Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

-A A +A

জলিল সাহবের রাজনৈতিক মৃত্যুর ইতিকথা

আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার নিকট অতীতের লেফ্‌টেন্যান্ট মোঃ আবদুল জলিল একের পর এক অভিযোগ আনছেন নেত্রী এবং দলটির সততা নিয়ে। অভিযোগ উত্তাপনের ক্লাইমেক্স এতটা উচ্চতায় উঠেছে এই নেতা এখন ব্যক্তিগতভাবে শেখ পরিবারের ক্ষমতা অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ আহরনের তথ্যাদি প্রকাশ করতেও দ্বিধা করছেন না। দলীয় পর্য্যায়ে এই নেতার এহেন কথাবার্তাকে ক্ষমতা হারানোর প্রসব বেদনা বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে, এবং ভেটেরান এই নেতার ভাগ্য নেত্রী দেশে ফিরলে কোন দিকে গড়াবে তা সহজেই অনুমেয়। বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে নেতা/নেত্রী সমালোচনার কোন স্থান নেই, হোক তা আওয়ামী, বিএনপি অথবা জাতীয় পার্টি। ব্যক্তি কেন্দ্রিক রাজনীতিতে জলিলের অভিযোগ কখনোই তদন্ত করে দেখা হবেনা, যদিও নেতার অভিযোগগুলো রাষ্ট্র্বের সর্বোচ্চ পর্য্যায়ে তদন্তের দাবি রাখে।

রাজনীতির লৌহ বলয়ের বাইরে যাদের বাস তারা মনে প্রানে বিশ্বাষ করে শেখ হাসিনা সহ শেখ পরিবারের বাকি সবাই রাষ্ট্র ক্ষমতা অপব্যবহার করে গনলুটপাটের মাধ্যমে নিজদের ভাগ্য অতীতে যেমন গড়েছেন এখনও গড়ে চলছেন। এমন অসৎ দৌড় হতে বিএনপির মত মেগা লুটেরার দল পিছিয়ে এমনটা বিশ্বাষ করার সামান্যতম কোন কারন নেই। বাংলাদেশের রাজনীতির পূরোটাই লুটপাট মূখী, 'জেনারেল' জলিল এমন একটা সিন্ডিকেটেড চুরি সংগঠনেরই ইন্টিগ্রেটেড সদস্য। সমস্যা হল, তত্ত্ব্বাবধায়ক সরকারের গ্যারাকলে পরে এই নেতা নেত্রীর অপকর্মের তথ্যাদি প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছিলেন নিজকে বাচানোর জন্যে। অন্য আওয়ামী মেগা নেতা আমু, তোফায়েল, রাজ্জাক এবং সুরঞ্জিত বাবুর দল একই কাজ করেছিলেন একটু চতুর ভাবে (সংস্কার প্রস্তাব)। এ ধরনের চতুরতার যোগ্য জবাব দিয়ে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের প্রথম সাড়ি এ নেতাদের ঠুটো জগন্নাথ বানিয়ে রাজনীতির কবরে সমাহিত করার কাজটি সমাধা করে ফেলেছেন। রাজনীতিতে এ ধরনের ব্যক্তিস্বার্থের লড়াইয়ের ফলে সবচেয়ে বেশী উপকৃত হয় রাজনীতি নিজেই। কারন, কাদা ছোড়াছুড়ির ফাক ফোকর গলে রাজনীতির এমন সব অজানা কাহিনী বেরিয়ে আসে যার সবটা জুড়ে থাকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট। বাংলাদেশ নিকট অতীতে র্দুনীতিতে পর পর চার বার বিশ্ব চ্যম্পিয়ন হয়েছিল যার কৃতিত্ব শুধু বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগের ভান্ডারেও জমা করা আছে। জলিলের অভিযোগগুলো নতুন করে সত্যায়িত করে বাংলাদেশকে দেয় বিশ্ব সমাজের এই 'পুরস্কার'।

মোঃ আবদুল জলিলকে রাজনীতির কবরে সমাহিত করার আগে তার আনা অভিযোগগুলোর তদন্ত হওয়া বাঞ্চনীয়, এবং আনা অভিযোগগুলোর প্রমান পাওয়া গেলে শেখ হাসিনা সহ শেখ পরিবারের সবাইকে বিচারের মুখুমুখি করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একই কথা প্রযোজ্য লুটপাট সমিতির অন্য দলের বেলায়। নেত্রী বিরোধীতার কারনে আবদুল জলিলকে বামিংহামে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে, দেশে ফিরলে হয়ত আরও র্দুভোগ অপেক্ষা করবে। একই ধরনের সমালোচনার জন্যে বিএনপির নেতাকে শুধু নির্যাতন নয় বরং শারীরিকভাবে বিনাশ করার সম্ভাব্যতা দলটির জন্যে ডাল ভাত। এটাই বোধহয় দল দুটির মৌলিক পার্থক্য।

Post new comment

CAPTCHA
Required to prevent spam.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla