Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

বন্ধু নয় প্রভু

আফ্রিকার গহীন অরণ্য অথবা দক্ষিন আমেরিকার আমাজন জঙ্গলে ফেলানী নামের কোন পাখি আছে কিনা জানা নেই। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের চোখে ফেলানী ছিল একটা পাখি। ১৫ বছর বয়সী এই কিশোরীকে স্নাইপার কায়দায় হত্যা করে কাঁটাতারের বেড়ায় ৪ ঘন্টা ঝুলিয়ে রাখে বিএসএফ। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তটা দুরের মহাদেশ আফ্রিকার কোন দেশের সাথে নয়, বরং প্রতিবেশি দেশ ভারতের সাথে। এবং এখানেই সমাহিত হয় গায়ে গতরে খেটে খাওয়া বাংলাদেশি নাগরিক নুরুল ইসলাম নুরু মিয়ার বেচে থাকার স্বপ্ন। ভাগ্যের সন্ধানে নুরু মিয়া পাড়ি জমিয়েছিল আধুনা বিশ্বের উদীয়মান শক্তি ভারতের দিল্লিতে। সাথে ছিল মেয়ে ফেলানী ও ছেলে। আদম পাচারকারীদের খপ্পরে পরে নুরু মিয়াকে কাজ নিতে হয় দিল্লির কোন এক ইটের ভাটায়। ফেলানীর বিয়ে ঠিক হওয়ায় স্বপরিবারে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয় নুরু মিয়া। আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারে মই বেয়ে বাংলাদেশে প্রথম প্রবেশ করে সে। একই কায়দায় প্রবেশ করতে গিয়ে ফেলানীর কাপড় আটকে যায় কাঁটাতারে। ভয়ে চীৎকার করে উঠে সে। এবং সাথে সাথে গর্জে উঠে ভারতীয় বন্দুক। একটা গুলিই যথেষ্ট ছিল এই কিশোরীর জন্য। বেড়ার উপর ঝুলে পরে তার মৃতদেহ। চার ঘন্টা পর বিএসএফ এসে নিয়ে যায় লাশ। শুধু ফেলানীর লাশই নয় সাথে নিখোঁজ হয় তার ভাই। একই দিন পশ্চিমবংগের মুর্শিবাদ জেলার মোহনগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হয় আরও তিন বাংলাদেশি।

খুব শীঘ্র বাংলাদেশ সফরে আসছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। ফেব্রুয়ারীতে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি সাংস্কৃতি তুলে ধরার জন্যে ভাড়া করা হয়েছে বলিউডের মেগাস্টারদের। কদিন আগে রুশ পতিতাদের অর্ধনগ্ন শরীর দেখিয়ে দেশ মাতিয়ে গেলেন কথিত কিং শাহরুখ খান, এবং সাথে নিয়ে গেলেন বেশকিছু নগদনারায়ন। ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধে এই ভারতীয়রাই ছিল আমাদের প্রকৃত বন্ধু। কোটি শরণার্থীকে আশ্রয়, যুদ্ধের ট্রেনিং, অস্ত্র সরবরাহ সহ রক্ত পর্যন্ত দিয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গিয়ে। জাতি হিসাবে আমরা অকৃতজ্ঞ নই, দায়বদ্ধতা শোধও মিশে আছে আমাদের রক্তে। গেল ৩৯ বছর ধরে আমরা ৭১’এর দেনা শোধ করছি। শোধের অংকটার কোন সঠিক সংখ্যা আমাদের জানা নেই, ইতিহাসেও লেখা হয়নি এর বিবরণ। শুধু জেনে এসেছি আমরা ঋণী এবং এ ঋণ শোধ করতে হবে যতদিন বেঁচে থাকবো। শিল্প, বানিজ্য, কৃষিকাজ, অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, সাংস্কৃতি, এমনকি আমাদের কাঁচাবাজার পর্যন্ত খুলে দিয়েও শোধ হচ্ছে না ৭১’এর দেনা। নদীর পানি, বন্দরের ক্রেন, জলপথ, নদীপথ, রেলপথ, আকাশপথ সহ ফেলানীদের লাশ পর্যন্ত দিতে হচ্ছে দেনা শোধের মূল্য হিসাবে। আমরা হাসি মুখে দিচ্ছি কিন্তু ওরা কোন মুখে গ্রহন করছে তার কোন ইশারা আমাদের দেয়া হচ্ছে না। স্বভাবতই আমরা বিভ্রান্ত। সে বিভ্রান্তি দূর করতেই বোধহয় মনমোহন সিং আসছেন সরকারী সফরে।
_____________*********____________________

আশির দশকের কথা। স্থান বিশ্বের অন্যতম সুন্দর শহর লেলিনগ্রাদ (আধুনা সেন্ট পিটার্সবার্গ)। শহরের কোন একটা ছাত্রাবাসে বাস করছে কজন বাংলাদেশি। লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের নিয়মিত রান্না করতে হয় খরচ বাঁচানোর তাগিদে। সমস্যাটার শুরু কোথায় তার সঠিক দিন তারিখ ওদের জানা ছিলনা। জানার উপায়ও ছিলনা। কিন্তু প্রায়ই ঘটতে থাকল ঘটনাটা। ভোজবাজির মত রান্নাঘর হতে নিখোঁজ হতে থাকে পাকানো মাছ মাংসের হাড়ি। ৭০টা দেশের ছাত্রছাত্রীদের আবাস আন্তর্জাতিক মানের এই হোস্টেলে। রান্না করা তরকারী চুরি এখানে অকল্পনীয়, অস্বাভাবিক। কিন্তু তাই ঘটতে থাকল নিয়মিত বিরতিতে। অবশেষে হদিস পাওয়া গেল চোরের। এর জন্যে অবশ্য ফাঁদ পাততে হল। ফাঁদে যাকে আটকানো হল সে আর কেউ নয় ভারতের হরেন্দ্র সিং। নিজকে সবজিখোর হিসাবে দাবি করলেও আসলে সে ছিল খাদক। পয়সা বাঁচানোর অস্ত্র হিসাবে সবজিকে ব্যবহার করলেও গোপনে চুরি করত রান্না করা মাছ মাংসের হাড়ি। এভাবেই সে পয়সা বাঁচাত এবং বছর শেষে বস্তাভর্তি মালামাল নিয়ে চলে যেত জন্মভূমি ভারতে। এই হরেন্দ্র এবং তার স্বদেশিদের আরও একটা অভ্যাস ছিল, বাংলাদেশ নামক দেশটার জন্ম কে ভারতীয়দের দয়ার ফসল বলে হাসি তামাশা করতে ভালবাসত। শুধু হরেন্দ্র নয় ১০০ কোটি ভারতীয়দের মাঝে এমন একজনকে খুঁজে পাওয়া মুস্কিল হবে যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতাকে সহজ সরল অংকে স্বীকার করে। ভারতীয়দের কাছে ৭১এর যুদ্ধ পাকিস্তানীদের সাথে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধ, নিজেদের শৌর্য বীর্য প্রদর্শনীর যুদ্ধ। এখানে বাংলাদেশি মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের কোন জায়গা নেই।

************************************************

ভারতীয় সাতকন্যার কোল ঘেষে আমাদের বাস। সাতকন্যার ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতির জরায়ুতে এক সময় জন্ম নিয়েছিল তাদের স্বাধীনতার চেতনা। মানচিত্রে বাংলাদেশের উত্থান হয়ত বদলে দিয়েছে এদের আর্থ-সামাজিক চেহারা। প্রতিবছর শুধু চিকিৎসা খাতেই বাংলাদেশিদের পকেট হতে সাতকন্যাদের আয় হয় কোটি কোটি টাকা। সরকারী বাণিজ্যে হিমালয় সমান অসমতার পাশাপাশি চোরাই পথে বাংলাদেশের সাথে চলে হাজার হাজার কোটি টাকার বানিজ্য। চাল, ডাল, তেল, লবন, সাবান, মসলা,শাড়ি, বাড়ি, গয়না, কন্ডম সহ বাংলাদেশ আপদমস্তক ডুবে আছে সাতকন্যার যৌতুকে। বানিজ্য ঘাটতির এই মহাসমুদ্রে সীমান্ত এলাকার কিছু খেটে খাওয়া বাংলদেশি ভাগ্যের সন্ধানে নামতে বাধ্য হয় গরু চোরাচালানি ব্যবসায়। আর তাতেই বাধ সাধে নব্য বিশ্বশক্তির শক্তিধর সীমান্তরক্ষী দল। বিশ্ব সমাজে ভারতের পরিচয় উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে হলেও প্রতিবেশি হিসাবে ভারতীয়রা উপরে বর্ণিত হরেন্দ্র চরিত্রের এক ইঞ্চি উর্ধ্বে উঠতেও পারেনি। আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক বিভাজন জাতি হিসাবে আমাদের সবজি বানিয়ে ফেলেছে। এমন একটা অবস্থান হতে ভারতীয় অন্যায় অনাচারের প্রতিবাদ করা হবে হিমালয়ের গোড়ায় মাথা ঠুকানোর মত। এমনটা করতে চাইলে ভারতীয় শিক্ষা হতে পারে আমাদের জন্যে উপযুক্ত দীক্ষা। আর তা হল অর্থনৈতিক মুক্তি। যতদিন এ মুক্তি অর্জিত না হচ্ছে ৭১'এর দায়দেনা শোধের নামে ভারতীয় এবং তাদের স্থানীয় দালালরা দেশকে খুড়ে খাবলে খেতে থাকবে।

ভারতীয় চাল, ডাল, তেল, লবন, সাবান ব্যবহার করে, তাদের সিনেমা আর টিভি সিরিয়ালে সর্বক্ষণ ডুবে থেকে আর তাদের ভাষা শয়নকক্ষে চর্চা করে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে তাদেরই উপস্থিতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করা হবে স্রেফ আত্মপ্রতারণা। মুখে বন্ধু বললেও ওরা আসলে আমাদের প্রভু। প্রভুদের মনোরঞ্জনের জন্যে শুধু ক্রিকেট উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কেন দু'একজন ফেলানী উৎসর্গ করার জন্যও একপায়ে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের সরকার। আর সরকার নির্বাচিত হয়েছে আমাদেরই ভোটে।

Comments

প্রিয় ওয়াচ ডগ, আপনার ব্লগের

প্রিয় ওয়াচ ডগ,

আপনার ব্লগের লিঙ্ক আপনাকে না জানিয়ে আমার ব্লগস্পটে (http://ifaysal.blogspot.com/) যুক্ত করলাম | আশা করি আপনি নাখোশ হবেন না | আপনার আপত্তি থাকলে লিঙ্ক সরিয়ে ফেলবো | আপনার জন্য শুভও কামনা

ফায়সাল

ধন্যবাদ...

কোন অসুবিধা নেই। এর জন্যে বরং আপনাকে ধন্যবাদ। ভাল থাকুন।

‘বিএসএফের হাতে নিরীহ বাংলাদেশি হত্যার প্রতীক হয়ে উঠেছে ফেলানি’

আর কে রনি, কুড়িগ্রাম সীমান্ত থেকে ফিরে: কুড়িগ্রাম জেলার অনন্তপুর সীমান্ত এলাকায় ৭ জানুয়ারি তারিখে বিএসএফ ফেলানিকে গুলি করে। পরে নিহত ফেলানিকে কাঁটাতারে ওড়না দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখে বিএসএফ। ফেলানি হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরেজমিন অনুসন্ধানে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ফেলানির বাবা নুরু হোসেন জানান, ফেলানিকে নিয়ে অনন্তপুর সীমান্ত পার হওয়া জন্য তিনি কুঁচবিহার এলাকার দালাল মুশারফকে ৩ হাজার টাকা দেন। দালালের কথা মতো তিনি ও ফেলানি রাত ৩টায় কাঁটাতারের সঙ্গে লাগানো মই বেয়ে উপরে ওঠেন। উপরে উঠে বাংলাদেশ সীমান্তে পাতা মইয়ে যখন তিনি পা রাখতে যাচ্ছিলেন তখনই সামনে থেকে গুলি করে বিএসএফ। ফেলানি নুরু হোসেনের ডান দিকে ছিল। গুলি এসে ফেলানির ডান বুকের একটু উপরে লাগে। আতঙ্কে নুরু হোসেন মই থেকে ছিটকে পড়ে যান বাংলাদেশ অংশে। তিনি বলেন, আমি তাড়াতড়ি উঠে দাঁড়িয়ে বলিÑ মা নেমে আয়। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ৪/৫ জন বিএসএফ দৌড়ে এসে একজন মই বেয়ে উঠে যায়, বাকিরা তার দিকে রাইফেল তাক করলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে আসেন। এরপর তিনি দিকভ্রান্তের মতো সীমান্তের আশপাশে ছোটাছুটি করতে থাকেন। এ সময় তিনি থেকে থেকে ফেলানির কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। নুরু হোসেনের বিলাপ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা বেরিয়ে আসে। স্থানীয়দের নিয়ে কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও ফেলানিকে আর পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা নুরু হোসেনকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে সকালের দিকে তিনি তার গ্রাম বানারবিটায় ফিরে আসেন।

ওইদিন সকাল ১১টার দিকে একটি দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি শাহিন কাঁটাতারের সঙ্গে ফেলানির লাশ আটকে থাকতে দেখেন। এরপর ঘটনা জানাজানি হলে ওই এলাকায় মানুষের ঢল নামে। দুই দেশের সীমান্ত গার্ডদের উপেক্ষা করে মানুষ কাঁটাতারের বেড়ার কাছে পৌঁছে যায়। এ সময় ভারত সীমান্তে প্রায় ১০০ বিএসএফ ও বাংলাদেশ অংশে ২০/২৫ জন বিজিবি সদস্য অবস্থান নেয়। ফেলানির খালাত ভাই ইসমাইল হোসেন জানান, কাঁটাতারের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফেলানির লাশ বাঁধা ছিল। পরে দুজন মেথর ওড়নার বাঁধন কেটে ফেলানির লাশ নিচে নামান। দুই দিন পর বিএসএফ অনন্তপুর বিজিবি ক্যাম্পে ফেলানির লাশ হস্তান্তর করে।

ফেলানির পরিবার ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, গুলিবিদ্ধ ফেলানিকে পাশের শরিষা ক্ষেতে নিয়ে যৌননির্যাতনের পর হত্যা করে কাঁটাতারের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে বিএসএফ। তারা আরো অভিযোগ করেন বিএসএফ ফেলানির কাছে থাকা তার মায়ের দেয়া বিয়ের খরচের ৫০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে।

ফেলানির নানা কবিরাজ রশিদ আলী জানান, আমরা সীমান্ত সংলগ্ন শরিষা ক্ষেতে রক্ত দেখেছি। গুলিবিদ্ধ ফেলানিকে কাঁটাতার থেকে নামিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করে আবার ঝুলিয়ে রাখা হয়। সীমান্ত সংলগ্ন জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আকবর আলী জানান, আমি যখন ওজু করতে উঠি ক্ষেতের দিক থেকে চিৎকার শুনতে পাই।

ভারত থেকে পাঠানো ময়নাতদন্ত রিপোর্টে গুলিবিদ্ধ হয়ে ফেলানির মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের চিকিৎসক নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সম্পর্কে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। রাজাপুর থানার ওসি রুহুল আমিন জানান, ভারতের রিপোর্ট ও এখানকার রিপোর্ট একই। কিন্তু ফেলানির শেষকৃত্যের গোসলে যারা ছিলেন, তাদের অভিযোগ, ফেলানিকে যৌননির্যাতন করা হয়েছে। তার নানি খোদেজা বেগম জানান, ফেলানির ওপর ব্যাভিচার করা হয়েছে। ফেলানির বাবা নুরু হোসেন বলেন, আমি আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন ও হত্যার বিচার চাই। তিনি বলেন, আমার মেয়ে ও জমানো শেষ সম্বল হারিয়ে এখন আমি নিঃস্ব। তিনি ভারতের কুচবিহরে চা বিক্রি করতেন।

এদিকে ফেলানি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করতে আসা মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক স্কট কার্নি ঘটনাস্থলে এ প্রতিবেদককে বলেন, সাধারণ সীমান্ত হত্যাকাণ্ড আর ফেলানি হত্যা এক নয়। এমনকি ফেলানি যেখানে গুলিবিদ্ধ হয়েছে সেটা কোনো ক্রাইম স্পট নয়। এটা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। বিএসএফের হাতে নিরীহ বাংলাদেশি হত্যার প্রতীক হয়ে উঠেছে ফেলানি।

ফেলানী হত্যায় এক আমেরিকান পিতার ফরিয়াদ

বিডি নিউজ: বাংলাদেশের ফেলানী হত্যায় কাঁদছে এক মার্কিন পিতার হৃদয়। তিনি ওই হত্যার ছবি ও রিপোর্ট পড়ার পর আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন। ফেলানীর মাঝে খুঁজেছেন নিজের ১৫ বছরের মেয়েকে। ফেলানির পিতার কষ্টস্রোত ছুঁতে চেষ্টা করেছেন তিনি। তার নাম ফ্রাঙ্ক ডোমেনিকো সাইপ্রায়ান। দ্য গ্যাদারার ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠাতা তিনি। খোলা এক চিঠিতে তিনি ফেলানী হত্যার বর্বরতা তুলে ধরেছেন। লিখেছেন- আমিও একজন পিতা। একটি পরিবার আছে আমার। সেখানে আছে ১৫ বছরের একটি মেয়ে। সেই মেয়েই আমাকে ফেলানীর পিতার সঙ্গে আবেগের বন্ধনে বেঁধে ফেলেছে। তাই আমি নীরব থাকতে পারি না। আমাকে কথা বলতেই হবে- বলতে হবে ভারতের ইতিহাসে ফেলানীকে হত্যা এক দুর্ভাগ্যজনক অধ্যায়। একটি সন্তানের পিতা সব সন্তানের পিতা। সেই সূত্রে বাংলাদেশের প্রতিটি ছেলে, প্রতিটি মেয়ে শিশু আমার সন্তান। তিনি লিখেছেন- আমি জানি না, ফেলানীর পিতা ধনী না গরিব অথবা তিনি তার মেয়ের জন্য কি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। আমি শুধু জানি একটিমাত্র বর্বর ঘটনা তার জীবনের সব সংগ্রাম, সব ভালবাসা এবং সচেতনতা নষ্ট করে দিয়েছে। আমি জানি আমার এই দূরের বন্ধু যখন জীবিকার সন্ধান শেষ করে বাসায় ফেরেন তখন তার ছোট্ট মেয়ের কোমল হাতের স্পর্শ পান না আর। আর তা তাকে মনে করিয়ে দেয়, এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে দেবশিশুর মতো নিষ্পাপ মেয়েকে রক্ষা করার শক্তি তার ছিল না। ‘এ লেটার টু ইন্ডিয়া’ শিরোনামে লেখা ওই চিঠিতে তিনি লিখেছেন- আমাদের আমেরিকানদের মাথায় এক-একটি দেশ সম্পর্কে এক-এক রকম ভাবমূর্তি কাজ করে। আমাদের অনেকেই ভারতকে গান্ধীর দেশ মনে করেন। শান্তির দেশ মনে করেন। বাংলাদেশের সীমান্তে ভারতীয়দের যেসব নিরপরাধ বাংলাদেশীকে বিশেষ করে ফেলানীকে হত্যা করার কথা আমি যতজনকে বলেছি তারা ব্যথিত হয়েছেন। ভারত সম্পর্কে আমরা আমেরিকানরা যে ধারণা পোষণ করি এ ঘটনা তার প্রতিচ্ছবি নয়। আমি জানি, বাংলাদেশ ও ভারত এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। ভারত দু’-এক মাসের মধ্যে এ সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটা ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু তা কোন নিহতকে জীবিত করে দিতে পারবে না। মানবাধিকারে মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে দু’টি রাষ্ট্রের মধ্যে, যখন তা হয় প্রতিবেশী দু’টি রাষ্ট্র তখন উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার দরকার পড়ে না। যারা সীমান্তে এমন হত্যাকাণ্ডে মদত দেয় ও যারা সংঘটিত করে তাদের এ কাজ নিঃসন্দেহে অপরাধ কর্মকাণ্ড, যারা এমন কাজ করে এবং যারা করায় তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো উচিত। নিরপরাধ নিহত শিশুদের মধ্যে ফেলানীই প্রথম নয়। ফেলানীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে ফ্রাঙ্ক ডোমেনিকো সাইপ্রায়ান ওই লেখায় একটি কবিতা যুক্ত করেছেন, যা মহাত্মা গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে লেখা। এতে তিনি এক পিতার অন্তরে ক্ষরণকে তুলে ধরেছেন মর্মস্পর্শী। তিনি লিখেছেন- বাংলাদেশ একটি বর্ণময় ও শক্তির দেশ। সেখানে সড়কের চিহ্ন-প্রতীকগুলো রঙিন। বিজ্ঞাপনগুলো রঙিন। আমাদের গাড়িগুলো রঙিন। এমনকি গ্যাস স্টেশনগুলো রঙিন। বাংলাদেশে নির্বাচনের সময়কার ছবিগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মতো। সেখানে সবাই উজ্জ্বল। বাহারি পোশাক পরা। তিনি লিখেছেন- কবিতাটি পড়ে আমার সম্পাদক জানতে চেয়েছিলেন- আমার কি আরও কিছু বলার আছে কবিতায়। কয়েক বছর আগে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীরা ১৩ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যা করে। সমপ্রতি ১৫ বছর বয়সী ফেলানীকে মেরে কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলিয়ে রাখা হয়। এসব নিয়ে আমি অনেকটা কাজ করেছি, রিপোর্ট পড়েছি। কিন্তু আমার সম্পাদকের প্রশ্নের জবাব দেয়ার ভাষা ছিল না আমার। আমার ছোট মেয়ের বয়স ১৫ বছর। আমার ছোট ছেলের বয়স ১৩ বছর। আমার জীবনে তারাই সব। তারাই আমার জীবনের রঙ। এ রঙে আমি নতুন করে সাজি। আমি জানি প্রতিটি মা-বাবাই তার সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগে থাকেন। জাতীয়তা, ধর্ম, বর্ণ, দল, সামাজিক শ্রেণী সবকিছুর উপরে থাকে মা হওয়ার আনন্দ, বাবা হওয়ার আনন্দ। এই একটি শক্তিই আপনার জীবনকে পাল্টে দিতে পারে। এটা সর্বজনীন এক পরিচয়ের সূচক। বিশ্বে আমরা যারা পিতা আছি, সাধারণ দৃষ্টিতে আমরা সবাই ভাই। তিনি লিখেছেন- আমি কল্পনা করি একজন বাংলাদেশী পিতার কথা, যিনি তার মেয়েকে সুন্দর করে সাজিয়ে বিয়ের আসরে নিয়ে যান। মেয়েকে বিয়ে দেন অন্য দেশের কোন পাত্রের কাছে। আমার কল্পনায় আসে, তখন ওই পিতার বুক কি কষ্টে ফেটে যায়। সাজানো, বেড়ে ওঠা মেয়ের দিকে তাকিয়ে তার কষ্টের যেন শেষ থাকে না। তারপর তুলে দেন জামাতার হাতে। কিন্তু একটি সীমান্তের কারণে ওই পিতা তার মেয়ের নতুন পরিবার, পরে নাতির মুখ দেখতে পারেন না। আমি কল্পনা করি ফেলানীর পিতার মেয়ের শৈশব। তাকে নিয়ে সংগ্রাম। তাকে নিয়ে স্বপ্ন। মেয়ের ভাল চেয়ে তিনি যে প্রার্থনা করতেন সব সময়। আমরা যারা পিতা সন্তান কত বড় হচ্ছে তা আমাদের মাথায় থাকে না। আমরা তাদেরকে সাত বছরের শিশু ভাবতে ভালবাসি। আমি ১০ বছর বয়সী এক কিশোরীর নরম হাতের স্পর্শ অনুভব করি। ওই সন্তানও তার পিতার হাতকে নিরাপত্তার অবলম্বন মনে করে শক্ত করে ধরে রাখে। প্রতিটি পিতার মনের প্রার্থনা কি তা আমরা জানি। কিন্তু যখন কাঁটাতারের ওপর সন্তানের লাশ ওভাবে পড়ে থাকার বীভৎস দৃশ্য দেখি- তখন আমি এক পিতৃত্বকে দেখি, যিনি তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ের নিরাপত্তা, সুখী দেখতে অপেক্ষায় থাকেন। এসব বর্ণনায় আমার সত্যিই কোন ভাষা নেই।
http://www.mzamin.com/index.php?option=com_content&view=article&id=1594:...

আবারও বিএসএফ এক কিশোরকে ধরে নিয়ে গেছে

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা বন্ধসহ উত্তেজনা নিরসনে যেদিন প্রতিশ্রতি দিলেন
সেদিনই ঝিনাইদহের এক কিশোরকে ধরে নিয়ে গেছে সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় সীমান্তে ইছামতি নদীতে গোসল করার সময় ওই গ্রামের আবু বকরের ছেলে শামীমকে (১৫) ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। চুয়াডাঙ্গা ৩৫ রাইফেল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল সুলতান আহমেদ বলেন, "নদীয়া জেলার পাখিউড়া ক্যাম্পের বিএসএফ'র একটি টহল দল কিশোরটিকে ধরে নিয়ে গেছে।"

তিনি জানান, খবর পেয়ে তিনি বিএসএফ ১২ ব্যাটালিয়ন কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এ নিয়ে রাতে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ঢাকা স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের দুদিনের বৈঠকে সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা বন্ধসহ উত্তেজনা নিরসনের প্রতিশ্রতি দেয় দিল্লি। দুদিনের বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়টি জানানো হয়। এতে আরো বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগেই সীমান্ত নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি এক মত হয়েছে দুই দেশ।

ঝিনাইদহের ঘটনার আগে এ মাসেই কুড়িগ্রাম সীমান্তে ফেলানী নামে বাংলাদেশি এক কিশোরীকে হত্যা করে বিএসএফ। এরপর এক যুবককে অপহরণ করার ঘটনা ঘটে। ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ভারত দুঃখ প্রকাশ করেছে। ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি।

BdNews24

লাশ হস্তান্তর করেছে বিএসএফ

Photobucket
ফুলবাড়ী সীমান্তে নিহত ফেলানীর লাশ ৩০ ঘন্টা পর বিজিবি’র কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ;
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নির্মমভাবে নিহত বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানীর লাশ অবশেষে গতকাল হস্তান্তর করা হয়েছে। হস্তান্তরের পর লাশ সামনে রেখে শত শত নারী-পুরুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন। অন্য দিকে ফেলানীর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোরে কাঁটাতারের বেড়ায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আধঘন্টা জীবন্ত অবস্খায় ঝুলে ছিল। এ সময় পানি পানি বলে চিৎকার করেছে সে। এর কিছুক্ষণ পর সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। কুড়িগ্রাম ও নাগেশ্বরী সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশী কিশোরীর লাশ ৩০ ঘন্টা পর বিজিবি’র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টায় ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর অনন্তপুর সীমান্তের ৯৪৭ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের সাব পিলার ৩এস পিলারের কাছে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিহত ফেলানীর লাশ হস্তান্তর করা হয়। লাশ হস্তান্তরের সময় ভারতের ১৮১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট কোম্পানি কমান্ডার রাম ব্রিজ রায়, দিনহাটা থানার ওসি দেবাশীষ ঘোষ এবং পঞ্চায়েত সদস্য বাবুল হোসেন, যোগাই সাহা, নির্মল দাস ও জোবেদা বেগম উপস্খিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন ফুলবাড়ী উপজেলার কাশীপুর বিজিবি’র ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার আব্দুল জব্বার, নাগেশ্বরী থানার এসআই ছানাউল্ল্যা ও ফুলবাড়ী থানার এসআই নূরুজ্জামান এবং রামখানা ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম, নুরুজ্জামান, আব্দুর রশীদ ব্যাপারী।

নাগেশ্বরী উপজেলার বানারভিটা গ্রামে ফেলানীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। চলছে শোকের মাতম। মেয়ের বাবা নূর ইসলাম নূরু মেয়ের শোকে পাগলপ্রায়। মেয়ের নির্মম হত্যার দৃশ্য বাবার চোখের সামনে ভেসে ওঠায় তিনি বারবার সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ছেন। হস্তান্তরের পর লাশ নিয়ে ফেরার সময় শত শত নারী-পুরুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিহত ফেলানীর মামা হানিফ জানান, দীর্ঘ সাত-আট বছর ধরে নূর ইসলাম ভারতের দিল্লিতে ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। ফেলানীর খালাতো ভাই লালমনিরহাটের আমজাদ হোসেনের সাথে বিয়ের সব প্রস্তুতি ও আলাপ আলোচনা সম্পন্ন করে মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত পার হওয়ার সময় কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানীর পোশাক আটকে যায়। নূর ইসলাম কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে আসতে পারলেও ফেলানী কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে পড়ায় আতঙ্কে চিৎকার করে। এ সময় কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে ১৮১ বিএসএফ ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ’র সদস্যরা গুলি করে হত্যা করে ফেলানীকে। হত্যার পর চার-পাঁচ ঘন্টা তার গুলিবিদ্ধ লাশ কাঁটাতারের বেড়াতে ঝুলতে থাকে। পরে বিএসএফরা লাশ নামিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।

বর্ডারগার্ড অব বাংলাদেশের (বিজিবি) ফুলবাড়ী উপজেলার কাশীপুর বিজিবি’র ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার আব্দুল জব্বার প্রতিবাদ এবং লাশ ফেরত চেয়ে চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে লাশ হস্তান্তর করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ ফেলানীর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেনি। পুলিশ জানায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ফেলানীর লাশ দাফনের জন্য পরিবারে হস্তান্তর করা হবে।

যেভাবে মারা যায় ফেলানী
বাংলানিউজ জানায়, গত শুক্রবার ভোর সোয়া ৬টায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও আধা ঘন্টা ধরে ‘পানি পানি’ বলে চিৎকার করতে থাকে ফেলানী। এরপর সকাল পৌনে ৭টার দিকে আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কারণ এরপর আর বেঁচে ছিল না সে। এলাকাবাসী জানান, এ দিন সìধ্যায় তার বিয়ে অনুষ্ঠানের কথা ছিল। আর এ উপলক্ষেই কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে বাড়ি ফিরছিল বাবার সাথে। কিন্তু সে ফেরা আর সম্পূর্ণ হয়নি ফেলানীর। সাড়ে চার ঘন্টা কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকার পর বেলা পৌনে ১১টায় লাশ নামায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বিজিবি’র ফুলবাড়ী কোম্পানি নায়েব সুবেদার আব্দুল জব্বার জানান, মই বেয়ে কাঁটাতার পার হতে গিয়ে ফেলানী গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একটি পত্র বিএসএফ’র কাছে পাঠানোর পর গতকাল সকাল ৯টায় লাশ ফেরত দেয়ার সময় নির্ধারিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ’র পক্ষ থেকে দুপুর ১২টায় লাশ হস্তান্তর করা হয়। ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোনায়েম সরকার বাংলানিউজকে জানান, ঘটনাস্খল থেকে লাশ গ্রহণের পর বেলা ২টায় সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্খানীয় মোহাম্মদ আলী, আয়নাল, ফজলুসহ আরো অনেকে জানান, শুক্রবার আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৪৭ এর ৩-৪ এস এর কাঁটাতারের বেড়ার ওপর দিয়ে মই বেয়ে বাবা নুরুল আসলাম প্রথমে এপারে চলে আসেন। কিন্তু এরপর মেয়ে ফেলানী মই বেয়ে পার হতে গিয়ে কাপড়-চোপড় কাঁটাতারে আটকে যায়। এ সময় সে ভয়ে চিৎকার শুরু করলে কাছাকাছি থাকা টহলরত বিএসএফ গুলি চালালে সে মারাত্মক আহত হয়ে কাঁটাতারে ঝুলতে থাকে। পরে ওই অবস্খায়ই সে মারা যায় আধা ঘন্টা পর। ঘটনাটা এপারে থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন তার অসহায় বাবা। এ ঘটনা বানারভিটাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামকে যেন শোকের চাদরে ঢেকে দিয়েছে। ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন।
http://www.dailynayadiganta.com/fullnews.asp?News_ID=255005&sec=1

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla