Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও হিন্দু দেবতাদের রক্ত পিয়াস...

Independence day of Bangladesh
খবরের সাথে ছবিটা দেখে জমে উঠা কুয়াশা গুলো সহসাই কেটে গেল। নিজের কাছে নিজেকেই হাল্কা মনে হল। স্মৃতিসৌধের বেদিতে সন্মান শ্রদ্ধা অর্পণ করব আর তাতে নেতা-নেত্রীর ইগো প্রধান্য পাবে না এমনটা হলে বাংলাদেশের ইতিহাস হয়ত নতুন করে লিখতে হত। তা না ঘটায় অনেকের মত আমিও হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। অসময়ের ইতিহাস ঘরে বাইরে বড্ড জটিলতার সৃষ্টি করে, যা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় রক্তারক্তিতে। বাংলাদেশ তার ৪০ বছরের ইতিহাস নিয়ে এমনিতেই কোমর পানিতে ডুবে আছে, নতুন করে কিছু লিখতে গেলে তা হয়ত আমাদের নিয়ে যেত গলাপানিতে এবং ডুবিয়ে রাখত আগামী ৮০ বছর । যা ঘটার তাই ঘটল, যা হওয়ার তাই হল; ওরা একে অন্যকে ধাওয়া করে রক্তারক্তির মাধ্যমে শহীদদের প্রতি সন্মান জানাল। শুনেছি তেত্রিশ কোটি হিন্দু দেবতাদের কেউ কেউ রক্ত ভালবাসেন এবং পুজা অর্চণা হিসাবে লাল রঙের এই তরল বস্তুটিকেই প্রধান্য দেন। স্মৃতিসৌধ নামক এই অমর প্রতিষ্ঠানটি তৈরীর পেছনে যাদের হাত ছিল তারা গোপনে একই স্থানে হিন্দু কোন দেবতাকে সমাহিত করেছিলেন কিনা তা তদন্তের দাবি রাখে।

শহীদদের জন্যে আমাদের কান্না যেন থামতেই চায়না। ফেব্রুয়ারিতে মাস ভরে কাঁদলাম ভাষা শহীদদের জন্যে, মার্চ এলো এবং আমাদের কান্না দুকুল উপচে সাগর হয়ে রূপ নিল মহাসাগরে। এবারের কান্না ৩০ লাখ শহীদদের জন্যে। সামনে আসবে ডিসেম্বর এবং আমরা আবারও কাঁদবো। মার্চ আর ডিসেম্বরের ফাঁকে ফাঁকেও আমাদের কাঁদতে হয়, এবং তা কারও আগমন, কারও নির্গমন, প্রায়ণ অথবা মহাপ্রয়ানের জন্যে। এসব কান্নাকাটির সবটা জুড়ে থাকে মুক্তিযুদ্ধ, ৩০ লাখ শহীদ আর ৩ লাখ বীরাঙ্গনা অধ্যায়। বিস্‌বিসমিল্লাহির রহমানের রাহিমের মত আমাদেরও দেশপ্রেম শুরু হয় ৩০ লাখ শহীদদের জন্যে অশ্রু পাতের মাধ্যমে। চাইলে এ নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। আজকের অস্থির পৃথিবীতে দ্বিতীয় একটা জাতির অস্থিত্ব খুঁজে পাওয়া মুস্কিল হবে যারা তাদের শহীদদের জন্যে বছর জুড়ে কান্নাকাটি করার সময় বের করতে পারে। আমরা পারি এবং প্রয়োজনে এ পারার জন্যে হাতে হাতিয়ার নিতেও দ্বিধা করিনা, যেমনটা করলাম ২৬ শে মার্চের সকালে। প্রটোকল ছিল সকালে প্রধানমন্ত্রী আসবেন, পাশাপাশি খবর আসে বিরোধী দলীয় নেত্রীও আসছেন গণতান্ত্রিক দেশের মুক্ত ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে। খবর পেয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠে দেশের আইন শৃংখলা বাহিনী। বিরোধী দলীয় নেত্রীর বাসার সামনে বাস, ট্রাক, জীপ আর ঠেলাগাড়ির স্তুপ তৈরীর মাধ্যমে নিজ নেত্রীর মন জয়ের চেষ্টা করেন গোপালগঞ্জের ’কৃতিসন্তান’ পুলিশ হর্তাকর্তার দল। খবর যথাসময় পৌছে যায় সৌধের পাদদেশে অপেক্ষমান বিরোধী ক্যাম্পে। শুরু হয় আমাদের ঐতিহ্য, যা শুরু হওয়াটা ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। ভাংচুর, ধাওয়া, পালটা ধাওয়া আর সন্ত্রাসের মাধ্যমে একে অপরের ৫০ জনকে আহত করে স্মৃতিসৌধের পাদদেশে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে দেশপ্রেমী জনগণ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের নাৎসি বাহিনী প্রায় ৬ কোটি মানুষ হত্যা করেছিল, যার অধিকাংশই ছিল ইহুদি। ১৯৪৫ সালে সমাপ্ত এ যুদ্ধ নিয়ে ইহুদিরা কেবল কান্নাকাটি করেই ক্ষান্ত থাকেনি, বরং চোখের পানিকে পরিনত করেছিল বিশাল এক শক্তিতে। আজকের ইসরাইল সে শক্তিরই সদম্ভ বহিঃপ্রকাশ। পাশাপাশি আমাদের শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসাব আমরা প্রতিদিন প্রকাশ করছি লাখ খানেক কবিতা, হাজার হাজার গল্প আর প্রবন্ধ। ভাষন, টক শো সহ সব ধরণের গণমাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে চর্চা হচ্ছে দেশপ্রেম। রাজনীতিবিদদের সাথে বুদ্ধিজীবীরা গলা মিলিয়ে বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগ ও তিতিক্ষার পরিসংখ্যান। কিন্তু হায়, যাদের কলম আর গলা হতে এসব বেদবাক্য বের হচ্ছে রাতের আধারে তাদের হাতেই প্রতিনিয়ত ধর্ষিত হচ্ছে আমাদের জন্মভূমি। ক্ষুধার্ত হায়েনার মত খাজাঞ্জিখানা লুটের মহোৎসব পালন করছে দেশের রাজনীতি। জাতীয় স্মৃতিসৌধের হাঙ্গামা সে লুটেরই কৌশলগত লড়াই মাত্র। প্রশ্ন হচ্ছে, আর কতকাল চলবে ফাকা ও বাক্য সর্বস্ব কান্নাকাটির এ দেশপ্রেম?

Comments

বিরোধীদলীয় নেতা কাদের উৎসাহ দিতে খেলার মাঠে গিয়েছিলেন

সমকাল প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনাল খেলা প্রসঙ্গে বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতা কোনোদিন মাঠে না গেলেও সেদিন কেন গিয়েছিলেন? হঠাৎ তিনি ক্রিকেটপ্রেমীই বা হয়ে গেলেন কেন? কাদের উৎসাহ দিতে তিনি মাঠে গিয়েছিলেন?
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী পরাজিত শক্তির দোসর ও দালালরা আর কোনোদিন যাতে ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সে জন্য সজাগ থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যারা পরাজিত শক্তির পদলেহন করে, উৎকোচ খায়_ অতীতে তাদের হাতে ক্ষমতা ছিল বলেই দেশ এগোতে পারেনি। পরাজিত শক্তির দালালদের দেশ ও জনগণের প্রতি কোনো দরদ থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক।
মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক
সম্মেলন কেন্দ্রে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, 'এশিয়া কাপে আমরা মাত্র দুই রানে পরাজিত হয়েছি। যিনি পাকিস্তানের আইএসআইর টাকা খান তিনি যদি মাঠে না যেতেন তাহলে? এটা অবশ্য আমি বলি না। দেশের সর্বত্র হাটে-মাঠে-ঘাটে একই আলোচনা চলছে। আমার বাসার কাজের মেয়েটি ছুটিতে দেশের বাড়িতে গিয়েছিল। সেখানেও এ কথা শুনে এসে আমাকে বলেছে।'
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার ও বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও অবশ্যই শেষ হবে, রায়ও কার্যকর হবে। এ বিচার একটি চলমান প্রক্রিয়া। কেননা, অনেক যুদ্ধাপরাধীই প্রবাসে পালিয়ে আছে। এদেরও খুঁজে বের করে প্রয়োজনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিচারের কাজ করা হবে। যাদেরটা শুরু হয়েছে, তাদেরটা শেষ করা হবে। অন্যদেরও বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রকৃত ইতিহাস কখনোই মুছে ফেলা যায় না। সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া যায় না বলেই আজ সারাবিশ্বের মানুষের কাছে বাঙালি ও বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও বীরত্বের সঠিক ইতিহাস ফিরে এসেছে। এদেশের মানুষ সঠিক ইতিহাস জানতে পেরেছে বলেই তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য এত সোচ্চার। অথচ বিরোধীদলীয় নেতা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্যই উঠেপড়ে লেগেছেন।
তিনি বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় এসে জনগণের জন্য কিছু করে। আর পরাজিত শক্তি ক্ষমতায় এসে দেশকে সন্ত্রাস-দুর্নীতি-হত্যা-লুটপাট-নির্যাতন, মানিলন্ডারিং ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি। পঁচাত্তরের সেই কালরাত না আসলে আরও ২০ বছর আগেই বাংলাদেশ উন্নত, সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হতে পারত। বিশ্বের অন্য দেশের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, যেসব দেশে বিজয়ী শক্তি ক্ষমতায় ছিল তারাই দ্রুত উন্নত ও সমৃদ্ধ হতে পেরেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ ও এদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে পুনর্বাসন করেছেন। পাশাপাশি ইনডেমনিটি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করেছেন। এরশাদও একই কাজ করেছিলেন। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সংসদে নিয়ে এসেছিলেন। এটা করেছিলেন বলেই তার পতন ঘটেছিল। আর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের এমপি বানিয়েছিলেন। এ কারণে তারও পতন ঘটেছিল।
সরকারের তিন বছরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সমুদ্রসীমা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে বাংলাদেশ জয়ী হয়েছে। ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে মামলার রায় হবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জনগণের ভোটে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়ে আসতে পারলে ইনশাল্লাহ ওই মামলার রায়েও আমরা বিজয়ী হব।
তিনি বলেন, যারা এদেশের কর্ণধার, আমাদের ছেলেমেয়েরা যাতে আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের দেশকে এগিয়ে নিতে পারে, সেই লক্ষ্যেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ইনশাল্লাহ এদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে উঠবে।
সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এমএ আজিজ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন মেহেদী। সভা পরিচালনা করেন নূহ-উল-আলম লেনিন ও অসীম কুমার উকিল।
http://www.shamokal.com/

গোলাগুলির সাজানো নাটক

রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানা সড়ক। ওই সড়কের রাইনখোলা মোড়ের ট্রপিক্যাল হোমস নামে একটি নির্মাণাধীন ভবনের সামনে ছিল ইটের সারি সারি স্তূপ। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেখানেই সাদা পোশাকে চার পুলিশ সদস্য ২৫ বছরের এক যুবককে হাঁটিয়ে নিয়ে আসেন। এরপর তাকে লক্ষ্য করে বলেন, 'দৌড়া।' তারপরই হুঙ্কার ওঠে, 'দাঁড়া।' পরের ঘটনাটি বড়ই করুণ। খুব কাছ থেকে যুবককে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি। আর্তনাদ করে ওঠেন ওই যুবক। আশপাশের লোকজন ভয়ে প্রথমে ছোটাছুটি শুরু করেন। কিছু সময় পর উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলের কিছু দূরে দাঁড়িয়ে গোটা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। হৃদয়বান কেউ কেউ ওই যুবককে চিকিৎসা দিতে হাসপাতালেও পাঠানোর অনুরোধ জানান। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর গুলিবিদ্ধ যুবককে পুলিশের গাড়িতে তুলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত ১০টার দিকে মারা যান গুলিবিদ্ধ মোঃ মাসুদ (প্রথমে তার পরিচয় জানা যায়নি)। গুলিতে মাসুদ নিহত হওয়ার পর পুলিশ সাজায় তাদের সেই পুরনো 'গল্প'। তবে পুলিশ দাবি করে, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলির পর দুই পুলিশ গুলিবিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক 'সন্ত্রাসী' মারা গেছে। মোটরসাইকেলে পালিয়ে গেছে আরও এক সন্ত্রাসী। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সমকালকে জানান, রাইনখোলা মোড়ে খুব কাছ থেকে পুলিশ এক যুবককে গুলি করে। ঘটনার কিছু সময় পর আশপাশের লোকজন জড়ো হলে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়ে। এমনকি মৃত্যু-যন্ত্রণায় ছটফট করার পরও ওই যুবককে আশপাশের কারও সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।
পত্রিকায় খবর দেখে গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতের লাশ শনাক্ত করেন মাসুদের পরিবারের সদস্যরা। মাসুদের বাবা মুক্তিযোদ্ধা দাদন মিয়ার অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে পুলিশকে 'ম্যানেজ' করে তার ছেলেকে হত্যা করানো হয়েছে। ঝুট ব্যবসা নিয়ে মিরপুরের বুলু, আউয়াল ও নান্টুর সঙ্গে মাসুদের বিরোধ ছিল। তার ছেলের বিরুদ্ধে রাজধানীর কোনো থানায় মামলা বা জিডি নেই।
এ ঘটনায় মাসুদের পরিবার পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নিহতের ভাই হবির অভিযোগ, অস্ত্র ও হত্যা মামলায় তার বড় ভাই আসাদ আলীকে জড়ানো হয়েছে। তিনি এখন কারাবন্দি। মাসুদের শত্রুরা পুলিশকে টাকা দিয়ে তাকে হত্যা করিয়েছে। মাসুদের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের শিবপুরে। তিন ভাই, এক বোনের মধ্যে মাসুদ দ্বিতীয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের আসামি করে শাহআলী থানায় দুটি মামলা করেছে। পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে একটি মামলা, অন্যটি অস্ত্র মামলা। নিহতের মা আছিয়া বেগম জানান, রোববার সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি তার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নেয়। এরপর তার খোঁজ মেলেনি। মাসুদ ইটিসিএল বাসচালকের সহযোগী ছিলেন। নিহত মাসুদ পরিবার নিয়ে পশ্চিম মনিপুরে থাকতেন।
নিহতের বন্ধু এমিল সমকালকে জানান, রোববার বিকেল ৪টার দিকে মাসুদের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। তাকে মিরপুর ২ নম্বরে যাওয়ার কথা বলেন মাসুদ। পড়াশোনার চাপ থাকায় মাসুদের অনুরোধ রাখেননি এমিল। আজমত গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসা নিয়ে মাসুদের সঙ্গে একটি পক্ষের বিরোধ ছিল। প্রতিপক্ষের হুমকির পর এ ঘটনায় মিরপুর থানায় একটি জিডিও করেছিলেন মাসুদ।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য : ট্রপিক্যাল হোমসের নিরাপত্তাকর্মী শান্তি সমকালকে বলেন, 'সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ বোমা ফাটার মতো শব্দ পাই। প্রথমে ভেবেছি, গাড়ির টায়ার ফেটেছে। পরে বাইরে তাকিয়ে দেখি, সাদা পোশাকে অস্ত্রধারী কয়েকজন লোকের সামনে গুলিবিদ্ধ এক যুবক পড়ে আছে। তারা ফাঁকা গুলি ছুড়ছে। গুলি করার প্রায় এক ঘণ্টা পর ওই যুবককে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।' কোনো সন্ত্রাসী তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে শান্তি বলেন, 'কেউ আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করেনি।'
নাম প্রকাশে ভীত 'স' আদ্যক্ষরের এক প্রত্যক্ষদর্শী সমকালকে বলেন, 'আমরা দীর্ঘদিন এলাকায় বসবাস করায় শাহআলী থানার সিভিল টিমের সদস্যদের দেখলেই চিনতে পারি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিভিল টিমের চার সদস্য এক যুবককে হাঁটিয়ে ইটের স্তূপের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে কাছ থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। একটি নোয়া মাইক্রোবাসে পুলিশ সদস্যরা সেখানে আসে। ঘটনাস্থলে কোনো মোটরসাইকেল ছিল না। এমনকি গুলিবিদ্ধ যুবকের কোনো সহযোগী পালিয়ে যায়নি। এর কিছু সময় পর আশপাশের লোকজন ভিড় করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।'
পুলিশি বক্তব্যের 'ময়নাতদন্ত' : ঘটনার পর পুলিশ দাবি করেছিল, দুই সন্ত্রাসীর একজন মোটরসাইকেলে পালিয়ে গেছে। এমনকি পুলিশকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলিও করেছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ঘটনাস্থলে কোনো মোটরসাইকেল ছিল না। কেউ পালিয়েও যায়নি। এ ছাড়া অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে নাটক সাজায় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে দুটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছে, নিহত যুবক একাই কীভাবে দুটি পিস্তল দিয়ে গুলি ছুড়ছিলেন। তা ছাড়া ওই যুবক প্রশিক্ষিত পুলিশের দুই সদস্যকে গুলি করতে পেরেছিলেন? গতকাল থানায় ওসি ও হাসপাতালে আহত দুই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। এমনকি গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক ঘণ্টা পর কেন যুবককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে_ এ বিষয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। মৃত্যু নিশ্চিত করতেই যুবককে হাসপাতালে নিতে গড়িমসি করা হয়েছে কি-না এমন প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে এলাকাবাসীর মনে।
'গুলিবিদ্ধ' দুই পুলিশের বক্তব্য : রোববার রাতে রাইনখোলা মোড়ে 'গোলাগুলি'র পর শাহআলী থানার ওসি আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সন্ত্রাসীর গুলিতে তার থানার দুই সহকারী উপ-পরিদর্শক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কথা হয় 'গুলিবিদ্ধ' দুই সহকারী উপ-পরিদর্শক মশিউর রহমান ও মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে। এ সময় দুই পুলিশ সদস্যের বাঁ হাতের কব্জির ওপরে দেড় ইঞ্চি পরিমাণ জায়গায় ব্যান্ডেজ দেখা যায়।
কীভাবে গুলিবিদ্ধ হলেন জানতে চাইলে এএসআই মশিউর রহমান বলেন, 'আমরা অপ্রস্তুত ছিলাম। হঠাৎ করেই এক সন্ত্রাসী গুলি করে। এতে আমি বাঁ হাতে আঘাত পাই।' হাতের ভেতর গুলি না ঢুকলেও চামড়া থেঁতলে গেছে বলে জানান মশিউর। প্রায় একই বক্তব্য অপর 'গুলিবিদ্ধ' এএসআই মোয়াজ্জেম হোসেনের। রাইনখোলা মোড়ের প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় লোকজনের উদ্ধৃতি দিয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, রোববার রাতে গুলির শব্দের সময় রাইনখোলা মোড়ে কোনো মোটরসাইকেল আসেনি। পুলিশের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস থেকে ওই যুবককে নামিয়ে গুলি করা হয়েছে। ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, এক সন্ত্রাসী মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছে। তাই স্থানীয় লোকজন মোটরসাইকেলটি দেখতে নাও পারে।
তবে এ দুই পুলিশ সদস্যের কথাবার্তায় ঘটনা সম্পর্কে অনেক অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেছে। মোটরসাইকেলে সন্ত্রাসীরা আসার কথা বললে পরক্ষণেই তারা এ বিষয়ে থানার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
'গোলাগুলি'র সময় স্থানীয় লোকজন শুধু এক যুবককে গুলিবিদ্ধ হতে দেখলেও পুলিশের কোনো সদস্যকে সেখানে গুলিবিদ্ধ হতে দেখেননি_ এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা জানান, তাদের পুরো টিম সিভিল ড্রেসে ছিল। তাই তারা পুলিশ কি-না তা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেনি।
পুলিশের মিরপুর বিভাগের ডিসি ইমতিয়াজ আহমেদ সমকালকে বলেন, মামলা-জিডি না থাকলেও যে কেউ পেশাদার অপরাধী হতে পারে। পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতেই এক সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়। চাঁদা দাবি ও অন্যান্য অপরাধে মাসুদের বিরুদ্ধে তিনটি জিডি রয়েছে বলে জানান ডিসি।
ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদন : মাসুদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন শাহআলী থানার এসআই মাসুদ রানা। তিনি জানান, মাসুদের শরীরে চার রাউন্ড গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এক রাউন্ড তার নাভীর নিচে, এক রাউন্ড পুরুষাঙ্গের পাশে, পিঠের নিচে এক রাউন্ড ও পায়ে এক রাউন্ড। পরনে ছিল জিন্সের প্যান্ট ও কালো চেক শার্ট।
http://www.shamokal.com/

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla