Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

-A A +A

বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানিয়ে কারা লাভবান হতে চায়?

বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানিয়ে কারা লাভবান হতে চায়?

সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহৃত অস্ত্র গোলাবারুদ আসে ভারত থেকে|
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর মদদ দিচ্ছে কারা?কোথায় থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং অর্থ আসছে? এই প্রশ্ন আজ গোটা দেশবাসীর।গত বুধবার বিকালে এক জরুরি সভা শেষে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যখন সাংবাদিকদের ব্রিফিং করছিলেন, তখন একজন সাংবাদিক প্রতিমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন যে,'ভারত থেকে অস্ত্র গোলাবারুদ আসছে বলে অভিযোগ আছে।আপনারা এ ব্যাপারে কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন'?প্রতিমন্ত্রী এই প্রশ্নের উত্তর দেননি।

এ পর্যন্ত সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ যা উদ্ধার হয়েছে বা আটক করা হয়েছে,সেগুলো ভারত থেকেই এসেছে বলে বিভিন্ন সময়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে।বাংলাদেশে উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদের গায়ে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সীলমারা, ভারতীয় কোম্পানীর নাম খোদাই করা ছিল। বাংলাদেশে যেসব অস্ত্র-গোলাবারুদ আসে সবই বিদেশ থেকে।আর বাংলাদেশকে ঘিরে রয়েছে ভারত।কাজেই ভারত হয়েই বা ভারত থেকেই এসব অস্ত্র-গোলাবারুদ আসে।জেএমবি নেতা শায়খ আবদুর রহমান ধরা পড়ার পর আইন-শৃক্মখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যে জবানবন্দি দিয়েছিল, তাতে জানায় যে, ৯০ ভাগ অস্ত্র আসে ভারত থেকে।সে জানিয়েছিল, ২০০৪ সালে তারা ভারত থেকে ৫০টি পাওয়ার সেল, ১০টি ওয়ান শুটার পাইপগান নিয়ে আসে।একই বছর এপ্রিল মাসে তারা ভারত থেকে ২০টি ওয়ান শুটার পাইপগান, মে থেকে জুন মাসে ৫ হাজার ডেটোনেটর আনে ভারত থেকে।২০০৬ সালে আইন-শৃক্মখলা বাহিনী উদ্ধার করে ১৯টি পাইপগান, ১টি রিভলবার, ৭ হাজার ৮৯৫টি ইলেক্ট্রিক ডেটোনেটর, ১০০ নন-ইলেক্ট্রিক ডেটোনেটর, ৩১০টি পাওয়ার সেল, ২২টি ওয়াটার সেল, ৫০ কেজি গান পাউডার, ৭৯ কেজি এ্যামেনিয়াম নাইট্রেট, ৪২ কেজি লিড এ্যাজাইড ও ৩৫ কেজি পটাশিয়াম নাইট্রেট। আর এসবই আনা হয় ভারত থেকে।

বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক অস্ত্রের ছড়া-ছড়ি।এমনও অভিযোগ পাওয়া যায় বা গেছে যে,পাহাড়ে অস্ত্রের হাট বসে।আর উপজাতিরা যে অস্ত্র ব্যবহার করে আসছে,তার উৎস্য নিয়েও প্রশ্ন আছে।তারা এই অস্ত্র পায় কোথায়? কারা এই অস্ত্রের যোগান দাতা? বাংলাদেশের ভিতর থেকে যারা আমাদের দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে অতীতে (এখনো বিচ্ছিন্নভাবে) অস্ত্র ব্যবহার করেছে, এখনো করছে, তারা অস্ত্র আনছে কোথা থেকে? ১৯৯৬ পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শান্তি চুক্তি করতে গিয়ে বিদ্রোহীরা যে অস্ত্র জমা দিয়েছিল, সেই অস্ত্র কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কোন দেশের তৈরি কিভাবে বিদ্রোহীদের হাতে পৌঁছে, এসব কিছু খতিয়ে দেখা হয়নি। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসব খতিয়ে দেখা উচিত ছিল।

বাংলাদেশ সন্ত্রাসী,জঙ্গিবাদের ঘাঁটি এমন প্রচারণা বেশির ভাগই হয়ে থাকে ভারতের পক্ষ থেকে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর জঙ্গি হামলা হতে পারে,এটা ছিল ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রচারণা।বিভিন্ন সময়ে ভারত বলে আসছে যে,বাংলাদেশে এতোগুলো জঙ্গি ঘাঁটি আছে।ভারতের এমন অভিযোগে গত জোট সরকারের সময় বাধ্য হয়ে ভারতকে চ্যালেঞ্জ করতে হয়েছে।এখনো ভারতীয় প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশের জঙ্গি নিয়ে নানা ধরনের প্রচারণা চালিয়ে আসছে।অথচ বাংলাদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় ভারত।সন্ত্রাসী কার্যকলাপের দায়ে অভিযুক্তরা দেশের ভেতর কোনো সমস্যা হলেই ভারতে চলে যায়। সেখানে নিরাপদ আশ্রয়ে বসবাস করে। অনেক বিতর্কিত ব্যক্তিরাও ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে থাকেন। রমনা বটমূলে বোমা হামলার পর পরই যিনি বলেছিলেন,'তারা আমাকে হত্যা করতে চায়' তিনি কেন প্রায় ৭ বছর ভারতে থাকলেন? এ প্রশ্ন পর্যবেক্ষক মহলের। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরপরই তিনি আবারো দেশে ফিরলেন। তিনি আবার তার আপন ক্ষেত্রে বিচরণ শুরু করেছেন।অভিজ্ঞমহল, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তথা সমাজের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করেন, বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানানো বা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জঙ্গি রাষ্ট্র বলে চিহ্নিত করতে বাইরের একটি মহল ইন্ধন যুগিয়ে যাচ্ছে। কারণ, বাংলাদেশকে তারা 'জঙ্গি রাষ্ট্র' বানাতে পারলে তাদেরই লাভ।প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তারা লাভবান হবেন, হচ্ছেনও।

Comments

Post new comment

CAPTCHA
Required to prevent spam.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla