Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

-A A +A

একজন কণিকা রহমানের কাহিনী...

Broken health care in Bangladesh
একই ঘটনার উপর কেউ হয়ত লিখে থাকবেন ইতিমধ্যে। কিন্তূ বিষয়টা খুবই জরুরী এবং এর উপর অতিরিক্ত একটা লেখা আশাকরি পাঠকদের ধৈর্য্যচুতির কারণ হবেনা। কে জানে এই লেখালেখির মধ্য দিয়েই হয়ত একদিন দাঁড়িয়ে যাবে আমাদের জন্মভূমি। ব্লগ নামের শক্তিশালী মাধ্যম একদিন নষ্ট সমাজের মুর্তিমান আতংক হয়ে দাঁড়াবে, এ ব্যাপারে অনেকের মত আমিও ব্যাপক আশাবাদী।

আজকের ’দৈনিক আমাদের সময়’এ বেরিয়েছে খবরটা। কণিকার পায়ে অপারেশন হবে পংগু হাসপাতালে। ভাই মোস্তাক সাথে এসেছে বোনকে সান্ত্বনা দিতে। দেশীয় ডাক্তারদের হরেক রকম হেলা অবহেলার কাহিনী অনেকের মত কণিকারও জানা ছিল। তাই কেমন একটা অজানা আশংকায় দুলে উঠেছিল তার মন। ডাক্তাররা বাম পায়ের বদলে ডান পা কেটে নেবে, এমন একটা ভয়ের কথা ভাইকে বলতেই ভাই ধমকের সূরে আস্বস্ত করল বোনকে। তবু অস্বস্তি একটা রয়েই গেল, এবং তা নিয়েই যেতে হল অপারেশন টেবিলে।

কণিকা বোধহয় আগ হতেই টের পেয়েছিল কি ঘটতে যাচ্ছে তার ভাগ্যে। হলও তাই, গুনে গুনে বাম পায়ের বদলে ডান পায়ের গোড়ালিটা কেটে নিল ডাক্তারগন। সৌরজগতের কোথাও কোন গ্রহ নক্ষত্রের পতন হলনা, দেশীয় জীবনেও ঘটলনা কোন ছন্দোপতন। লোক চক্ষুর অন্তরালে যা ঘটল তা হল, শরীয়তপুরের কণিকা রহমান নামের একজন নষ্ট বাম পায়ের চিকিৎসা করতে এসে হারিয়ে ফেল্‌ল তাঁর ডান পা। ভাই মোস্তাকের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার বদলে ডাক্তারকুল ব্যস্ত হয়ে উঠল খবর পাগল মিডিয়া ঠেকাতে। হাসপাতালে হট্টগোল হচ্ছে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ছুটে এলেন শাহ আলম নামের জনৈক ডাক্তার। কথা ছিল এই শাহ আলমই অপারেশন করবেন কণিকাকে। জুনিয়র ইয়ার দোস্তদের উপর কণিকার ভার ছেড়ে দিয়ে সিনিয়র শাহ আলম কেন এবং কোথায় গিয়েছিলেন এ প্রশ্নের উত্তর কেবল তিনিই দিতে পারবেন। বাংলাদেশের চিকিৎসা বানিজ্যে এ ঘটনা নতুন কোন ঘটনা নয়, এমনটা হরহামেশাই ঘটছে।

পাঠক, আপনাদের কি পরিচয় আছে সাদা এপ্রোণের এসব জুনিয়র-সিনিয়র ইয়ার-দোস্তদের ইয়ারীর সাথে? মানুষের বাঁচা মরার সন্ধিক্ষনে খোদার ঠিক পরের আসনটায় বসে লাল নীল শিবিরে বিভক্ত এসব পিচাশের দল রুগী নিয়ে কোন্‌ ধরনের মারফতী খেলায় মত্ত হন তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানার কথা। অনেকেই বলবেন সব ডাক্তার নিশ্চয় এক নয়। আমি বলব ডাক্তারের অভিধানে ভুল নামের কোন শব্দ থাকা অপরাধ। এমনটা মেনেই ডাক্তারী পড়তে আসা উচিৎ। অন্য সব প্রফশনের ভুল ফিক্স করা সম্ভব হলেও ডাক্তারদের ভুল যে শোধরানো সম্ভব নয় তা আবারও প্রমান করল কণিকার ভুল অপারেশন। এধরনের প্রফেশনাল ক্রাইমের বাইরে বাংলাদেশের ডাক্তার সমাজ রাজনীতির ছত্রছায়ায় মাঝে মধ্যে এমন সব ঘটনার জন্ম দেন যা গিনিজ রেকর্ডবুকে ঠাঁই নেয়ার দাবী রাখে; রুগী পেটানো, সেবিকা আক্রমন, হাসপাতালের ইনফ্রষ্ট্রাকচার ভাংচুর, নিজদের মধ্যে রক্তারক্তি, মৃত্যুপথযাত্রী রুগীদের জিম্মি করে দাবী আদায়, এ জাতীয় ঘটনা বিশ্ব চিকিৎসা ব্যবস্থায় একবারেই অশ্রুত।

আমার এ লেখা পড়ে দায়িত্বপরায়ন দাবীদার ডাক্তারদের যদি গাত্রদাহ হয় দয়া করে প্রমান করবেন আপনাদের ভালমানুষীপনা। রাজনৈতিক বিরুদ্বচারন ছাড়া এক ডাক্তার অন্য ডাক্তারের প্রফেশনাল ক্রাইম নিয়ে কথা বলছে, বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত এমনটা শোনা যায়নি। ঢাকা শহরে যেমন তেমন, মফস্বলে রুগীর কাছে ডাক্তার মানেই রক্তচোষা ভ্যম্পায়ার, যারা কর্পোরেট চাহিদার কাছে রুগীদের জিম্মি করে গড়ে নেয় নিজদের ভাগ্য। একদিকে ঔষুধ কোম্পানীর নগদ নারায়ণের জন্যে রুগীদের মাত্রাতিরিক্ত ঔষুধ গেলানো, পাশাপাশি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কমিশনের জন্যে পেটের রোগে চোখের এক্স-রে করাতে বাধ্য করা, এসব আর যাই হোক চিকিৎসা হতে পারেনা। সাহষ থাকলে প্রতিবাদ করুন এসব জঘন্য অন্যায়ের, বিচার দাবী করুন এসব লাগামহীন অপরাধের।

কনিকার ডাক্তার সর্বজনাব শাহ আলম ক্ষমা চেয়েছেন সতীর্থদের ভুলের জন্যে। কি চমৎকার বদন্যতা! এ ধরনের ভন্ডামী বাংলাদেশের ডাক্তারদের পক্ষেই সম্ভব, পৃথিবীর অনেক দেশে তা শাস্তিযোগ্য জঘন্যতম অপরাধ। রাজনীতির কড়াল গ্রাস হতে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যতদিন মুক্ত না হচ্ছে পাঠকদের অনুরোধ করব আপনজনকে অপারেশন টেবিলে পাঠিয়ে কাছাকাছি কোথাও হতে মনিটর করবেন এসব ডাক্তারদের ডাক্তারীপনা।

- ধন্যবাদ।
http://www.amadershomoy.com/content/2010/03/03/news0242.htm

Comments

কণিকার অস্ত্রোপচারে ভুল হয়নি বলে ডাক্তারের দাবি

আফছার আহমদ রূপক: কণিকার অস্ত্রোপচারে কোন ধরনের ভুল হয়নি বলে দাবি করেছেন পঙ্গু হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা। পরিচালক অধ্যাপক ডা. রিজভী আওয়াল ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. শাহ আলম বলেছেন, ডান পায়ের গোড়ালির অংশ ভুল করে কাটা হয়নি কিংবা ভুল অস্ত্রোপচারও হয়নি। গোড়ালির নিচে পায়ের তলায় সামান্য চামড়া কেটে পুঁজ বের করা হয়েছে।

পঙ্গু হাসপাতালের দোতলার ডি ওয়ার্ডের ৩৭ নম্বর বেডে ডা. মো. শাহ আলমের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন কণিকা। ১২ বছর বয়স থেকে পোলিও রোগে আক্রান্ত কণিকার বাড়ি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামে। এদিকে স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান এ বিষয়ে তদন্তের জন্য হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. রিজভী আওয়ালকে টেলিফোনে নির্দেশ দিয়েছেন। পরিচালক মঙ্গলবার পঙ্গু হাসপাতালের অধ্যাপক আর আর কৈরীর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

ডা. শাহ আলম জানান, দুই পায়ের মাংসপেশি দুর্বল হওয়ায় হাঁটতে পারেছেন না কণিকা। বাম পায়ের গোড়ালির নিচে পায়ের তলার ক্ষত থেকে রক্ত ও পানি বের হচ্ছিলো এবং ডান পায়ের একই স্থানে পুঁজ জমেছিল। তবে ডান পায়ের মতো মারাত্মক ছিল না। বাম পায়ের এ সমস্যাকে ডিসচার্জিং সাইনাস বলা হয়। গত রোববার নিয়মিত ড্রেসিংয়ে বাম পায়ের ক্ষত অনেকটা ভালো থাকায় তারা ডান পায়ের গোড়ালির নিচে পায়ের তলার পুঁজ বের করেন।

তিনি বলেন, কণিকার ডান পায়ে অস্ত্রোপচারের সময় চারতলায় মেরুদে যক্ষায় আক্রান্ত এক রোগির জটিল অস্ত্রোপচার করছিলেন তিনি। কণিকার স্বজনদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের চেচামেচির খবর পেয়ে নিচতলায় যান এবং চিকিৎসক তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে থাকলে ক্ষমা করে দিতে বলেন। মঙ্গলবার কণিকার বা পায়ের গোড়ালির নিচে অস্ত্রোপচার করে দেন ডা. শাহ আলম।

গতকাল হাসপাতালে আলাপকালে কণিকা জানান, তার ডান পায়ে ব্যথা না থাকায় সমস্যা নেই বলেই জানতেন। তাই বা পায়ের পরিবর্তে ডান পায়ে অস্ত্রোপচার করে পুঁজ বের করা তার কাছে ভুল মনে হয়েছে। অস্ত্রোপচারের আগে তাকে বিষয়টি বোঝানোও হয়নি। বোঝানো হয়েছে অস্ত্রোপচারের পর। তবে ডান পায়ের গোড়ালির নিচে একটি কালো দাগ ছিল বলে স্বীকার করেন তিনি।
Amader Shomoy

Post new comment

CAPTCHA
Required to prevent spam.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla