Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

ধর, মার, খাও...বাংলাদেশ ষ্টাইল!

১ বিলিয়ন ডলারের বাংলা কি তাহলে ৮০০ কোটি? কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে, যেমন গিয়েছিল ৭২ সালের ৩ লাখের ইংরেজি ৩ মিলিয়ন মেলাতে গিয়ে। যতদূর জানি ১ বিলিয়ন সমান ১০০০ মিলিয়ন। পণ্ডিতদের মতে ১০ মিলিয়নে বাংলা ১ কোটি। যোগ-বিয়োগ, পূরণ-ভাগ করলে যা দাঁড়াবে ১০০ কোটি এবং তা ইউএস ডলারে। যদি ধরি ১ ডলার = ৮০ টাকা, তাহলে মেনে নিতে হবে টাকার অংকে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে হ্যাকড্‌ হয়েছে ৮০০০ কোটি টাকা। 'এত বড় অর্থনীতির' দেশে ইতিপূর্বে স্থানীয় এক বাণিজ্যিক ব্যাংক হতে ৪০০০ কোটি টাকা লুটে নেয়ার অভিযোগ আছে, যা দেশের অর্থমন্ত্রী যৎসামান্য ও রাবিশ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। অবশ্য টাকার অংক নিয়েও ধুম্রজাল তৈরি করা হয়েছে। ১ বিলিয়ন তত্ত্বের পাশাপাশি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারেরও একটা হিসাব বাজারের বিক্রি হচ্ছে। সে-যাই হোক, ব্যাংকের ভল্ট ভেঙ্গে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিলেও আমাদের অর্থনীতির চাকা যে সামান্যতম বাধাগ্রস্ত হয়না মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গর্ভবতী সরকার তার কর্মকাণ্ড দিয়ে তাই প্রমাণ করে চলছেন। অগ্রণী, সোনালী, জনতা ও বেসিক ব্যাংক ধরো, মারো, খাও পর্বের সফল সমাপ্তির পর এবার খোদ ব্যাংকের রাজা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে হানা দিয়েছে আলীবাবা চল্লিশ চোরের দল। কোথাকার কোন ফিলিপিনো চোর নাকি বলেছে.. 'সিসিম ফাঁক' আর তাতেই খুলে গেছে ধনী দুনিয়ার সেরা ধনী বাংলাদেশ ব্যাংকের গুপ্ত গুহা। কুত্তার পেট হতে জন্ম নিলে ভিন্ন কথা, মায়ের পেটে জন্ম নেয়া এ দেশের পাঁচ বছরের একটা শিশুও বিশ্বাস করবেনা অর্থ লুটের ফিলিপিনো, থাই আর নিউ ইয়র্ক অপেরা। খোদ ঢাকায় বসে ব্যাংকের নিজস্ব কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজশে রাজনীতির ছত্রছায়ায় কিছু অতিমানব এ লুটের নেতৃত্ব দিয়েছে, এমনটা বিশ্বাস করতে মাসিক ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেতনের ইটা বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার পরবেনা। শেয়ার মার্কেট লুটের উপাখ্যান যাদের মনে আছে তাদের কাছে ব্যাপারটা আয়নার মত পরিষ্কার। স্থানীয় একটা দৈনিকের তথ্য মতে; নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের চলতি অ্যাকাউন্ট থেকে আট কোটি ১০ লাখ ডলার বা ৬৩৫ কোটি টাকা ‘হ্যাকড’ করে তুলে নেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার থেকেই ঘটেছে বলে জানা গেছে। দৈনিক কালের কণ্ঠ জানায়, এ ঘটনায় ব্যবহৃত বাংলাদেশ ব্যাংকের তিনটি ইউজার আইডি শনাক্ত করতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। যে তিনটি আইডি হ্যাকড করে অর্থ সরানো হয়েছিল। ওই তিন আইডি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তারা এখন নজরদারিতে আছেন। যেকোনো সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করতে পারে বলে জানা গেছে। এদিকে রিজার্ভের অর্থ পাচারে সহযোগিতাকারী হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আটজন কর্মকর্তাকে সন্দেহ করছেন গোয়েন্দারা। সন্দেহভাজনরা যাতে বিদেশে পালাতে না পারেন, সে জন্য বিমানবন্দর ও সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাঠক, আপনি কি তদন্ত, শনাক্ত, পরীক্ষা করে দেখা, সন্দেহভাজন, নজরদারী...ইত্যাদি শব্দ গুলোর সাথে পরিচিত হয়ে নিজকে ধন্য করতে পেরেছেন? না করে থাকলে এ যাত্রায় করে নিন। শব্দগুলো চেতনার জরায়ুতে জন্ম নেয়া কামরুখকাম্মাকা রাজ্য শাসনের কিছু শানে নযুল। এসব শব্দ উগরানোর অর্থই হলো আপনার সবকটা ইন্দ্রিয় শক্তি গরু-পেটা করে বিকলাঙ্গ বানানোর বন্য প্রক্রিয়া। যেমনটা করা হয় সুস্থ শিশুদের ভিক্ষুকে রূপান্তরিত করার বেলায়। চেতনার তৈলাক্ত ভাণ্ডারে ভাসমান বর্তমান সরকার আমার, আপনার বিবেক, বুদ্ধি, বিচার, বিবেচনা সবকিছু দলিত মথিত করে পঙ্গু বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছে হীরক রাজ্যের অলিগলিতে। আমরা কারবালা পর্বের করুণ ট্রাজেডির মত হায় হাসান, হায় হোসেন মাতম করছি, আর সরকারের গোয়েবলসীয় প্রচারণা যন্ত্রের সক্রিয় যন্ত্র মুনতাসির মামুন, শাহরিয়ার কবির, জাফর ইকবালদের মত ঠেড্যা মালেইক্যার দল চেতনার বীর্য হতে জন্ম দিচ্ছে নতুন নতুন সন্তান... '৭১ সালের পাওনা আদায়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের তারই সোনালী ফসল। সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা, বেসিক সহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাণ্ডারে যে অর্থ সংরক্ষিত আছে তা কি দেশের গ্যাস মজুতের মতই অনিশ্চিত যে এখনই পাকিস্তানের দিকে হাত বাড়াতে হবে! আগে এসব শেষ করুন, তারপর না হয় ওদিকে চোখ দেয়া যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কেলেঙ্কারির তলায় চাপা পরে যাচ্ছে আরও একটা ভয়াবহ কেলেঙ্কারি যা দুদিন আগে স্থানীয় একটা দৈনিকে ইনসিগনিফিকেন্ট খবর হিসাবে প্রকাশিত হয়েছিল। আর তা হলো গ্রামীণ ব্যাংক সংক্রান্ত। সরকারের কালো হাত ধীরে ধীরে প্রসারিত হচ্ছে বিশ্বখ্যাত এই ব্যাংকের দিকে। কোলেটারেল বিহীন ঋণের শতকরা ৯৯ ভাগ রিটার্নের ব্যাংকে রাজত্ব শুরু করেছে আওয়ামী ভূত। ইতিমধ্যে কালো ও কু-ঋণের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। পাশাপাশি গ্রাস করে নিচ্ছে এর মৌলিক আবেদন, নারীদের অর্থায়ন। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ আর ওলামা লীগের প্রেতাত্মা আর দশটা ব্যাংকের মত এ ব্যাংকেও শক্ত ঘাটি গাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ঋণ আদারের হার শতকরা নব্বইয়ের নীচে নেমে গেছে। যে দেশকে বাকি বিশ্ব তেনার বাবার নামে চেনার কথা, সে দেশকে চিনছে কোথাকার কোন ইউনুস মাস্টারের নামে...তারই প্রতিশোধ নিতে হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্ট লীগের বিচারদের দিয়ে ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করে দিয়েছেন বেয়ারা এই মাস্টারকে। গ্রামীণ ব্যাংককে করেছেন 'দুর্নীতিমুক্ত'। এক কথায় রাস্তা খুলে দিয়েছেন আলী বাবা চল্লিশ চোরের দলের জন্য। লুটের মেলা জমেছে দেশে। এ লুটের পরিবর্তী টার্গেট গ্রামীণ ব্যাংক। চাইলে কেউ লিখে রাখতে পারেন।

http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2016/03/11/334632

Comments

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশে সন্ত্রাসের প্রকৃত

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশে সন্ত্রাসের প্রকৃত উৎস
আমাদের সময়.কম : ২০/০৫/২০১৬
উইলিয়াম বি মিলাম: গত সপ্তাহে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সপ্তাহের আগে দেশের উত্তর অঞ্চলে এক সুফি মুসলিম নেতাকে হত্যা করা হয়। দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে এক এলজিবিটি (সমকামী) কর্মীকে হত্যা করা হয়। এরও মাত্র কয়েকদিন আগে এক ইংরেজি অধ্যাপক খুন হয়। এর মধ্যে কিছু হামলার ঘটনায় এখনও দায় স্বীকার করা হয়নি। তবে আক্রমণকারীরা একটি বিভীষিকাময় নকশা অনুসরণ করছে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশে কমপক্ষে ২৫টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। কখনও কখনও প্রকাশ্যে, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব ও বাক স্বাধীনতার সমর্থকদের হত্যা করা হয়েছে। একইভাবে ডজেন খানেকেরও বেশি মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়ে বেঁচে রয়েছে।

এসব হামলার ২০ টিরও বেশি ঘটনায় ইসলামি স্টেট, প্রায় ছয়টিতে আল কায়েদার ভারত উপমহাদেশীয় শাখা দায় স্বীকার করেছে। এছাড়া প্রত্যেকটি ঘটনার দায় স্বীকার করেছে বাংলাদেশের অভ্যন্ত্ররীণ চরমপন্থি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ ও আনসার আল ইসলাম। এ সহিংসতার ঢেউ পশ্চিমা সরকারগুলোকে উদ্বিগ্ন করছে। তাদের ভয়, এখন স্থানীয় ইসলামি সন্ত্রাসীরা আন্তর্জাতিক জিহাদী নেটওয়ার্কের মনোযোগ আকর্ষণে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে পারে, অথবা তাদের সহযোগিতা করতে পারে। এজন্য কয়েকটি পশ্চিমা সরকার বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে সাড়া দিয়েছে। জাপান বিমান নিরাপত্তা দিচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রবাদ দমনে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে শক্তিশালী সহযোগিতা করার আহবান জানিয়েছে।

তাদের এ প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশিত। তবে এটা ভুলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটা বিপজ্জনক। কেননা ভুলভাবে রোগ নির্নয় করে এ সন্ত্রাসদমন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সম্প্রতি একের পর এক বিদ্বেষপূর্ণ হত্যাকা-ে ‘সন্ত্রাসবাদ’ সমস্যার চেয়ে ‘শাসন’ সমস্যাটিই বেশি উঠে এসেছে। রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নিপীড়ন চলছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারির সর্বশেষ নির্বাচনের পর সাগ্রহেই শুরু হয়েছে এ নিপীড়ন। যা বাংলাদেশে উগ্রপন্থা কায়েম করেছে।
১৯৯১ সালে সামরিক স্বৈরতন্ত্রের অবসানের পর, ‘শুন্য-যোগফল’ মানসিকতা বাংলাদেশের রাজনীতির নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সময় থেকে শুরু করে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রত্যেক সময়ই দেশের দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ক্ষমতার পালা বদল হয়েছে। যখনই এদের কোন একটি সরকার পলিচালনা করেছে, তখনই তারা নিজেদের সমৃদ্ধ করা ও অন্যদের দুর্বল করার দিকে নজর দিয়েছে। এ অবস্থা বেসরকারি খাতকে বহুলাংশেই অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের বিনিয়োগে একাকি ছেড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেব ও অন্যান্য সামাজিক সেবা প্রদানের জন্য এনজিও’গুলোকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কারণ সরকার এসব সেবা দেয়নি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকার ভালভাবে দেশ পরিচালনায় তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। গত দুই দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি বছরে গড়ে ৫-৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার ন্যায় বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন সূচকে পাকিস্তান ও ভারতকে ছাড়িয়েছে। তবে দেশের রাজনেতিক সংস্কৃতির স্থিরভাবে অবনতি হচ্ছে।

তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি ২০০৭ সালে তামাশার নির্বাচন গ্রহণের চেষ্টা করলে, ২০০৬ সালের শেষের দিকে ব্যাপক প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলশ্রুতিতে কিছু সময়ের জন্য ক্ষমতা গ্রহণ করে সেনাবাহিনী। ২০০৯ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। পরে ২০১১ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচন গ্রহণ সংক্রান্ত সংবিধানের একটি ধারা বাতিল করতে সংসদের নিরঙ্কুস সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগায় আওয়ামী লীগ। মূলত এ সংশোধনীর প্রতিবাদে ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি। অত:পর একদলীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। এবার ক্ষমতায় এসেই তারা বাংলাদেশকে এক দলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। বিএনপি প্রাথমিক বাস্তবতায় পরিণত হয়, সরকারের তথাকথিত আইনপ্রয়োগমূলক প্রচেষ্টার একমাত্র টার্গেটে পরিণত হয় দলটি। আওয়ামী লীগ নিয়মিতভাবে বিচার ব্যবস্থাকে প্রসারিত করতে থাকে। সেই সাথে রাজনৈতিক বিরোধী ও সুশীল সমাজের ভিন্নমতের বিরুদ্ধে পুলিশকে নিয়মিত ব্যবহার করে দলটি। বিএনপি উচ্চপদস্থ নেতাদের অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, কৃত্তিম দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুয়ায়ী, সরকার জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভুত হত্যাকা-ের মাধ্যমে সমালোচনাকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছে। যেসব সাংবাদিক এসব কোন ঘটনা তুলে ধরার সাহস দেখঅতে গেলে তাদের রাষ্ট্রদ্রোহী ও মানহানির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিরোধী ও সুশীল সমাজের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নিরলস নিপীড়ন, সব ধরণের সহিংস মৌলবাদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিয়েছে। রাষ্ট্রের সীমিত বিচারিক ও পুলিশী ক্ষমতা শুধু বিএনপি ও তার সমর্থকদের ওপর মনোনিবেশ করায় সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। অথচ এ সম্পদ সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধ প্রতিরোধে কাজে লাগানো যেতে পারে। বিরোধীদের শান্ত করতে অবৈধ পন্থার ব্যবহার করা হলে, তা আইনের শাসন দুর্বল করে। সৃষ্টি করে দায়মুক্তির পরিবেশ। যা উগ্রবাদকে উৎসাহিত করে। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি প্রথম এক ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগারকে চাপাতি দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। মানুষ যেহেতু এসব ঘটনায় ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশ্যা করে, তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুক্তভোগীদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা ও অপরাধীদের ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করার জন্য ছেড়ে দেয় তার অফিসকে। কিন্তু দলটি ২০১৪ সালে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর, একই ধরনের হামলার ঘটনায় তাদের প্রতিক্রিয়া গঠনমূলকভাবে ছলচাতরীপূর্ণ হয়ে উঠে।

আওয়ামী লীগ নেতারা আদৌ এসব ভুক্তভোগী পরিবারদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা জানায় কিনা তা স্পষ্ট নয়। একই সময়ে বাংলাদেশে ভারত উপমহাদেশীয় আল কায়েদা বা ইসলামি স্টেটের উপস্থিতিকে অস্বীকার করে দলটির নেতারা। তারা অভিযোগ করে, বিএনপি নিজে অথবা ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকারকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতিসম্প্রতি সমকামী কর্মী ও মার্কিন দূতাবাসের কর্মচারি জুলহাজ মান্নান নিহত হওয়ার পর, কয়েক সপ্তাহ আগে একই ধরনের অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন হাসিনা।

এখনও সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয় হলো, মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরকারের দোদুল্যমনতা। সেপ্টেম্বরে হিন্দুদের এক ছুটির দিনে হাসিনা একদল হিন্দু নেতাদের বলেছিলেন, জনগণের নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। কিন্তু অন্যের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানার অধিকার নেই। গত মাসে বাংলা নববর্ষ উদযাপনকালে তিনি বলেন, ইসলামের সমালোচনা করে ব্লগারদের লেখা শুধুই নোংরামি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার দিকে ঠেলে দেবে সরকার এমন লেখার জন্য কেন দায়বদ্ধতা নেবে? এমন বিবৃতির ব্যাখ্যায় ইসলামপন্থিদের ক্ষমা করা হতে পারে এবং তারা যাদের ইসলামের চেতনার শত্রু মনে করে, তাদের ওপর অবাধ আক্রমণ করতে ছাড়পত্র দেয়া হয়।

বাংলাদেশে রীতিবিরুদ্ধ চরমপন্থা গোষ্ঠীর ইতিহাস রয়েছে। এর মধ্যে কিছু গ্রুপের সঙ্গে আফগান যুদ্ধের যোগসূত্র রয়েছে। যেখানে কিছু বাংলাদেশি যুদ্ধও করেছে। এছাড়া অন্যান্যরা ওয়াহহাবি মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশি শ্রমিকরা এ মতাদর্শে প্রভাবিত হচ্ছে। তবে গত বছর থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলার আগে, ২০০৫ সালের দিকে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায়, জামায়াতুল মুজাহিদীনকে নিয়ে আলোচনা করা হতো। বাংলাদেশে বর্তমান সন্ত্রাসী হুমকির হিসেব-নিকেশ করা খুবই জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কোন যোগসূত্র আছে কিনা তা নির্নয় করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাইহোক, এর প্রকৃতি যায়ইহোক না কেন, এ অবস্থা মূলত সরকারের মূলধারার প্রতিদ্বন্দ্বিদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের ফলাফল। যদি এইসব আক্রমণ তরঙ্গের প্রতিক্রিয়ায় সাড়া দিতে গিয়ে ‘শাসন’ সমস্যার পরিবর্তে এটাকে কেবল একটা ‘নিরাপত্তা’ সমস্যা ভাবা হয়, তাহলে এ বিষয়গুলো কেবলই আরও খারাপ হয়ে উঠবে।

লেখক উইলিয়াম বি মিলাম ওয়াশিংটনে উড্রো উইলসন সেন্টারের একজন সিনিয়র ‘পলিসি স্কলার’। তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।
অনুবাদ করেছেন মমিনুল ইসলাম।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla