Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

প্রধানমন্ত্রীর মুখের ভাষা ও টাকি মাছের গু ভক্ষণ!

কাঁচা হাতের বাঁকা লেখা যাই লিখি না কেন ইদানিং বেশ কটা ব্লগ আমার লেখা ছাপাতে অনীহা প্রকাশ করছে। আভিযোগ, শব্দের ব্যবহার। প্রথম আলো ব্লগের মত ব্লগ গুলো হয়ত তীর্যক শব্দ সম্বলিত রাজনৈতিক লেখা ছাপিয়ে সরকারী রোষানলে পরতে চাচ্ছে না। তাদের আসরে আমাকে ঢুকতে দিতে এ জন্যেই হয়ত অনীহা। অন্যের ব্লগ আমার পৈত্রিক সম্পত্তি নয়, কার লেখা ছাপবে আর কার লেখা এড়িয়ে চলবে তা একান্তই ব্লগ মালিকদের ব্যাপার। এ নিয়ে অভিযোগ করার মত তেমন কিছু নেই। ইদানিং কারও দিকে সরাসরি আঙুল না তুলে ছ্যারছ্যার আলী নামের কাল্পনিক একটা চরিত্রের জন্ম দিয়ে তাকে সামনে আনার চেষ্টা করছি। বলার অপেক্ষা রাখেনা চরিত্রের সবটা জুড়ে থাকে বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতি। আমরা যা মুখে বলি, কান দিয়ে শুনি আর চোখে দিয়ে পড়ি তা নিজের করে লিখতে পারব না এমনটা দাবি করা নিশ্চয় হিপোক্রেসি। রাজনীতিতে সক্রিয় একজন নির্বাচিত অথবা অনির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মুখের ভাষা কতটা ’শ্রুতিমধুর’ তা জানতে আশাকরি ব্লগ মালিকদের দ্বারস্থ হতে হবেনা। ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক রাজনীতি আমাদের সবার রক্তে। আর যাদের নিয়ে লেখালেখি তাদের সাথে ওঠাবসা আমাদের প্রতিদিনের জীবন। ভাষা ব্যবহারের বিশেষ গুন দিয়ে ঈশ্বর ওনাদের তৈরী করছেন তার কোন প্রমাণ আজ পর্যন্ত সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, স্বভাবতই আমরা ধরে নেব এসব জনপ্রতিনিধি আমাদেরই অংশ। অস্থির ও অনিশ্চিত সমাজের ভাষাও হয় ততোধিক অস্থির, বিশেষ করে এ ভাষা যদি হয় ভাগ্য পরিবর্তনের পরিপূরক। ভাড়া বেশি চাওয়ার ’অপরাধে‘ একজন রিকশাওয়ালাকে ’খা-কির পুত, চু-নির পুত, ছিড়া ফেলামু, কাইট্টা ফেলামু, বহুল ব্যবহূত এ সব বাক্যালাপ ব্যবহারের সাথে এলোপাথাড়ি উত্তম-মধ্যম, অনেকটা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মত ঠাঁই করে নিয়েছে আমাদের রক্তে। আমার নিজস্ব ভাষায়, এ রক্ত বিপ্লব। হিন্দি সিনেমার নায়ক অথবা ভিলেনদের ’কুত্তে, ম্যায় তেরে খুন পি লোঙ্গা’ জাতীয় হুমকি এখন আর শয়নকক্ষে টিভির ভাষাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা ছড়িয়ে পরছে সমাজ ও রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। কথায় বলে, সব মাছে গু খায় বদনাম কেবল টাকি মাছের। রাজনীতিবিদদের অশ্লীল আর রুচিহীন ভাষা ব্যবহার করবেন আর আমার মত অখ্যাত ওয়াচডগ তাদের সমালোচনা করতে বঙ্কিমচন্দ্রের কথাকাব্য ব্যবহার করতে বাধ্য থাকবে, এমনটা দাবি করা কি হিপোক্রেসি নয়? প্রশ্নটা ব্লগ মালিকদের জন্যে।

নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল খবরটার দিকে তাকিয়ে। প্রথমে মনে হয়েছিল হয়ত কমলাপুর বস্তি উচ্ছেদ নিয়ে বিবাদমান কোন পক্ষ এসব কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলছে। আজকাল বস্তি উচ্ছেদেও রাজনৈতিক পক্ষ থাকতে হয়। তা না হলে এ কাজের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। উচ্ছেদের হোতাদের পেছনে সরকারী ছায়া থাকা বাধ্যতামূলক। অনেকক্ষেত্রে সরকার নিজেই নামে এ ভূমিকায়। উচ্ছেদ পর্বের হৈ হোল্লর, চীৎকার আর কান্নাকাটির নোনাজলে মুখের ভাষা কোন নদীতে সাতার কাটে তার সাথে কমবেশি সবাই পরিচিত। মাঝে মধ্যে পত্রিকাওয়ালারা এসব নিয়ে খবর ছাপায় নিজেদের স্বার্থের তাগিদে। দৈনিক কালের কণ্ঠ ও প্রথম আলোর মধ্যে বিবাদমান কাইজ্জা এখন আর কর্পোরেট কাইজ্জায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা নোংরামির কাদাজলে সাতার কেটে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছে প্রিন্ট মিডিয়ায়। তাই প্রথম আলোয় খবরটা পড়ে ভাবলাম হয়ত কালের কণ্ঠের ভূমি দস্যুতা নিয়ে নতুন কোন ঘটনার সূত্রপাত করতে যাচ্ছে এ পত্রিকা। কিন্তু বস্তির মাতারির নাম ভূমিকায় আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নাম দেখে কৌতুহলী হয়ে উঠলাম। অবিশ্বাসের এক নিশ্বাসে খবরটা পড়ে নিজেকে ধিক্কার দিলাম। ধিক্কার অবশ্য প্রথম আলো অথবা প্রধানমন্ত্রীকে নয়, বরং নিজেকে। এসব নীচ ও আবর্জনার কীটদের নিয়ে সময় নষ্ট করার ধিক্কার। ইতিমধ্যে ব্লগ দুনিয়ার সবাই হয়ত জেনে গেছেন পিতার ৯২তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কি বলেছেন। যাদের জানার সৌভাগ্য হয়নি তাদের জন্যে বক্তব্যের সারমর্ম সংক্ষেপে তুলে ধরছিঃ

বিরোধীদলীয় নেত্রীর পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর জন্ম শিলিগুড়ির চা-বাগানে। তাঁর নানা-নানির নাম কী? জিয়াউর রহমানের জন্ম ভারতে, পড়াশোনা করেছেন পাকিস্তানে। তাঁর বাবা-মার কবর পাকিস্তানে। দেশের প্রতি তাঁদের দরদ থাকবে কী করে? তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ঘটনাচক্রে মুক্তিযোদ্ধা। বিএনপির নেতা মেজর হাফিজের লেখা বইয়ে আছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় গেরিলারা বেগম জিয়াকে ভারতে নিয়ে যেতে এসেছিলেন। তিনি যাননি। তিনি ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে মেসে ছিলেন।’

যেহেতু কথা গুলো জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বলা আমাদের ধরে নিত নিবে বক্তব্যের টার্গেটেড অডিয়েন্স ছিল দেশের কোটি কোটি শিশু। একই সভায় প্রধানমন্ত্রী নতুন করে আবিস্কার করলেন বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার জন্মস্থান, এবং প্রশ্ন তুলেলেন নানা-নানির নাম তথা পরিচয় নিয়ে। কথা গুলোর সহজ বাংলা করলে যা দাড়ায় তা হবে, খালেদা জিয়া পরিচয় বিহীন পরিবেশে শিলিগুড়ির চা-বাগানে জন্ম নিয়েছিলেন এবং যেহেতু নানা নানির সঠিক কোন পরিচয় নেই তাই তিনি জারজ। পরিচয় পর্বে আরও একধাপ এগিয়ে তিনি জিয়াউর রহামানকে আবিস্কার করেছেন ঘটনাচক্রের মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি ব্যক্তিগত আক্রমণ নতুন কোন আবিস্কার নয়, ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বিকে ঘায়েল করার কাজে দেশে দেশে এ সাংস্কৃতি চর্চা করা হচ্ছে। কিন্তু স্বীকৃত এ চর্চার নোংরা, কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল দিককে যদি আসামীর কাঠগড়ায় দাড় করানো হয় আমাদের প্রধানমন্ত্রী হবেন এ কাজে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং ১নং আসামী। শিলিগুড়ির চা বাগানে জন্ম নেয়া কোন অপরাধ নয়, তেমনি অপরাধ নয় ঘটনাচক্রে মুক্তিযোদ্ধা হওয়া। অপরাধ ক্ষমতার ছত্রছায়ায় রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করা। এ অপরাধের কালিমা নিয়ে খালেদা জিয়ার পুত্রদ্বয় আজ দেশছাড়া। প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করার এসব মোক্ষম অস্ত্র এড়িয়ে জন্ম ইতিহাস আর একজন মুক্তিযুদ্ধা নিয়ে অশ্লীলতা কোনদিনই এদেশের মানুষ সহজ ভাবে নেবে না। প্রধানমন্ত্রীর হয়ত জানা নেই, বাস্তবতা হচ্ছে, দিন বদলে গেছে। নয় নয়টা চেকের মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ীর পকেট কাটার অভিযোগ নিয়েও কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার শীর্ষে বসে আছেন, জন্ম প্রেক্ষাপট দুরে থাক এ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও কি তিনি হজম করতে সক্ষম হবেন ? আর যদি মুক্তিযোদ্ধার প্রশ্নই আসে তাহলে প্রধানমন্ত্রী দয়া করে বলবেন কি, যে পিতা আর ভাইদের নামে তিনি বাংলাদেশের আকাশ বাতাস নামকরণ করছেন তারা কোন ফ্রন্টে কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল? ক’মাস আগে বগ্ল দুনিয়ার কেউ একজন শেখ মুজিবের জন্ম নিয়েও বানোয়াট খবর প্রকাশের মাধ্যমে চাঞ্চল্য সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তা হালে পানি পায়নি, বরং এ ধরণের কুরুচিপূর্ণ তথ্যের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল এ দুনিয়া। আশাকরি শেখ হাসিনার অশ্লীল, ইঙ্গিতপূর্ণ ও রাজনৈতিক দুনিয়ায় অগ্রহণযোগ্য এসব কথাবার্তাকেও সমানভাবে পদদলিত করবে ভার্চুয়াল দুনিয়া।

দেশের স্বার্থ রক্ষার কৌশলগত কারণে এক দেশ অন্য দেশের নির্বাচনে অর্থ খাটায়, মুক্তবাজার অর্থনীতির দুনিয়ায় এ বিনিয়োগ এখন স্বীকৃত বিনিয়োগ। বিগত মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনে ভারতীয় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা বিশাল অংকের চাঁদা দিয়েছিল রিপাবলিকান দলের বিভিন্ন প্রার্থীকে। বেনিয়া ভারতীয়রা কোন উদ্দেশ্যে মার্কিন মুলুকে এ অর্থ বিনিয়োগ করেছিল তা জানতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার ছিলনা। মার্কিনিদের বিলিয়ন ডলার কল সেন্টার ব্যবসা এখন ভারতীয় অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ ব্যবসা ধরে রাখতে রিপাবলিকান দলীয় ক্ষমতার কোন বিকল্প ছিলনা। প্রেসিডেন্ট ওবামার দল ডেমোক্রেটরা চাইছে বাইরে পাচার হওয়া সব ধরণের ব্যবসা বানিজ্য দেশে ফিরিয়ে আনতে। দেশটার কর্মক্ষম জনসংখ্যার ৮% বেকারদের কাজে ফিরিয়ে আনতে কলসেন্টার ব্যবসা ফিরিয়ে আনাও ছিল জরুরি। মার্কিন জনগণও তা বুঝতে পারছে এবং এ জন্যে সুর মেলাচ্ছে ডেমোক্রেটদের সাথে। রিপাবলিকানদের পেছনে ভারতীয়রা টাকা খাটিয়েছে নিজেদের বানিজ্যিক স্বার্থে।

ভারত-পাকিস্তান বৈরিতা নতুন কোন বৈরিতা নয়, আন্তর্জাতিক এ সমস্যার বয়স প্রায় ৬৫ বছর। পারমানবিক ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি দেশের বৈরিতা কেবল উপমহাদেশের জন্যে নয়, গোটা দুনিয়ার জন্যে হুমকি। চীন, যুক্তরাষ্ট্র সহ উন্নত বিশ্বের প্রায় সবকটা দেশ কোন না কোন ভাবে এ বৈরিতার সাথে জড়িত। প্রতিবেশি দেশ হিসাবে আমরা জড়িত থাকবো না এমনটা ভাবা হবে বোকামি। পাকিস্তানিরা খালেদা জিয়ার মাধ্যমে এ দেশে বিনিয়োগ করবে ভারতীয়দের ক্ষতি করার কাজে, এখানে জটিলতাটা কোথায় বুঝতে আমার একটু অসুবিধা। একই অভিযোগ কি প্রধানমন্ত্রী নিজের বিরুদ্ধে নেই? লন্ডন হতে প্রকাশিত দ্যা ইকোনমিস্ট পত্রিকা কি অভিযোগ করেনি ভারতীয়রা বস্তায় বস্তায় টাকা খাটিয়েছিল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানোর কাজে? না-কি প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায় ভারতীয় টাকা পাকিস্তানি টাকার চাইতে স্বাদে, গন্ধে ভিন্ন আর হজমের জন্যে উপাদেয়? খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পাকিস্তানিদের অভিযোগের তুলনায় আমি বরং লন্ডনের ইকোনমিষ্টের অভিযোগকে প্রধান্য দেব, কারণ পাকিস্তানিদের টাকা দিয়ে কেনা যায়, আর লন্ডনিদের কিনতে টাকার পাশাপাশি দরকার হয় আরও অনেক কিছুর।

প্রধানমন্ত্রী পিতা, মাতা, ভাই সহ স্বজন হারানোর শোকে কাতর। হত্যাকারী হিসাবে তিনি অহরহই দায়ি করে থাকেন খালেদা জিয়ার স্বামী জেনারেল জিয়াকে। আর এ জন্যেই বোধহয় রাজনীতির সবটাতে জুড়ে থাকে প্রতিশোধ আর প্রতিহিংসার ভাষা। কোন মৃত্যুই মানুষের জীবনে স্থায়ী শোক সৃষ্টি করতে পারেনা, হোক তা মাতা-পিতার মত আপনজনদের। দুদিন আগে লঞ্চ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ। সন্তান হারিয়েছে তার পিতাকে, মা হারিয়েছে তার সন্তানকে। গোটা এলাকা জুড়ে চলছে শোকের মাতম। কিন্তু এ শোক স্থায়ী আসন করে তাড়িয়ে বেড়াবে না এলাকার স্বজন হারা মানুষদের। জীবনের প্রয়োজনে, বেচে থাকার তাগাদায় মানুষকে বেরিয়ে আসবে শোকের বলয় হতে এবং ফিরে যাবে স্বাভাবিক জীবনে। ১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চাইলে শেখ হাসিনাকেও বেরিয়ে আসতে হবে শোকের মাতম হতে, বেরিয়ে আসতে হবে প্রতিশোধের রাজনীতি হতে এবং ফিরে যেতে হবে স্বাভাবিক জীবনে। শোকের উন্মাদনা দিয়ে ক্ষণিক আত্মতৃপ্তি লাভ করা গেলেও তা ভোটারদের মন জয় করার জন্যে যথেষ্ট হয়না, এটাই আজকের বাস্তবতা, গণতান্ত্রিক বাস্তবতা। এ যাত্রায় প্রধানমন্ত্রী যা বললেন তার ফল পেতে ওনাকে বোধহয় কিছুটা সময় ধরে অপেক্ষা করতে হবে।

Comments

এত বিদ্যুৎ উৎপাদন করলাম, তা যেন চোখেই পড়ে না

মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী

লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, ‘এত বিদ্যুৎ উৎপাদন করলাম, তা যেন চোখেই পড়ে না। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছি, তা সাত দিন বন্ধ রেখে আগের তিন হাজার মেগাওয়াটে রাখলেই তাদের কথাবার্তা বন্ধ হবে। তখন প্রমাণ হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি কি না।’
গতকাল সোমবার গণভবনে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির পাঁচ বছর এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি। অথচ চাহিদা বাড়ছে। যে কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তিন বছরে তিন হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু যত উৎপাদন বাড়ছে, চাহিদা তত বাড়ছে। তাই উৎপাদন বাড়লেও কিছু সমস্যা থেকে যাচ্ছে। মানুষের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। লোডশেডিং হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিগত সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লে এখন এত সমস্যা হতো না। বিএনপির পর যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এল, তারা তো উচ্চমার্গের সরকার ছিল। তারা তো দুই বছরে দুই হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন বাড়াতে পারত। তারা করবে কীভাবে? মানুষের জন্য কাজ করতে যোগ্যতা লাগে।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের যন্ত্রণা আমরা বুঝতে পারি। ক্ষমতায় থেকে তারা নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়েছে। চুরির টাকা ছাড়া তাদের এত ধনসম্পদ আসে কোত্থেকে?
বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে উনি নাকি সব বন্ধ করে দেবেন। আমরা যে বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছি, তা বন্ধ করে দেবেন? মানুষের বেতন বাড়িয়েছি, তা কমিয়ে দেবেন? বিনা মূল্যে শিক্ষার্থীদের বই দিচ্ছি, তা বন্ধ করে দেবেন? যে রাস্তাঘাট করেছি, তা-ও কি তিনি ভেঙে ফেলে দেবেন?’ শেখ হাসিনা বলেন, এখন তাদের আসল চেহারা বেরিয়ে গেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যখন শুরু হয়েছে, তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী তাদের পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছেন।
মতবিনিময় সভায় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, কাজী জাফর উল্লাহ, মোহাম্মদ নাসিম, মাহবুব উল আলম হানিফ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: প্রথম আলো
তারিখ: ০৩-০৪-২০১২
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-03/news/237501

শুনলে মনে হবে পৈত্রিক

শুনলে মনে হবে পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে দেশকে খয়রাত করছেন।

কোনো ভদ্র মহিলার মুখের ভাষা এমন হতে পারে না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলের সমালোচনা করে বলেছেন, ২৯ মার্চ পর্যন্ত চলা সংসদ অধিবেশনে যোগ না দিলে বিরোধী দলের সদস্যদের সদস্য পদ থাকত না। সদস্য পদ ও বেতন-ভাতার জন্য তাঁরা সংসদে এসেছিলেন। সংসদে তাঁদের আচরণ লজ্জাজনক মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ভদ্র মহিলার মুখ থেকে এমন ভাষা বের হতে পারে না।
আজ শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের মতবিনিময় ছিল। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিরোধী দলের সাংসদদের আচরণের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন সাংসদ চেয়ার ছেড়ে উঠে এসেছেন আমাদের এক সাংসদের দিকে। আরেকজন স্পিকারকে পেছনে ফেলে হাত উঁচিয়ে এসেছেন।’ বিরোধী দল সবকিছুতে শক্তি প্রয়োগ করতে চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা থাকুক বিএনপি তা চায় না। তারা দেশে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ কায়েম করতে চায়। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে। কিন্তু বিরোধীদলীয় নেতা বলছেন, তাঁরা যুদ্ধাপরাধী না।’ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর আমলে ১১ হাজারের মতো যুদ্ধাপরাধী কারাগারে ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, জিয়াউর রহমান তাদের ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং তাদের বিচারের পথ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। বিরোধীদলীয় নেতাও একই কাজ করছেন। গত ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা শহরে সহিংসতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের কাজ বন্ধ করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি স্বাধীন দেশে ভূখণ্ড রক্ষা বা এর জন্য কোনো কাজ করেনি। ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে স্থলসীমা নির্ধারণের কাজ শুরু করে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, তারা সমুদ্রসীমা নির্ধারণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সেই উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। কারণ, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের কী প্রয়োজন উড়ে এসে জুড়ে বসারা সেটা বুঝবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মনের টানে, দেশের টানে কাজ করি।’ ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধে জয়ী হতে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় বসাতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
আজকের এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফরউল্লাহ, মাহাবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি প্রমুখ। নারায়ণগঞ্জের নেতাদের মধ্যে শামীম ওসমান, সেলিনা হায়াত আইভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: প্রথম আলো
তারিখ: ০৩-৩১-২০১২
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-03-31/news/236842

আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদ সব মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে

Thu, 29/03/2012 - 10:51am | by Badruddin.Umar

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিরুদ্ধে এমন যে সর্বাত্মক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে এটা নিকৃষ্ট ফ্যাসিবাদেরই দৃষ্টান্ত। এরা এত মারাত্মকভাবে এই ফ্যাসিবাদের অনুশীলন করছে যে, খালেদা জিয়াকে ২৬ মার্চ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাওয়া বন্ধের ব্যবস্থা তারা করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত তারা ঠেকাতে পারেনি। ২৭ মার্চ কয়েকটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার যাওয়ার কথা ছিল রূপসী বাংলা হোটেলে। হোটেল কর্তৃপক্ষ সে অনুষ্ঠানের জন্য আগে বুক করা জায়গা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেছে, সরকারি নির্দেশেই তারা এটা করতে বাধ্য হয়েছে। যেহেতু হোটেলটি সরকারি মালিকানাধীন, কাজেই সরকারি নির্দেশ অমান্য করার ক্ষমতা তাদের নেই। ইতিপূর্বে সোনারগাঁও হোটেলে এইভাবে বুক করা জায়গা তারা দিতে পারেনি এই বলে যে, ওই দিন সেখানে প্রধানমন্ত্রীর একটা অনুষ্ঠান আছে! অথচ বিএনপি সোনারগাঁও হোটেলে বুকিং আগেই দিয়েছিল। এছাড়া বিএনপিকে সভা-সমাবেশের জায়গা দেয়ার ব্যাপারে তারা নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে। বিএনপি এখন শুধু তাদের অফিসের সামনেই সভা-সমাবেশ করতে পারে। অথচ আওয়ামী লীগের যে কোনো জায়গায় মিটিং করতে কোনো বাধানিষেধ নেই!

বিএনপির শাসক শ্রেণীর রাজনীতির সঙ্গে যাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং যারা তার বিরোধী তাদেরও এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। এর মধ্যে তাদেরও বিপদ আছে। শুধু বিপদ আছে তাই নয়, বিপদ তাদের মাথার ওপর ঝুলছে। কারণ তাদেরও কোথাও সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। কোনো অনুমতি ছাড়াই সভা-সমাবেশের জন্য মুক্তাঙ্গন তৈরি করা হলেও আওয়ামী লীগ আমলে এখন সেখানে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। এটা যে জনগণের নিম্নতম অধিকারের ওপর এক প্রচণ্ডতম হস্তক্ষেপ ও হামলা এতে আর সন্দেহ কি?

আওয়ামী লীগের অবস্থা দেখে মনে হয়, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চের মতো দিবসগুলো আওয়ামী লীগের নিজস্ব দলীয় দিবস। ৭ই মার্চের সঙ্গে যে এই দিবসগুলির পার্থক্য আছে এটা তাদের চিন্তা ও কার্যকলাপ থেকে মনে হয় না। সবকিছু দলীয়করণের নেশায় এরা এতই মত্ত যে, এদের কাণ্ডজ্ঞান ও দায়িত্বজ্ঞান বলে কিছুই নেই। সারাদেশকে যারা শেখ মুজিবের পারিবারিক জমিদারি মনে করে তাদের থেকে এই আচরণ ছাড়া অন্য আর কী আশা করা যেতে পারে?

১৯৯৬ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে হাসিনা বিএনপিকে ‘পরাজিত শত্রু’ বলে অভিহিত করেন! প্রথম কথা হলো, নির্বাচনে পরাজিত হলে কোনো সংগঠন ‘পরাজিত শত্রু’ হয় কীভাবে? সংসদীয় রাজনীতির নিয়ম অনুযায়ী আজ যে জয়ী, আগামীকাল সে পরাজিত এবং আজ যে পরাজিত আগামীকাল সে জয়ী হতে পারে। ১৯৯০ সালের পর থেকে বাংলাদেশেও এমনটাই হয়ে আসছে। কাজেই ২০০৮ সালে বিএনপি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে বলেই তাদের চিরকালের জন্য পরাজিত শত্রু হিসেবে অভিহিত করার মধ্যে কোনো বুদ্ধি, ইতিহাস জ্ঞান ও সংসদীয় রাজনীতির জ্ঞান বলতে কিছুই নেই। একে অপরিসীম মূঢ়তা এবং ঔদ্ধত্য ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। শুধুই পরাজিত নয়, বিএনপিকে ‘শত্রু’ হিসেবেও তারা অভিহিত করে। কিন্তু শত্রু কার? শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে ব্যক্তিগত শত্রু মনে করলেও এবং তার দলের চাকর-বাকরতুল্য লোকরা এই কথা বলে প্রতিদিন নৃত্যগীত পরিবেশন করলেও বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীর লোকরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কাউকেই এভাবে দেখে না, যদিও তারা নির্বাচনে একবার একদল এবং পরের বার অন্যদলকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে সাহায্য করে, এমনকি নিযুক্ত হয়। বিএনপিকে শত্রু বলতে যদি বাংলাদেশের জনগণের শত্রু বোঝানো হয় তাহলে জনগণ আওয়ামী লীগকে বিএনপি থেকে ছোট শত্রু মনে করে না। তাদের উভয়কেই দেশের জনগণ নিজেদের শ্রেণী শত্রুই মনে করেন। এদিক দিয়ে আওয়ামী লীগ কর্তৃক নিজেকে বিএনপি থেকে পৃথক মনে করে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা উন্মাদের কাজ ছাড়া কিছু নয়। এই ধরনের উন্মাদের সংখ্যা বিএনপির থেকে যে আওয়ামী লীগের মধ্যে অনেক বেশি এটা স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন কোনো লোক অস্বীকার করবে না। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর চিন্তা-ভাবনা ও কথাবার্তার দ্বারা ‘অনুপ্রাণিত’ হওয়ার কারণেই আওয়ামী লীগের মধ্যে উন্মাদের সংখ্যা এত বেশি।
জনস্বার্থ ও জনগণের চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কহীন আওয়ামী লীগ সভা-সমাবেশে টাকা-পয়সা দিয়ে তাদের লোক জড়ো করার ক্ষমতা সত্ত্বেও প্রকৃতপক্ষে এখন জনবিচ্ছিন্ন। রাস্তাঘাটে, ট্রেনে-বাসে, বাজারে লোকজন এখন তাদের যেভাবে গালাগাল করে তার মধ্যে এটা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এই জনবিচ্ছিন্নতার মোকাবেলা করার জন্য তারা নানা ধরনের কর্মকাণ্ড করে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা তাকে সমর্থন ও সাহায্য করেছিলেন এ ধরনের কিছু ব্যক্তিকে ২৬-২৭ এপ্রিল তারা সরকারিভাবে সংবর্ধনা দিয়েছে। এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু একাজ নির্দোষ বলেই তারা এটা করেনি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, শেখ হাসিনার আত্মপ্রচারণা ও বাহাদুরি দেখানোর চেষ্টা। কিন্তু নানাবিধ অপকর্ম ও জনবিরোধী কাজ করে দেশের জনগণের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তাদের শেকড় কাটা গেছে। কাজেই বাংলাদেশের বিদেশি বন্ধুদের সংবর্ধনার আয়োজন করে তারা জনগণের হৃদয় জয় করবে, এমন কোনো ভরসা নেই। এটা মনে করাও এক অবাস্তব চিন্তা।

শেখ হাসিনার বর্তমান কাণ্ডকারখানা দেখে মনে হয়, বাংলাদেশে বেশি দিন থাকার চিন্তা তার নেই। খালেদা জিয়াকে তিনি দেশ ত্যাগের পরামর্শ দিলেও নিজে মনে হয় দেশত্যাগের পরিকল্পনা নিজের পরিবারবর্গকে নিয়ে করছেন। তার ঘনিষ্ঠ পরিবারের ‘দেশপ্রেমিকরা’ কেউ বাংলাদেশে থাকে না। তারা সবাই ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডার স্থায়ী বাসিন্দা— এ দেশে এসে বসবাসের সামান্য ইচ্ছা তাদের আছে—এটা ভাবার কারণ নেই, যদিও হাসিনা ক্ষমতায় থাকার সময় নানা ধরনের ফায়দা ওঠানোর জন্য তারা বাংলাদেশে প্রায়ই যাতায়াত করে। এভাবে নিজের পরিবারের লোকদের দেশের বাইরে রেখে, তাদের নিজেদের অবস্থা ঠিকঠাক করার ব্যাপারে সাহায্য করে শেখ হাসিনা যা করছেন তার সঙ্গে দেশপ্রেমের বা বাংলাদেশের জনগণের প্রতি ভালোবাসার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি নিজেও যা করছেন তাতে আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে তার ও তার দলের এমন ভরাডুবি হওয়ার সম্ভাবনা যাতে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব পর্যন্ত বিপন্ন হতে পারে। এটা হলে তা হবে আওয়ামী লীগের প্রতি শেখ হাসিনার অন্তিম অবদান। কাজেই আগামী নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা বিদেশে পাড়ি দেয়ার সব ব্যবস্থা গোছগাছ করে দেশত্যাগ করলে তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকবে না। জীবনের বাকি অংশ তিনি আমেরিকায় গিয়ে পরমানন্দেই সপরিবারে অতিবাহিত করতে পারবেন। দেশের জনগণের ওপর এখন তিনি যেভাবে চরম ফ্যাসিস্ট নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন তাতে এই সম্ভাবনাকে অলীক কল্পনা মনে করার কারণ নেই।

ঘটনা কি!

নয়া দিগন্তকে সাবেক আইএসআই প্রধান জেনারেল আসাদ দুররানি
বাংলাদেশ বা বিএনপি প্রসঙ্গে কোনো কথা ছিল না সাক্ষ্যে

মনির আহমেদ পাকিস্তান থেকে

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস'া ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মোহাম্মদ আসাদ দুররানি বলেছেন, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে আইএসআই’র পক্ষ থেকে অর্থ দেয়ার ‘খবর’ সম্পূর্ণ কাল্পনিক। এই কাহিনী বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি আদালত কেন, অন্য কোথাও এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। আমাকে কেউ এ ধরনের কথা জিজ্ঞাসাও করেনি। এ নিয়ে যে প্রচারণা চলছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট।
গতকাল নয়া দিগন্তের সাথে এক সাক্ষাৎকারে জেনারেল দুররানি এ কথা বলেন। ইসলামাবাদে তিনি এই সাক্ষাৎকার দেন। বর্তমানে তিনি অবসর জীবনযাপন করছেন। ৭১ বছর বয়সী জেনারেল দুররানির জন্ম পাকিস্তানের গ্যারিসন শহর রাওয়ালপিন্ডিতে। সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন ছাড়াও তিনি জার্মানি ও সৌদি আরবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। স্বীকৃতিস্বরূপ পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় খেতাব ‘হিলাল-ই-জুরাত’ ও ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’ প্রাপ্ত হন তিনি। জেনারেল দুররানি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অ্যাডভোকেট জেনারেল ও বিচারক ছিলেন। তার সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হলো :
নয়া দিগন্ত : বাংলাদেশে আপনার একটি বক্তব্য নিয়ে তুমুল হই চই চলছে। আপনি সুপ্রিম কোর্টে বলেছেন, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে পাঁচ কোটি রুপি দিয়েছিলেন। বিষয়টি খোলাসা করে বলবেন কি?
জেনারেল দুররানি : দেখুন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। বিভিন্নভাবে আমার কাছে খবরটি এসেছে। এ খবরের মধ্যে কোনো সত্যতা নেই। এটি একটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন প্রচারণা। এর সাথে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই।
নয়া দিগন্ত : কিন' সংযুক্ত আরব আমিরাতের দৈনিক খালিজ টাইমস পত্রিকা আপনাকে উদ্ধৃত করে সর্বপ্রথম এ তথ্য প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে, আপনি সুপ্রিম কোর্টে এই টাকা দেয়ার কথা বলেছেন।
জেনারেল দুররানি : আমি স্পষ্ট ভাষায় বলছি, আমি কোথাও এ কথা বলিনি। আর খালিজ টাইমসের কোনো সাংবাদিক আমার সাথে কখনো যোগাযোগও করেনি। তারা কী লিখেছেন, সেটা তাদের ব্যাপার। আমাকে কিছু জিজ্ঞেস না করেই তারা এই প্রতিবেদন ছেপেছে। তাদের ওই প্রতিবেদন অসত্য। আমি এই প্রতিবেদনের বিষয় শুনেছি। তা ছাড়া খবরটি কিন' পাকিস্তান থেকে কেউ দেননি। বাইরে থেকে গল্প রচনা করা হয়েছে।
নয়া দিগন্ত : তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন, খালিজ টাইমস অসত্য প্রতিবেদন ছেপেছে?
জেনারেল দুররানি : ঠিক তাই। আর আদালতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ আসবে কেন? বিচার্য বিষয় তো ছিল পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ প্রসঙ্গ।
নয়া দিগন্ত : তাহলে বিষয়টি আসলে কী ছিল? আরো খোলাসা করে বলবেন কি?
জেনারেল দুররানি : দেখুন, আমি স্পষ্ট করেই বলছি। বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা সরকারের সাথে আইএসআই’র কোনো প্রকারের আর্থিক লেনদেন হয়নি। আমরা তা করতে যাবো কেন? উদ্দেশ্যমূলক এই অপপ্রচার করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য এটা হতে পারে, বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করা কিংবা এর পেছনে অন্য কোনো মতলবও থাকতে পারে। আমি আবারো বলছি, আমার বক্তব্যের কোথাও বাংলাদেশের কোনো কথাই নেই। আদালতে কী বক্তব্য দেয়া হয়েছে তার রেকর্ড তো সংরক্ষিত থাকে। কোর্টে কিছু বলা হলে সেটি সব মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ার কথা। সেটি তো হয়নি।
উল্লেখ্য, খালিজ টাইমসে গত ৩ মার্চ আসাদ দুররানির উদ্ধৃতি দিয়ে আইএসআই বিএনপিকে পাঁচ কোটি রুপি দিয়েছে বলে রিপোর্টটি ছাপা হয়। এর পর দিন ৪ মার্চ একই রিপোর্ট ঢাকার দৈনিক প্রথম আলো ছাপে। পরে ডেইলি মেইলের ভারতীয় অনলাইন সংস্করণ, সাপ্তাহিক ইন্ডিয়া টুডে এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস'া বাংলাদেশ সংবাদ সংস'াও রিপোর্টটি প্রকাশ করে।
ভারতীয় সাংবাদিক দীপাঞ্জন রায় ডেইলি মেইল ও ইন্ডিয়া টুডেতে রিপোর্টটি করেন। দীপাঞ্জন রায় ঢাকার দৈনিক প্রথম আলোর নয়াদিল্লি প্রতিনিধি। ইনডিয়া টুডেতেও তিনি বাংলাদেশ বিষয়ে লিখে থাকেন। বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বাসস ইন্ডিয়া টুডের ওই রিপোর্টটি হুবহু প্রচার করেছে। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান বা ভারতের অন্য কোনো পত্রিকায় এই রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়নি। নয়া দিগন্তের সাথে আসাদ দুররানির সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে ঘটনার সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার বক্তব্য ও অবস'ান স্পষ্ট করলেন।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla