হোতা মার্কিন-পাকিস্তান এবং রুশ-ভারত আর আওয়ামী নেতাদের যুদ্ধাপরাধের কথা শাহবাগ আন্দোলনে আলোচিত হচ্ছে না। আওয়ামী নেতাদের কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির কথা এবং মুক্তিযুদ্ধের দিশারী বামপন্থী নেতা-কর্মীদের নির্বিচারে হত্যার কথাও আলোচিত হচ্ছে না। প্রত্যক্ষ যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানী সেনাদের কারা নিরাপদে চলে যেতে দিয়েছে? গত ৪১ বছর কেন যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়নি? এখন কেন বিচারের ধূয়া তোলা হচ্ছে? এসবের কিছুই আলোচিত হচ্ছে না শাহবাগ আন্দোলনে। রাজাকার বা সহযোগীদের বিচার চাওয়া হচ্ছে অথচ দেশীয়-আন্তর্জাতিক মূল হোতাদের বিষয়ে কিছুই বলা হচ্ছে না।

এ কথা সত্য যে, জামায়াত সংগঠন হিসেবেই মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি ছিল। তারা পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর দোসর ছিল। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গর্ব করে বলার মতো তাদের কোনো অবদান নেই। আছে কালিমালিপ্ত নিন্দনীয় ঘৃণ্য রক্তাক্ত ইতিহাস। কাজেই বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই তারা কখনো আওয়ামী লীগ, আবার কখনো বিএনপির ছত্রছায়ায় থেকে রাজনীতি করছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিই জামায়াতকে টিকিয়ে রাখছে এবং সুবিধা অনুযায়ী ‘জামায়াত কার্ড’ খেলছে। জামায়াত সংগঠন হিসেবেই ফ্যাসিস্ট চরিত্রের সংগঠন। প্রকাশ্যে থাকুক বা নিষিদ্ধ হয়ে গোপনে থাকুক তাতে তার ফ্যাসিস্ট চরিত্রের পরিবর্তন হবে না। তাই তাকে রাজনৈতিকভাবে নিঃশেষ করে ফেলাটাই আসল কর্তব্য।

’৭১ সালে বিএনপি ছিল না, কাজেই সংগঠন হিসেবে তার ভূমিকাও ছিল না। পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ বিরোধী বিভিন্ন শক্তির সমন্বয়ে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি গড়ে ওঠে। এবং বিকশিত বড় ধনীদের স্বার্থরক্ষাকারী দল হিসেবে নিজেকে সামনে আনে। আওয়ামী লীগ বিরোধী বাম ও ডান সব ধরনের শক্তিকে একত্রিত করে তথাকথিত ভারসাম্যের যে রাজনীতি জিয়াউর রহমান চালু করেছিল, তা ক্রমান্বয়ে ও ক্রমবর্ধিত হারে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর উপর বিএনপির নির্ভরতা বৃদ্ধি করে। ফলে এরাই ‘জামায়াত কার্ড’ সবচেয়ে বেশি খেলেছে ও খেলছে।

আওয়ামী লীগ সংগঠন হিসেবে নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের একক নেতৃত্বকারী দল হিসেবে দাবি করে এবং সব কৃতিত্ব নিজের বলে প্রচার করে। ফলে নিজেকে এই দেশের ভাগ্য বিধাতা এবং দেশটিকে নিজেদের অবাধ লুটের ক্ষেত্র বলে মনে করে। তাকে বহাল রাখার জন্যই হত্যা, গুম, নির্যাতন, ইতিহাস বিকৃত করা প্রভৃতি যাবতীয় মন্দ কাজের আমদানী ও নেতৃত্বকারী সংগঠন হিসেবে নিজেকে সামনে এনেছে।

শাহবাগ আন্দোলন আওয়ামী লীগকেই মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বকারী সংগঠন হিসেবে সামনে আনছে, এভাবে আওয়ামী লীগের ইতিহাস বিকৃতিকে সহায়তা করছে এবং আওয়ামী ভাবাদর্শের প্রচারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। শাহবাগ আন্দোলনের নেতৃত্বকারীরা আওয়ামী সরকারের কাছেই দাবি-দাওয়া পেশ করছে, সরকারি মদদে আন্দোলন পরিচালনা করছে, এবং এসবের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে এই হাস্যকর উদাহরণ সৃষ্টি করছে যে, সরকারি মদদে, সরকারি ছত্রছায়ায়, সরকারি বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় জনগণের প্রকৃত কোনো আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে। আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিক কাল থেকেই ফ্যাসিস্ট চরিত্রের সংগঠন এবং তারা যখন সরকার গঠন করে তখন তা হয় ফ্যাসিস্ট চরিত্রের সরকার। ইতোপূর্বকার ইতিহাস তার সাক্ষী। সেই আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী সরকার শাহবাগ আন্দোলনের প্রতি এত নমনীয় হলো কেন? এর কারণ একটাই, শাহবাগ আন্দোলন বর্তমানে তাদেরই স্বার্থের সেবা করছে।

প্রকৃত সত্য হচ্ছে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বকারী সংগঠন নয়। তারা সংগঠন হিসেবে কখনই স্বাধীনতার দাবি উত্থাপন করেনি এবং তা বাস্তবায়নের চেষ্টাও করেনি। আওয়ামী লীগ সংগঠন হিসেবে ’৭১ সালের ২৫ মার্চের পূর্ব পর্যন্ত অখণ্ড পাকিস্তানের রাজনীতি করেছে, শেখ মুজিব অখণ্ড পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবার স্বপ্ন দেখেছে ও চেষ্টা করেছে। স্বাধীনতার পক্ষে আওয়ামী লীগের অবস্থান হিসেবে সেই সময়কার আওয়ামী লীগের কোনো ফোরামের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, ঘোষণা, কর্মসূচির কোনো উপস্থাপনা আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ করেনি। স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে গড়ে তোলা হবে, বিকশিত করা হবে, বিজয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে সে সম্পর্কিত কোনো রণণীতি ও রণকৌশল শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগ দেয়নি, কেউ আজ পর্যন্ত তার কোনো রেফারেন্সও দেয়নি। “পাকিস্তান-জিন্দাবাদ” ধ্বনি দেয়া শেখ মুজিবের ৭ মার্চের দীর্ঘ ভাষণে উত্থাপিত মাত্র দুটো বাক্যই একটি মুক্তিযুদ্ধ শুরু করা, এগিয়ে নেয়া ও বিজয়ী করার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। মুক্তিযুদ্ধ এত সহজ কোনো বিষয় নয়।

আওয়ামী লীগের তৎকালীন নেতৃত্বের বিশেষত সংসদ সদস্যদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশই মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল, এরা পাকিস্তানের দোসর হিসেবে ভূমিকা রেখেছিল। শেখ মুজিবসহ নেতৃত্বের একটি অংশ সুবিধাববাদী অবস্থান নিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের কষ্টকর-ঝুঁকিপূর্ণ, রক্তাক্ত লড়াইয়ে অংশগ্রহণের বদলে এসব নেতৃত্বের একটা অংশ আত্মসমর্পণ করে নিরাপদ ও আরামদায়ক বন্দিত্ব বরণ করে নিয়েছিল এবং অপর অংশ ভারতে গিয়ে ভারতীয় শাসকগোষ্ঠীর সহায়তায় আরাম-আয়েশের জীবন বেছে নিয়েছিল। কোনো উল্লেখযোগ্য ও প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী নেতা লড়াই করতে গিয়ে, মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে শহীদ হননি। অথচ এই আওয়ামী লীগই নাকি মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বকারী সংগঠন! এ হচ্ছে সত্যের অপলাপ মাত্র।

আসল সত্য হচ্ছে এই যে, আমাদের দেশের অধিকাংশ বিশৃংখলা, অনাচার, বিভেদের উদ্ভব হয়েছে আওয়ামী লীগ থেকেই। আওয়ামী লীগই হচ্ছে আমাদের দেশের অধিকাংশ মন্দ কাজের সূতিকাগার ও পথ-প্রদর্শক। আওয়ামী লীগকে বিরোধিতা ও প্রতিরোধ করতে গিয়েই বিভিন্ন ধারা, মত, পথ, দল ও গ্রুপের উদ্ভব হয়েছে, দেশ-জাতি-জনগণ বিভক্ত হয়েছে এবং পরস্পর হানাহানিতে লিপ্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগের দেখানো মন্দ বিষয়গুলোকেই আত্মীকরণ করে নিয়েছে বিএনপি এবং সেগুলোকে আরো বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং তার উপর ভিত্তি করেই যুদ্ধাপরাধের প্রকৃত বিচার করা হচ্ছে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত কাজ। এসবের জন্য আওয়ামী লীগের কাছে ধন্না দিয়ে লাভ নেই। দোদুল্যমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির নেতৃত্বেও তা করা সম্ভব নয়। এটা না বুঝে চালানো সকল চেষ্টা নিষ্ফল হতে বাধ্য। এবং তার ফলাফল শাসকশ্রেণিরই কারো না কারো পক্ষে চলে যাওয়াটা অনিবার্য। আশা করি, শাহবাগ আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত দেশপ্রেমিক তরুণ-যুবকেরা এটা উপলব্ধি করবেন এবং নিজেদের প্রাণের আবেগ ও মনের গভীর থেকে বেরিয়ে আসা আকাঙ্ক্ষা-আকুতিকে সঠিক পথে ও দিশায় স্থাপিত করবেন।

ইতিহাসের সঠিক জ্ঞান ছাড়া কোনো আন্দোলনে সঠিক নেতৃত্ব দেয়া যায় না। স্বাধীন, সার্বভৌম, নয়াগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলার প্রজাতন্ত্রের স্বপ্নদ্রষ্টা, রূপকার, পথিকৃত ও নেতৃত্বকারী ছিলেন সিরাজ সিকদার, মাওলানা ভাসানী সহ বাম ঘরানার নেতা-কর্মীরা। তারাই দেশের অভ্যন্তরে থেকে স্বাবলম্বিতার ভিত্তিতে এদেশের মুক্তিযুদ্ধ গড়ে তুলেছেন ও বিকশিত করেছেন। এদেরকেই হত্যা-নির্যাতন করে, বারংবার মিথ্যা প্রচার চালিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে উল্টে দেবার চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা। ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আওয়ামী এই অপপ্রয়াসকেই সহায়তা করছে শাহবাগ আন্দোলন। তাই একে আমরা সমর্থন করতে পারি না।

শাহবাগ আন্দোলন নিজেকে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও অরাজনৈতিক বলে দাবি করছে। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অবস্থান। নিজেরা রাজনৈতিক ইস্যুকে সামনে আনবেন, তা নিয়ে রাজনীতি করবেন, কিন্তু তা নিয়ে অন্যদের রাজনীতি করতে দেবেন না – এটা হতে পারে না। বর্তমান শ্রেণিবিভক্ত সমাজে রাজনীতির সাথে সম্পর্কহীন কিছুই হতে পারে না। শাহবাগ আন্দোলন ব্যাপক সংখ্যক জনগণের বাঁচা-মরার সাথে সম্পর্কিত কোনো মৌলিক দাবিকে সামনে আনছে না। ফলে জনগণের সীমাহীন দুর্ভোগের হোতা আওয়ামী লীগ ও তার সরকারকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখতে পারলেও নিপীড়িত জনগণের স্বার্থরক্ষায় কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না শাহবাগ আন্দোলন। এমনকি বর্তমান সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থায় মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ, মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদকে বিরোধিতা করা ছাড়া, আমাদের দেশে সম্প্রসারণবাদকে বিরোধিতা করা ছাড়া, ব্যাপক সংখ্যক কৃষক জনগণের পক্ষাবলম্বন করা ছাড়া কীভাবে মানবতা বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন করা যায়, তারও কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছে না শাহবাগ আন্দোলনের নেতৃত্বকারীরা।

শাহবাগ আন্দোলন দেশীয় ও বিশ্বের জলন্ত সমস্যাগুলো আড়াল করতে ভূমিকা রাখছে। ফলে বর্তমানে তা প্রতিক্রিয়াকেই সহায়তা করছে। ফলে তা কখনোই ব্যাপক সংখ্যক জনগণের আন্দোলনে পরিণত হতে সক্ষম হবে না। জামায়াতের সাথে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রীতির সম্পর্কের প্রতি বিরক্ত ও ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠা আরবান মধ্যবিত্ত জনগণের একটি প্রতিবাদী বিস্ফোরণ এবং পরবর্তীতে বিপথগামী হিসেবেই মূল্যায়িত হবে শাহবাগ আন্দোলন। 

( মানব রহমান )
মুখপাত্র
পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি ( মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন – MBRM)
http://pbspmbrm.wordpress.com/2013/03/31/%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%...

এতিম স্কুলের বরাদ্দ থেকে তিন কোটি টাকা ঘুষ দাবি সুরঞ্জিতের

তিন কোটি টাকা ঘুষ না দেয়ায় নিজ সুপারিশ ও তদবিরে বরাদ্দ হওয়া অর্থ ফের বাতিলের চিঠি দিলেন ‘কালো বিড়াল খ্যাত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এ ঘুষ চাওয়া হয়েছে নিজ বাড়ির পাশের এতিমদের একটি স্কুলের কাজে। স্কুলটির নাম ‘বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমি, দিরাই’। এতিম ও অসহায় পরিবারের মেয়েদের সম্পূর্ণ বিনা খরচে এখানে শিক্ষাদান ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। চাঞ্চল্যকর ঘুষ কেলেঙ্কারির এ নালিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত গড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ জানিয়েছে ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার। এতিমদের এ স্কুলের অর্থ বরাদ্দ ও স্থগিত রাখার ঘটনা জানতে গিয়ে দেখা যায়, শুরুতে অর্থ বরাদ্দের জন্য জোর সুপারিশ করেছেন দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। আবেদনপত্রে নিজ হাতে ‘বিশেষ বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা গেল’ লিখে পাঠিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, শিক্ষা সচিব ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে। লবিংও কম করেননি। এত চেষ্টার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের নানা ঘাট পেরিয়ে ১০ কোটি টাকার কর্মসূচি প্রস্তাব অনুমোদন হয়। সুখবরটি জানাতে সুরঞ্জিতের বাসায় ছুটে যান বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমির সভাপতি জামিল চৌধুরী। খবরটি জানানোর সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রী বললেন, ‘এত টাকা দিয়ে কি করবে, আমাকে তিন কোটি টাকা দিয়ে দাও। অন্যান্য স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাকে যেতে হয়, তাদের অনুদান দিতে হয়।’ অভিযোগে বললেন একাডেমির সভাপতি জামিল চৌধুরী। তিনি জানান, আমি প্রথমে মনে করেছি মন্ত্রী ফান করছেন, পরে দেখি তিনি সিরিয়াসলি টাকা চাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয়বার তার বাসায় বৈঠক করি। তখনও তিনি একই কথা বলেন। সর্বশেষ বৈঠকে মন্ত্রীর স্ত্রী, ছেলে ও ছেলের বউও ছিলেন। সবাই মিলে মন্ত্রীকে অনুরোধ করলেন এতিমদের স্কুলটির জন্য সহযোগিতা করতে। সুরঞ্জিতের সাফ কথা—তিন কোটি টাকা না দিলে তিনি বরাদ্দ বাতিল করে দেবেন। তখন এতিমদের স্কুলের টাকা থেকে তিন কোটি টাকা দেয়ার বিষয়ে আমরা একমত হতে পারলাম না। আর ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় সমুদয় অর্থ বরাদ্দের আদেশ বাতিলের জন্য গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর শিক্ষামন্ত্রীকে ডিও লেটার পাঠান মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই ডিও লেটারের ওপর ভিত্তি করে আটকে যায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলাধীন বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমির ভবন ও হোস্টেল নির্মাণ কর্মসূচি।

সুরঞ্জিতের ডিও লেটারে যা আছে : গত ১৩ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে একটি ডিও পাঠান। এর শিরোনাম দেয়া হয়—আমার নির্বাচনী এলাকা- ২২৫, সুনামগঞ্জ-২’র দিরাই উপজেলার ফিমেল একাডেমির অনুকূলে বরাদ্দ করা অর্থ উক্ত প্রতিষ্ঠানের বদলে এলাকায় বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের অনুকূলে সমতার ভিত্তিতে বরাদ্দ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ, অন্যথায় উক্ত সমুদয় অর্থ বরাদ্দের আদেশ বাতিলকরণ প্রসঙ্গে। ডিওতে বলা হয়েছে, আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, আমার নির্বাচনী এলাকাটি (২২৫-সুনামগঞ্জ-২) দিরাই-শাল্লা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এটি ভাটি এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে চারটি কলেজ, প্রায় ২৭-২৮টি বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ৭-৮টি মাদরাসা রয়েছে। কিছু পুরাতন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উনবিংশ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে প্রচুরসংখ্যক ছাত্রছাত্রী এসব প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে। সরকারের বিশেষ আনুকূল্যে এ অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে, এলাকায় বিদ্যুতায়নও হয়েছে।
বস্তুত সম্পূর্ণ স্থানীয় উদ্যোগ ও শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রীদের ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত উল্লিখিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত সুনামের সঙ্গেই শিক্ষাদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি একটি বৈষম্যমূলক আর্থিক অনুদান/সহায়তা এক্ষেত্রে কুঠারাঘাত হেনেছে। এতে বলা হয়েছে, আমি জেনেছি যে, সম্প্রতি দিরাই উপজেলার ‘ফিমেল একাডেমি’ প্রতিষ্ঠানটির নামে সরকারি-বিদেশি বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ নেয়া হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে এলাকাবাসী বা জনপ্রতিনিধিরা কিছু জানেন না বিধায় সেটির বিষয়ে তাদের কোনো আগ্রহও নেই। এটির কার্যক্রমও রহস্যময় কুয়াশায় ঘেরা। উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে এত বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি স্থানীয় বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দারুণ বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা আর স্থানীয় জনগণের পরিশ্রম এবং অনুদানে প্রতিষ্ঠিত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের বিল্ডিং ছাড়া অদ্যাবধি উল্লেখযোগ্য কোনো সরকারি সহায়তা দেয়া সম্ভব হয়নি। সেখানে হঠাত্ করে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে এত বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি সবাই বৈষম্যমূলক বলে মনে করছে। এ অবস্থায় বিবেচ্য বরাদ্দ করা অর্থ এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে সমতার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেয়া হলে সৃষ্ট বিক্ষোভ প্রশমনের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আমি মনে করি। এটি সম্ভব না হলে সম্পূর্ণ বরাদ্দ বাতিল করাই শ্রেয় হবে। জনস্বার্থে বিষয়টি বিবেচনার দাবি রাখে। এ বিষয়ে আপনার ও শিক্ষা সচিবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং ওই আলোকেই এ পত্রটি পাঠিয়েছি।

এমতাবস্থায় উপযুক্ত বর্ণনার আলোকে জনস্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে আমার নির্বাচনী এলাকা ২২২-সুনামগঞ্জ-২’র দিরাই উপজেলার ‘ফিমেল একাডেমি’র অনুকূলে সরকারি-বিদেশি বিভিন্ন খাত থেকে বরাদ্দ করা অর্থ ওই প্রতিষ্ঠানের বদলে এলাকায় বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে সমতার ভিত্তিতে বরাদ্দ প্রদান, অন্যথায় সমুদয় অর্থ বরাদ্দের আদেশ বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ডিও লেটারের আলোকে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলাধীন ‘বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমির ১৫০ আসনবিশিষ্ট শ্রেণীকক্ষ ভবন ও ১৫০ শয্যার ছাত্রীনিবাস নির্মাণ’ শীর্ষক কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। গত ৯ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখার সহকারী প্রধান মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে বলা হয়, এ কর্মসূচির বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ না করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। বরাদ্দের জন্য দেয়া ৪টি আবেদনেই সুপারিশ ছিল সুরঞ্জিতের : ২০১০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বিশেষ বিবেচনায় দেশের একমাত্র ফ্রি এতিম আবাসিক বিদ্যালয় বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমির ছাত্রীদের জন্য ৩০০ আসনের হোস্টেল ও ক্লাস কক্ষ নির্মাণের আবেদন জানানো হয়। এরই মধ্যে সাবেক কেবিনেট সেক্রেটারি এম আবদুল আজিজ ওই স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে মুগ্ধ হন। স্থানীয় জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমির ছাত্রীদের জন্য ১৫০ সিটের হোস্টেল এবং ১৫০ সিটের ক্লাসরুম নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষা সচিবকে চিঠি দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। চিঠিতে জানানো হয়, জামিল চৌধুরীর পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টায় দেশের গরিব, এতিম ও গৃহহীন মেয়েদের জন্য বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমি নামে একটি অবৈতনিক আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে চার একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম শ্রেণী থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৬০ জন ছাত্রছাত্রী, ২০ জন শিক্ষিকা ও কর্মচারী রয়েছেন। দরিদ্র, এতিম ও অসহায় মেয়েদের শিক্ষদানে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার পাশাপাশি অন্য কর্মসূচিতেও সুনাম অর্জন করেছে। ২০১০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি কেবিনেট সেক্রেটারি ওই প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমি একটি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলেও পর্যাপ্ত সংখ্যক শ্রেণীকক্ষ ও ছাত্রবাসের অভাবে এ প্রতিষ্ঠানের দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। এমন অবস্থায় ১৫০ আসনের ছাত্রাবাস এবং ১৫০ আসনের শ্রেণীকক্ষ নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এর আগে ২০০৯ সালের ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমির প্যাডে প্রতিষ্ঠানটির জন্য হোস্টেল নির্মাণের অর্থ চেয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়। তাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত তার সুপারিশে ‘মহোদয়ের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা গেল’ শিরোনামের একটি কথা লিখে সুপারিশ করে দেন। এরপর ২০১১ সালের ৯ মে অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব এবং ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে আলাদাভাবে চিঠি দেন ফিমেল একাডেমির সভাপতি জামিল চৌধুরী, যাতে লেখেন ‘বিশেষ বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা গেল’। এরপর থেকে এ কর্মসূচিটি নতুন মাত্রা পায়। বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমির প্রস্তাবটি কর্মসূচি আকারে গ্রহণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখা থেকে ১১ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। ওই শাখার সহকারী প্রধান মোহাম্মদ মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমি দেশের গরিব, এতিম, গৃহহীন মেয়েদের প্রথম শ্রেণী থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষাসেবা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অতিদরিদ্র-অসহায় মেয়েদের আবাসিক সঙ্কট দূরীকরণসহ মানসম্পন্ন শিক্ষাদানের উদ্দেশে ওই প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ছাত্রাবাস এবং শ্রেণীকক্ষ নির্মাণ প্রয়োজন বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে। এর আলোকে এ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। জানুয়ারি ২০১২ থেকে জুন ২০১৩ মেয়াদে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হবে। এ পর্যায়ে কর্মসূচিটি অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য নির্দেশক্রমে এতদসঙ্গে প্রেরণ করা হলো।’ অর্থ বিভাগের সচিবের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়। এরপর ২০১১ সালের ২৮ ডিসেম্বর অর্থ বিভাগের রাজস্ব বাজেট থেকে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় এক নম্বর এজেন্ডায় ‘সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলাধীন বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমি (বিএফএ) ১৫০ আসনবিশিষ্ট শ্রেণীকক্ষ ভবন ও ১৫০ শয্যার ছাত্রীনিবাসের নির্মাণ কাজ’ শীর্ষক কর্মসূচিটি ছিল। ওই সভায় এটি অনুমোদন পায়। এরপর অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াও শুরু হয়। এরই মধ্যে লেনদেনের বিষয়ে সুরাহা না হওয়ায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ডিও দিয়ে কর্মসূচিটি বন্ধ করে দেয়।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বারের নালিশ : এ ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর চিঠি লেখেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মুকিম আহমেদ, ডিরেক্টর জেনারেল এম আর চৌধুরী ও ফিন্যান্স ডিরেক্টর মুহিব ইউ চৌধুরী। এর আগে ২০১২ সালের ২৮ জুলাই লন্ডনে চেম্বার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হলে তিনি দেশে ফিরে গিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে তাদের প্রতিশ্রুতি দেন। বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয, ‘The delegation from british chamber of commerce met you on 28th of july in London and presented the necessary papers regarding the project, when you assured that you will see the matter personally.’ চিঠিতে সুরঞ্জিত সেনের ঘুষ দাবির কথা তুলে ধরে বলা হয়, Firstly the Budget Management Committee (BMC) of Education Ministry has approved the BFA Building project on 20/10/2011, Then the Money Release Committee of Finance Ministry approved on 28/11/2011 to release money for the said project and start the building work for the academy, but an influential cabinet member of the Government of the People’s Republic of Bangladesh, is trying to obstruct the project work because he wants a share to the grant money. Initially he was supporting the project work and gave his support to the Education Ministry. Unfortunately, now he is desperately trying to obstruct the release of the grant. The Education Ministry has already recorded his objection.
শুধু প্রধামন্ত্রীকেই নয়, অনুরূপ চিঠি দেয়া হয়েছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের লেবার দলীয় এমপি রুশনারা আলী, বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, শিক্ষা সচিব, ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন বরাবর। এ বিষয়ে ফিমেল একাডেমির সভাপতি জামিল চৌধুরী আমার দেশ-কে বলেন, আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছিলাম এতিম শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম ও ছাত্রীনিবাসের জন্য। এখান থেকেও ঘুষ চাইলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। কত টাকা ঘুষ চেয়েছেন—জানতে চাইলে জনাব চৌধুরী বলেন, তিন কোটি টাকা। মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাকে অনেক টাকা অনুদান দিতে হয়। তাই বরাদ্দের টাকা থেকে তাকে তিন কোটি টাকা দিতে হবে। দাদার সঙ্গে আমরা পাঁচবার দেখা করেছি। এতিম বাচ্চাদেরও নিয়ে গেছি, তারপরও তার মনে একটু দয়ার সঞ্চার হয়নি। বৌদি (মন্ত্রীর স্ত্রী), উনার ছেলে ও ছেলের বউও অনেক অনুরোধ করেছেন, কিন্তু তিনি কোনো কথাই শুনতে রাজি হননি।
জামিল চৌধুরী বলেন, স্কুলটি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের গ্রামের বাড়ি থেকে মাত্র এক মাইল দূরে। তিনি একাধিকবার এ স্কুলে প্রধান অতিথি হয়ে গেছেন। আমরা দাদাকে এ-ও বলেছি, ছাত্রীনিবাসটি আপনার নামে নামকরণ করব। তারপরও টাকাটা পাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তিনি কিছুই শুনলেন না। চিঠি দিয়ে এতিমদের স্কুলের টাকা বন্ধ করে দিলেন।

এ প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে এলাকাবাসী বা জনপ্রতিনিধিরা কিছু জানেন না এবং এটির কার্যক্রমও রহস্যময় কুয়াশায় ঘেরা বলে মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, আবেদনপত্রে নিজ হাতে ‘বিশেষ বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা গেল’ লিখে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পাঠিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, শিক্ষা সচিব ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে। টাকা পাওয়ার জন্য অনেক লবিংও তিনি করেছেন, আবার বরাদ্দ পাওয়ার পর তিনিই বাতিলের জন্য চিঠি লিখেছেন। এটির কার্যক্রম রহস্যময় কুয়াশায় ঘেরা হলে তিনি অনুদানের জন্য সুপারিশ করলেন কেন? সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বক্তব্য : এ ব্যাপারে দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মুঠোফোনে আমার দেশ-কে বলেন, তিন কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি সর্বৈব মিথ্যা। আমার এলাকায় ৩৬-৩৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। অথচ একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এত বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় বিবেচ্য বরাদ্দ করা অর্থ এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে সমতার ভিত্তিতে বরাদ্দ দিয়ে সৃষ্ট বিক্ষোভের প্রশমনের সুযোগ সৃষ্টি করতে বলেছি আমি।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/03/31/194523#.UVerMBxJN9s

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla