জেসমিন শামীমা নিঝুম, ২১ শতাব্দীর বাংলাদেশী নারী!!!

খবরে প্রকাশ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় মারামারি, ভাংচুর ও শক্তি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে ঢাকার ইডেন কলেজে। রক্তক্ষয়ী এ সংঘর্ষে ৬ জন ছাত্রী আহত ও কমপক্ষে ১২টি কক্ষ ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। বিবাদমান দুই গ্রুপ একে অপরকে অভিযুক্ত করছে সাধারণ ছাত্রীদের অনৈতিক কাজে প্ররোচনা দেয়ার। অভিযোগে প্রকাশ, ভর্তি বানিজ্য ও সাধারণ ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দেয়ার তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কলেজ ছাত্রলীগের সভানেত্রী জেসমিন শামীমা নিঝুম। দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা হকিস্টিক ও রড নিয়ে শক্তির মহড়া দেয় প্রশাসনিক ভবনের সামনে।
উপরের ঘটনায় আপনারা যারা অবাক হচ্ছেন তাদের সাথে দ্বিমত করতে চাই আমি। ছাত্রীদের Rambo স্টাইলের লড়াই আসলেই কি অবাক হওয়ার মত কোন ঘটনা ছিল? গেল সপ্তাহে জাতীয় সংসদে যা ঘটে গেল তারই কি প্রতিচ্ছবি ছিলনা এ লড়াই? সার্বিক বিচারে দেশীয় রাজনীতিকে ব্যক্তি ও পারিবারিক দাসত্বের টেলেনভেলা বল্লে আশাকরি খুব একটা বাড়িয়ে বলা হবেনা। সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ’র ’লাল সালু’ উপন্যাসের মত মৃত পিতা আর স্বামীকে পীর বানিয়ে হাসিনা আর খালেদা নামের দুই মজিদ মিয়া রাজনীতির ঘোলা পানিতে যে মৎস শিকার করছেন তার অপর নামই বাংলাদেশের রাজনীতি। শিকারের এ মহোত্সবে উচ্ছিষ্টের মূলা ঝুলিয়ে মুরীদানের কাফেলায় যোগ করানো হয়েছে ছাত্র, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিচারক সহ দেশের গোটা শিক্ষিত সমাজকে। সংগত কারণেই মৃত নেতা দ্বয়ের মহিমা আর গুন কীর্তনের বৈরিতার ভেতর বলি হচ্ছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, সমাহিত হচ্ছে বিচার ব্যবস্থা, শিক্ষাঙ্গনে আবর্জনার মত তৈরী হচ্ছে বিকলাঙ্গ যুব সমাজ।
সীমিত সম্পদের দেশ বাংলাদেশ। স্বাভাবিক জীবনের এখানে নিশ্চয়তা নেই। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের পরিধিও এখানে বিপজ্জনকভাবে সীমিত। ১৫ কোটি মানুষকে বেঁচে থাকার জন্যে এখানে লড়াই করতে হয়। ইডেন কলেজের ছাত্রীদের লড়াইও ছিল তাদের বেঁচে থাকার লড়াই। যেমনটা শেখ হাসিনা লড়ছেন খালেদা জিয়ার বিরুদ্বে, খালেদা লড়ছেন হাসিনার বিরুদ্বে, লীগ লড়ছে দলের বিরুদ্বে, আদালতে লড়ছেন আইনজীবীরা, সংসদে লড়ছেন সাংসদরা। এক কথায় গোটা দেশজুড়ে এখন লড়াই, অসৎ পথে দ্রুত ভাগ্য ফেরানোর লড়াই। চাঁদাবাজির ১৪টা মামলা মাথায় নিয়ে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। গেল এক সপ্তাহে গোপালগঞ্জের আ’লীগের সাবেক সভাপতি বিচারপতি শামশুল হুদার কোর্টে একে একে বাতিল হয়ে গেল সবগুলো মামলা। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যদি পুকুর চুরি করে পার পেতে পারেন তাহলে ইডেন কলেজ ছাত্রীরা কেন সামান্য চাঁদাবাজি আর দেহ ব্যবসা করে পার পাবে না তা বিচারের ভার পাঠকদের উপরই ছেড়ে দিলাম।
যতদূর জানি ভ্যাটিকান ও কসভো ছাড়া জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত দেশের সংখ্যা মোট ১৯২। আর্থ-সামাজিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের তুলনায় অনুন্নত ও গরীব দেশের সংখ্যাও পৃথিবীতে কম নয়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো নির্বিশেষে ১৯৪টা দেশের প্রায় সব কটাতেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সময়ের চাহিদা মেটাতে পারে এমন প্রজন্ম গড়ে তোলার চেষ্টা চল্ছে। বাংলাদেশই হয়ত এর একমাত্র ব্যতিক্রম। এখানে শিক্ষার আসল গুরুত্ব লেখাপড়ায় নয়, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে সাজানো হয়েছে বিবাদমান দুই পরিবারের চাহিদা মেটানোর জরায়ু হিসাবে। বিশ্বের দ্বিতীয় কোন দেশে রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে ছাত্রীরা হাতাহাতি করছে এমন ঘটনা অশ্রুত, অকল্পনীয় ও অবিশ্বাস্য।
জয় হোক দেশীয় রাজনীতির!!!
ছবি: প্রথম আলো
- ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী
- আবু বকরের আসল খুনী
- প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা ঢাকা কলেজের শিক্ষকদের
- একজন আবু বকরের মৃত্যু ও কিছু প্রাসংগিক কথা
- কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ১০
- শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা গাড়ি ভাঙচুর করেছে
- ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রমৈত্রীর নেতা খুন
- ছাত্রজীবন, বাংলাদেশী ছাত্রজীবন
- অদ্ভূত এক উটের পিঠে সওয়ার হয়ে চলছে বাংলাদেশ
- জানার শেষ নাই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই
- হে আমাদের ছাত্র......হে আমাদের শিক্ষা!
- এমন শিক্ষা আমাদের প্রয়োজন নেই
- Tag this post:
- WatchDog's blog
- 1686 reads
-
JUST VIEWED
Last viewed:
- Hope of a Nation
- While Bangladeshis fight, Vietnam gets Billion $ Intel
- রাজার দেশে দুই রাজপুত্র...
- Haves and Have-nots
- Join Ami Bangladeshi
- US State Department warned Mujibur about possible assassination
- যে মৃত্যুর রঙ নেই!
- Streaming cricket
- ছাত্রজীবন, বাংলাদেশী ছাত্রজীবন
- ডিজিটাল বিপ্লব না পারিবারিক বনভোজন?
- জন হিংঙ্কলে, আকতার হামিদ পবন ও দু'টা অসফল নাটকের ইতিকথা
- মার্ডার অন দ্যা ওরিয়েন্ট/বিডিআর এক্সপ্রেস!
- বাংলাদেশ দ্বিতীয়, তবে...
- বিল্লালকে জাতীয় বীর ঘোষনা করা হোক
- অপরাধ ও পুরস্কার বাংলাদেশ স্টাইল!
Latest Blogs
- লুটের টাকায় বেশ্যা নাচে...
- আমেরিকার রুক্ষ্ম পশ্চিমের গল্প...
- মৃত্যুর আগাম শোক...
- হাতে রক্ত, আঙ্গিনায় লাশ আর মুখে গণতন্ত্র...পাকিস্তানি ভণ্ডামির আওয়ামী সংস্করণ!
- দ্যা ডে আফটার
- ক্যু আর্কিটেক্টদের মোবারকবাদ
- ছ্যারছ্যার আলীর দিনরাত্রি ও একটি খুনের গল্প
- ডিজিটাল কফিনে দিন বদলের দাফন। তথ্যই কথা বলে...
- Theory of সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিং...
- দেবতা বনাম উর্দিওয়ালা...নতুন পর্ব!
Recent Comments
- মুহূর্তেই ছিন্ন স্নেহের বাঁধন...
1 week 2 days ago - আমিও
3 weeks 3 days ago - about canada immigration
4 weeks 3 days ago - ঘুষ না পেয়ে মুক্তি দেননি বিচারক
4 weeks 5 days ago - কোটি কোটি রুহুল আমিন কী চায়?
4 weeks 5 days ago - হুম!
5 weeks 1 day ago - ধন্যবাদ...
5 weeks 1 day ago - Its really a great invention.
5 weeks 3 days ago - গুপ্ত হত্যার শেষ শিকার..., একটি রম্য রচনা
6 weeks 1 day ago - Not fair!
6 weeks 3 days ago





Comments
দেহব্যবসা নিয়ে ইডেনে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে : আহত ১০
রাজধানীর সরকারি ইডেন কলেজে এবার দেহব্যবসার ঘটনা নিয়ে ছাত্রলীগের দু’গুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাংচুর ও সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দু’পক্ষের নেতাকর্মীরা হকিস্টিক, রড, স্ট্যাম্প নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। দু’পক্ষের মধ্যে মৃদু ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অনু, তানিয়া, রূপা, রুমানা, কণা, লুচি, স্বর্ণা, লাবনীসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। এছাড়া জেবুন্নেসা হলের ২০৮, খোদেজা বেগম হলের ২০৫ ও পুরাতন হলের ২ (ক) নম্বর কক্ষটিতে ভাংচুর করে মালামাল লুট করা হয়েছে। ছাত্রলীগের জুনিয়র কর্মী ছাড়াও সাধারণ ছাত্রীদের দিয়ে দেহব্যবসা ও ভর্তি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত।
দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রীদের জোরপূর্বক ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাদের বাসায় নেয়া ছাড়াও রাজধানীর কাকরাইল, গুলিস্তান, এলিফেন্ট রোড, মালিবাগ, মতিঝিল, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, মীরপুরের আবাসিক হোটেলগুলোতে সংগঠনের জুনিয়র কর্মী ছাড়াও প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীদের বাধ্য করে নিয়ে যাওয়া হতো। এছাড়া চলতি শিক্ষাবর্ষে ৩ শতাধিক ভর্তিচ্ছু এবং শতাধিক ছাত্রীর সাবজেক্ট পরিবর্তনের মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকা ব্যবসা করেছে ছাত্রলীগ।
এ সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। একটি পক্ষ বলছে, কলেজের সভাপতি জেসমিন শামীমা নিঝুম ও সাধারণ সম্পাদক ফারজানা ইয়াসমিন তানিয়াসহ কয়েকজন প্রথম সারির নেত্রী ছাত্রীদের দিয়ে দেহব্যবসা ও ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। আবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পক্ষ বলছে, যারা ছাত্রীদের দিয়ে দেহব্যবসা করায় তার প্রতিবাদ করায়ই আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। নিজুম গু্রপের তানিয়া বলেন, আমি রাজিয়া হলের ২১০ নম্বর কক্ষে থাকি। বেশ কিছুদিন ধরে ছাত্রলীগের বড় আপা চম্পা ও কানিজ আমাকে অবৈধ কাজে অফার করে। এতে আমি রাজি না হলে গতকাল আমাকে রুমেই মারধর করে চম্পা ও কানিজ।
জানা গেছে, কলেজের জেবুন্নেসা হলের ২০৮ নম্বর কক্ষের এক ছাত্রীকে ও খোদেজা বেগম হলের ২০৫ নম্বর কক্ষের এক ছাত্রীকে ছাত্রলীগ ও এক মন্ত্রীর বাসায় যাওয়ার প্রস্তাব দেয় সভাপতি নিঝুম ও সাধারণ সম্পাদক তানিয়া গ্রুপ। প্রস্তাবে রাজি না হয়ে ওই দুই ছাত্রী বিষয়টি অন্যদের কাছে প্রকাশ করে দেন। সমাজকর্ম বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী মাহফুজা খানম স্বর্ণা বলেন, সভাপতি নিঝুম ও সাধারণ সম্পাদক তানিয়া আমাকে সব ধরনের অফার করেছে। বিভিন্ন নেতার বাসায় যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছে। আমি তাদের কথা না শোনায় আমার রুম ভাঙচুর করে তালা দিয়ে সবকিছু নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেও আমাকে এক মন্ত্রীর বাসায় যেতে বলেছিল নিঝুম। তার কথা না শোনায় আমাকে তার কর্মীরা মারধর করেছে।
অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী লাবনী আক্তার বলেন, আমার চৌদ্ধগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে। আমি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কথামতো না চলায় আমাকে শিবির বানিয়ে হল থেকে বের করে দিয়েছে। আমাকে সব ধরনের অফার করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক টাকার বিনিময়ে নবম শ্রেণীর মেয়েদেরও হলে রেখে তাদের দিয়ে দেহব্যবসা করাচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে শিবির বলে হল থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দু’পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। জানা গেছে, ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে সভাপতি নিঝুম ও তানিয়া ইডেনে কয়েকশ’ ছাত্রীকে অবৈধভাবে ভর্তি করায়। প্রত্যেকের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা নেয়া হয়। এছাড়া কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহফুজা চৌধুরীর সঙ্গে সমঝোতা করে কয়েকশ’ ছাত্রীর সাবজেক্ট পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা ব্যবসা করে। এদের প্রত্যেকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা নেয়া হয়। ভাগ-বাটোয়ারার ক্ষেত্রে জুনিয়রদের একটি করে ছাত্রী ভর্তি করার সুযোগ দেয়া হয়। প্রত্যাশিত ভাগ না পেয়ে এর প্রতিবাদ করায় তিন মাস আগে সাংগঠনিক সম্পাদক শর্মী ও হ্যাপিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে সভাপতি জেসমিন শামীমা নিঝুম বলেছেন, ওই দুই নেত্রী ছাত্রীদের দিয়ে দেহব্যবসার মতো কাজ করিয়েছে। এজন্য তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি সব ধরনের অনিয়মের বিপক্ষে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমাকে সরাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা সিদ্দিকী নাজমুল আলম ষড়যন্ত্র করছেন। সভাপতি নিজুম গু্রপের ছাত্রলীগ কর্মীরা বলেন, কিছুদিন আগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা সিদ্দিকী নাজমুল আলম ও ইডেনের সহ-সভাপতি চম্পা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তারা বিয়ে করে মিরপুরে বাসা নিয়ে থাকছেন। ওই বাসায় আরও পাঁচ থেকে ছয়জন ছাত্রীকে রেখে তারা দেহব্যবসা করাচ্ছে। এর সঙ্গে বহিষ্কৃত নেত্রী হ্যাপী, শর্মী, চম্পা, কানিজ জড়িত। আমরা ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় আমাকে সরাতে ষড়যন্ত্র করছে। শর্মী ও হ্যাপি, সহ-সভাপতি চম্পা খাতুন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের হ্যাপী, ইতিহাস বিভাগের কানিজ, অর্থনীতি বিভাগের লিজা, বি.কমের মিশু, সমাজকর্ম বিভাগের স্বর্ণা, ইতিহাস বিভাগের মিনাসহ আরও ক’জন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
সহ-সভাপতি চম্পা খাতুন বলেন, ইডেনের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেকদিন আগেই। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে থাকতে সমপ্রতি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপনকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছে নিজুম ও তানিয়া। এছাড়া তারা ছাত্রীদের দিয়ে দেহব্যবসা, ভর্তি বাণিজ্যসহ সব ধরনের অপকর্ম করছে। হলের ছাত্রীদের জিম্মি করে রেখেছে। তাদের কবল থেকে বের হয়ে ছাত্রীরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। এছাড়া এই চক্রটি ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত।
সভাপতির অত্যাচারে হল ছাড়ছেন ইডেন কলেজ ছাত্রীরা!
আমি গত ১ বছর ধরে হলে থাকি। সভাপতি জেসমিন শামীমা নিঝুম আমার ওপর নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে। তার কথামতো না চলায় ছোট বোনদের দিয়ে আমাকে অপমান করেছে। শুধু আমাকেই নয় প্রথম বর্ষের নবীন ছাত্রীদের ওপর নির্যাতনের চিত্র আরো ভয়াবহ। তারা টাকা দিয়ে হলে ওঠার পরে ও সভাপতি নিঝুমের কাপড় ধোয়া থেকে আরম্ভ করে পা মেসেজ করে দিতে হয়। যেতে হয় বিভিন্ন নেতার বাসায়। এমনিভাবে কান্নাজড়িত কন্ঠে কলেজ হোস্টেলের চিত্র ব্যক্ত করলেন ইতিহাস ফাইনাল বর্ষের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী। এভাবেই কলেজের হাজারো ছাত্রী সভাপতি এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে জিম্মি। তারা মুক্তি চায় এসব বর্বরতা থেকে।
এদিকে হোস্টেল ছাড়া অব্যাহত রয়েছে ছাত্রীদের। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রীরা গত শনিবারের মতো গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে হোস্টেল ত্যাগ করছেন। অভিভাবকরাও ভিড় করেছিলেন কলেজের গেটে।
হোস্টেল ত্যাগ করা ২য় বর্ষের (বাংলা বিভাগ) এক ছাত্রী বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে হলে থাকতাম। সভাপতি আমাদের দিয়ে নানা অনৈতিক কাজ করাতো। এমনকি তার শরীর মেসেজ করে দিতে হতো। বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার জন্যে বলত। তিনি বলেন, আমি চাইনা ইডেন কলেজের আর কোন মেয়ে যাতে এ রকম কাজ করুক। তাই আমি কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের কাছে আবেদন জানাবো কলেজের প্রকৃত অপরাধীদের কলেজ থেকে বের করে দেয়ার জন্যে।
এ ব্যাপারে সভাপতি জেসমিন শামীমা নিঝুমের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ইডেন কলেজে ভর্তি বাণিজ্য এবং ছাত্রীদেরকে দিয়ে অনৈতিক কাজ করা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
http://www.amadershomoy.com/content/2010/03/15/all0319.htm
ইডেন কলেজে অস্থিরতা কাটেনি
ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ
ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া অরাজক পরিস্থিতি এখনো কাটেনি। পরিস্থিতি এখনও থমথমে। গত শুক্রবার সকালে শুরু হওয়া ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে। কয়েকজন ছাত্রী আহত হয়েছেন এবং গতরাত পর্যন্ত দুজন ছাত্রী নিখোঁজ বলে জানা গেছে। গতকাল কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এবং ভিতরে অনেক পুলিশ দেখা গেছে। ছাত্রীদের যত্রতত্র জটলা এবং আতঙ্কে হল ত্যাগ করার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে।
কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি জেসমিন শামীমা নিঝুমের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সুত্রপাত। ভর্তি বাণিজ্য, সিট বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, দলীয় কর্মী ও সাধারণ ছাত্রীদের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে জেসমিন শামীমা নিঝুমের বিরুদ্ধে। নিঝুম ১৯৯৪ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন; তিনি বিবাহিত। তার ছাত্রত্ব অনেক আগেই শেষ হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই বছর ভর্র্তি বাণিজ্য নিঝুম একাই নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রতিটি ভর্তির জন্য তিনি ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। টাকার বিনিময়ে নিঝুম এবার প্রায় ৭০০ ছাত্রী ভর্তি করিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভর্তি বাণিজ্য ছাড়াও কলেজ হোস্টেলের কক্ষে সিট পাইয়ে দিতে তিনি নেন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে। সভাপতির এসব কাজের বিরোধিতা করাতে বিরাগভাজন হন তারই গ্র“পের কয়েকজন কর্মী।
সাংগঠনিক সম্পাদক শারমীন সুলতানা শর্মী বলেন, ‘২০০৬ সালের ডিসেম্বরে গঠিত হওয়া কমিটিতে নিঝুম সভাপতি নির্বাচিত হয়। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তার চেহারা বদলে যায়। অথচ এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। এখন আমরা এই কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি চাই। কিন্তু নিঝুম কোনভাবেই নতুন কমিটি গঠন করতে দেয়নি। সাংগঠনিকভাবে যারা নতুন পদ পাবার যোগ্য তাদের সে নানাভাবে দমিয়ে রাখতে চায়। সে এখানে একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে চায়।’ নিঝুমের সঙ্গে কথা বলার জন্য কয়েকবার তার ফোনে কল করা হলেও তিনি নিজে ফোন ধরেননি। আরেকজনকে দিয়ে বলিয়েছেন, সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন না।
নিঝুম সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের কয়েকজন ছাত্রী জানান, তার মাধ্যমে কক্ষে ওঠার পর সে আমাদের দিয়ে তার রান্নাসহ ব্যক্তিগত কাজ করিয়েছে। একটু কিছু ভুল হলেই বকাবকি করতো, এমনকি আমাদের বাসায় ফোন করে আজে-বাজে কথা বলতো। সে বলতো, এখানে আর কেউ রাজনীতি করতে পারবে না, আমিই ‘অল ইন অল’। গতকাল পর্যন্ত কলেজের ছাত্রলীগ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শর্মী এবং সহসভাপতি হ্যাপী বহিষ্কার হয়েছে, প্রকাশিত খবরের বিরোধীতা করে শর্মী বলেন, ‘আমাদের বহিষ্কার করার এখতিয়ার কলেজ শাখা সভাপতির নেই। বহিষ্কারাদেশ আসতে হবে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত এমন কোন আদেশ পাইনি।’
নিখোঁজ থাকা দুজন ছাত্রী সর্ম্পকে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরাও এমন অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। এখন আর কিছু বলতে পারছি না।’ তবে সুত্র জানিয়েছে, গত শুক্রবার রাতে কলেজের প্রতিটি হলে নিখোঁজ থাকা ছাত্রীদের খোজে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ আবাসিক ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ ছাত্রীরা।
http://www.amadershomoy.com/content/2010/03/14/all0271.htm
Post new comment