Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

হায়েনার অরণ্য

পূর্ব পরিচিত জনৈক ব্লগার ম্যাসেজ দিয়ে খুব সুন্দর একটা প্রশ্ন করেছেন। জানতে চেয়েছেন অতীতের মত কেন এখন দুই মহিলা, দুই পরিবার এবং দুই দলের বিরুদ্ধে সমান ভাবে কলমবাজি করছিনা। কেবল শেখ কন্যা ও তার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লেখালেখির কারণে আমার নামের প্রতি নাকি সুবিচার হচ্ছেনা। ১/১১'র তত্ত্বাবধায়ক আমলে ফেসবুকের প্রসার দূরে থাক বাংলা ব্লগের প্রভাবও ছিল সীমিত। সে সময়টায় আমার সাথে যারা নিয়মিত ছিলেন তাদের কিছুটা অবাক হওয়ারই কথা। উদ্দিনস্‌ গং ও তাদের শাসনের আসল অটোপসি বাজারজাত না হওয়া পর্যন্ত বরবারই সে সময়টার সমর্থক থেকে যাবো। কারণ ক্ষমতার দিগন্তরেখায় ওদের আগমন না ঘটলে স্বদেশী রাজনীতিবিদ ও এর উচ্ছিষ্ট-খোর আমলা, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, রেন্ডির ছাওয়াল বুদ্ধি ব্যবসায়ী, ছাত্র, শিক্ষক, বিচারক, আইনজীবী সাংবাদিকদের কাপড়ের তলায় আকাটা বাল কতটা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল তা কোনদিনই জানা হতনা। বিশেষ করে আমার মত ম্যাঙ্গোদের। শেখ হাসিনার চেকের মাধ্যমে চাঁদাবাজি, বাকের ভাইয়ের খাটের তলার কোটি টাকা, আমানুল্লাহ আমানের বিল গেইটসের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, শেখ সেলিমের মোঘল সাম্রাজ্য, মেম্বার চেয়ারম্যানদের রিলিফ চুরি, কাজের বিনিময়ে খাদ্য সরবরাহ লোপাট, নাজমুল হুদার সস্ত্রীক জমি ডাকাতি, এসব গৌরবময় অধ্যায় কি কোনদিন আলোর মুখ দেখতো তাদের আগমন না ঘটলে? স্বার্থের লড়াইয়ে উদ্দিনরা হয়ত নিজেদের বলি দিয়েছেন, কিন্তু এ ফাঁকে রাজনীতিবিদ নামের একদল চোরের পরিধেয় বস্ত্র উন্মোচন করে কিছুটা হলেও উপকার করে গেছেন। যার কারণে আমরা এখন যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল বুঝতে পারি এ দেশে রাজনীতি কেন এত জরুরি, কেন এত সংঘাতময়। এ পুত ও দুর্গন্ধময় রাজনীতিরই অবিচ্ছেদ্য খেলোয়াড় শেখ হাসিনা।

প্রয়োজনে মাথায় হিজাব, দরকারে মদিনা সনদ, ক্ষণিকের দ্যুতি ছড়াতে মুখে মা দুর্গা, ক্ষমতার সিঁড়ি মসৃণ করতে তত্ত্বাবধায়ক, একই পথ পিচ্ছিল করতে শাসনতন্ত্র সংশোধন, মুখের ভাষায় পায়ুপথের গন্ধ, দেশের রাজনীতি তথা অর্থনীতিকে চোরাগলিতে নিয়ে যাওয়ার একক কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন এই হিংস্র ও ভয়াল মহিলা। একই কাতারে খালেদা জিয়াকে দাড় করিয়ে সুশীল সাজার সুযোগ নেই এ মুহূর্তে। আজকের ক্রাইসিস শেখ হাসিনার একক সৃষ্টি এবং এর পুরো দায়-দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। যানবাহনে যাত্রীদের জীবন্ত কাবাব বানিয়ে ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করার সম্ভাবনা এ মহীয়সীরই আবিষ্কার। মানব বি-বি-কিউ'র স্বাদ কেবল তিনি একা ভোগ করবেন আর বাকিরা দূর হতে তালি দিয়ে ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা হয়ে বেঁচে থাকবে এমনটা আশাকরা হবে অবাংলাদেশি বাস্তবতা। রাজনৈতিক ক্ষমতা হাতে পেয়ে ভাগ্য চাকায় চাবি লাগানোর যে তন্ত্রমন্ত্র তা অনেক আগেই আবিষ্কার করে গেছেন উনার স্বনামধন্য পিতা শেখ মুজিবর রহমান। একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রের গোড়াপত্তনের মূল নায়কও এই বহুমুখী স্বৈরশাসক। পিতা নামের মুকুট মাথায় নিয়ে এতটাই বিমোহিত ছিলেন জানতে চাননি কম্বল চোরদের পরিচয়। খুন, গুম আর বিনা বিচারে নাগরিকদের জবাই করে দম্ভ করার সংস্কৃতি এ দেশে কোন কালেও চর্চা হয়নি। শেখ মুজিব সেই শাসক যার হাত ধরে বিস্তার লাভ করেছে এ অন্ধকার দিক। স্বাধীনতা প্রাপ্তির চার বছরের মাথায় মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় জগদ্দল পাথর চাপিয়ে দিয়েছিলেন জাতির বুকে। সে পথ পরিষ্কার করতে গিয়ে জাতিকে বরণ করতে হয়েছিল সামরিক স্বৈরশাসকদের। এরশাদের মত জাত চোর ক্ষমতার গদিতে নয় বছর আসীন ছিল তার দায়-দায়িত্ব কি আওয়ামী লীগের নয়? আজকে কথায় কথায় আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে প্রতিপক্ষ বিএনপির জন্ম নাকি সেনা-ছাউনিতে। কেন এবং কার কারণে দলটার জন্ম হয়েছিল এ প্রশ্ন কি কোনদিন করে দেখেছেন আওয়ামী গং'রা? দেশকে চুরি চামারির চারণভূমি বানানোর একক লাইসেন্স কেউ দেয়নি শেখ মুজিবকে। চুরিই যদি আমাদের বেঁচে থাকার অন্যতম মাধ্যম হয়ে থাকে তাহলে সে চুরিতে সবার সমান অধিকার থাকাটা ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিচারে বাংলাদেশের আসমান জমিনের সবকিছুতে তাদের অধিকার ঈশ্বর প্রদত্ত এবং এ অধিকার নিয়ে যারাই প্রশ্ন তুলবে হয় তারা স্বাধীনতা শত্রু অথবা চেতনার পরিপন্থী এবং তাদের সশরীরে নির্মূল করা তাদের জন্মগত অধিকার। বাবার অসমাপ্ত বাকশাল মিশন সমাপ্ত করার 'পবিত্র' দায়িত্ব নিয়ে এ যাত্রায় ক্ষমতা জবরদখল করেছেন শেখ হাসিনা। এবং জোর গলায়ই বলছেন আগামী চল্লিশ বছর ক্ষমতা ধরে রাখার।

বেগম খালেদা জিয়া এবং তার দলও ধোয়া তুলসীপাতা নয়। ক্ষমতার মানসসরোবরে তারা কিভাবে অবগাহন করেছিলেন তার ইতিহাস এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়ার কথা না। পার্থক্যটা হচ্ছে খালেদার খাম্বা চুরির তুলনায় হাসিনার ব্যাংক, বীমা, সেতু, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, গ্যাস সহ দেশীয় অর্থনীতির সবকটা প্রতিষ্ঠানকে চুরির ভাগার বানানোর অপরাধ হিমালয় সমান। তাই খালেদা জিয়ার ব্যর্থতা ও অপরাধ দিয়ে শেখ হাসিনার অপরাধ পবিত্র করার অবকাশ নেই। একবিংশ শতাব্দীর গোঁড়ায় দাড়িয়ে আমরা এসব অন্যায় ও অপরাধ কোন ভাবেই মেনে নিতে পারিনা। এবং তা যদি হয় আগামী চল্লিশ বছরের জন্য। হাসিনার কৃত অপরাধের শাস্তি চাওয়া মানেই খালেদার পক্ষাবলম্বন নয়। শেখ হাসিনা তার বাবার মতন আবারও আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। প্রতিপক্ষকে শারীরিকভাবে নির্মূলের অভিযানে নেমেছেন। এ মুহূর্তে আমাদের প্রধান কাজ হবে জাতির বুক হতে এ হায়েনাকে নামানো। হতে পারে খালি বুকে খালেদা গং'রা চেপে বসবে এবং নতুন করে রচনা করবে দেশ শাসনের কলঙ্কিত অধ্যায়। আমরা কলমবাজরা শেখ হাসিনার বিদায়ের সাথে থেমে যাচ্ছিনা। একই কলম নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরবো নতুন ডাকাতদের বুকে। অন্তত এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি আমার সহ-ব্লগারকে।

Comments

ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা

বিনিয়ামিন

নিচের ছবিতে একটি নীল খাটিয়া দেখা যাচ্ছে; বলুন তো কী আছে ঐ খাটিয়ায়? আপনারা বলবেন- লাশ, একটি লাশ আছে; কিন্তু আমি বলবো ওখানে আরও বড় আরও প্রচন্ড আরও বিস্তৃত কিছু আছে, যা গোপনে দগ্ধ ক'রে হৃদয় ও মগজকে। ছবিটি প্রথম আলো থেকে নেয়া (০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, মঙ্গলবার)।

ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায়, বিনাইল ইউনিয়নের চাপড়া সিমান্তের কাছে, নয়াপুকুর পাড়ে, একটি ধানখেতে। খেতে চারা রোপন করছিলেন এক দিনমজুর, ভোর থেকে, নাম নজরুল ইসলাম (হতভাগাদের নাম খুবই সুন্দর হয়), তাঁর (সম্মানার্থেই চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করেছি) সাথে ছিলো আরও শ্রমিক, তখন সকাল দশটা। গামছার পুঁটলিতে বেঁধে তাঁদের জন্যে খাবার, খাবার মানে মাটন ভূনা চিকেন রেজালা করলা চিংড়ি বেকন টোস্ট নয়, আলুভর্তা ডাল আর মরিচপোড়া, নিয়ে আসেন তাঁদের স্ত্রীরা; তাঁরা খেত থেকে উঠে আসেন আইলে, হাত-মুখ ধুতে যান পুকুরে, আর তখনই ঘটে ঘটনাটি; ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের একদল বর্বর, যাদের কাজ ছিলো দেশমাতৃকার দারোয়ানি ক’রা, বন্দুকের বাট চাটা, চাকুরী না পেলে হয়তো জলপাইগুড়িতে ডাকাতি করতো, শিলিগুড়িতে দালালি করতো হোটেলের, বেটিবাজি করতো কলকাতায়, গু সাফ করতো পুরান দিল্লির মুখার্জি মার্গে, কামলা খাটতো দুবাইয়ে কাতারে লন্ডনে নিউইয়র্কে, গরুপাচার করতো বাংলাদেশে, কমিশনবাজি করতো রিয়েল এস্টেটে, ওরা, ঐ বর্বর মধ্যযুগীয় চামারেরা, হিংস্র চাড়ালেরা, মূর্খ গাড়লেরা, সূতিকাগ্রস্থ বন্দুকীরা, মগজবোঝাই মলেরা, গনোরিয়াগ্রস্থ কলেরারা, স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ৫০ গজেরও অধিক অভ্যন্তরে এসে নিরীহ নিরপরাধ নিরস্ত্র দিনমজুর শ্রমিক খেটে-খাওয়া চাষী নজরুল ইসলামদের দিকে তাক করে বর্বর ভারতী রাইফেলের নল।

দিনমজুরেরা আতঙ্কে তটস্থ, তাঁরা ও তাঁদের ভাত-নিয়ে-আসা স্ত্রীরা ভয়ে কাঁপতে থাকে; কে না কাঁপে উদ্ধত বন্দুকের সামনে? মোদী ক্যামেরন ওবামা হাসিনা হিটলার স্তালিন সাদ্দাম আব্দুল্লাহ কার হিম্মত বন্দুকের সামনে সীনা টান ক’রে দাঁড়ায়?

নজরুল ইসলাম হাতজোড় ক’রে কাঁপতে কাঁপতে গলা শুকোতে শুকোতে পড়ে যেতে যতে জিগ্যেস ক’রে, আপনারা? ব্যস, গর্জে উঠলো কালো কুৎসিত অন্ডকোষহীন একপাল ভারতীয় নেকড়ের বন্দুক, মাটিতে লুটিয়ে পড়লো হতভাগ্য বাংলাদেশি নাগরিক (নাগরিকের মর্যাদা কি কখনো তাঁর ছিলো?) নজরুল ইসলাম (আসলে বাংলাদেশ নিজেই)। তাঁর ডাল আলুভর্তা ভাত মরিচপোড়া চিরকালের হাহাকার নিয়ে পড়ে রইলো খেতের ধারে; বর্বরেরা ছেঁচড়ে হিঁচড়ে, তাঁর স্ত্রীর বুকে কষে বিশমণি লাথি মেরে, গুলির পর গুলি ছুঁড়ে, বাংলাদেশকে রক্তাক্ত ক'রে, নিয়ে যায় তাঁর লাশ, এবং ফেরত দেয় পরেরদিন মঙ্গলবার।

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যন্তরে, একটি বিদেশি দারোয়ানি বাহিনী যখন এই কাপুরুষোচিত বর্বর প্রস্থরযুগীয় হত্যাকান্ডটি ঘটায়, তখন কার যেন চিকন বালে শ্যাম্পু মাখিয়ে ডিম পাড়া মুরগীর মতো তা দিচ্ছিলো আমাদের অথর্ব বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি); যাদের ডিজি কিছুদিন আগেই আমাদের সাবধান করে দিয়েছিলেন, বলেছিলেন- বিজিবির সব অস্ত্রই লিথাল বা প্রাণঘাতী! আমার জানতে ইচ্ছে ক’রে, ফেলানীরা, নজরুল ইসলামেরা, ও আরও অসংখ্য বাংলাদেশীরা, যখন সীমান্তে অসহায় হরিণীর মতো প্রাণ হারায়, তখন আমাদের তাগড়া মাংসল পেশীবহুল জওয়ানদের প্রাণঘাতী লিথাল অস্ত্রগুলো কোথায় থাকে? ওগুলোর শিশ্ন কি তখন উত্থিত হয় না?

সর্বশেষ চীনাসম্রাট হেনরি পুইয়ের কথা মনে পড়ছে; ওঁই বদমাশকে যখন ছেঁচা মেরে গদিছাড়া করা হয়, তখন জাপানীরা তাঁকে মাঞ্চুয়োকোর শাসক (আসলে দালাল শাসক) নিয়োগ ক’রে। মাঞ্চুয়োকো, যা চীনেরই অংশ, ছিলো তৎকালীন জাপান সাম্রাজ্যের ‘পাপেট স্টেট’ বা ‘পুতুল রাষ্ট্র’, এবং এককালের চীনাসম্রাট পুই হয়ে উঠেছিলেন জাপানিদের ঐ পুতুল রাষ্ট্রের পুতুল শাসক।

বিএসএফ কি বাংলাদেশকে ভারতের পাপেট স্টেট মনে ক’রে? শেখ হাসিনা কি বাংলাদেশের পুই হয়ে উঠেছেন? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে।

আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের একটি সুন্দর ভূমিকা ছিলো, যা আমরা বহুবার বহু উপায়ে স্বীকার করেছি, ও শ্রদ্ধা করেছি, এবং এই ঐতিহাসিক অংশটুকো বাদ দিলেও ভারতের সাথে আমাদের একটি নিবিড় সম্পর্ক থাকে; তারা আমাদের প্রতিবেশী, তারা ও আমরা পরস্পরের আপদ-বিপদের ভাই। তাদের সাথে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও পুরনো (যদিও ভারত ভ্রমণের একটি তুচ্ছ ভিসাও তারা বাংলাদেশিদের দিতে চান না, চালু করে রেখেছেন দালালবান্ধব ই-টোকেন বাণিজ্য)। আমি কি আশা করতে পারি, কোনো বাংলাদেশি কি আশা করতে পারে, আমাদের একটি নিরীহ চাষা, নিরীহ বোন, তাদেরই গুলিতে প্রাণ হারাবে? পঙ্গু হবে? তাদের জোয়ানেরা কষে লাথি বসাবে আমাদের বধূদের স্তনে? আমি এটা কল্পনাও করি না, আশা তো অনেক দূরের কথা।

আমি আমার ভারতীয় বন্ধুদের বলতে চাই, আপনারা আমাদের মতোই তৃতীয় বিশ্বের মানুষ (আসলে গোলাম); আপনারা পা চাটেন রুশদের, গোপনে মার্কিনিদের, আর মার খান পাকি ও চীনাদের হাতে। আপনাদের বহু নেতা, যারা অমর হয়ে গেছেন, দিনে ব্রিটিশবিরোধী শ্লোগান দিতো, ও রাতে উইলিয়ামদের সাথে মদ খেতো। আমিরাতে কাতারে সৌদিতে কুয়েতে লন্ডনে ম্যানহাটনে টরন্টোতে বার্লিনে আপনারা এখনও আমাদের মতোই কামলা খাটেন, গোলামি ক’রেন, দাসত্বে ভোগেন। আপনাদের বহু নারী এখনও হোটেলে হোটেলে বাজারে বাজারে স্টেশনে স্টেশনে চিৎ হয়, তলপেট দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ ক’রে, নটিবাজি ক’রে, ট্রেনে বাসে ধর্ষিত হয়। আপনাদের উত্তর প্রদেশ, ঝারখন্ড, পুরান দিল্লি, মাল্লাগুড়ি, তামিলনাডু, এরকম আরও পাঁচশো পাঁচহাজার স্থানে এখনো ঝোপ-ঝাড় প্রথা চালু আছে, আমাদেরও আছে। আমরা চাই না আপনারা দাদাগিরি করুন, অন্তর থেকে ‘ভাই’ শব্দটি লালন করলেই আমরা বেশি খুশি হই।

আমাদের একটি সরকার আছে, যদিও এ-সরকারকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার সুযোগ আমি পাই নি, তাদের কাছে আমার একটি দাবি আছে; তারা কি আমাদের জানাবেন, নজরুল ইসলাম হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে, স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের প্রতিবাদে, ভারতের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেছেন কি না? কিংবা করবেন কি না? আমি জানি এটা করার সাহস শেখ হাসিনার ও তাঁর মন্ত্রীদের এই মুহুর্তে নেই, কারণ ঘোড়ার উপরে বসে তো আর ঘোড়াকে লাথি দেয়া যায় না।

নজরুল ইসলাম, তুমি ভুল দেশে জন্মেছিলে; পরবর্তী জন্মে, যদি কখনো জন্মাও, ভুলেও বাংলাদেশে এসো না। এটি আর আমাদের নেই, এটি ভ’রে উঠেছে দালালে আর দালালে, এটি নষ্ট হয়ে গেছে, এর সমস্ত শরীরে ঘা, বলাৎকারে বলাৎকারে এটি পচে গেছে। কিন্তু একটি দালাল আমরা চাই, যে দালালি করবে বাংলাদেশের, বাংলাদেশের মানুষের, আছেন কি কেউ?

নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৩০ আসনও পাবে না’

আমাদের সময়.কম : ২৯/০১/২০১৫
মারুফ আহমেদ : বিএনপির সঙ্গে সংলাপে যেতে আওয়ামী লীগ কখনোই রাজি হবে না। কারণ তারা জানে বিএনপির সঙ্গে সংলাপ মানেই একটি মধ্যবর্তী, নিরপেক্ষ নির্বাচন। আর নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ নিশ্চিতভাবে জানে তারা সেই নির্বাচনে পরাজিত হবে। বর্তমানে সরকারের ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তার হার এত নিচে নেমেছে যে নির্বাচন হলে তারা এখন ৩০ আসনও পাবে না। বড় জোর ৫০ আসন পাবে।

আমাদের সময় ডটকমকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষৎকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আসিফ নজরুল সরকারের বর্তমান অবস্থান ও সংলাপ বিষয়ে এমন মন্তব্য করেন।

বিশিষ্ট এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরো বলেন, বিএনপি যদি ৫০ লক্ষ মানুষ নিয়েও সমাবেশ করে তবুও সরকার বিএনপির সঙ্গে সংলাপের পথে হাঁটতে চাইবে না। কারণ বিগত ৬ বছরে আওয়ামী লীগ যেভাবে অবৈধভাবে অর্থ সম্পদ ও প্রতিপত্তি ভোগ দখল করেছে এবং সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলের প্রতি যে অন্যায়, অত্যাচার ও নিপীড়ন করেছে তাতে করে জনগণ তাদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।

তাহলে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কি কোন ধরণের সংলাপের সম্ভাবনা নেই, আর বিকল্প এমন কি পদ্ধতি আছে যার শক্তিতে আওয়ামী লীগ সংলাপে বসতে রাজি হবে- এমন এক প্রশ্নের জবাবে ড. আসিফ নজরুল বলেন, এখন সংলাপের মাত্র ২ টা পথ খোলা রয়েছে তা হলো- প্রথমত, বিএনপি যদি তাদের আন্দোলনকে গণ আন্দোলনে পরিণত করতে পারে আর দ্বিতীয়ত আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক যে সব মহলের কথা শোনে আন্তর্জাতিকভাবে তাদের পক্ষ থেকে যদি কোন চাপ সৃষ্টি হয়, তাহলেই কেবল সংলাপ সম্ভব। এর বাইরে কখনোই বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোন ধরণের সংলাপ বা আলোচনার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে, সম্প্রতি চ্যানেল ৭১ এ প্রচার করা একটি গণপ্রতিক্রিয়া মূলক সচিত্র প্রতিবেদনে একজন বলেছেন, আওয়ামী লীগ আসলে ক্ষমতা ছাড়তে ভয় পাচ্ছে। সরকার যেভাবে বিএনপির ওপর অন্যায়, অত্যাচার করেছে তাই তারা জানে ক্ষমতা হাতছাড়া হলে তাদের জন্যে ঝামেলা আছে।

বিষয়টি নিয়ে ঢাবি অধ্যাপকের সঙ্গে কথা বললে তিনিও এই বিষয়ে একমত প্রকাশ করে বলেন, দেশের মানুষের আজ আর জানতে বাকি নেই। ক্ষমতা হারালে আওয়ামী লীগের পরিণতি যে খুবই ভয়াবহ হবে এমনটি ভেবেই তারা সংলাপে বসতে চাচ্ছে না।

চ্যানেল ৭১ এর ঐ প্রতিবেদনে আরো একজন বলেন, আমরা চাই দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্যে অবশ্যই দুই নেত্রীকে সংলাপে বসতে হবে।

এখন শুধু সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষই নয় দেশে সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নীতি নির্ধারক সবারই দাবি একটি সমঝোতার মাধ্যমে দেশের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা। সেই প্রত্যাশাতেই এখন জাতি।

সংসদে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী...

জাতীয় সংসদে বোমা হামালায় দগ্ধদের ছবির পেপার কাটিং দেখালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দগ্ধ ও আহতের ছবি দেখে সংসদের নেমে আসে শোকাবহ নীরাবতা। ছবি দেখানোর সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেও কাঁদলেন, কাঁদালেন গোটা সংসদকেও। মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে হামলায় আগতের ছবি দেখান। প্রধানমন্ত্রী যখন এ ছবিগুলো দেখাচ্ছিলেন তখন তার সঙ্গে কাঁদছিলেন, সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, বিরোীধ দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ। গোটা সংসদ জুড়ে তখন ছিল পিনপন নিরাবত্ াএসময় সংসদের বৈঠকে উপস্থিত অনেক সংসদ সদস্যকেও কাঁদতে দেখা যায়।
http://www.amadershomoys.com/newsite/2015/01/20/193966.htm#.VL8ga0fF_zs

কয়লা ধুইলেই ময়লা যায়না...

নোয়াখালীতে বিচারপতির বাড়িতে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনায় ৩ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আটক
আমাদের সময়.কম : ১৮/০১/২০১৫

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের নোয়াখালী সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুরের গ্রামের বাড়িতে পেট্রলবোমা েিনেপর ঘটনায় তিন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার রাতে।

এলাকাবাসী ও থানা সূত্রে জানা গেছে, রাতে বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের বাড়ির সামনে আনাগোনা করার সময় এলাকার একদল যুবক তাদের আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। আটকেরা হলো- মেহেদীপুর গ্রামের আবদুল মোতালেবের ছেলে জাহিদ হেসেন বাব, একই গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে রাসেল এবং আজিজপুর গ্রামের শরিয়ত উল্লাহর ছেলে ওমর ফারুক। আটকেরা নিজেদের ছাত্রলীগের কর্মী বলে দাবি করে এবং জাহিদ হোসেন বাবু ৫ নং ওয়ার্ড মহিদীপুর ছাত্রলীগ সভাপতি বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে নিশ্চিত করেন।...
http://www.amadershomoys.com/newsite/2015/01/18/192011.htm

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla