Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

-A A +A

Reply to comment

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ১০

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত কলেজের ধর্মপুরের ডিগ্রি শাখায় ওই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও সাধারণ শিক্ষার্থী সূত্র এবং সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি জসিম খান কলেজের প্রধান ফটকে এবং সাবেক সভাপতি আজিম খান ওরফে জুয়েল কলা ভবনের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। উভয় পক্ষ সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জসিম খানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির নেতারা ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের উচ্ছেদের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাঁদের মিছিল শুরু হওয়ার পর আজিম এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আফজল খানের ছোট ছেলে আরমান খানের নেতৃত্বে আরেকটি মিছিল শুরু হয়। ওই সময় জসিমের মিছিলটি কলা ভবনের দক্ষিণ পাশে মসজিদের কাছে এলে ফাঁকা গুলির আওয়াজ শোনা যায়। পরে আজিমের সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীরা তাঁদের ধাওয়া করেন। ওই সময় উভয় পক্ষ কলেজের মসজিদের সামনে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে জসিমের নেতৃত্বে চলা মিছিলের অংশের তিন নেতা মোহাম্মদ আজাদ, সোহাগ ও ইমরান আহত হন। তাঁরা তিনজনই কলেজের দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

একই সময় কলেজের পাশের একটি মেস থেকে সড়কের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আজিমের সমর্থিত নেতা-কর্মীরা জসিমের সমর্থিত নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করলে তাঁরা কলেজের কাজী নজরুল ইসলাম ছাত্রাবাসে আশ্রয় নেন। তখন আজিমের নেতা-কর্মীরা বাইরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি জসিম খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা আফজল খানের ছেলে আরমান খান, ভাতিজা আজিম খান ওরফে জুয়েল এবং ভাতিজি জামাই কাজী এনামুল হক ফারুকের নেতৃত্বে কলেজে ত্রাস সৃষ্টি করা হয়। তারা অনার্সে ভর্তি বাণিজ্য করতে এসে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করে। গুলি কে বা কারা করেছে, তা আমরা জানি না।’

অভিযোগের ব্যাপারে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আজিম খান ওরফে জুয়েল প্রথম আলোকে বলেন, ‘তারা অছাত্র। ক্যাম্পাসে তারা আট রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। কলেজের বৈধ কমিটির আমিই সভাপতি। জেলখানা থেকে ফিরে আসার পর জসিম খান ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব ছাড়েননি। আর ওই পদ দেখিয়ে ওরা ভর্তি বাণিজ্য করছে।’
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান জানান, জসিম খানই কলেজের সভাপতি। যাঁরা ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের নিয়ে মহড়া দেন, তাঁরা কেউ কলেজের ছাত্র নন। তাঁরা বিভিন্নজন বিভিন্ন মামলার সাজা পাওয়া আসামি।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবদুল মতিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের দুই আজিম ও জসিম সমর্থকেরা আধিপত্য বিস্তারের জন্য ক্যাম্পাসে মহড়া দিচ্ছে। তারা ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত করছে। তবে আমাদের ভর্তি কার্যক্রম যথানিয়মে চলছে।’

কোতোয়ালি মডেল থানার দুই উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার উল্লাহ এবং আবু জাফর প্রথম আলোকে বলেন, মূলত আধিপত্য বিস্তারের জন্য তাঁরা এ কাজ করেছেন। কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মতিউল ইসলামও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রথম আলো প্রতিবেদন
তারিখ: ৩০-০১-২০১০

Reply

CAPTCHA
Required to prevent spam.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla