Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

-A A +A

Reply to comment

ভিসি'র ওপর আক্রমণ,

ভিসি'র ওপর আক্রমণ, নিয়োগ নিয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ছাত্রলীগের তুলকালাম

স্টাফ রিপোর্টার: নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পেরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতারা ভিসি ডা. প্রাণগোপাল দত্তের ওপর চড়াও হয়।
গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল্টন হলে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা শেষে বেরুনোর পথে ভিসি-কে তারা শারীরিকভাবে নাজেহাল করে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে যেতে বলে। না হয় টেনে-হিঁচড়ে বের করার হুমকি দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। এরা সবাই বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন-বিএমএ মহাসচিব ডা. শরফুদ্দীন আহমদ ও আওয়ামী লীগের চিকিৎসক সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ-স্বাচিপের মহাসচিব ডা. ইকবাল আর্সালানের সমর্থক বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় এ দুই নেতা উপস্থিত থাকলেও ছাত্রলীগ কর্মীদের রোষানল থেকে ভিসিকে রক্ষা করতে তারা এগিয়ে আসেননি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা ভিসিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। ঘটনার খবর পেয়ে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের ওপরও চড়াও হয়। এ সময় তারা ছবি তুলতে বাধা দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইকবাল আর্সালান তখন ‘সাংবাদিকরা এখানে কেন- বেরিয়ে যান’ বলে ধমক দেন। তিনি সাংবাদিকদের তাড়িয়ে দিতে তার অনুসারীদের নির্দেশও দেন। ছাত্রলীগ কর্মীরা নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এনে ভিসি’র ওপর চড়াও হয়। নিয়োগ পরীক্ষায় ফেল করা এক শিক্ষার্থী মানবজমিনকে বলেন, পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। আমরা সেটি বাতিলের দাবি জানাতে এসেছি। ভিসি প্রাণগোপাল দত্ত অনিয়মের এ অভিযোগ মিথ্যে, সর্ম্পূণ অবান্তর ও উদ্দেশ্যমূলক বলে দাবি করেন। সাংবাদিকদের জানান, চিকিৎসক কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হয়েছে। আমরা খুবই সতর্কভাবে পরীক্ষা নিয়েছি। মেধার বাইরে কাউকেই উত্তীর্ণ দেখাইনি। এখন যদি কেউ অন্যায় আবদার নিয়ে আসেন তাহলে আমি নিরুপায়। আমি কোন অন্যায় হতে দেবো না। তিনি বলেন, তারা আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়নি। বিএমএ ও স্বাচিপের মহাসচিবদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছিল। এরা তাদেরই অনুসারী। পরীক্ষা কমিটির সদস্য ও নাক কান গলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. আবু শফি আহমদ আমিন জানান, যারা ভিসি’র ওপর চড়াও হয়েছিল তারা বিএসএমএমইউ’র কেউ না। এরা ভাইভা বঞ্চিতদেরই একটি অংশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবারের চিকিৎসক কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এনে গতকাল ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল্টন হলের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের ২০-২৫ জন কর্মী। এ সময় ভেতরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের পূর্ব-নির্ধারিত সভা চলছিল। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ আনলেও এদের অনেকে পরীক্ষায়ই অংশ নেয়নি। তারা হলের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তখন বিএমএ মহাসচিব প্রফেসর ডা. শরফুদ্দীন আহমদ ও স্বাচিপের মহাসচিব প্রফেসর ডা. ইকবাল আর্সালানের সঙ্গে উচ্চ স্বরে কথা বলছিল। তারা জানায়, ভিসি’র সঙ্গে না, তারা শরফুদ্দীন ও ইকবাল আর্সালানের সঙ্গে কথা বলতে এসেছে। ভেতরে সভা চলতে থাকলেও এই দুই নেতার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মীরা তখন মিল্টন হলের গেইট অবরুদ্ধ করে রাখে। সোয়া ১২টার দিকে ভিসি প্রাণগোপাল দত্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নিয়ে বের হয়ে এলে হলের গেইটে ছাত্রলীগ কর্মীরা হই-হুল্লোড় শুরু করে দেয়। ভিসি এর কারণ জানতে চেয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা ‘আপনার সঙ্গে কোন কথা নয়, আপনি তো কথা বলার মুখ রাখেননি।’ বলে উচ্চস্বরে তাকে গালিগালাজ শুরু করে। ডা. শরফুদ্দীন আহমদ ও ডা. ইকবাল আর্সালানের উপস্থিতিতেই কয়েকজন কর্মী তার ওপর আক্রমণ চালাতে তেড়ে আসে। কেউ কেউ তার গায়ে হাত তোলারও চেষ্টা করে। এভাবে রোষানলে পড়লে ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রো-ভিসি প্রফেসর শহিদুল্লাহ, ট্রেজারার প্রফেসর ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন, রেজিস্ট্রার আবদুল গফুর, প্রফেসর ডা. আবু শফি আহমদ আমিন, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. আবদুল মজিদ ভূঁইয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ডা. আবু নাসার রেজভী এগিয়ে আসেন। তারা ক্ষুদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীদের কবল থেকে উদ্ধার করে ভিসিকে দোতলায় তার রুমে নিয়ে যান। ঘটনার পরপরই সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে মিল্টন হলে ১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ডাবলু, বিএমএ’র মহাসচিব শরফুদ্দীন আহমদ এবং স্বাচিপের মহাসচিব ইকবাল আর্সালান। এ সম্পর্কে ইকবাল আর্সালানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। বিএমএ নেতা শরফুদ্দীন আহমদ বলেন, যারা নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত অংশে উত্তীর্ণ হতে পারেনি তাদেরই একটা অংশ ভিসি’র সঙ্গে কথা বলতে এসেছিল। এখানে কথাকাটাকাটি ছাড়া তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি। তিনিও মিল্টন হলের বৈঠকের বিষয়ে কিছু বলেননি। তবে বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিয়োগ নিয়ে তুলকালাম ঘটনার পর সাংগঠনিক বিষয় নিয়েই ছাত্রলীগ কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তিন প্রভাবশালী নেতা। তারা সেখানে কর্মীদের সমর্থন দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাজধানীর বুয়েটে এ নিয়োগ পরীক্ষা হয়। এর আগে গত ১৬ই জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ এলে পরে তাৎক্ষণিকভাবে সেটা বাতিল করেন ভিসি প্রাণগোপাল দত্ত। শুক্রবার ওই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। এতে ৬৩১ জনকে ডাকা হলে ৫০৫ জন অংশ নেয়। তাদের মধ্য থেকে ভাইভার জন্য ২০৭ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এখান থেকে ৭০ জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে।

Reply

CAPTCHA
Required to prevent spam.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla