ব্লগীয় দামামা...প্রসঙ্গ পাকিস্তান ও রাজাকার।

বনখেকো ওসমান গনির দোসর, এককালের বনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড, সাজেদা চৌধুরী অনেকদিন ধরে জমে থাকা একটা সংবেদনশীল সমস্যার সমাধান করে দিলেন। ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার শ্রীঅংগনের একটা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপ প্রসংগে তিনি বলেন, ’রাজাকারের ছেলের সাথে নয়, প্রধানমন্ত্রী তার কন্যা পুতুলকে বিয়ে দিয়েছেন রাজাকারের নাতির সাথে। নূরু মিয়া রাজাকার হলেও তার ছেলে মোশারফ রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধী ছিল না। তার ছেলের সাথে কন্যা বিয়ে দিয়ে নেত্রী কোন অপরাধ করেন নি।‘
সাজেদা চৌধুরী কাউকে রাজাকার আর কাউকে নিরপরাধ সার্টিফিকেট দেয়ার আইনগত অধিকার রাখলে এ প্রসংগে ইতিপূর্বে আমি যে পোষ্ট দিয়েছিলাম তার বৈধতাও নড়বড়ে হয়ে যায়। উইথড্র করছি আমার অভিযোগ। মোশারফ হোসেন নিজে নন, রাজাকার ছিলেন উনার স্বনামধন্য পিতা নূরু মিয়া। ফরিদপুরের অনেক রাস্তাঘাটের নাম পরিবর্তন করে এই নূরু মিয়ার নামে নামকরণ করা হচ্ছে, এমন অভিযোগের জবাবে জনাবা চৌধুরী বলেন, ’জনগণই এর বিচার করবে।’ আসুন একটা কাজ করি, সাজেদা চৌধুরীর বক্তব্য হতে দুটি উপসংহার টানি; প্রথমত, প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন শুধু ইঞ্জিনীয়ারই ছিলেন (আছেন), রাজাকার নন। দ্বিতীয়ত, বাপ রাজাকার হলেও ছেলেকে একই অভিযোগে অভিযুক্ত করা বৈধ নয়, এবং তার সাথে আত্মীয়তা করাও অপরাধের পর্যায়ে পরে না। Fair enough?
উপরের উপসংহার দুটিকে আমলে নিলে স্বভাবতই কিছু প্রশ্ন জাগে, যার জবাব চাওয়ার ভেতরও সীমা লংঘন অথবা অনৈতিকতার কিছু দেখি না। সমসাময়িক বিশ্বে যোগাযোগের নতুন মাধ্যম ব্লগে এবং বাংলাদেশের যুব সমাজের শিরায় উপশিরায় শিবির নামক একটা রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন খতম করার যে বিষবাষ্প ছড়ানো হচ্ছে তার ভিত্তি কোথায়? শিবিরের তাবৎ সদস্যরা কি ’৭১ সালে রাজাকারীত্বের সাথে জড়িত ছিল? বেঁচে থাকা রাজাকারদের গড় পরতা বয়স হওয়ার কথা ৫৫ হতে ৭০। আমাদের অভিশাপ এবং জাতীয় জীবনের কলংক ছাত্ররাজনীতির সাথে ৫৫ বছরের কেউ জড়িত থাকলে তা হবে চরম হাস্যস্কর। আশাকরি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির ৫৫ বছর বয়সী ’ছাত্রদের’ ছাত্রসংগঠন নয়। অনেকেরই অভিযোগ, শিবির মূলত রাজাকারদের গর্ভে জন্ম নেয়া নতুন প্রজন্মের দেশদ্রোহী নব্য রাজাকার। শিবিরের এজেন্ডায় কোথাও কি বাংলাদেশের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার কথা লিপিবদ্ধ আছে? তা হলে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে এই রগ কাটা সংগঠনকে কেন ইতিপূর্বে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়নি তার জবাব চাওয়ার অধিকার কি আমাদের নেই? রাজাকারের ঔরসে জন্ম নিলেই যে রাজাকার হওয়ার বাধ্য বাধকতা নেই তার প্রমাণ কি প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই (জাতিয় বেয়াই!) নন? নাকি রাজাকারের সন্তান প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই হলে তার রাজাকারীত্ব দেশপ্রেমের ডায়ালাইসিসে পরিষ্কার হয়ে যায়?
রাজাকার আর পাকিস্তান। শব্দ দুটো একে অপরের পরিপূরক। পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর ঋতুস্রাবে জন্ম নিয়েছিল রাজাকার নামের সহযোগী সংগঠন, যাদের কাজ ছিল পাকি অপরাধের রসদ যোগানো। এই রসদ যোগানোতে যারা জড়িত ছিল তাদের অনেকেই ছিল ’দিন আনে দিন খায়’ গোত্রীয় সাধারণ জনগণ, যাদের মগজে রাজনৈতিক মতাদর্শনের রসদ থাকার কথা ছিল না। এদের দিয়ে অপরাধ করানো হয়েছে, যার মূল বেনিফিশিয়ারিজ ছিল স্বয়ং পাকিরা। অপরাধের ঘাঁ না শুকাতেই অপরাধী পাকিদের স্ব-সম্মানে দেশে ফেরৎ পাঠানো হল, অথচ ৩৯ বছর পর তাদের কামলাদের বিচারের জন্যে বাংলাদেশের আকাশ বাতাস প্রকম্পিত শুরু হয়ে গেল, কারণটা কি?
একি দেশপ্রেম? নাকি ইয়াবার মত নব্য ড্রাগ, যার উন্মাদনায় নতুন প্রজন্মকে আচ্ছন্ন করে অতি কৌশলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হচ্ছে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ রাজনীতিকে? ব্লগে ব্লগে ২২ হাজার ব্লগার মিনিটে মিনিটে ২০ টনি বোমা ফাটাচ্ছে পাকিদের বিরুদ্ধে। বায়বীয় বোমায় গোটা পাকিস্তানকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়ার দাবিদারের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। প্রাসঙ্গিক কারণে প্রশ্ন জাগে, এ ধরনের লাগামহীন দাবির মাধ্যমে আমরা কি দেশ হিসাবে আমাদের জন্মকেই বিকৃত করছি না? ১৯৭১ সালে কাদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল, গোটা পাকিস্তান জাতির সাথে, নাকি অগনতান্ত্রিক, ক্ষমতালিপ্সু একদল সামরিক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে? পাকিস্তানী জনগণ কি গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট দিয়ে যুদ্ধ করতে পাঠিয়েছিল তাদের সেনাবাহিনীকে? দেশটার পশ্চিমা অংশের একদল জংলী জেনারেলের লাগামহীন শোষণের নিষ্পেষণ হতে মুক্তি পাওয়ার জন্যেই আমরা হাতিয়ার উঠিয়েছিলাম। ঐ শোষণের সাথে দেশটার ২২ পরিবার আর মিলিটারি মেশিনারিজ ছাড়া সাধারণ জনগণ কতটা সম্পৃক্ত ছিল এ নিয়ে কোন মহল হতেই কোন অভিযোগ আজ পর্যন্ত উত্থাপিত হয়নি। তাহলে জাতি হিসাবে পাকিস্তানকে স্থায়ী ঘৃণা ও ধ্বংসের এই বায়বীয় আহাজারী কেন?
আমাদের সবকিছুতেই হুজুগের একটা প্রকোপ আছে। এই যেমন, ২১শে ফেব্রুয়ারী আসলেই দিকে দিকে ভাষা প্রেমের প্লাবন বয়ে যায়। অথচ এই উথলে উঠা প্রেমের ফাঁদেই আটকানো হয় অসহায় মা-বোনদের, ধর্ষণ করা হয় হিংস্র পশুর মত। নববর্ষের দিনে ইলিশ-পান্তার প্রেমে সেজে উঠি খাঁটি বাঙালী। দিনান্তে এই আমরাই গন যৌন নিপীড়নে অংশ নিয়ে নিজেদের এন্টারটেইন করি। এ নিয়ে কোন গণজাগরণ হয়না, শুরু হয়না প্রতিবাদ আর প্রতিরোধের গণজোয়া্র। রাজাকার আর যুদ্ধাপরাধী বিচারের দাবি তেমনি এক প্রকোপের বহিঃপ্রকাশ যার মাধ্যমে আমরা আনন্দের খোঁড়াক খুঁজছি মাত্র।
বাংলাদেশের পথ ঘাট রাজাকার আর যুদ্ধাপরাধীদের চারণভূমি নয়। যারা আসল অপরাধী তাদের বাস আমাদের নাকের ডগায়। তারা প্রতিদিন বাজার করছে, রাতে সুখে নিদ্রা যাচ্ছে, সংসার করছে, সন্তানাদি বড় করছে। গোলাম আজম, নিজামী, মুজাহিদী, আমিনী আর সাকা চৌধুরীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাতে এত কামান গর্জানোর প্রয়োজন হয়না। প্রয়োজন হয় ইচ্ছার, প্রয়োজন হয় বুঝা পরার। একদল ক্ষমতায় গেলে ওরা অপরাধী, অন্য দলের বেলায় তারা মন্ত্রী এবং নিশান উড়িয়ে দাপিয়ে বেড়ায় দেশের অলিগলি রাজপথ। অপরাধী ওরা নয়, অপরাধী আমরা, যাদের কাছে দেশপ্রেমের সংজ্ঞা দুই মেরুর অবস্থানের মত।
পাকিস্তান ধ্বংস আর রাজাকার রাজাকার করে ব্লগীয় দুনিয়া কাঁপানো গেলেও এক চুল কাঁপানো যাবে না আমাদের অসততার সাম্রাজ্য, যার উপর নিজেরা বাস করছি এবং তৈরী করছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মরণফাঁদ। আর যারা অতি দেশপ্রেমের ইয়াবা সেবনে নেশাগ্রস্ত তাদের অনুরোধ করবো, বুলেট ভর্তি অস্ত্র নিয়ে পিছু নিন নিজামী, আমিনি আর সাকা চৌধুরীদের। মগজ বরাবর ঢুকিয়ে দিন দুটো করে বুলেট। বাংলাদেশের একটা কুকুরও ঘোৎ করে উঠবে না এসব কুলাঙ্গারদের মৃত্যুতে। ব্লগে ব্লগে বায়বীয় বোমা আর অশ্লীল গালাগালি করে নিজেদের হাসির পাত্র করবেন না। অপরাধ ও শাস্তি হাসি আনন্দের রসদ নয়।
গুডলাক।
( http://www.amadershomoy.com/content/2010/05/27/news0215.htm )
- Tag this post:
- WatchDog's blog
- 825 reads
-
JUST VIEWED
Last viewed:
- মাতাসাগর দিঘির কাহিনী...
- যে জীবন থামানো যায়না
- খালেদা জিয়ার কাছে খোলা চিঠি
- কোটিপতি কাজের বুয়া। বিশ্বাস অবিশ্বাস আপনার নিজের!!
- শেখ হেলালের জেল...একটি অনুমান নির্ভর পোষ্ট!
- উত্তর চাই! ...কাঠগড়ায় খালেদা জিয়া।
- একজন ফেরেশতা বনাম দন্তহীন দুদক, মহিউদ্দিন খান আলমগীর উপাখ্যান...
- বিদ্যুতের নাও পাহাড় বাইয়্যা যায়...
- 'মা, তবারকের হাত অনেক বড়। তোমাদের সবাইকে সে মেরে ফেলবে'
- আনু-মানুর ভাত চুরি ও আমাদের নিউক্লিয়ার দেশপ্রেম
- আমার খোয়াবনামা...
- বেরিয়ে আসছে ৭২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ৩১ মামলার আসামী
- While Bangladeshis fight, Vietnam gets Billion $ Intel
- একজন কণিকা রহমানের কাহিনী...
- পার্বত্য চট্টগ্রাম, যে ছবি কথা বলে...
Latest Blogs
- মফিজের ১৩ হাজার ও একজন বিভাস চন্দ্রের মৃত্যু...টাকার বস্তা পাহাড় বাইয়্যা যায়!
- ম্যাথিউ, হেরাল্ড ও আমি, এবং আমাদের ঘরে ফেরা
- একজন দরবেশ বাবার কেচ্ছা
- স্বপ্নের কালো বিড়াল ও একজন প্রবাসীর দেশে ফেরা
- একজন মূখ্যমন্ত্রী ও একজন চোরের কাল্পনিক সাক্ষাৎকারঃ
- সুরঞ্জিত বাবুর বীচি ও আমার চাওয়া পাওয়া
- মোহন ও আরিফের জন্যে জিল্লুর প্রেসিডেন্ট আছেন। ভয় নেই 'আমাদের'।
- ক্রসফায়ারই যদি একমাত্র সমাধান তাহলে কেন তাদের নয়?
- আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন জনাবা প্রধানমন্ত্রী
- জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও হিন্দু দেবতাদের রক্ত পিয়াস...
Recent Comments
- ইলিয়াস আলীর দাফন হয়েছে পদ্মায়! -ফজলুল বারী
2 weeks 4 days ago - ড্রাইভার আজম কোথায় ...
2 weeks 4 days ago - সেনগুপ্ত টেলিকমের নামে আইসিএক্স লাইসেন্স :
4 weeks 4 days ago - দিরাইয়ে আলিশান সেন মার্কেট উদ্বোধন : সমালোচনার ঝড়
4 weeks 4 days ago - শ্রীলংকার পত্রিকা এসব কি লিখছে!
4 weeks 6 days ago - বাণী চিরন্তনী | তারিখ: ০৯-০৪-২০১২
4 weeks 6 days ago - প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতা বাংলাদেশের জন্য নয়
5 weeks 1 hour ago - খুলনায় আটককৃত র্যাব সদস্য
5 weeks 2 days ago - ইতিহাসই বিচার করবে এই মহিলার
5 weeks 5 days ago - আবাল প্রধানমন্ত্রী।
5 weeks 5 days ago





Comments
সাজেদাকে সন্ত্রাসীদের গডফাদার বললেন মোশাররফ
দৈনিক আমাদের সময় হতে নেয়াঃ
সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে ‘বনখেকো’ ও ‘সন্ত্রাসীদের গডফাদার’ বলে অভিহিত করেছেন মহাজোট সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এ নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন আ’লীগের এ শীর্ষ দুই নেতা।
বন ও পরিবেশ মন্ত্রী থাকাকালে সাজেদা চৌধুরী ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন দাবি করে তাকে ‘বনখেকো’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মন্ত্রী। সাজেদা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফরিদপুরের সন্ত্রাসী কর্মকাে র মদদদাতার অভিযোগ এনে মন্ত্রী মোশাররফ বলেছেন, শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করা হবে। প্রয়োজনে সাজেদা চৌধুরীকে ফরিদপুরে ঢুকতে দেয়া হবে না।
ক্ষমতাসীন দলের দুই প্রভাবশালী নেতার প্রকাশ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় আ’লীগ নেতাকর্মীরা দুইভাগে ভাগ হয়ে পড়েছেন। দুই পক্ষের মধ্যে যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংর্ঘযের আশংকা করা হচ্ছে।
জগৎ বন্ধুর ১৪০ তম আর্বিভাব দিবস উপলক্ষ্যে ফরিদপুর শহরের আঙ্গিনা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী স্মরণ সভার সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আর অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী।
প্রভাবশালী দুই নেতার বিরোধ ও গ্র“পিংয়ে বেকায়দায় পড়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। দুই গ্র“পকে খুশি রেখেই প্রশাসনকে কাজ করতে হচ্ছে। ২৮ মে সমাপনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় সাজেদা চৌধুরীর বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনায় মুখর ছিলেন মন্ত্রী মোশারফ। মন্ত্রী বলেন, ফরিদপুরে সন্ত্রাসী কর্মকাে র মদদ দিচ্ছেন সাজেদা চৌধুরী। ৯৬ সালে সরকার আমলেও সন্ত্রাসীদের গডফাদার ছিলেন সাজেদা। বর্তমান সরকার আমলেও সাজেদা চৌধুরী ফরিদপুরকে অশান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
জানা গেছে, জগৎ বন্ধুর স্মরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাজেদা চৌধুরী মন্ত্রী মোশারফ হোসেনের বাবার নামে রাস্তার নামকরণ ফলক ভেঙ্গে ফেলার পক্ষে বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, নাম ফলক ভাঙ্গার এখতিয়ার আমার নেই। জনগণ চাইলে এটি ভেঙ্গে দেবে, আর তারা রাখতে চাইলে রাখবে বলে মন্তব্য করেছিলেন সাজেদা চৌধুরী।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সাজেদা চৌধুরীকে ফরিদপুরে ঢুকতে দেওয়া হবে না এবং প্রকাশ্যে তাকে ‘বনখেকো’ বলায় সাজেদা পক্ষের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিপক্ষের ওপর হামলা এবং হামলা প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে উভয় পক্ষই। দুই গ্র“পই শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে আতংকে আছে সাধারণ মানুষ।
আ’লীগের প্রভাবশালী দুই নেতার বিরোধ ও গ্র“পিং দীর্ঘদিনের। ফুফু বনাম বেয়াই গ্র“প নামে পরিচিত ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফু হিসেবে পরিচিত সাজেদা চৌধুরী। অন্যদিকে মন্ত্রী মোশাররফ শেখ হাসিনার বেয়াই। ১৯৯৬ সালে আ’লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সাজেদা চৌধুরীর ও মোশাররফ হোসেন বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দু’গ্র“পের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। এক গ্র“প প্রতিপক্ষ গ্র“পের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ বাবুল এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক শওকত আলী জাহিদ সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়েছেন।
http://www.amadershomoy.com/content/2010/05/30/news0298.htm
Post new comment