Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

বঙ্গবন্ধু ব্যাংক, সময়ের দাবি!

Professor Yunus - Grameen Bank
মারাত্মক একটা খবর দিয়েছে ইংরেজী দৈনিক দ্যা নিউ এইজ। ওবামা প্রশাসন হলুদ কার্ড দেখাচ্ছে শেখ হাসিনা সরকারকে। অপরাধ;- হ্যারাসমেন্ট। না সেক্সুয়াল নয়, বরং ইউনুস হ্যাসারমেন্ট। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে নোবেল বিজয়ী এ অর্থনীতিবিদের প্রতি সরকারী বৈরিতা বন্ধ না হলে বাংলাদেশ সরকারের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ রাখবে মার্কিন সরকার। এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে মার্কিন পররাষ্ট্র সেক্রেটারী হিলারী ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফরেও ইউনুস শর্ত জুড়ে দিয়েছে ওবামা প্রশাসন। বিশ্ব ইসলামী ফোরাম সম্মেলনে যোগদানের জন্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও ওয়াশিংটন সফরের কথা একই মাসে। এখানেও শর্ত, ডক্টর ইউনূসের কাছে গ্রহনযোগ্য কোন সমাধানে না আসা পর্যন্ত শেখ হাসিনার জন্যে হোয়াইট হাউজের দরজা বন্ধ। মার্কিন চাপ সামাল দিতে অভিজ্ঞ মন্ত্রী মাল মুহিতকে দিল্লী পাঠিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। একই সময় দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন ডক্টর ইউনুস ও গ্রামীন ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ জনাব রেহমান সোবহান। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী একজনের মতে ডক্টর ইউনুস যা বলার তা বলে দিয়েছেন এবং বল এখন মন্ত্রীর কোর্টে। মার্কিন সরকার সহ পশ্চিমা বিশ্বের আশংঙ্কা শেখ হাসিনা রাজনৈতিক কারণে ডক্টর ইউনুসকে গ্রামীন ব্যাংক হতে তাড়াতে চাচ্ছেন। সূত্র বলছে, ডক্টর ইউনুসের উপর রাজনৈতিক হ্যারাসমেন্ট বন্ধ না হলে তৈরী পোশাক রপ্তানির উপর কর মওকুফে বাংলাদেশি আবেদনেও ঠান্ডা পা দেখাবে মার্কিন সরকার।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। জাতির পিতা অথবা স্বাধীনতা ঘোষক রোগে আক্রান্ত নয় এ দেশ। তাই ডক্টর ইউনুস নিয়ে দেশটার সিদ্ধান্তকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাধা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হিসাবে আখ্যায়িত করার সুযোগ নেই। আমরা যারা ডাল-ভাতের বাংলাদেশি তাদের মনে প্রশ্ন জাগতে বাধ্য ডক্টর ইউনুসের মাঝে কি এমন দেখতে পেল পশ্চিমা দুনিয়া যা আমরা দেখছি না? জনগণের ম্যান্ডেট প্রাপ্ত সরকারের প্রধানমন্ত্রী বলছেন ইউনুস ’রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ার’, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বলছেন দুর্নীতিবাজ। আর আমার মত হুক্কাহুয়া টাইপের ব্লগাররা প্রধানমন্ত্রী আর তার গবুচন্দ্র মন্ত্রীদের সুরে সুর মিলিয়ে ইউনুসকে অভিযুক্ত করছি গরীব মারার সুনিপুণ কারিগর হিসাবে। প্রতিবেশি দেশের নোবেল বিজয়ী আমর্ত্য সেনকে দাওয়াত করে যেদিন সন্মানিত করা হল, একই দিন স্বদেশি নোবেল বিজয়ীকে আদালতে হাজিরা দিতে হল জালিয়াতির মামলায়। গ্রামীন ব্যাংকের ব্যাংকিং পদ্ধতি নিয়ে তর্ক হতে পারে, এর সাফল্য ব্যর্থতা নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশ হতে দরিদ্র দূর করাতে রাজনৈতিক সরকারের বাইরে দ্বিতীয় ধারার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তর্ক করার অবকাশ নেই। চুরি-চামারিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রাজনীতিবিদ আর তাদের সহযোগী আমলাদের দিয়ে ১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশের ভাগ্য কতটা পরিবর্তন কার যাবে তার কিছুটা হলেও নমুনা দেখেছি ৩৯ বছর ধরে। টিভির টক শো আর খবরের কাগজ মাতানো দেশপ্রেমিকের অভাব নেই বাংলাদেশে। এসব করতে পরিশ্রমের যেমন দরকার হয়না তেমনি দরকার হয়না মেধার। যা দরকার হয় তা হল নির্দিষ্ট একটা দল ও নেত্রীর প্রতি ডেডিকেশন। ডক্টর ইউনুসের সমস্যাটা বোধহয় এখানেই। শুধু ৩০% কেন, ৩০০% সুদও বৈধ হবে যদি গ্রামীন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডক্টর মোহম্মদ ইউনুস দুটো রাজনৈতিক দলের যে কোন একটার গোলামির খাতায় নাম লেখান।

আমার নিজস্ব কিছু সোর্স আছে যাদের মাধ্যমে দেশীয় রাজনীতির হাঁড়িপাতিলের খবর রাখার চেষ্টা করি। এসব সূত্র হতে চমকপ্রদ কিছু তথ্য পেলাম ডক্টর ইউনুসের উপর। আমার মত অনেকেই যারা শেখ হাসিনার ইউনুস হিংসা নিয়ে লেখালেখি করছেন তাদের জন্যে খবর হতে পারে এ তথ্য। বিশ্বাস অবিশ্বাস পাঠকদের স্বাধীনতা। ডক্টর ইউনুসকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং প্রয়াত পিতা শেখ মুজিবের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন শেখ হাসিনা। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার কারণে মাইক্রো ক্রেডিট ও ইউনুস নামের আড়ালে চাপা পরে যাচ্ছে শেখ মুজিবের নাম, তাই দৃশ্যপট হতে এ ব্যক্তির প্রস্থান জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে শেখ পরিবারের জন্যে। রাস্তাঘাট, পয়ঃপ্রণালী সহ এমন কোন স্থাপনা নেই যার নামকরণ করা হয়নি বঙ্গবন্ধু অথবা শেখ মুজিব নামে। প্রতিদিনের মত আজও একটা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হল জাতীয় এই নেতার নামে, এ যাত্রায় ২৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ের মেরিটাইম ভার্সিটি। ৫০ হাজার কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু এয়ারপোর্ট ছাড়াও হাজার হাজার কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ঝুলছে পাইপ লাইনে। সবকিছুতে থাকলেও বঙ্গবন্ধু নামের ব্যাংকের অভাব অনুভব করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মিশনের অংশ হিসাবে গ্রামীন ব্যাংকের নাম পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু ব্যাংক রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন প্রধানমন্ত্রী। ৯০ লাখ গ্রাহক, পরিবার প্রতি গড়ে ৩ জন করে ধরলেও ২ কোটি ৭০ লাখ স্বদেশি, পিতার নাম অমর করার এমন একটা মহা সুযোগ হারাতে রাজী নন কন্যা শেখ হাসিনা। প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে শুধু দেশে নয় পৃথিবীর পথে-প্রান্তে ছড়িয়ে পরবে পিতার নাম। যারা খবরটা পড়েননি তাদের অবগতির জন্যে জানাচ্ছি লন্ডনের ’ম্যাদাম তুসো’ জাদুঘরে পিতার মোমের মূর্তি স্থাপনের লবি করছেন কন্যা শেখ হাসিনা।

সিন্ডিকেটেড অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকার মত শক্তি জন্ম নেয়নি বাংলাদেশে, নিকট ভবিষ্যতেও জন্ম নিবে বলে মনে হয়না। বিদেশি বন্ধু নিয়ে ডক্টর ইউনুস এ দৌড়ে খুব একটা এগুতে পারবেন বলে মনে হয়না। রাজনীতির সুবিধাভোগী প্রচার মাধ্যম আর উচ্ছিষ্টখোর বুদ্ধিজীবীদের পাহাড় সমান বাধা অতিক্রম করার মত মেধা, শক্তি আর ধৈর্য্য কোনটা-ই নেই ডক্টর ইউনুস চরিত্রে। গ্রামীন ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশে টিকে থাকতে চাইলে ডক্টর ইউনুসকে নতুন একটা নোবেল পেতে হবে, আর তা হল নিঃশর্ত দাসত্ব। এ ধরণের একটা নোবেল পাওয়ার আগ পর্যন্ত ডক্টরের উচিৎ হবে সন্মান নিয়ে বাংলাদেশ হতে কেটে পরা।

Comments

Listen to 80 lakh owners

The government should heed the calls of 80 lakh Grameen Bank shareholders and let a democratic process determine how the organisation will be run, eminent economist Rehman Sobhan said yesterday.

"If you respect democracy, the prime ownership rests with the principal shareholders of the organisation. This is the simple proposition you have to keep in your mind -- what do 80 lakh owners want in the organisation," he said.

"Address their needs. Are they complaining about how the organisation is being run? Let the democratic process decide how the activities of the organisation should be conducted."

"All organisations respond to democratic mandate through the instrument of ownership and accountability, with the principal accountability comes through the process of who own it. The whole thing has to be done through the democratisation of ownership," Sobhan said.

He made the remarks at a roundtable on "Microcredit and Poverty Alleviation" organised by leading Bangla daily Prothom Alo at its office in the capital.

The comments came days after the government removed Prof Muhammad Yunus from Grameen Bank -- a move considered by many as a plot to take control of the country's most prestigious organisation.

The economist said there are many misgivings about the concept of microcredit, and the notion that microcredit is supposed to alleviate poverty is pointless.

He mentioned the government spends 30 to 40 percent of its annual development budget for poverty alleviation and said, "You can easily measure the government's investment in the area in the last 20 to 30 years and the reduction in poverty. Then you will reach a conclusion for who is responsible for what."

"In this circumstance, we are now caught in a totally ridiculous discussion. What you have to do is to put it into perspective."

Sobhan said microcredit creates opportunity for people to get out of extreme poverty.

"The lesson should be what would be our direction from here. This is a 30-year-old sector and a lot of significant changes have taken place."

Sobhan said the great contribution of Grameen Bank is that it recognises the ownership of its shareholders.

"The government contributed Tk 1.8 crore out of Tk 53 crore of capitalisation of an organisation, and now claims to be the supreme owner of the organisation," he said.

Former Bangladesh Bank governor Salehuddin Ahmed said there has been a microcredit boom in Bangladesh, as the poor did not have any access to finance.

"Many programmes and projects were taken to help the poor in the past, but nothing worked."

"The sector is very disciplined and everyone should think what would have happened if microcredit had not existed. Its impact can only be felt but can not be measured easily by index," he said.

SR Osmani, professor of economics at the University of Ulster, said the ongoing discussion on microcredit in the media is misleading.

"They talk about high interest rates. But they never consider that commercial banks do not want to lend money to the poor and will not be able to do so even if they want to."

"It will be pointless to compare interest rates between microfinance institutions and commercial banks."

Osmani countered the claim that microcredit borrowers have been continuing loans for years and said, "The same happens in the formal sector, where entrepreneurs continue bank loans as long as they are alive. Then, why is this double standard?"

He came down hard on the critics of the concept of microcredit, who say it could not eradicate poverty despite being in practice for three decades in Bangladesh.

"The politicians have been spending thousands of crores of taka for years in the name of poverty alleviation. But we do not see any reduction in the poverty level."

Referring to studies between 1988 and 2008, Osmani said, "Those who participated in microcredit programmes were better off than those who were not involved in any microfinance institutions."

MM Akash, professor of economics at Dhaka University, said the spectrum of interest rates in the sector creates suspicion. If one microfinance institution, such as Grameen, charges 10 percent flat rate, others charge 15 to 20 percent.

"Microcredit Regulatory Authority needs to regulate this."

The economist said differential treatment of microfinance institutions has made a mess in the sector that needs to be cleared.

Hossain Zillur Rahman, former adviser to a caretaker government, said Grameen Bank has been unfairly put in the dock on various grounds.

"We see a major danger in this, as many of our microcredit-related achievements such as girls' enrolment in schools will be questioned," he said.

Binayak Sen, research director of Bangladesh Institute of Development Studies, said the government spends Tk 27,000 crore for poverty alleviation every year.

"This has been going on for years. But we do not see any dramatic change in poverty alleviation," he said.

Prothom Alo Editor Matiur Rahman also spoke at the roundtable.
News Source:
The Daily Star
Topics:

* Metropolitan

শান্তিতে নোবেল পাওয়া উচিত ছিল শেখ হাসিনা ও সন্তু লারমার

বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, শান্তির জন্য বাংলাদেশের কেউ নোবেল পুরস্কার পেলে শেখ হাসিনা ও সন্তু লারমাই পেতে পারেন। শান্তির জন্য দুই ব্যক্তির নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত। একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অপরজন পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা। যেখানে (পার্বত্য চট্টগ্রামে) জনগণ যেতে পারত না, তারা সেখানে শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন। চুক্তি করে দেশের মানুষকে একটি রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাত থেকে রক্ষা করেছেন।
গতকাল নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রিট আবেদন খারিজ হওয়ার পর নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য যদি কাউকে ধরা হয় তা হলে শেখ হাসিনা ও সন্তু লারমাই যোগ্য ব্যক্তি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, শেখ হাসিনা ও সন্তু লারমা নোবেল পুরস্কার পাননি বলে শান্তির জন্য তারা যে অবদান রেখেছেন তার স্বীকৃতি পাবেন না? নোবেল পাননি বলে তাদের শান্তিচুক্তির স্বীকৃতি মিলবে না এমন নয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদার তেরেসা শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পান। কিন্তু তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার খায়েশ দেখাননি। আদালতের আদেশের পর নোবেল পুরস্কার অবৈধ হয়েছে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, নোবেল পুরস্কারের সাথে আদালতের আদেশের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে নোবেল পুরস্কার পেলেই কারো অবৈধ কাজ বৈধ হয়ে যায় না। ড. ইউনূসের সাথে গ্রামীণ ব্যাংককেও নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে, এমন এক প্রশ্নের উত্তরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালতের আদেশের সাথে নোবেল পুরস্কারের কোনো সম্পর্ক নেই। এ ছাড়া ন্যায়বিচার পাবেন না বলে ড. ইউনূসের আইনজীবীদের আশঙ্কা সম্পর্কে তিনি বলেন, আদালত সঠিক আদেশ দিয়েছেন।

Is this the way to treat our Nobel laureate?

Mahfuz.Anam

So after all the talk of “blood sucking” and “siphoning off billions” the real guilt of our one and only Nobel laureate and globally admired microcredit pioneer and Grameen Bank (GB) founder, is that he is too old to continue as the managing director and that his reappointment was not endorsed by the Bangladesh Bank.

Did he become too old yesterday or in the recent past? Prof Muhammad Yunus is now more than 70 years old. So what was the Bangladesh Bank, the finance ministry and the several governments that came and went in the meantime, doing for all these years? Why was the so-called irregularity in his reappointment not corrected earlier? Why the process was not challenged either administratively or in the court of law? Why something that was not an issue for ten years, has suddenly become one?

The answer is simple. The government does want him to go and so he must go. The prime minister made her views clear in a recent press conference when she accused him and microcredit of “sucking the blood” of the poor asserting that “business in the name of the poor will not be allowed”. Suddenly Yunus became a villain and was being denigrated in a section of media with false and highly derogatory propaganda. Absurd cases began to be lodged with even more absurd accusations.

Of course, someday, Prof Yunus will have to relinquish responsibility of leading the bank he founded. If he is intelligent enough to win a Nobel Prize, he must be intelligent enough to know that he cannot be Grameen Bank's MD forever. So his succession is but a natural question. But the way the government has so far proceeded clearly shows its malicious intent based neither on the interest of millions of poor borrowers of GB nor in the interest of its better management but on a political and personal vendetta that will greatly harm the image of Bangladesh and the reputation of microcredit as a poverty alleviation tool.

Since the matter of his reappointment is now in the court we will wait for it to guide us on the legal issues. Our focus today is on what Yunus' work represents.

Ever since the end of the Second World War, numerous attempts were made at poverty alleviation but none caught the imagination of the world as microcredit did. Country after country, spread through all the continents, now practise this particular model of extending credit to the poorest segment of society. From countries in the advanced capitalist world of the West, including the USA, France, Spain to the socialist world including China, monarchies like Saudi Arabia and some Gulf states, several countries of Africa and Latin America have now embraced microcredit. As this model of poverty alleviation spread so did the reputation of Bangladesh and of Yunus with the result that the man and the institution he created won the Nobel Peace Prize bringing boundless pride to our people.

How much microcredit has succeeded in alleviating poverty continues to be debated. But the fact that it has helped the poor in some ways is beyond question. There are many studies that prove it.

Those who argue that microcredit entraps a borrower into a cycle of debt focus on few hundred (may be thousands) failed microcredit users and ignores the millions who have benefited. Today there are more than eight million borrowers of GB alone. Together with other microfinance institutions there are about 20 million borrowers. How many of them have become entrapped into a cycle of borrowing -- may be several thousands. Compared to 20 million what percentage is that? This debate needs to be more fact based rather than ideology or prejudice based.

Financial aspect is only one of the total impacts of Prof Yunus' work. No financial institution before GB placed women at the centre of its work. For Bangladesh it had revolutionary consequences. Yunus gave rural Bangladeshi women access to money which they never had. They proved to be judicious and incisive investors and remarkably dependable borrowers with 99 per cent return rate. With money in their hands, women gained confidence, self respect, and a say in the affairs of the family which had been monopolised by men. They invested well and changed the face of women's participation in rural economy.

While women's movements may have brought gender issues to the fore, it is the work of GB, followed by others later, that transformed our rural women, changing forever their mindset, worldview and leadership ability. If money speaks loud, especially in a setting of poverty, then financial empowerment of women that GB brought about gave louder and louder voice to our women. This led to their greater participation in national and local elections and demanding quota in local bodies.

Most importantly the work of GB and numerous NGOs empowered our women, making them conscious of their rights and thereby stemming the possible rise of fundamentalism in our countryside. There can be no denying of the role of our NGOs in fighting fundamentalism, and GB's central role in this process.

With women at the centre of all its activities, GB led the fight against early marriage, dowry, domestic violence, misuse of fatwa, etc. Through the formation of borrowers' group GB launched a socialisation process that created a fraternity among women who, by standing by each other in times of societal and male oppression, created a type of collective resistance that led to the erosion of rural power structure. No wonder religious extremists always hated NGOs and especially the work of GB.

We have written about women at some length simply because women's emancipation lies at the heart of Bangladesh's future and GB's role in it needs to be fully appreciated.

Under the visionary leadership of Yunus, GB moved into innovative partnerships with global companies like Danone, Adidas, Viola, etc. to provide nutritious yogurt, cheap shoes and safe drinking water at affordable prices. Its stunningly successful partnership has been with Telenor of Norway, leading to the formation of GrameenPhone (GP), by far the most successful mobile company in the country, now the highest taxpaying company at Tk 900 crore annually.

All this Yunus did without a single taka of profit for himself. His salary remains fixed at what he gets as managing director of GB (which is equivalent to that of a secretary of the government, without its perks) and he receives nothing from the nearly two dozen companies he has set up. His office is austere with bookshelves, some wooden chairs and a square desk for himself. He shares his quarters with four other senior GB officials in a small five-storey building, each occupying a floor. Till his Nobel Prize he had no personal transport but used the bank's microbus when moving around. His trademark Grameen check (a home grown handloom product) attire is now a well known global trademark that projects Bangladesh's clothes and designs wherever he goes which, these days, is pretty much everywhere.

We in Bangladesh are always complaining that the world is not recognising our achievements and that international media always focuses on the negative. Well the world recognised Yunus, and the global media have written ceaselessly about him mostly in his praise. Finally when someone takes Bangladesh to the global stage, we 'sack' him, call him a “blood sucker” an “exploiter of poor” and lodge false cases against him. How beautifully we project our country's image!

He has not only received the Nobel Prize, but many other prestigious awards in the world. Perhaps no individual in the recent past has received as many awards and accolades as Prof Yunus. Numerous world famous universities run courses on his work. Many have centres and departments named after him. There is hardly any university of standing that has not asked him to lecture and very few recent gatherings of world leaders where he has not been asked to speak. Few noteworthy bookstores around the world would not have works written by him. The above brief description of Yunus' achievements is an attempt to bring home to the readers the magnificent level to which he has taken Bangladesh. No other individual has done remotely as much to make our country known to the world as Prof Muhammad Yunus did.

Is this the way to treat a man who has brought us so much honour, dignity and recognition?

সাদাসিধে কথা - মুহম্মদ জাফর ইকবাল

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ও বাংলাদেশ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল | তারিখ: ০৫-০৩-২০১১

যাঁরা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস, গ্রামীণ ব্যাংক, বাংলাদেশ সরকার এবং দেশের আইনকানুন নিয়ে নির্মোহ, বস্তুনিষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ আলোচনা পড়তে চান, তাঁদের এ লেখাটি পড়ার প্রয়োজন নেই। এটি সে রকম একটি লেখা নয়, এটি প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে অসম্ভব পছন্দ করে, সে রকম একজন মানুষের অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট একটি লেখা।

আমি প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে অসম্ভব পছন্দ করি এবং তার চেয়ে বেশি সম্মান করি। আমি জানি, এ দেশে আমার মতো এ রকম মানুষের কোনো অভাব নেই। মনে আছে, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার খবরটি পেয়ে আমি আনন্দে কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষের মতো চেঁচামেচি করেছিলাম। ক্রিকেট বাংলাদেশ টিম যখন পাকিস্তান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো টিমকে হারায়, তখন টেলিভিশনের সামনে লাফঝাঁপ দিয়ে আনন্দে চিৎকার করা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু একটি খবর শুনে আনন্দে লাফঝাঁপ দিয়ে চিৎকার করার ঘটনা আমার জীবনে খুব বেশি ঘটেনি। আমার একজন পরিচিত মানুষ নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, সেটি আনন্দের কারণ ছিল না, আনন্দের কারণ ছিল এক ধাক্কায় বাংলাদেশের মর্যাদার জায়গাটি অনেক উঁচুতে উঠে যাওয়াটুকু। যাঁরা জীবনের একটা অংশ বিদেশের মাটিতে কাটিয়ে এসেছেন, শুধু তাঁরাই জানেন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিটিকে বিদেশের মাটিতে কী নিষ্ঠুরভাবে তাচ্ছিল্য এবং অসম্মানের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয় এবং প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস একা সেটিকে কত বড় একটি মর্যাদার আসনে নিয়ে গেছেন।

কিছুদিন আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে বাংলাদেশের ওপর খুব চমৎকার একটা রিপোর্ট ছাপা হয়েছিল, সেখানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মানুষের মানসিকতার স্বরূপ বোঝানোর জন্য লেখা হয়েছিল, পাকিস্তানের জনগণের কাছে জাতীয় বীর হচ্ছেন দুর্বৃত্ত (ৎogue) নিউক্লিয়ার বিজ্ঞানী আবদুল কাদির খান, যিনি বেআইনিভাবে দেশে-বিদেশে নিউক্লিয়ার অস্ত্র চোরাচালানি করেন আর বাংলাদেশের জাতীয় বীর হচ্ছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে দরিদ্র নারীদের সাহায্য করেন।

সেই প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে এ দেশের সরকার খুব ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে হেনস্থা করতে শুরু করেছে। এটি নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এজেন্ডা ছিল এবং আগে হোক পরে হোক, এটি নিশ্চয়ই শুরু হতো। গত ডিসেম্বর মাসে নরওয়ের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান এই হেনস্থাকরণ-প্রক্রিয়া শুরু করার চমৎকার একটা সুযোগ করেছিল। নব্বইয়ের দশকে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া সেই বিষয়টির সূত্র ধরে প্রথমেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে এমন কঠোর ভাষায় কিছু বক্তব্য দিলেন, যেটি শুনে এই দেশের কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন প্রত্যেকটি মানুষ হতবাক হয়ে গেল। আমাদের সংস্কৃতিতে আমরা সম্মানী মানুষের, বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ সম্মানী মানুষের সম্মান রক্ষা করে কথা বলি, তাই প্রধানমন্ত্রীর সেই কথাগুলো এ দেশের অনেক মানুষকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছিল। আমাদের অর্থমন্ত্রী প্রথমে যৌক্তিকভাবে কিছু কথা বললেন, কিন্তু নিশ্চয়ই তখন তাঁকে রূঢ় ভাষায় কথা বলার জন্য চাপ দেওয়া হলো এবং তখন তিনিও একই ভাষায় কথা বলতে শুরু করলেন। সাধারণভাবে বাঁশের চাইতে কঞ্চি বড় হয়ে থাকে, তাই সবচেয়ে কদর্যভাবে কথা বলতে শুরু করল ছাত্রলীগ। তাদের কথাগুলো লেখার মতো নয়, যত দূর মনে পড়ে, তারা নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেওয়ার হুমকিও দিতে থাকে। মৌখিক খিস্তির পর আমরা রাষ্ট্রীয় হেনস্থার স্বরূপটি দেখতে পেলাম। বাংলাদেশের আনাচকানাচে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নামে মামলা হতে লাগল এবং আমরা দেখতে পেলাম, প্রফেসর ইউনূস সারা দেশে ছোটাছুটি করে সেই মামলার জামিন নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যে মানুষটি সারা পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানী মানুষদের একজন, তাঁকে তাঁর দেশের সরকার এ রকমভাবে অসম্মান করতে পারে, সেটি নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস হতে চায় না। আজকের (বৃহস্পতিবার) খবরের কাগজে দেখেছি, সরকার তাঁকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অপসারণ করেছে। আমি নিশ্চিত, সরকারের পক্ষ থেকে নানা রকম আইনকানুন দেখানো হবে, কিন্তু পুরো বিষয়টি এমনভাবে ঘটে এসেছে যে, আমি বাজি ধরে বলতে পারি, এ দেশের সাধারণ মানুষ আর সেগুলো বিশ্বাস করবে না। তারা ধরেই নেবে, এটি হচ্ছে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্থা করার আরও একটি ধাপ, শত হাইকোর্ট দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে তাদের বিশ্বাস থেকে টলানো যাবে না।

এ খবরটি অবিশ্বাস্য দ্রুততায় এবং অবিশ্বাস্য গুরুত্বের সঙ্গে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে। বেশ কয়েক বছর আগে জেএমবি যখন সারা দেশে একসঙ্গে বোমা ফাটিয়েছিল, তখন দেশের খুব বড় একটা ক্ষতি হয়েছিল, পৃথিবীর অনেকেই ধরে নিয়েছিল, আমাদের দেশটি বুঝি জঙ্গিদের। অনেক দিন পর আবার দেশের খুব বড় একটা ক্ষতি হলো, সারা পৃথিবী ধরে নিল, এ দেশের সরকার হচ্ছে অকৃতজ্ঞ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ। যে মানুষটি এ দেশের মর্যাদা সারা পৃথিবীর সামনে উঁচু করেছেন, এ দেশের সরকার তার পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করছে তাঁকে অসম্মান করার জন্য!

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়। এর পক্ষে-বিপক্ষে অনেক মানুষ। আমাদের সবারই ইচ্ছে, এ বিষয় নিয়ে গবেষণা হোক, তথ্য-উপাত্ত দিয়ে যুক্তিপূর্ণ আলোচনা হোক এবং ভেতরের সত্যটুকু বের হোক। কতটুকু আশার ব্যাপার, কতটুকু স্বপ্ন, কতটুকু বাস্তব এবং কতটুকু অবাস্তব, সেই তথ্যগুলো আমাদের সামনে প্রকাশিত হোক, কিন্তু তার মানে কি এই বিষয়ের স্বপ্নদ্রষ্টাকে অসম্মান করা হবে? এবং এত স্থূলভাবে?

সত্তর ও আশির দশকে বাংলাদেশ পৃথিবীর সামনে পরিচিত হতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। এই সরকার বিশ্বাস করুক আর না-ই করুক, এই দশকে পৃথিবীতে বাংলাদেশ পরিচিত হয় প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে দিয়ে। কাজেই যখন এ দেশে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে অসম্মান করা হয়, তখন যে বাংলাদেশকেই পৃথিবীর সামনে অসম্মান করা হয়, সেই সহজ কথাটি কি এই সরকারের ভেতর কেউ জানে না?

প্রকাশ্যে থুথু ফেলা অশোভন কাজ। যদি ফেলতেই হয়, তাহলে নিচের দিকে ফেলতে হয়। কখনোই ওপরের দিকে কাউকে লক্ষ্য করে থুথু ফেলতে হয় না। তাহলে অবধারিতভাবে সেই থুথু নিজের মুখের ওপর এসে পড়ে।
এই সরকার কি জানে, তারা মুখ ওপরের দিকে করে থুথু ফেলছে?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: লেখক। অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রথম আলো- http://www.prothom-alo.com/detail/date/ … ews/135872

Govt stake comes down to 3.5pc

A debate over the ownership of the Grameen Bank is brewing, as the finance and foreign ministers have repeatedly claimed Grameen is a government institution.

A question about the government's stake in the bank came to the fore after the "removal" of Nobel laureate Prof Muhammad Yunus from the post of its managing director.

Grameen Bank website shows the bank's borrowers own 95 percent of the bank's total equity. The remaining five percent belongs to the government, which can obtain up to 25 percent stake in Grameen as per the law.

However, Grameen in a statement yesterday said the government's share in the bank has come down to 3.5 percent.

The question arises whether the government can claim the bank to be one of its organisations.

The present government, which holds only three seats in the 12-member Grameen board, now behaves as if Grameen is a state-controlled bank, not owned by its eight million borrowers.

Dr Salehuddin Ahmed, who headed Bangladesh Bank for four years until May 2009, sees no reason why the government should claim the Grameen Bank as one of its institutions.

“You cannot call it a government institution. It was set up by the government under a special act,” said Ahmed.

He said the bank is a legal entity, not a government institution.

A look into the Grameen's capital base and the government stake in it can clarify the matter.

When the bank was established in 1983 with a paid up capital (equity) of Tk 3 crore, the government's share in it was Tk 1.8 crore or 60 percent. Borrowers of the bank owned the remaining 40 percent, half of which belonged to female borrowers, according to the Grameen Bank Ordinance 1983.

The government in an amendment in 1986 raised the paid up capital to Tk 7.2 crore without subscribing proportionately to its ownership, reducing its stake to 25 percent. The rest belonged to the borrowers of the bank.

Over the years, the bank has increased its paid up capital that went up to over Tk 52 crore at the end of 2009 from Tk 35.8 crore the previous year.

The bank's paid up capital was Tk 31.8 crore in 2007 and Tk 26.95 crore in 2000.

“Grameen Bank has increased its paid up capital almost every year. But the government did not subscribe. So its shares have come down gradually and now stands around 5 percent,” said a senior central bank official.

Government high-ups quite often mention that the Grameen Bank was established by a 1983 ordinance, a special law.

“As per the law, the government has some sort of role in the bank. But it cannot control or claim the bank's ownership,” said the former governor of Bangladesh Bank.

The central bank on Wednesday issued a letter on Yunus' removal from the post of managing director of Grameen Bank for violating one of the statutes.

Wishing anonymity, a top Bangladesh Bank official said they could do nothing as the government wanted Yunus to quit the Grameen Bank he founded in 1976.

Both Grameen and Yunus have expanded well beyond banking. Yunus founded nearly 25 companies in many sectors -- energy, telecom, education, fisheries, dairy, software, internet, knitwear and fashion -- all of which aim at improving the living condition of the poor.

In 2006, Yunus and Grameen Bank received the Nobel Peace Prize for their efforts at economic and social development.

২০১০ সালেই সরে যেতে চেয়েছিলেন ইউনূস

স্টাফ রিপোর্টার: ২০১০ সালেই গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে সরে যেতে চেয়েছিলেন নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস। ওই বছরের ১৫ই মার্চ তিনি এ নিয়ে অর্থমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন চিঠিটি হুবহু এখানে তুলে ধরা হলো-
প্রিয় মোহিত ভাই, আপনার হাত দিয়েই গ্রামীণ ব্যাংকের জন্ম হয়েছিল। এখন এই ব্যাংকের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশের সময় এসেছে। আমাকে এর পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরে আসতে হবে। দ্বিতীয় প্রজন্মের হাতে এর দায়িত্বভার তুলে দিতে হবে। এটা মসৃণভাবে হতে হবে। এ কাজটা আপনাকেই করে দিতে হবে। আমি সৌভাগ্যবান যে, এই দায়িত্বটা আপনার ওপর বর্তেছে। এই প্রক্রিয়া নিম্নলিখিতভাবে শুরু করা যেতে পারে।
আগামী ২৬শে এপ্রিল বর্তমান চেয়ারম্যান তবারক হোসেনের মেয়াদ শেষ হবে। একে উপলক্ষ করে আমরা ট্রানজিশান প্রক্রিয়া শুরু করতে পারি। তার শূন্যপদ আমরা এভাবে পূরণ করতে পারি।
বিকল্প ১
জনাব তবারক হোসেনের মেয়াদ ৩১শে ডিসেম্বর, ২০১০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো যায়। সে সময় আমি অবসর নেবো এবং আমাকে ১লা জানু. ২০১১ তারিখ থেকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া যায়। তাতে পড়হঃরহঁরঃু বজায় থাকবে। হঠাৎ করে গ্রামীণ ব্যাংকের লোকজন ভয় পেয়ে যাবে না আমি অতীতেও কয়েকবার অবসর নেয়ার চেষ্টা করেছিলাম। এতে ব্যাংকের সর্বত্র একটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমান উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। নূরজাহান বেগম, বর্তমান উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক একজন দক্ষ কর্মকর্তা এবং গ্রামীণ ব্যাংকের জন্মলগ্ন থেকে সে এর সঙ্গে আছে।
বিকল্প ২
জনাব তবারক হোসেনের দায়িত্বকাল বাড়াতে আপত্তি থাকলে নিচের যেকোন একজনকে এক বছরের জন্য চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া যায়। আমার পছন্দের ক্রমানুসারে নামগুলো এভাবে সাজালাম:
১) জনাব সায়ীদুজ্জামান
২) ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী
৩) খালেদ শামস
এপ্রিল, ২০১১ তারিখে এর মেয়াদ শেষ হলে আমাকে চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হবে। নূরজাহান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
বিষয়টি আপনাকে ব্যাখ্যা করে বলার জন্য দেখা করার সুযোগ খুঁজছি।
গ্রামীণ ব্যাংক নিজস্ব নিয়মে গড়ে উঠেছে। প্রায় ৪ কোটি মানুষের ভাগ্যের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠান সরাসরি জড়িত। এই প্রতিষ্ঠানের ট্রানজিশান সুন্দর ও মসৃণভাবে করা এটা আমাদের একটা বড় দায়িত্ব।
আপনার সহযোগিতায় এই দায়িত্ব সুন্দরভাবে আমরা পালন করতে পারবো বলে আশা করি।
আমার শুভেচ্ছা নিন।
http://www.mzamin.com/index.php?option=com_content&view=article&id=4235:...

জোবরা গ্রামের

জোবরা গ্রামের ইউনূস

০০ইত্তেফাক রিপোর্ট

১৯৭৬ সালে মাত্র কয়েকশত টাকা দিয়ে চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামের দরিদ্র মহিলাদের জামানতবিহীন ঋণ দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক নামে যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, আজ দেশে তার ঋণগ্রহীতা প্রায় এক কোটি মানুষ। এই ঋণগ্রহীতাদের ৯৮ শতাংশই আবার দুস্থ ও অসহায় নারী। ১৯৭৪ সালে তিনি প্রথম দারিদ্র্য বিমোচন কাজে এগিয়ে আসেন। তিনি লক্ষ্য করেন, অতি সামান্য ঋণ একজন দরিদ্র ব্যক্তির বেঁচে থাকার সামর্থ্যে উলেস্ন্লখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। চালচুলোহীন নিঃস্ব ব্যক্তির যে ঋণের প্রয়োজন থাকতে পারে এবং ঋণ পেলে সে তার অবস্থা পাল্টে যথাসময়ে সে ঋণ পরিশোধ করতে পারে অধ্যাপক ইউনূস তা প্রমাণ করেছেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৪০ সালে চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মুহাম্মদ দুলা মিয়া ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। মায়ের নাম সুফিয়া খাতুন। স্ত্রী আফরোজী ইউনূস। তার দুই মেয়ে মনিকা ইউনূস ও দীনা আফরোজি। ড. ইউনূস চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল ও চট্টগ্রাম কলেজে পড়াশোনা করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে বিএ ও ১৯৬১ সালে এমএ পাস করেন। ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে তিনি ১৯৭০ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেন ভ্যানডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পরে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন।

অসংখ্য পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন ড. ইউনূস। এর মধ্যে র্যামন ম্যাগসাইসাই (১৯৮৪), আগা খান অ্যাওয়ার্ড (১৯৮৯), শ্রীলঙ্কা থেকে মোহামেদ শাহাবেদিন (১৯৯৩), যুক্তরাষ্ট্র থেকে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ (১৯৯৪), প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড (১৯৭৮), কেন্দ্রীয় ব্যাংক অ্যাওয়ার্ড (১৯৮৫), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৮৭), সিওল শান্তি পুরস্কার (২০০৬) উলেস্ন্লখযোগ্য। এই ধারাবাহিকতায় আসে নোবেল শান্তি পুরস্কার এবং এটিই বিশ্বের সর্বোচ্চ পুরস্কার।

বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ঋণ দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালে ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে ব্যাংকটি বাংলাদেশে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ টাকা ঋণ দিয়েছে। ঋণ পরিশোধ নিশ্চিত করতে ব্যাংক এলাকাবাসীর মধ্য থেকে ছোট ছোট দল গঠন করে দেয়। তারাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে কিস্তির টাকা আদায় করে। তবে এই ঋণ আদায় নিয়ে কিছু বিতর্কিত কাজ হয়েছে। ঋণ শোধ করতে না পারায় ঋণগ্রহীতাদের গোয়ালের গরু, খাঁচা থেকে মুরগি ধরে নিয়ে কিস্তির টাকা আদায়ের বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ রয়েছে।

তবে ছোটোখাটো এসব অভিযোগ ছাপিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্যে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো অনুপ্রাণিত হয়ে এর পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। জামানত ছাড়া একজন ব্যক্তিকে ঋণ দিয়ে ঋণদাতা যে ঠকবেন না, এমন অর্থনৈতিক উদ্যোগ দেশে দেশে, বিভিন্ন মহাদেশে, পুঁজিবাদ থেকে সাম্যবাদ বিভিন্ন মেরুর দেশে মানুষের মনে কৌতূহল জাগিয়েছে এবং মহাউৎসাহে তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মতো শিল্পোন্নত দেশও গ্রামীণ ব্যাংকের আদর্শ অনুসরণে উদ্যোগী হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র অর্থায়ন মডেল চালু হয়েছে। বিশ্বের সব মহাদেশেই এর কার্যক্রম আছে। অনেক দেশেই ক্ষুদ্র ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। গ্রামীণ ব্যাংকের ৯৬ শতাংশ ঋণই দেয়া হয়েছে দারিদ্র্যপীড়িত নারীদের, যারা গোটা পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী রোজগারে পুরুষদের চেয়ে বেশি তৎপর।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে এক অসামান্য গৌরব ও সম্মানের অধিকারী হয়েছে বাংলাদেশ। এমন গৌরবের মুহূর্ত বাংলাদেশের জীবনে আর কখনো আসেনি।

রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিমালিকানাধীন কোনো ব্যাংকই দরিদ্র মানুষকে ঋণ দেয় না, কারণ চিরকাল মনে করা হয়েছে যে, দরিদ্র মানুষ ঋণ পাওয়ার যোগ্য নয়, তারা ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই ধারণাকে মিথ্যে প্রমাণ করে দিয়েছেন। গ্রামীণ ব্যাংক এই সত্য প্রতিষ্ঠা করেছে যে, দরিদ্র মানুষের ঋণ পাওয়ার অধিকার আছে এবং তাদের ঋণ দিলে তারা সময়মতো তা পরিশোধ করতে পারে।

দেশের জন্য সম্মান এনে তিনি পেলেন অসম্মান...

দারিদ্র্য আর দৈব-দুর্বিপাকের দেশ হিসেবে যে বাংলাদেশকে চিনত আন্তর্জাতিক বিশ্ব, সেই বাংলাদেশই পেল নোবেল পুরস্কার। বিশ্বে বাংলাদেশের নতুন পরিচিতি— ‘নোবেল পুরস্কারের দেশ’। রাতারাতি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ল বাংলাদেশের পজিটিভ ইমেজ। আর বাংলাদেশের জন্য এই বিরল সম্মান যিনি বয়ে আনলেন তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বলা হয়ে থাকে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন এই নোবেল পুরস্কার লাভ। বাংলাদেশের মতো একটি গরিব দেশও যে বিশ্বকে পথ দেখাতে পারে এ পুরস্কার তারই স্বীকৃতি। ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির সাফল্যের জন্য গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূস নোবেল পুরস্কার পান। বাংলাদেশের সাকসেস স্টোরি ক্ষুদ্রঋণদান কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়ে দেশে দেশে। কিন্তু যে মানুষটি বাংলাদেশকে সম্মানিত করলেন, তাকে আজ অসম্মানের শিকার হতে হচ্ছে। সরকার হঠাত্ ক্ষুদ্রঋণের এই জনককে তারই প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক থেকে সরিয়ে দেয়ার চিঠি দিয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস একদিনে গড়ে ওঠেননি। তার গ্রামীণ ব্যাংকও প্রতিষ্ঠিত হয়নি হঠাত্।
এজন্য অনেক সংগ্রাম ও শ্রম ব্যয় করতে হয়েছে। ছেলেবেলা থেকে বেড়ে ওঠা পর্যন্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জীবন এবং তার কাজ সম্পর্কে জানলেই জানা যাবে সেই কাহিনী।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাবার নাম হাজী দুলা মিয়া সওদাগর, মা সুফিয়া খাতুন। তার বাবা বেশি পড়াশোনা করেননি। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছেন। এর পরই দাদা তাকে ব্যবসায় ঢুকিয়ে দেন। তার দাদার নাম হাজী নজু মিয়া সওদাগর। মা সুফিয়া খাতুন পড়েছেন চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত। মায়ের বিয়ে হয়েছিল ১৩ বছর বয়সে। ১৯৪০ সালের ২৮ জুন ড. ইউনূসের জন্ম। এর পর মা-বাবা তাকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে আসেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৪ সালে চট্টগ্রাম শহরে জাপানি বোমা পড়লে একটি দালানের কিছু অংশ ভেঙে পড়ে। এরপর তার মা-বাবা ভয় পেয়ে আবার চলে যান গ্রামে, ১৯৪৫ সালে। গ্রামের প্রাইমারি স্কুলেই শুরু হয় তার লেখাপড়া। স্কুলের নাম মহাজন ফকিরের স্কুল। বাড়ির পাশেই ছিল স্কুল। দু’বছর এ স্কুলে পড়ার পর তার বাবা আবার তাদের নিয়ে চট্টগ্রাম চলে যান। তাকে ভর্তি করা হয় চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের লামার বাজার প্রাইমারি স্কুলে। স্কুলটি ছিল চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত। প্রাইমারি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালের মধ্যে তিনি প্রথম হয়ে গেলেন। এরপর ভর্তি হলেন চট্টগ্রাম এমই স্কুলে। সেখানে ফাইভ ও সিক্স ক্লাসে পড়েছেন। বৃত্তি পরীক্ষা দিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জে প্রথম হলেন। বাবা চট্টগ্রাম মুসলিম হাইস্কুলে ভর্তি করাতে চাইলেও শিক্ষকদের পরামর্শে তাকে ভর্তি করা হয় চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে। এরই মধ্যে দেশ ভাগ হওয়ার পাকিস্তান আন্দোলন চলছে। সেই স্মৃতিও মনে আছে তার। তিনি বললেন— ‘১৯৪৭ সালে পাকিস্তান হয়েছে। পাকিস্তান হওয়ার আগে পাকিস্তান জিন্দাবাদ, লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান ইত্যাদি স্লোগান হচ্ছে। এর মধ্যে আমরাও ছিলাম। সারা উপমহাদেশেই তখন স্বাধীনতা আন্দোলন চলছে।’
কলেজিয়েট স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময়ই ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্কাউটিংয়ে যোগ দিলেন। স্কাউটিং তার ভালো লাগত। অষ্টম শ্রেণীর পরীক্ষা শেষের দিকে পরীক্ষা দিয়ে ১৯৫২ সালে তিনি করাচিতে গেলেন পাকিস্তান জাম্বুরিতে যোগ দিতে। এটাই প্রথম তার বিদেশ ভ্রমণ। স্পেশাল ট্রেনে করে ২৭০ জনের দলে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। এ ট্রেনে করেই সারা পাকিস্তান তাদের দেখানো হলো। তারা দেখলেন ইতিহাসখ্যাত বিখ্যাত হরপ্পা-মহেঞ্জদারোসহ নানা জায়গা। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকেই মেট্রিক পাস করলেন তিনি। ম্যাট্রিকে স্ট্যান্ড করেছিলেন। তখন ৩৯ হাজার ছেলেমেয়ের মধ্যে তিনি ১৬তম স্থান অধিকার করেছিলেন। মজার ব্যাপার হলো ম্যাট্রিক পরীক্ষার ফল বের হওয়ার আগেই বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরিতে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যান তিনি। এবার জাম্বুরিতে গিয়ে দেখবেন কানাডার নায়াগ্রা জলপ্রপাত। কারণ জলপ্রপাতের কাছেই জাম্বুরির স্থান। বাবাকে তিনি বললেন এই সুযোগ তিনি হাতছাড়া করবেন না, বাবাও রাজি হলেন। পাকিস্তান দলে ২৭ জন ছিল। এর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান থেকে তিনজনের মধ্যে ড. ইউনূস একজন। করাচিতে একত্র হয়ে সেখান থেকে বিমানে করে ইংল্যান্ড। এরপর জাহাজে করে নিউইয়র্ক। তখন তার বয়স ১৫ বছর। জাহাজে ১৫ দিন লাগল। নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রথম পৃষ্ঠায় তাদের ছবি ছাপা হয়েছিল। কানাডায় গিয়ে নায়াগ্রা জলপ্রপাতই শুধু দেখেননি ড. ইউনূস, সেখান থেকে লন্ডনে ফেরার সময় জার্মানির ফক্সওয়াগন গাড়ির কারখানা দেখলেন। এ ভ্রমণে ড. ইউনূস যুগোস্লাভিয়া, হল্যান্ড, জার্মানি, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, তুরস্ক, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ইত্যাদি দেশ দেখলেন। এ ভ্রমণ করাচিতে এসে শেষ হয়। এরপর ড. ইউনূস বাংলাদেশের তিন সহযোগীকে নিয়ে ভারত ঘুরতে বের হলেন। দিল্লি, আগ্রা ও কলকাতায় কাটালেন কয়েকদিন।
ম্যাট্রিক পাসের পর ড. ইউনূস ভর্তি হলেন চিটাগাং কলেজে। জড়িয়ে গেলেন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডে। একদিন নাটকের প্রধান চরিত্রে অভিনয়ও করলেন। কলেজে “দু’পাতা” নামে সাহিত্য পত্রিকাও বের করলেন। ‘কোহিনূর’ ছদ্মনামে এক সাপ্তাহিক পত্রিকায় তিনি লিখতেও শুরু করেন।
ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হলেন অধ্যাপক আবদুল করিমের সহযোগিতায়। অধ্যাপক করিমের বাড়ি ছিল চট্টগ্রামে। তিনি এসএম হলের হাউস টিউটর ছিলেন। ১৯৫৭ সালে অর্থনীতিতে তখন তার সহপাঠী ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমদ, মির্জা আজিজ, সাবেক কেবিনেট সচিব সৈয়দ আহমদ, সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমান, হাফিজউদ্দিন খান। কলেজে যে রাজনীতি করেছিলেন তিনি, বিশ্ববিদ্যালয়ে আর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে এনামুল হকের সঙ্গে বের করলেন সাহিত্যপত্র উত্তরণ। এর সহ-সম্পাদক হন তিনি। তখন আলোচিত পত্রিকা সমকাল-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা হলো উত্তরণের। অর্থনীতিতে ১৯৬১ সালে এমএ পাস করার পর কিছুদিন ব্যুরো অব ইকোনমিকসে কাজ করলেন, আরও কাজ করলেন প্রফেসর নূরুল ইসলাম ও প্রফেসর রেহমান সোবহানের গবেষণা সহকারী হিসেবে। এরই মধ্যে প্রভাষক হিসেবে সরকারি চাকরি পান এবং ওই বছরই চিটাগাং কলেজে যোগ দেন।
বাবার ব্যবসা দেখে ওই সময় ড. ইউনূস ভাবলেন এবার শিল্প-কারখানা করা উচিত এবং বাবাকে তিনি একটা শিল্প স্থাপনের কথাও বললেন। ঋণ নিয়ে ছিলেন প্যাকেজেস ইন্ডাস্ট্রি। এরই মধ্যে ফুলব্রাইট স্কলারশিপের বিজ্ঞাপন দেখে তিনি দরখাস্ত করেন। পরীক্ষা দেয়ার পর স্কলারশিপ পেয়ে গেলেন। ফলে ১৯৬৫ সালে চিটাগাং কলেজের শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসার দায়িত্ব বড় ভাইয়ের ওপর দিয়ে তিনি চলে গেলেন আমেরিকার ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে। পিএইচডি শেষ করে ড. ইউনূস ১৯৭০ সালে আমেরিকার টেনিসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা শুরু করেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আমেরিকায় ড. ইউনূস প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে বাংলাদেশ সিটিজেন্স কমিটি করলেন এবং বাংলাদেশের পক্ষে জনমত সৃষ্টির কাজে লাগলেন। বিশ্বখ্যাত স্থপতি ড. এফআর খান শিকাগোতে তখন গঠন করলেন বাংলাদেশ ডিফেন্স লীগ। এর মাধ্যমে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রশস্ত্র যোগান দেয়ার চেষ্টা চালান। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে ১৯৭২ সালে চলে আসেন বাংলাদেশে।
এই শিক্ষা জীবনে ড. ইউনূস কাউকে অনুসরণ না করলেও বলেন, ‘আমার শিক্ষকদের মধ্যে অনেকের প্রভাবই আমার ওপর পড়েছিল। এর মধ্যে চিটাগাং কলেজিয়েট স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী সিরাজুল হক। তিনি তার স্কাউট মাস্টারও ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জর্সেস্কু রোগেন। জীবনে তার মায়ের প্রভাবই বেশি বলে ড. ইউনূস বলেন। বাবা ছিলেন খুবই ধার্মিক মানুষ। ১৯৭২ সালে দেশে আসার পর প্রফেসর নূরুল ইসলাম তাকে জোর করে পরিকল্পনা কমিশনে ঢোকালেন। কিন্তু বেশিদিন এখানে তিনি থাকেননি। যোগ দিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে। এ বিভাগকে গড়ে তুললেন সুন্দরভাবে। ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষে তার মন খারাপ হয়ে যায়। পথে-ঘাটে লাশ আর লাশ। এটা দেখে তার ভালো লাগত না। উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক আবুল ফজল। তাকে বললেন একটা বিবৃতি দিতে। বিবৃতির খসড়া তিনিই তৈরি করলেন এবং উপাচার্য এটাতে সই করলেন। শিক্ষকরাও এটাতে সই করলেন। এটা পত্রিকায় পাঠানো হলে ব্যানার হেডিং হয়েছিল এবং এর মাধ্যমেই প্রথম দুর্ভিক্ষের কথা বলা হলো। এরপর তিনি ভাবলেন দুর্ভিক্ষ সহজে যাবে না, কিছু করা দরকার। ফলে ড. ইউনূস খাদ্য উত্পাদন বৃদ্ধিকে বড় ইস্যু হিসেব নিলেন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জোবরা গ্রামে ‘নবযুগ তেভাগা খামার’ চালু করেন। তেভাগা খামার চালু হয়েছিল ৪০ একর জমিতে। বাড়তে বাড়তে ৬০ একর জমি চাষ হলো। ফসল ফলল। লাভ হলো জমিওয়ালার। এর মধ্যে জোবরা গ্রামে সুফিয়া বেগম নামে একজন মহিলার মোড়া বানানো দেখে তার ভাবনা নতুন মোড় নিল। টাকা নেই বলে সুফিয়া বাঁশ কিনতে পারছিলেন না, মোড়া বানাতে পারছিলেন না। যত মোড়া বানাবে পাইকারের কাছে নির্ধারিত দরে বিক্রি করতে হবে, অন্য কোথাও বিক্রি করা যাবে না। কারণ এ শর্তে পাইকারের কাছ থেকে ৫ টাকা ধার নিয়েছিলেন সুফিয়া। ফলে পাইকারদের মোড়া বানিয়ে দিত সুফিয়া এবং দিনে রোজগার হতো ১০ আনা। তখনই ড. ইউনূস ভাবলেন ৫ টাকা নেই বলে একটা মানুষ এত কষ্ট করে ১০ আনা পাবে মাত্র! সেখান থেকেই বিনা জামানতে ক্ষুদ্রঋণ দেয়ার বিষয়টা তার মাথায় আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জনতা ব্যাংকের শাখায় গিয়ে ম্যানেজারকে তিনি বললেন, ‘ওদের টাকা ঋণ দিন।’ ম্যানেজার তাকে বললেন— ‘এটা তো হয় না, ব্যাংক গরিব মানুষকে টাকা দিতে পারে না। জামানত না থাকলে টাকা ঋণ দেয়ার আইন নেই। অন্য এটি শাখায় গিয়েও একই কথা শুনলেন। এভাবে ৬ মাস ঘুরে নিজে গ্যারান্টার হয়ে জোবরা গ্রামে শুরু করলেন কাজ। টাকা ঋণ নিল জোবরা গ্রামের মানুষ, আবার পরিশোধ করল। ব্যাংক বলল, এক গ্রামে হয়েছে, দুই গ্রামে হবে না। অনেকে বললেন, পাঁচ গ্রামে হবে না। এই করতে করতে ড. ইউনূস এই ঋণ কার্যক্রম আশপাশের গ্রামে করে ফেরলেন। এরপর তিনি কৃষি ব্যাংকের তত্কালীন এমডি আনিসুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে বিনা জামানতে ঋণ দেয়ার প্রস্তাব করলেন। কিন্তু সেখানেও নানা জটিলতা দেখলেন তিনি। অবশেষে একটা প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিতে বলেন তাকে। প্রস্তাব দেয়ার পর কৃষি ব্যাংকের একটা শাখা ড. ইউনূসকে করে দিলেন কিন্তু এর কর্তৃত্ব তাকে দিতে রাজি হলো না ব্যাংকের বোর্ড। এরপর এর নাম দেয়া হলো বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, পরীক্ষামূলক গ্রামীণ শাখা। সেখান থেকেই নানা বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থমন্ত্রী, সরকার, সবকিছুকেই বুঝিয়ে ১৯৮৩ সালের ১ অক্টোবর ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ একটি ব্যাংক হিসেবে জন্মলাভ করে যার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭৬ সালে জোবরা গ্রামে। প্রথমে ৬০ ভাগ এর মালিকানা ছিল সরকারি এবং ৪০ ভাগ গরিবের। ড. ইউনূস বলেছিলেন ১০০ ভাগই গরিবের মালিকানা হোক। কিন্তু তখন হয়নি। পরীক্ষামূলক গ্রামীণ শাখা থেকেই গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্প এবং পরে গ্রামীণ ব্যাংক। প্রথমে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে ৪২ জনের জন্য শুরু হয় কাজ। এরপর ১০০, ২০০, ৪০০ করে ধীরে ধীরে জোবরা গ্রামের ভেতর গ্রামীণ ব্যাংক অগ্রসর হতে থাকে। সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ঋণ গ্রহিতার ৫০ জন নারী হতে হবে। এখানেও বাধা আসে এবং বাধা দূর করা হয়।
৬ বছর লেগেছে শুধু সদস্য সংখ্যা পঞ্চাশ করতে। ১৯৮২ সালে টাঙ্গাইলে গ্রামীণ ব্যাংক পুরুষ ও মহিলার ঋণ নেয়া পঞ্চাশ পঞ্চাশে পৌঁছল। মহিলা ঋণ নিয়ে সঠিক সময়ে ঋণ পরিশোধ করার ক্ষেত্রেও তাক লাগিয়ে দিলেন ড. ইউনূস। আস্তে আস্তে মহিলার সংখ্যা বাড়তে লাগল এবং গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহিতা মহিলা সদস্যের সংখ্যা ৯৫ শতাংশে পৌঁছল। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। ঋণ পরিশোধের হার ৯৯ শতাংশ। ঋণগ্রহিতাদের সঞ্চয় আমানতের পরিমাণও দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের শাখাও প্রায় দেড় হাজার এখন। ব্যাংকের ৯৩ শতাংশ মালিকানা সদস্যদের। আর ৭ শতাংশ সরকারের। গ্রামীণ ব্যাংক প্রতি বছর সদস্যদের ৫ হাজারের বেশি ছেলেমেয়েকে বৃত্তি দিচ্ছে। এরা ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেলেও পড়ছে।
ড. ইউনূস প্রবর্তিত গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৭৬ সালে গ্রামীণ প্রকল্প শুরু করে ব্যক্তিগত টাকায়। এরপর প্রথম ৬ বছর সরকারি ব্যাংকের অর্থে এটা পরিচালিত হয়। ১৯৮২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত দাতা সংস্থাগুলো থেকে ঋণ ও অনুদান নেয়া হয়। ১৯৯৮ সালে সরকারের গ্যারান্টির মাধ্যমে বন্ড ইস্যু করে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। এরপর আর ঋণ বা অনুদানের দরকার হয়নি। ভবিষ্যতেও আর দরকার হবে না। স্থানীয় ব্যাংকের ঋণও শোধ হয়ে গেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থে স্থানীয় গরিব মানুষের উন্নতি ঘটছে। ড. ইউনূসের এটাই এখন তৃপ্তি। গ্রামীণ ব্যাংকের এ ধারণাটি নানা ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত হয়েছে গ্রামীণ চেক, গ্রামীণ মত্স্য, গ্রামীণ ফোন, গ্রামীণ শক্তি, গ্রামীণ তথ্যপ্রযুক্তি ইত্যাদি নানাভাবে। গ্রামীণ ব্যাংকের আওতায় এখন প্রায় ৪০ লাখ পরিবার আছে। বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকের ধারণা নিয়ে আমেরিকাসহ ১০০টিরও বেশি দেশে এখন কাজ চলছে। ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকই সারাবিশ্বে ক্ষুদ্রঋণদান কর্মসূচি ছড়িয়ে দিয়েছে। ঋণ পাওয়ার অধিকার গরিব মানুষেরও যে আছে এটা আজ স্বীকৃত।
ড. ইউনূসের দুই মেয়ে। তার স্ত্রী ড. আফরোজী ইউনূস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। ছোট মেয়ের নাম দিনা। বড় মেয়ে মনিকা ইউনূস একজন গায়িকা। ২৬ বছর বয়সে মেট্রোপলিটন অপেরার সোপ্রাণো হওয়ার সুযোগ লাভ করেন মনিকা। ধ্রুপদী পশ্চিমা সঙ্গীতের ধারায় মনিকা যুক্ত হওয়ার ঘটনায় ড. ইউনূসকে খুব আনন্দ দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ড. ইউনূসের বন্ধু। বিল ক্লিনটন যখন যুক্তরাষ্ট্রের আরাকানসাস অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, তখনই তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের আদলে সেখানে ক্ষুদ্রঋণদান কর্মসূচি শুরু করেন। জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন তার শাসনামলে ড. ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে যান এবং তার সুপারিশ শোনেন। নোবেল পুরস্কার লাভ করার আগে তিনি বিশ্বের আরও নামি-দামি পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাগসেসে পুরস্কার, ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার এবং বাংলাদেশের জাতীয় পুরস্কার।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2011/03/03/70591

জননায়ক এখন সরকারের বোঝা : দ্য স্পিগেল

বুধবার, ০২ মার্চ ২০১১
দশ লাখের বেশি প্রচার সংখ্যা সংবলিত ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম সাময়িকী দ্য স্পিগেল গতকাল ‘বাংলাদেশ তার জননায়ককে মর্যাদা দিতে ব্যর্থ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। হামবুর্গ ভিত্তিক স্পিগেল অনলাইন তাদের প্রতিবেদনের সঙ্গে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আটটি নির্বাচিত আলোকচিত্রও প্রকাশ করে। এতে নেলসন মান্ডেলা, স্পেনের রানী সোফিয়া, বেলজিয়ামের প্রিন্সেস, মাইক্রোসফটের বিল গেটস প্রমুখের সঙ্গে তার ছবি রয়েছে। ওই প্রতিবেদনের মূল সুর হচ্ছে, গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে ড. ইউনূসকে অপসারণ না করা। জার্মান ভাষায় প্রকাশিত পত্রিকাটি লিখেছে, মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য নতুন সঙ্কট। হামবুর্গ ডেটলাইনে লেখা এই প্রতিবেদনের সূচনাতেই লেখা, বাংলাদেশের জনগণের জন্য মুহাম্মদ ইউনূস একজন নায়ক, কিন্তু সরকারের জন্য তিনি একটা বোঝা। সরকার এখন গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠাতাকে অপসারণ করতে চায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চিঠি দিয়ে বলেছে, তার বয়স বড্ড বেশি। তাই তার পদ ছেড়ে দেয়া উচিত। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলেছে, সরকারের টার্গেটের বিরুদ্ধে ইউনূস অবস্থান দৃঢ় করতে পারেননি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক লিখেছে, সরকারি বয়সসীমা ৬০। তিনি ৭০ পেরিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, এখনই তাকে তার পদ থেকে ইস্তফা দেয়া উচিত। তার পরিবর্তে কাউকে না বসানো পর্যন্ত তার ডেপুটি নূরজাহান বেগমের দায়িত্ব পালন করা উচিত।

স্পিগেল অনলাইন এরপর লিখেছে, তাকে উচ্ছেদ করা অযৌক্তিক। ২০০০ সালে গ্রামীণ ব্যাংক বোর্ড তাকে আজীবনের জন্য পদে থাকার ম্যান্ডেট দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, তিনি সেটা কখনও অনুমোদন করেননি। প্রচলিত আইনের দাবি তেমনই। ইউনূস পদত্যাগের প্রস্তাব নাকচ করেছেন। স্পিগেল অনলাইনকে বলা হয়েছে, ইউনূস তার পদে বহাল থাকবেন। গ্রামীণ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা স্পিগেলকে বলেন, ওই চিঠিতে অবশ্য পালনীয় বলে কোন নির্দেশনা নেই। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছোড়া হয়েছে। প্রথমত, দাতাদের না জানিয়ে তার তহবিল স্থানান্তর ঠিক হয়নি। দ্বিতীয়ত, ইউনূস মানহানির মামলায় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন। ২০০৭ সালে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, রাজনীতিকরা দুর্নীতিগ্রস্ত। একজন স্থানীয় রাজনীতিক তাকে সেজন্য চ্যালেঞ্জ করেছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে তার অনুসারী নন, সেটা কোন গোপন বিষয় নয়।

ইউনূস ক্ষুদ্রঋণের পথিকৃৎ। সত্তরের দশকের গোড়ায় তিনি তার নিজ এলাকায় ক্ষুদ্র ঋণে দরিদ্র নারীকে ঋণ দিয়েছিলেন। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তিনি তার মডেল অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে ৯০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষুদ্র ঋণের সুবিধা পাচ্ছে। এর ৯৭ শতাংশ নারী।
উল্লেখ্য, পত্রিকাটি ২০০৬ সালে ইউনূসের নোবেল পাওয়াকে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে উল্লেখ না করে বলেছে, তিনি এবং বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে নোবেল জিতেছিলেন। ক্ষুদ্রঋণ ইতিমধ্যেই দারিদ্র্যবিরোধী সংগ্রামের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
http://www.mzamin.com/index.php?option=com_content&view=article&id=4015:...

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla