Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

-A A +A

রাজনীতির সার্কাস বনাম সার্কাসের রাজনীতি, ঠিকানাঃ নিউ ইয়র্ক

Clowns of Awami League

১৯৮৮ সালের কথা। বন্যায় তলিয়ে গেছে সমগ্র বাংলাদেশে। মিলিটারি একনায়ক জেনারেল এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার গন-আন্দোলন দানা বাধার মুখে এ ধরনের ভয়াবহ বন্যা কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেয় এরশাদ শিবিরে। সংগত কারণেই মনক্ষুন্ন হন দুই মেগা দলের ততোধিক মেগানেত্রীদ্বয়। আন্দোলন মুখ থুবড়ে পরে এবং চতুর এরশাদ বন্যার হাটু পানিতে রিলিফ যাত্রা মঞ্চায়নের মাধ্যমে সাময়িকভাবে হলেও ধৌত করতে সক্ষম হন নিজ কলংকের কিছু কালো অধ্যায়। এরশাদ কাব্যিক কায়দায় বিশ্ব সমাজের দুয়ারে পৌছে দেন বাংলাদেশের র্দুভোগের করুন চিত্র। কিছুটা দেরীতে হলেও বাংলাদেশ ভেসে যায় বিদেশী ত্রান সামগ্রীতে। ক্ষমতার এত কাছ হতে গন্ধ পাওয়া দুই দলের মহান নেতা-নেত্রীরা প্রমাদ গুনে হতাশ হলেন, বন্যা আক্ষরিক অর্থেই ভেস্তে দিয়েছে আন্দোলনের ভীত। এরশাদ সফলভাবে বন্যার মোকাবেলা করলে জনগণকে নতুন করে উজ্জীবিত করে মাঠে নামানো সহজ হবেনা, এমনটা ভেবে দল দুটি নতুন কৌশলের আশ্রয় নেয়। মার্কিন পররাষ্ট্র এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন দফতরে নিজ নিজ দলের ঘাগু কুটনীতিবিদ্‌দের পাঠিয়ে সবিনয় অনুরোধ জানান ত্রান পাঠানো বন্ধ করতে। কারণ? ত্রান জায়গামত না পৌছে সরকারী দলের লুটেরা খাজাঞ্জীখানায় জমা হবে! যাই হোক, তদবিরে কাজ হয়নি। বাংলাদেশের ’গৌরব’ লুটপাটের ফাক ফোকর গলে ত্রান সামগ্রীর অনেকটাই বন্যা কবলিত মানুষের দুয়ারে পৌছে দেয়া হয়। কবিতা আর গানে এরশাদ নাকের পানি আর চোখের পানিতে সিক্ত করে আদায় করে নেন আভ্যন্তরীন এবং বৈদেশিক সহানুভূতি। ফলশ্রুতিতে প্রলম্বিত হয় স্বৈরশাষকের পতন কাহিনী।

Clowns of BNP

৯/১১ উত্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাহিনী। দেশটাতে বসবাসরত মুসলমানদের পূনমূল্যায়ন চলছে আল-কায়েদা জাতীয় সম্পৃক্ততা নিয়ে। অনেক মুসলিম দেশের নাগরিকদের চলাফেরার নিয়ন্ত্রন পূর্বক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অফিসে নিয়মিত রিপোর্ট করার আইন পাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশকে এ তালিকায় আনা হয়নি সিআইএ এবং এফবিআই’এর রিপোর্টের ভিত্তিতে। ক্ষমতায় তখন বিএনপি। তালিকাভূক্তি না করার খবরটা পেয়ে মন খারাপ আওয়ামী লীগের। আর যায় কোথা! স্বয়ং নেত্রী চলে এলেন নিউ ইয়র্ক এবং সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষনা দিলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে পরবর্তী আফগানানিস্থান। মহামান্যা দেশে পৌছানোর আগেই ’সুসংবাদ’টা পেয়ে গেলেন, বাংলাদেশকেও তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। ডিসেম্বর-জানুয়ারীর প্রচন্ড শীতে লাইন ধরে হাজার হাজার বাংলাদেশী নাম লেখাতে বাধ্য হয় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অফিসে।

আবারও নেত্রী এলেন নিউ ইয়র্কে, এবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে। জাতিসংঘে বাংলায় ভাষন দিয়ে বিশ্বজয় করে ফেল্‌লেন, বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন। খাপে খাপ মিলে গেল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জাতীয় দৌহিত্রের মহাপরিকল্পনা। গোস্বা প্রতিপক্ষ! কি আর করা, তাই নিউ ইয়র্কের রাস্তায় নেমে এল ক্ষমতাহারা বিএনপি নামের আলী বাবা ৪০ চোরের দল। আওয়ামী লীগই কম যায় কিসে, তারাও নেমে এল। নিউ ইয়র্কের রাজপথ প্রকম্পিত হল বাংলাদেশী লগি-বৈঠা রাজনীতির শ্লোগানে। বিশ্ব অবাক হয়ে দেখল চুরিতে পর পর ৪ বার বিশ্ব চ্যম্পিয়ন দেশের গণতন্ত্রের কি ভীত কতটা শক্তিশালী!

রাজনীতির মহামান্য শু...র বাচ্চাগন, ক্ষমতা নিয়ে আপনাদের আভ্যন্তরীন চুলাচুলি কষ্টকরে কি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ব রাখা যায়না? বিদেশের মাটিতে এ ধরনের সার্কাস জাতি হিসাবে আমাদেরকে অন্যের চোখে হাসি-ঠাট্টার পাত্র করে মাত্র। রেহাই দিন এসব ভন্ডামী হতে। ক্ষমতা হারিয়ে এখানে আসবেন আমাদেরকে কঠিন শীতে রাস্তায় দাড় করাতে, আর ক্ষমতায় বসে আসবেন বাংলা ভাষন দিয়ে বিশ্ব জয়ের কাহিনী শোনাতে। অনেক হয়েছে!!!

Post new comment

CAPTCHA
Required to prevent spam.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla