Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

-A A +A

খাল কেটে কুমির আনল বাংলাদেশ ক্রিকেট

রহস্যময় উইকেটে আইসিসি’র চোখ রাঙানি

ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে কিউরেটরের কাছে

সুদীপ্ত আনন্দ, চট্টগ্রাম থেকে: আইসিসি’র নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাচ রেফারিদের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার রঞ্জন মধুগালে। তার সামনেই কাল ওয়ানডে ক্রিকেট আরেকবার দেখলো উইকেটের ভেলকি। দেশের মাটিতে মানেই উইকেট হবে হোম টিমের পছন্দ অনুযায়ী। অতীতের ওই ধারায় বাংলাদেশও চলতি সিরিজের নিজেদের পছন্দের উইকেট বানানোর নির্দেশনা দিয়েছে দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের। কিন্তু কালকের ওই টার্নিং উইকেটটা যে টিম ম্যানেজমেন্টের প্রত্যাশিত ছিল না তা আগের দিনই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের কোচ জেমি সিডন্স। নিখাদ ব্যাটিং উইকেটই আশা করেছিলেন তিনি। যে উইকেটে সুবিধা যদি কেউ পেয়ে থাকে তা পাবে স্পিনাররা। কিন্তু কাল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ৫ উইকেট দেখে মনে হয়েছে উপমহাদেশের কোন ভেন্যুতে চলতি টেস্ট ম্যাচের পঞ্চম দিনের উইকেট। ম্যাচের প্রথম বল থেকে যে উইকেটে দেখা গেছে টার্ন এবং সুইংয়ের মিশ্র সহাবস্থান। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল আগাম শীতের শিশির। দুয়ে মিলে বাংলাদেশের বোলাররা হয়ে উঠেছিলেন আরও ভয়ঙ্কর। ব্যাটিং উইকেট ভেবেই টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে রীতিমতো বোকা বনে গিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। তাদের আসা-যাওয়ার ব্যস্ত রেখেছেন বাংলাদেশের ৪ বোলার। এরপর সহজ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশেল টপ অর্ডারও ব্যস্ত ছিল আসা-যাওয়ায়। দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ৯৩ রানে ১৪ উইকেট পতন নিজ কক্ষে বসে দেখেছেন রঞ্জন মাধুগালে। যিনি গত বছর শুরুর দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মিরপুরে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অতি স্বাগতিক বোলারবান্ধব উইকেট গড়ায় মৌখিকভাবে সতর্ক করে দিয়েছিলেন সেখানকার কিউরেটরকে। আর কাল তিনি ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই তলব করেন চট্টগ্রামের কিউরেটর শফিউর আলম বেলালকে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, তাদের কাছে তিনি জানতে চান কার নির্দেশনায় ওমন উইকেট গড়েছেন তিনি। কেনই বা দল দুটিকে উইকেট সম্পর্কে ভুল ধারণা দেয়া হয়েছিল? এমন অনেক প্রশ্ন। সেই সঙ্গে দর্শকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এমন প্রতিক্রিয়াও দেন তিনি। বেলাল তার বক্তব্য দিয়েছেন ম্যাচ রেফারিকে। তা খুব যে মনঃপুত হয়নি মাধুগালের তা বোঝাই যায়। কারণ কিউরেটরসহ গ্রাউন্ডস কমিটির কর্তাব্যক্তিদের নাকি তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে করেই হোক সিরিজের শেষ ম্যাচের উইকেট হতে হবে ব্যাটিং উইকেট। উইকেটের রহস্যময় আচরণে ভেন্যু বাতিল হয়ে যাওয়ার একাধিক নজির রয়েছে গোটা বিশ্বে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামের উইকেট ক্যালেঙ্কারির কথা সবারই নিশ্চয় মনে আছে। উইকেট আন্তর্জাতিক ম্যাচের উপযুক্ত নয়Ñ এমন অভিযোগে মাত্র ১১ বল খেলা হওয়ার পর তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর সেই ম্যাচের ম্যাচ রেফারি অ্যালান হ্রাস্টের দেয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে দু’বছরের জন্য ওই ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়। ভারতেও সম্প্রতি একটি ভেন্যু ম্যাচ রেফারির রিপোর্টের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মর্যাদা কেড়ে নেয়া হয়েছিল। এ ব্যাপারগুলো হয়তো জানা নেই উইকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। রঞ্জন মাধুগালে যদি এই উইকেটকে দুষিয়ে আইসিসিতে নেতিবাচক রিপোর্ট জমা দেন তবে নিশ্চিতভাবে এই মাঠ হারাবে আন্তর্জাতিক ভেন্যুর মর্যাদা। যদি তাই হয় তবে অপমৃত্যু ঘটবে চট্টগ্রামবাসী দীর্ঘদিনের স্বপ্নের। চট্টলার মাটিতে ২০১১ সালের বিশ্বকাপের যে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল গোটা চট্টগ্রাম তা অনেকটাই এখন নির্ভর করছে রঞ্জন মাধুগালের রিপোর্টের ওপর। সম্প্রতি আইসিসি’র প্রতিনিধিদল এই ভেন্যু পরিদর্শন করে বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে গিয়েছিল। যার ওপর ভিত্তি করে চট্টগ্রামবাসী এখন আইসিসি’র চূড়ান্ত ভেন্যু ঘোষণার অপেক্ষায়। তার অনেকটাই নিশ্চিত মিরপুরের পর দ্বিতীয় মূল ভেন্যু হিসেবে ঘোষিত হবে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের নাম। কিন্তু আইসিসি’র জাঁদরেল ম্যাচ রেফারির অমন সতর্কবাণীর পর সে সম্ভাবনা অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হলো। ভয় কেবল রঞ্জন মাধুগালেকে নিয়েই নয়। কাল কিন্তু মাঠে ছিলেন আইসিসি’র এলিট আম্পায়ার প্যানেলের অন্যতম সদস্য আলিম দার। সিরিজ শেষেও তারও একটি রিপোর্ট দেয়ার রুটিন দায়িত্ব আছে। সেখানে কালকের ম্যাচের উইকেট নিয়ে যা লিখবেন তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বিশ্বকাপ ভেন্যু চূড়ান্ত ঘোষণায়।

দৈনিক মানব জমিন

Post new comment

CAPTCHA
Required to prevent spam.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla