Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

-A A +A

রাজনৈতিক সমাধান?

পিলখানা ক্রাইসিস ইতিমধ্যে সমাপ্ত হয়ে গেছে, সেনাবাহিনী এবং পুলিশ দখল নিয়েছে বিডিআর ক্যাম্পের, বিদ্রোহীরা সদলবলে পালিয়ে গেছে। সমস্যার এহেন 'রাজনৈতিক' সমাধান করতে পেরে ক্ষমতাসীন দল মনে হচ্ছে বেশ তৃপ্ত। তাই প্রধানমন্ত্রী স্তূতি বন্দনার জোয়ার বইছে দলীয় ঘরনার স্তাবকদের ড্রইংরুমে। আমার মত অল্প মগজ-ওয়ালা আদমদের বুঝতে একটু কষ্ট হচ্ছে, সমাধান বলতে আসলেই কি কিছু করা হয়েছিল? দু'দিন ধরে বিদ্রোহীরা যা করতে চেয়েছিল তার সবই করেছে; প্রেষনে প্রেরিত সব সেনা অফিসারদের নির্মমভাবে হত্যা করছে, অফিসারদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে পরিবারের অনেককে বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে হত্যা করেছে, লুটপাট করে ধ্বংসস্তূপে পরিনত করেছে বসতবাড়ি। ঠান্ডা মাথায় কবর খূড়ে পশুর মত সমাহিত করা হয়েছে অফিসারদের, অনেক লাশ স্যূয়ার লাইনে ফ্ল্যাশ করে ঠেলে দেয়া হয়েছে বর্জ্য পদার্থে। তারপর তারা দাবী করেছে সাধারন ক্ষমার। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হতে এ ধরনের ক্ষমা আসতে বেশি সময় নেয়নি, ক্ষমার বানী পৌছে দেয়ার জন্যে কতিপয় মন্ত্রী দফায় দফায় ইন-এন্ড-আউট হয়েছে ক্রাইম জোন হতে। সাধারন ক্ষমার ছত্রছায়ায় জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে পালিয়ে যেতে দেয়া হয়েছে বিদ্রোহীদের।

বলা হচ্ছে রক্তপাত কমানোর লক্ষ্যে পালটা আক্রমন চালানো হয়নি। সমীকরনের ফলটা কি দাড়ায় তাহলে, ৭০'র উপর সেনা অফিসারের লাশ কি যথেষ্ট ছিলনা? মা-বোনদের ইজ্জত লুটতে দেয়া হয়েছিল যাতে এই ইজ্জতহানীর সংখ্যা আর না বারে? সবচেয়ে ন্যক্কারজনক হচ্ছে ১৫ হাজার বিদ্রোহীকে নিরাপদে পালিয়ে যেতে দেওয়া। এই এক পয়েন্টে সরকারের রাজনৈতিক সমাধানের সততা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে বাধ্য। ব্যপারগুলো বিশ্লেষন করলে একটা জিনিষ প্রতীয়মান হয়, সরকার প্রথম হতেই সেনা অফিসারদের প্রান রক্ষার্থে আন্তরিক ছিলনা, বরং চিন্তিত ছিল সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য প্রতিশোধ হতে বিডিআর জওয়ানদের রক্ষা করা। এমনটা করে সরকার আরও রক্তপাত বন্ধ করতে পেরেছিল ঠিকই, প্রশ্ন হচ্ছে কাদের রক্ত, সেনাবাহীনির না কসাইদের?

সরকার সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক সমাধানের ফল কিভাবে গেলাবেন তা জানার জন্যে আমরা অপেক্ষায় থাকবো।

Post new comment

CAPTCHA
Required to prevent spam.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla